গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

গদ্দিনিশীন রাহবারগনের জীবন কর্ম

সিদ্দিকী বংশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মারুফ আবুবকর সিদ্দিকী (রহ.) মোজাদ্দেদে জামান ও আমিরুস শরিয়ত হিসেবে সমগ্র বিশ্বে তিনি বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন।মোজাদ্দেদে জামানের ইন্তিকালের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁরই বড় সাহেবজাদা শাইখুল ইসলাম আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.) এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁরই বড় সাহেবজাদা শেরে ফুরফুরা মহিউস সুন্নাহ মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী (রহ.)। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর ইন্তিকালের পর তাঁরই বড় সাহেবজাদা আল্লামা আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী সাহেব ফুরফুরার হক হেদায়েতি কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং আলহামদুলিল্লাহ এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত গতিতে চলছে। এবারে পেজ থেকে জেনে নিন , মোজাদ্দেদে জামানের পর পর্যায়ক্রমে ফুরফুরার গদ্দিনিশীন তথা স্থলাভিষিক্ত এই ৩জন রাহবারের বিস্তারিত জীবন-কর্ম :
  1. গদ্দিনিশীন পীর শাইখুল ইসলাম আবু নসর মুহাম্মদ আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহঃ)
  2. গদ্দিনিশীন পীর শেরে ফুরফুরা আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী (রহঃ)
  3. বর্তমান গদ্দিনিশীন পীর আল্লামা আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী
গদ্দিনিশীন পীর শাইখুল ইসলাম আবু নসর মুহাম্মদ আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহঃ) একটি মনোরম দিনের সুন্দর সকাল। অপূর্ব সাজে সজ্জিত পৃথিবী। চারিদিকে রক্তিম আলো শুশোভিত পত্র-পল্লবে প্রাণের সঞ্চার করেছে। ধরার বুকে স্রষ্টা যেন শান্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছেন। এরই মাঝে খাদেম এসে সবিনয়ে আরজ করলো হুজুর কি নাস্তা করবেন? একটু চিন্তা করে হুজুর বললেন বাবা, নাস্তা যে করব পয়সা কোথায় ? কথা বলতে বলতে পকেটে হাত রাখলেন। পকেট থেকে দু-পয়সা বের করে দিয়ে বললেন, এক পয়সার চিড়া ও এক পয়সার চিনি নিয়ে এসো। হুকুম পেয়ে খাদেম দোকান খেকে চিড়া ও চিনি নিয়ে এলো। যতটুকু আনা হলো হুজুর তা থেকে কিছুটা খেলেন। বাকীটা রেখে দিতে বললেন। এমন সময় দোঁক মাদ্রাসার পরিচালক হাজি ফয়জুর রহমান সাহেব এসে হাজির হলেন। হুজুর বললেন বাবা নাশতা করেছেন কি? ওখানে চিড়া-চিনি রাখা আছে, নাশতা করে নিন। হাজি সাহেব হুকুম পালন করে নাশতা করলেন। তারপর হুজুরের খেদমতে হাজির হয়ে আদবের সাথে বললেন হুজুর, মাদ্রাসার মোদারেস সাহেবদের বেতন বাকী। এজন্য বার শত টাকা প্রয়োজন। কথাটি শেষ হতে না হতেই হুজুরের চেহারায় পরিবর্তনের ছাপ দেখা গেল। তিনি বিচলিত হয়ে পড়লেন। তার কোমল হৃদয় যেন ডুকরে কেঁদে উঠল। কাল