অনুলিপি ওয়াজ
পর্যায়ক্রমে গদ্দিনিশীন হুজুরগনের ওয়াজ
এই পেজে পর্যায়ক্রমে গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরার ৩ জন হজরতের অনুলিপি ওয়াজ পড়ুন —
১)শাইখুল ইসলাম মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহঃ)
২) নায়েবে মুজাদ্দেদ মাওলানা আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহঃ)
৩)আল্লামা শায়েখ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল কুরাইশী
ধারাবাহিক ভাবে পড়ুন………………………
১)শাইখুল ইসলাম মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহঃ)
ফুরফুরার গদ্দিনিশীন পীর শাইখুল ইসলাম আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.) এর ঐতিহাসিক ভাষণ
আলেমদের দোষ ত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে যে সব মূল্যবান ভাষণ প্রদান করতেন তন্মধ্য হতে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ শরিয়তে ইসলাম, আষাঢ়-শ্রাবণ, ১৩৪৭ (বাংলা) সংখ্যা হতে হুবহু নিচে তুলে দেয়া হলো-
আলেম সমাজ!
আপনাদের প্রশংসা করিয়া আল্লাহতায়ালা কুরআন শরীফে এরশাদ করিয়াছেনঃ
ইয়াখ শাল্লাহা মিন্ ইবাদিহিল ওলামা।
আল্লাহর বান্দাদিগের মধ্যে আলেমগণই আল্লাহকে অধিক পরিমাণে ভয় করে। যে সমস্ত আলেম যথার্থ খোদাভীরু এবং আল্লাহ ও রাসূলের হুকুম অনুসারে কার্য করেন, তাহারাই আলেমে হাক্কানি এবং তাহারাই নবীর প্রকৃত ওয়ারেছ।
আমার রাসূলুল্লাহ (দঃ) ফরমাচ্ছেন-
আল্ ওলামায়ো ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া।
এই সমস্ত ওয়ারেছাতুল আম্বিয়া আলেমগণই মুসলমানের জন্য দোজাহানের পথ প্রদর্শক ও প্রকৃত নেতা। ইহাদের তাঁবেদারী করিবার জন্য খোদা ও রাসূল (দঃ) কুরআন ও হাদীসে বহুবার হুকুম করিয়াছেন।
আলেম নামধারী এক শ্রেণির লোক আছে, যাহারা নিজেদিগকে আলেম ও পীর বলিয়া দাবির করে, কিন্তু তাহারা আল্লাহ ও রাসূলের (দঃ) পূর্ণভাবে তাঁবেদারী করে না এবং শরিয়ত, তরীকত, হাকীকত ও মারেফাত অনুসারে আমল করে না, তাহারাই হইতেছে আলেমে বে-আমল। ইহাদের জন্য কঠিন আজাবের কথা কেতাবে আছে।
হাদীস শরীফে আছেঃ
হযরত নবী করীম (দঃ) ইরশাদ করিয়াছেন যে, একদল লোক হইবে যাহারা কুরআন পড়িবে, কিন্তু তাহাদের হলকুমের নিচে যাইবে না অর্থাৎ তাহারা কুরআন মোতাবেক আমল করিবে না। তাহাদের কথা পয়গম্বরদের কথার ন্যায় উত্তম হইবে, কিন্তু তাহাদের কাজ ফেরাউনের কাজের ন্যায় জঘন্য হইবে। তাহাদের অন্তর বাঘের ন্যায় হিংস্র হইবে।
