তারবিয়াতুল মিল্লাত একাডেমী
ভূমিকা
দেহ, মন ও আত্মার সমন্বয় সাধন ও বিকাশের নামই শিক্ষা, যার মাধ্যমে মানবিক ও মানসিক মূল্যবোধ জেগে উঠে, যা দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নতি সাধন করে। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক না হওয়ায় মানুষের নৈতিক অধঃপতন ঘটছে ও পঁচন ধরেছে সমাজের প্রতিটি স্তরে।
রাসূল (সঃ) বলেছেন, (দ্বীনি) ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ- (মুসলিম)। তিনি আরও বলেছেন তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআনের শিক্ষা লাভ করে এবং এর শিক্ষাদান করে (মিশকাত)। অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, হাফিজে কুরআনের পিতামাতাকে কিয়ামতের দিন এমন একটি মুকুট পরানো হবে, যার উজ্জ্বলতা হবে সূর্যের চেয়েও অনেক বেশি।
এ প্রয়োজন সামনে রেখেই প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতানুগতিক ধারা থেকে আধুনিকায়িত ও উন্নীত করে বিজ্ঞানসম্মত ও যুগোপযোগী ধারায় রূপদানের এবং এ শিক্ষায় শিক্ষিতদের কুরআন-সুন্নাহ আলোয় সুদক্ষ ও একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তারবিয়াতুল মিল্লাত একাডেমী এর আবির্ভাব। তারবিয়াতুল মিল্লাত একাডেমী গতানুগতিক কোন মাদ্রাসা নয়, বরং এটি হচ্ছে একটি আধুনিক ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আসুন আমরা দোয়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। আল্লাহ আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতি গঠনে এগিয়ে আসার তৌফিক দিন।- আমীন।
একবিংশ শতাব্দীর এই দাবি পূরণে একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফুরফুরার আলা হযরত শাহ্ সুফী মাও. আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী আল-কুরাইশী (মরহুম গদ্দিনিশীন পীর সাহেব, ফুরফুরা দরবার) প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, কমিটির সম্মানিত সদস্যগণ, উদ্যোক্তা ও শিক্ষকমন্ডলী এরূপ এক ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ একাডেমিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
উদ্দেশ্য
- প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সঃ) এর আদর্শের বাস্তবায়ন।
- কুরআন ও হাদীসের আলোকে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান।
- উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন করে আল্লাহর রেযামন্দী অর্জন।
বৈশিষ্ট
- উন্নত ও আধুনিক সিলেবাসের মাধ্যমে ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিক্ষাদান।
- ছাত্র-ছাত্রীকে তাজ্বীদ ও তারতীলের সাথে বিশুদ্ধ উচ্চারণসহ হাফিজে কুরআন হিসেবে গড়ে তোলার সুব্যবস্থা।
- দেশের প্রখ্যাত আলিমে দ্বীন ও ইসলামী চিন্তাবিদদের সার্বিক তত্ত্বাবধান।
- স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের সুব্যবস্থা।
- অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যাতায়াতের সুব্যবস্থা।
- নিয়মিত শরীর চর্চা।
- প্রতিদিনের পড়া ক্লাসেই ৮০% সম্পন্ন করার বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থা।
- অভিজ্ঞ ও মার্জিত শিক্ষমন্ডলী দ্বারা যুগোপযোগী পাঠদান।
- সেমিস্টার পদ্ধতিতে ৩টি সেমিস্টারে সিলেবাস সমাপ্ত করা।
- কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
- ছাত্রদের জন্য আবাসিক সুব্যবস্থা।
- অগ্রগতির মূল্যায়ন ও অভিভাবকগণের সাথে সার্বিক পর্যালোচনা সভা।
আমাদের শিক্ষা নীতি
- প্রত্যেক সেকশনের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৫ জন।
- প্রতি সপ্তাহে ক্লাস টেস্ট ও প্রতি মাসে মাসিক টেস্ট নেয়া হবে, এর ফলাফলের ভিত্তিতে দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হবে।
- একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ পাঠাগার।
- শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সিলেবাস অনুসারে পাঠদান হবে। এই পাঠদান পরিকল্পনা ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগণ অগ্রিম জানতে পারবেন।
- আধুনিক পদ্ধতিতে আরবি ও ইংরেজি কথপোকথনের সুব্যবস্থা।
