আমল আখলাক স্বভাব চরিত্র
আল্লাহপাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেছেন ফাত্ত্বাবিয়্যুনী ইউহবিব্ কুমুল্লাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তাবেদারী কর, তবেই আল্লাহপাক তোমাদেরকে মুহাব্বত করবেন।
হুজুরেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ মুমেন হতে পারবে না, যতক্ষণ সে আমাকে নিজের ধনসম্পদ, আত্মীয়স্বজন, মা-বাপ, ছেলেমেয়ে এমনকি নিজের জান হতে বেশি মুহাব্বত করতে না পারবে।
তিনি অন্যত্র বলেছেন মান্ আহাব্বাস্ সুন্নাতী, ফাক্বাদ আহাব্বনী অর্থাৎ যে আমার সুন্নতকে মুহাব্বাত করলো সে যেন আমাকে মুহাব্বাত করলো। তিনি আরও বলেছেন মান তারাক্বা সুন্নাতী, ফা লাইসা মিন্নী অর্থাৎ যে আমার সুন্নতকে তরক্ব করলো সে আমার কেউ নয়।
ফুরফুরার হযরত পীর সাহেব (রহ.) জীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে সুন্নতের অনুকরণ-অনুসরণ করে চলেছেন। তিনি কেমনভাবে সুন্নতের তাবেদারী করতেন-নীচের ঘটনাগুলো হতে সে ব্যাপারে কিছুটা হলেও ধারণা লাভ করা যাবে।
দারুস্সালাম ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াবে আগত লক্ষ লক্ষ মুসলমানের সামনে হুজুর একবার ঘোষণা করলেন যদি কোন সুন্নতের পরিপন্থী কাজ এখানে হতে দেখেন তাহলে আমাদের অভিযোগ কেন্দ্রে জানিয়ে যাবেন।কিন্তু আজ পর্যন্ত অভিযোগ কেন্দ্রে এটি অভিযোগও জমা পরেনি।
হুজুর (রহ.) প্রায় মাহফিলেই বলেন বাবা! যখন দেখবেন আমরা কুরআন-সুন্নাহর বিপরীত চলছি তখন আমাদের কাছে আর কেউ আসবেন না। ঝাটা মেরে আমাদেরকে তাড়িয়ে দিবেন।
বিভিন্ন আলেম শ্রোতাদের মন জয় করার জন্যে ওয়াজের মাহফিলে বিভিন্ন কিচ্ছা কাহিনী বর্ণনা করে থাকেন। কিন্তু ফুরফুরার হযরত পীর সাহেব (রহ.)-এর প্রতিটি মাহফিলেই ওয়াজের বিষয়বস্তু থাকে এত্তেবায়ে সুনানের গুরুত্ব সম্পর্কে। হুজুর (রহ.) বলতেন সুন্নতের তাবেদারী নাজাতের একমাত্র উপায়।
নিজ হাতে কাজ
হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের হাতে কাজ করতে পছন্দ করতেন। ঘরে অবস্থানকালীন সময়ে বিবিদের কাজে সহযোগিতা করতেন। হযরত পীর সাহেবও অনেক কাজ নিজের হাতে করতেন। ঘরের ভেতরে অবস্থানকালীন সময়ে বিবির অনেক কাজ নিজের হাতে করে দিতেন। নিজে বাজার করতে যেতেন। বিভিন্ন দোকানে ঘুরে দাম দস্তুর করে জিনিসপত্র কিনতেন। রান্নার কাজে সহযোগিতা করতেন। অনেক সময় নিজেই রান্না চড়িয়ে দিতেন।
মাথায় করে মাটি বহন
মসজিদে নববী তৈরির সময় হুজুরেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে পাথর বয়ে আনতেন। পীর সাহেব (রহ.) হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুকরণে মার্কাজে ইশাআতে ইসলাম, দারুস্সালাম মসজিদ তৈরির সময় নিজে মাথায় করে মাটি বহন করেছেন। তিনি কখনো জোগালুদের সাথে ইট সুরকী বহন করেছেন, কখনো বাঁশ এগিয়ে দিয়েছেন, কখনো কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছে, আবার কখনও বা বড় ওজনী দিয়ে মাটি দাবিয়ে সমান করেছেন। সমস্ত কাজ তিনি নিজেই তদারক করে সম্পন্ন করিয়েছেন।
জামাআতের পাবন্দী
নবীপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যের ঘাড়ে হাত রেখে পা মুবারক টেনে টেনেও নামাজের জামাআতে শামীল হতেন। ফুরফুরার মরহুম হুজুর খুব জরুরী ওজর ছাড়া সব সময়ই জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করতেন। অসুস্থতার সময়ে যখন চলতে পারতে না, তখন হুইল চেয়ারে করে জামাআতে শামীল হতেন। এমনকি সেন্ট্রাল এনেসথেসিয়া দিয়ে পায়ে মেজর অপারেশনের মাত্র ঘণ্টা তিনেক পরে তিনি হাসপাতাল থেকে মসজিদে (হুইল চেয়ারে) এসে মাগরিবের জামা’আতে শামিল হয়েছেন। মুরিদসহ সকল মুসলমানকে তিনি জামা’আতে নামাজ পড়ার জন্য খুব তাকীদ করতেন। কেউ জামাআত তরক করলে তিনি খুব নাখোশ হতেন। হুজুরের সাহেবজাদাদের বয়স যখন ৭/৮ বছর, তখন থেকেই প্রায় প্রত্যেক ওয়াক্তেই হুজুর (রহ.) মসজিদে এসেই খোঁজ নিতেন-ছেলেরা নামাজ পড়তে এসেছি কিনা। জামাত তরক করলে তিনি ছেলেদেরকেও শাসন করতেন।