ইহাদের চক্রান্ত ও ধোঁকাবাজি হইতে প্রত্যেককে সতর্ক হইবার জন্য হযরত (দঃ) পুনঃপুন সাবধান করিয়াছেন। ইহারাই হইতেছে আলেমে বে-আমল ও ব্যবসাদার। ইহারা দুনিয়ার স্বার্থ, ধন-দৌলত ও ইজ্জত-সম্মানের জন্য কুরআন-হাদীসকে বিসর্জন দিয়া আল্লাহ ও রাসূল (দঃ)-এর হুকুমের খেলাফ করিয়া থাকে। তাহারা নিজ নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য লোকদিগকে মিষ্টকথায় ভুলাইয়া নানাবিধ ধোঁকা কার্য উদ্ধার করে।
যাহারা আলেমে হাক্কানি অর্থাৎ আল্লাহ ও রাসূলকে ভয় করেন এবং তাঁহাদের হুকুম মত কাজ করেন- তাহারাই হইতেছেন মুসলমানদের প্রকৃত নেতা এবং যথার্থ খাদেমে-কওম। ইহাদেরই আপ্রাণ চেষ্টায় ইসলাম প্রচার, সমাজের উন্নতি ও কওমের কেদমত হইয়া আসিতেছে।
হযরত নবী করীম (দঃ) হইতে আরম্ভ করিয়া আজ পর্যন্ত দুনিয়ার সর্বত্র লক্ষ্য করিলে ইহা স্পষ্টভাবে জানা যাইবে এবং ইতিহাস সাক্ষ্য দিবে যে, ইসলামের দাওয়াত, ইসলামের এশায়াত, ইসলামী অখুয়ত, ইসলামী সুলতানাত, ইসলামী আদর্শ -এই সমস্ত প্রকৃত আলেম ও কামেল পীরদিগের দ্বারাই সুসমাধা হইয়াছে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, হযরত বড় পীর ছায়েব (রহঃ), গরিব নেওয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ), হযরত খাজা নক্শবন্দী (রহঃ), হযরত মোজাদ্দেদ আলফে ছানী (রহঃ), হযরত সৈয়দ আহমদ মোজাদ্দেদ (রহঃ), হযরত মাওঃ কেরামত আলী জৌনপুরী (রহঃ), শেষ যুগের মোজাদ্দেদ ফুরফুরা শরীফের হযরত পীর ছাহেব (রহঃ) প্রমুখ শত সহস্র আলেম ও পীরদিগের সম্বন্ধে ইতিহাস স্পষ্টাক্ষরে ঘোষণা করিতেছে যে, তাঁহাদের অক্লান্ত সাধনার ফলে আজ দুনিয়ার সর্বত্র ইসলাম জারি রহিয়াছে। এই সমস্ত প্রকৃত আলেম ও কামেল পীরদিগের চেষ্টা ও পরিশ্রমের জন্যই মুসলিম সমাজের অস্তিত্ব এখনও টিকিয়ে আছে। ইহাদেরই প্রচারের ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তার, ধর্মপালন, একতা স্থাপন ইত্যাদি হইয়া আসিতেছে।
যে আলেম সমাজের চেষ্টার জন্য পৃথিবীর সর্বত্র ইসলাম ও মুসলিম সমাজের প্রচার হইয়াছে ও হইতেছে এবং যাঁহারা সমাজের স্বভাব নেতা– তাঁহারা আজ সনানা দিক দিয়া কেন অবনত হইতেছে এবং কেনইবা তাঁহারা আজ তথাকথিত নেতাদের নিকট অবজ্ঞাত হইতেছে ? ইহার কারণ আলেম সমাজের নিজেদের দোষত্রটি। আলেম সমাজ তাহাদের নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন নিজেরা করিতেছেন। তাই আজ তাহারা এরূপভাবে কোণঠাসা হইতেছেন।
