গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

তাঁর গৃহীত বহুমুখী সংস্কার কর্মসূচীর ফলে এদেশের জমিন থেকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার ধীরে ধীরে দূর হয়ে যেতে থাকে। ইসলামের মৃত্যুঞ্জয়ী বাণী সুধা পান করে ঈমানদীপ্ত হয়ে উঠে বাংলার মুসলিম সমাজ। হযরতের গৃহীত বহুমুখী সমাজ সংস্কারমূলক কর্মসূচীগুলোর মধ্যে নিম্নলিখিতগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য-
  1. তাকরীরি ইশায়াত বা ওয়াজ নছীহত: সারাটি জীবন হযরত নিজে এবং তাঁর অনুসারী খোলাফা, ওলামা, ওয়ায়েজীনদের মাধ্যমে সারা বছর বাংলা ভারতের আনাচে কানাচে হাজার হাজার মাহফিল, ওয়াজ নছীহত করে দীন ইসলামের সঠিক বুঝ মানুষের মধ্যে পয়দা করেছেন।
  2. জেকেরের হালকা, ওয়াজ ও ইসালে ছওয়াব মাহফিল প্রতিষ্ঠা: তিনি অসংখ্য সাপ্তাহিক ও মাসিক জেকেরের হালকা এবং বার্ষিক ওয়াজ ও ইসালে ছওয়াব মাহফিল প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এগুলো সপ্তাহ, মাস বা বছরের একটি নির্দিষ্ট তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।
  3. লাইব্রেরী ও গবেষণা বিভাগ প্রতিষ্ঠা: তিনি বাংলা, ইংরেজী, আরবি, উর্দূ ও ফার্সি ভাষায় অসংখ্য কেতাব সংগ্রহ করে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং কুরআন হাদীছের আলোকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার জন্য গবেষণা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।
  4. প্রকাশনা কার্যক্রম: লেখনীয় মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে নিম্নরূপ প্রকাশনা কার্যক্রম শুরু করেন: ক) প্রেস প্রতিষ্ঠা, খ) বই পুস্তক প্রকাশ, গ) পত্রপত্রিকা প্রকাশ, ঘ) ইস্তেহার, পোষ্টার, হ্যান্ডবিল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার। মসজিদ স্থাপন: তার তত্ত্বাবধানে ও পৃষ্টপোষকতায় অসংখ্য মসজিদ গড়ে উঠে।
  5. মাদ্রাসা স্থাপন: সারা দেশে তাঁর নেতৃত্বে শত শত মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। খানকাহ প্রতিষ্ঠা ভারতীয় উপমহাদেশে তাঁর প্রচেষ্টায় অসংখ্য আধ্যাত্মিক তালীমগাহ বা খানকাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। খোলাফা বা প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে : দেশবিদেশে তিনি অসংখ্য কামেল-মুকাম্মেল খোলাফা বা প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে সংস্কার আন্দোলনকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
  6. বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন প্রতিষ্ঠা: বিভিন্ন সংগঠন এবং সংস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সংস্কার কার্যক্রমকে আরো জোড়দার করেন। এ ধরনের সংগঠন ও সংস্থাগুলোর মধ্যে ছিল: ক) আঞ্জুমানে ওয়ায়েজীন, খ) জমিয়তে ওলামায়ে বাংলা ও আসাম, গ) নূরুল ইসলাম বায়তুল মাল, ঘ) শান্তি কমিটি, ঙ) হেজবুল্লাহ কমিটি, চ) বিশ্ব ইসলাম মিশন কুরআনী সুন্নী জমিয়তুল মুসলিমীন হিযবুল্লাহ, ছ) পশ্চিম বঙ্গ মুসলিম বন্যা সাহায্য সমিতি,জ) নিখিল বঙ্গ তাবলীগ মিশন প্রভৃতি।
  7. বাহাস মুবাহাসা: হযরতের নেতৃত্বে এবং নির্দেশে বাতেলপন্থীদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো বাহাস মুবাহাসা অনুষ্ঠিত হয়। এসকল বাহাসে বাতেলপন্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।
  8. মানবসেবা কার্যক্রম
মানব সেবার ছদ্মাবরনে খৃষ্টান মিশনারীরা বহু মুসলমানকে খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করছিল। তাদের এ ঈমান বিধ্বংসী কার্যক্রম থেকে নিঃস্ব অসহায় দুর্গত মুসলমানদের রক্ষার জন্য হযরত পীর ছাহেব বিভিন্ন মানব সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এ কার্যক্রমের অন্তর্ভূক্ত ছিল
  • দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন।
  • বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন।
  • এতিমখানা স্থাপন।
  • কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
  • আর্ত-পীড়িত-দুর্গতদের সহযোগিতা প্রদান-ইত্যাদি।
(হযরত আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.)-এর জীবনী মুহাম্মদ ইব্রাহিম তর্কবাগীশ, হযরত আব্দুল হাই সিদ্দীকি (রহ.) এর জীবন ও বানী-মাওলানা মু. সিরাজুল ইসলাম ও রুহুল কুদ্দুস; ফুরফুরা শরীফের ইতিবৃত্ত, মোঃ মুবারক আলী রহমানী)