বিলম্ব না করে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের কষ্টার্জিত বারশত টাকা হাজি সাহেবের হাতে তুলে দিলেন। মূলত তাঁর চেষ্টা ও চিন্তার সবটাই ছিল দীনের উন্নতির জন্য নিবেদিত। দুনিয়ার আরাম-আয়েশের আকাঙ্খী তিনি কখনও ছিলেন না। দুনিয়ার প্রতি তিনি ছিলেন উদাসীন। আর তাই নিজের জন্য নয়-মহান ধর্ম ইসলামের জন্য তিনি অকাতরে সব দান করে গেছেন। বলা হয়ে থাকে, দীনের খেদমতের জন্য তিনি তার জান ও মালকে ওয়াক্ফ করে জীবন কাল অতিবাহিত করেছেন। উল্লেখিত ঘটনার মাধ্যমে এ মহান বুজুর্গের পুরো জিন্দেগীর একটি ছবি ফুটে উঠেছে। তার চরিত্র শোভাকে জানার জন্য মনের স্পৃহা বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়ার মত উন্নত উপকরণ এ ঘটনায় মওজুদ রয়েছে। যার কথা বলছি তিনি হলেন বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ হাদী, ফূরফুরার পীর শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.)। বাংলা ভারত সর্বত্র তিনি বড় হুজুর নামে সমাধিক পরিচিত ছিলেন। গরীব ছাত্রদের স্বল্প খরচে মফঃস্বল এলাকায় টাইটেল পড়তে সুযোগ করে দেয়ার জন্যে বড় হুজুর (রহ.) সরকারের কাছে ফুরফুরা টাইটেল মাদ্রাসা মঞ্জুরী করার দাবী জানান। তৎকালীন প্রিন্সিপাল জনাব সৈয়দ আবুল আলা বরকতী সাহেব এটা শুনে হুজুরকে জানালেন যে , টাইটেল মাদ্রাসা খুলতে গেলে প্রথমে ৬ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। একথা শুনে হুজুর বললেন, শুধু ছয় হাজার টাকা কেন, যদি নিজের কলজে ছিড়ে দিতে হয় তা হলেও আবদুল হাই দিতে রাজী আছে। হযরতের খলিফা মাওলানা আইয়ুব সাহেব (রহ:) বর্ণনা করেন : বড় হুজুর (রহ.) বাগের হাট থেকে জলসা করে ফিরছেন। পথে অনেক লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে হযরতের গাড়ী থামিয়ে অনুরোধ জানালো, হুজুর! আমাদের এখানে নতুন মসজিদ তৈরী হচ্ছে। এলাকার লোকদের আরজু আপনি একটু দোয়া করে মসজিদটি উদ্বোধন করে দিয়ে যাবেন। হুজুর গাড়ী থেকে নেমে মসজিদে দোয়া করলেন। সাথে পাঁচ হাজার টাকা ছিলো। সবগুলো টাকা মসজিদ ফান্ডে দান করে দিলেন। ফুরফুরার প্রবীণ খলিফা মাগুড়ার হযরত পীর খন্দকার আবদুল হামীদ (রহ.) বর্ণনা করেন ঃ একদিনের ঘটনা। সকাল থেকে জোহর পর্যন্ত বড় হুজুর (রহ.) ফুরফুরায় তার দরবার কক্ষে বসে ছিলেন। বহু লোক হুজুরের সাথে দেখা করতে আসলো। তারা হুজুরকে এত হাদিয়া দিলো যে টাকার স্তুপ হয়ে গেল। হুজুর ম্যানেজারকে হুকুম দিলেন,এ টাকা থেকে অমুক মাদ্রাসায় এত, অমুক এতিমখানায় এত, অমুক মসজিদে এত পাঠিয়ে দাও। এভাবে মাদ্রাসা মসজিদে দান করে দিলেন। এমন সময় একটি লোক এসে বললো, হুজুর মেজ সাহেবজাদার টুপীটা ছিড়ে গেছে। একটা নতুন টুপী কিনতে হবে। হুজুর তার হাতে চার আনা পয়সা দিয়ে বললেন এ পয়সা দিয়ে ওর টুপী কিনে আনো। হযরত মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী (রহ.) সর্বদা জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করতেন। অসুস্থাবস্থাতেও তিনি জামাআত তরক করতেন না।