আল্লাহতায়ালা এরশাদ করিয়াছেন– কোন কওমের অবস্থার পরিবর্তন আল্লাহ করেন না, সেই কওম তাহার অবস্থা নিজেই পরিবর্তন করে।অর্থাৎ তাহারা নিজের স্বীকৃত দোষত্রুটি জন্য অবনত হয়।
আলেম সমাজ ভুলিয়া যাইতেছেন যে, তাঁহারা কারা এবং তাঁহাদের উপর কি দায়িত্বভার আল্লাহতায়ালা দিয়াছেন।
কুরআন শরীফে আছে —
তোমরাই উত্তম উম্মত। তোমাদিগকে মানুষের জন্য অর্থাৎ মানুষদিগকে সৎ ও নেকের কাজে আহ্বান করিতে, অসৎ ও গোনা হয় কাজে নিষেধ করিতে পয়দা করা হইয়াছে।
আল্লাহর দেওয়া সেই কর্তব্য যাহা পয়গম্বরগণ করিয়াছেন এবং যে কাজ করিবার জন্য আলেম সমাজ পয়গম্বরগণের ওয়ারেছ — সেই হেদায়াত ও এশায়াত হইতে আলেমগণ ক্রমে ক্রমে পিছনে হটিয়া আসিতেছেন।
আল্লাহর পথে ও সত্যের দিকে লোকদিগকে আহ্বান করা এবং অসৎ ও অন্যায় হইতে ফিরাইয়া আনা খুব সোজা কাজ নয়। ইহার জন্য সদা সর্বদা ইবলিস ও তাহার দলবলের সহিত যুদ্ধ (জেহাদে আক্বর) করিতে হয়। কেননা ইবলিস ও তাহার দল বল মানুষদিগকে আল্লাহর পথ হইতে ফিরাইয়া লইয়া অন্যায়ের দিকে চালিত করিতে সদা-সর্বদা চেষ্টা করিয়া থাকে। সুতরাং আলেম সমাজকে সদা সর্বদা যুদ্ধ করিতে হয় ইবলিস ও তাহার দলবলের সহিত।
যুদ্ধে জয়ী হইতে হইলে যে শক্তির প্রয়োজন-সে শক্তি সহজে আসে না। সে শক্তি পাওয়া যায় একমাত্র আল্লাহর পথে কায়েম থাকিবার জন্য মিন জানি বিল্লাহি অর্থাৎ আল্লাহরই নিকট হইতে। আল্লাহর দেওয়া শক্তি ব্যতীত ইবলিসের সহিত যুদ্ধ করিয়া জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। সেই শক্তি পাইতে হইলে আল্লাহর হুকুমের তাঁবেদারী করিতে হইবে । যাহাতে কেহ ইবলিসি চক্রান্তকে পরাস্ত করিতে না পারে, তাহার জন্য ইবলিস সর্বপ্রথমে আলেমদিগকে গোমরাহ করিতে চেষ্টা করে। হাজার দরবেশ অপেক্ষা একজন ফকিহ আলেম ইবলিসের নিকট কঠিন। কেননা শুধু দরবেশ (যার এলেম নাই) অপেক্ষা আলেমে হাক্কানির ইজ্জত ও ক্ষমতা অনেক বেশি। আলেমদিগকে পথভ্রষ্ট অর্থাৎ গোমরাহ করিবার জন্য ইবলিসকে খুব চিন্তিত হইতে হয়।
হাদীস শরীফে আছে-
হযরত (দঃ) এরশাদ করিয়াছেন যে, আলেমদিগকে গোমরাহ করিবার সবচেয়ে প্রধান উপায় — লোভ ও লালসা।
অর্থের লোভ, ধনের লোভ, যশের লোভ, সম্মানের লোভ, দাওয়াতের লোভ, মুরিদের লোভ, পদের লোভ, ইজ্জতের লোভ, তথাকথিত নেতাদের নিকট খাতির পাইবার লোভ ইত্যাদি বহু প্রকার লোভ ও লালসাই আলেমদিগকে আল্লাহর পথ হইতে ভ্রষ্ট করিয়া শয়তানের পথে চালিত করে। ইহা হাদীসে স্পষ্টভাবেই উল্লেখিত আছে।