- বিতর্ক অনুষ্ঠান, কবিতা-আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, ক্বিরাত, হাম্দ, না’ত, গজল ও জাতীয় চেতনামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশ সাধনের সুব্যবস্থা।
অন্যান্য কার্যক্রম
- নামাজ ও হাদীস চর্চা করানো।
- হাফিজে কুরআনদের পাগড়ী প্রদান।
- শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা।
- অডিও ভিজুয়্যাল শিক্ষা ব্যবস্থা।
- শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা।
- বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
- সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
- বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ইসলামিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
- মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার প্রদান।
পাশের মূল্যায়ন পদ্ধতি
| Grade | Marks | GPA | Explanation |
|---|---|---|---|
| A+ | 80 – 100 | 5 | Excellent |
| A | 70 – 79 | 4 | Best |
| A- | 60 – 69 | 3.5 | Better |
| B+ | 50 – 59 | 3 | Good |
| B | 40 – 49 | 2 | Satisfactory |
| B- | 33 – 39 | 1 | Needs Improvement |
| C | 00 – 32 | 0 | Fail |
বয়সসীমা
| সাধারণ শ্রেণি | বয়স | তাহ্ফীয বিভাগ | হিফ্জ সিলেবাস |
|---|---|---|---|
| প্লে | ৪.৫ | ||
| নার্সারি | ৫ | অক্ষর/যুক্তাক্ষর | |
| কেজি | ৬ | নূরানী | |
| ১ম | ৭ | তাহ্ফীয ১ম বর্ষ | নাযেরা এবং ৬ পারা |
| ২য় | ৮ | তাহ্ফীয ২য় বর্ষ | ১০ পারা |
| ৩য় | ৯ | তাহ্ফীয ৩য় বর্ষ | ১৪ পারা |
| ৪র্থ | ১০ | তাহ্ফীয ৪র্থ বর্ষ | |
| ৫ম | ১১ | ইবতেদায়ী সমাপনী | শুনানী |
| ৬ষ্ঠ | ১২ | ||
| ৭ম | ১৩ | ||
| ৮ম | ১৪ | JDC তে অংশগ্রহণ | |
| ৯ম | ১৫ | ||
| ১০ম | ১৬ | দাখিল (JHC) |
বিঃ দ্রঃ – ৪র্থ শ্রেণিতে হিফজ সম্পন্ন না হলে উক্ত ছাত্রকে হিফজ বিভাগে রাখা সম্ভব হবে না।
সিলেবাস
- বাংলাদেশ স্কুল টেক্সট বুক বোর্ডের নির্ধারিত বই।
- মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি American Islamic Academy & British Standard অনুযায়ী English বই
- জামিয়াতুল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ আল-ইসলামী (বিশ্ববিদ্যালয়) সৌদি আরব এর আরবি ভাষা ও সাহিত্যের বই।
পরিক্ষা
- ক্লাস টেস্ট ও ৩টি টিউটোরিয়াল পরীক্ষা।
- ১ম, ২য় ও ৩য় সেমিস্টার পরীক্ষা।
- তিন সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা।
- টিউটোরিয়াল পরীক্ষার নম্বর সেমিস্টার পরীক্ষার নম্বরের সাথে যোগ করা হয়।
ভর্তি
- ১০০ (একশত) টাকার বিনিময়ে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
- ভর্তি ফরম পূরণের সময় ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ও ২ কপি স্ট্যাম্প সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে।
- নির্ধারিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণ হতে হবে।
- ভর্তির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ভর্তিকালীন ব্যয়
নতুন : ৬১০০/- পুরাতন : ৪১০০/-
আবাসিক ছাত্রদের মাসিক ব্যয়
খোরাকী সহ : (১৬০০+১০০০+২৫০০=৫১০০/- )
খোরাকী ছাড়া: (১৬০০+১০০০ =২৬০০/-)
(আবাসিক ছাত্রদের ভর্তি সিরিয়ালে খাট প্রদান করা হবে)
সময়সূচি
- সকালঃ ৮টা থেকে ০১:১৫ মি. পর্যন্ত। (অনাবাসিক)
- বিকালঃ ২.৩০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। (আবাসিক)
- বাদ মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত। (আবাসিক)
প্রতিষ্ঠাতা
হযরত শাহ্ সুফী মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী আল-কুরাইশী (রহঃ) গদ্দিনিশীন পীর সাহেব, ফুরফুরা দরবার
মহাপরিচালক
আল্লামা শায়েখ আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল কুরাইশী, গদ্দিনিশীন পীর সাহেব, ফুরফুরা দরবার
ছুটি
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি, শিক্ষা অধিদপ্তরের ইসলামিক অন্যান্য ছুটি ও একাডেমির নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি।
সমাবর্তন
- মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পুরস্কার প্রদান।
- ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
- দেশ বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা।
- হাফিজে কুরআনের সনদ ও পাগড়ী প্রদান।