এই সমস্ত লোভের জন্যই আলেমদিগের অনেকে এজাহারে হক্ব বা সত্য প্রচার করিতে এবং যথার্থভাবে ইশাআতে ইসলাম করিতে ত্র“টি করেন। আল্লাহ রাজ্জাক (রুজিদাতা) আল্লাহ মোয়েজ্জো (সম্মানদানকারী), আল্লাহ হাফেজ (রক্ষাকারী), আল্লাহ নাছের (সাহায্যকারী), মোছাব্বেবোল আছবাব আল্লাহ অর্থাৎ যে কাজ করা আল্লাহর মরজি হয়, তাহার ব্যবস্থা ও উপায় তিনিই করিয়া দেন। ঈমান ও ইসলামের এই মূল ভিত্তিকে ভুলিয়া যাইয়া মানুষের নিকট ইজ্জত-সম্মান, ধন-দৌলত ইত্যাদি পাইবার আশায় আজ এক শ্রেণির আলেমগণ সত্য প্রকাশ করিতে, হক্ব বলিতে বিচলিত হইতেছেন। তাঁহাদের হয়তো ধারণা যে– ইসলামের এই সত্য কথাটি প্রকাশ করিলে অমুক ব্যক্তি চটিয়া যাইবে এবং তাহাতে আমার পাওনা-গণ্ডার বা অন্য আরও কিছু ক্ষতি হইবে। তাই তাহারা মানুষকে ভয় করিয়া হক্ব কথা বলিতে ইতস্তত করেন। আলেম সমাজের মধ্যে এই মারাত্মক দোষ ঢুকিবার জন্যই আজ তাঁহারা হেয় হইতেছেন। ঈমানের এই কমজোরই হইতেছে আলেম সমাজের তনজ্জলির অন্যতম প্রধান কারণ।
মুসলমানের ও আলেমের নেতা কোন দিন অমুসলমান অথবা বে-আলেম হইতেই পারে না। যদি হয়, তবে তাহার পরিণাম খুবই মন্দ হইবে। কুরআন, হাদীস এবং ইতিহাস ইহার জ্বলন্ত সাক্ষ্য দিতেছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়! আজকাল নেতৃত্ব বাজারের ব্যবসাদার দালালদের পাল্লায় পড়িয়া অনেক মুসলমান ও আলেম সমাজ চিন্তা করিয়া দেখেন না যে, যাহাকে নেতা বলা হইতেছে, যাহার জিন্দাবাদ করা হইতেছে, যাহার তাঁবেদারী করিবার জন্য সমাজকে উপদেশ দেওয়া হইতেছে, সে ব্যক্তি মুসলমানের নেতা হইবার যোগ্য কিনা, সে তাহার কাজে, আচারে-ব্যবহারে যথার্থ মুসলমান কিনা! যদি সে উহা না হইয়া আল্লাহর হুকুম অমান্যকারী হয়, শরিয়তের খেলাফ কাজ করে, বে-শরা বেদ্বীন হয়; তবে তাহাকে পরিত্যাগ করিবার জন্য আল্লাহর রাসূল (দঃ) বারংবার বলিয়াছেন ঃ
ওয়া নাতরুকু মাইয়্যাফ জুরুকা
অর্থাৎ হে খোদা, যে তোমার হুকুমের খেলাফ কাজ করে, তাহাকে পরিত্যাগ করিতেছি। … এ কথা প্রত্যেক মুসলমান ও আলেমদিগকে বিশেষভাবে মনে রাখিতে হইবে।
হাদীস শরীফে আছে, – যখন কোন ফাসেকের প্রশংসা করা হয়, যখন আল্লাহর গজব হয় ও আরশ প্রকম্পিত হইতে থাকে।
সুতরাং মুসলমান ও আলেম সমাজ যাহাকে প্রশংসা করিবে, যাহার জিন্দাবাদ দিবে-সে যদি ফাসেক হয়, তবে অবস্থা কি হইবে তাহা উক্ত হাদীসেই স্পষ্টভাবে রাসূলুল্লাহ (দঃ) বলিয়াছেন। তাই আলেম সমাজকে সর্বোতভাবে আল্লাহর উপর ভরসা করিয়া সত্য এবং যাহা কুরআন-হাদীসে আছে, তাহা প্রচার করিতেই হইবে। এবং তদানুযায়ী সম্পূর্ণভাবে সকল কাজ করিতে হইবে। নতুবা ইহকালে অধঃপতন আর আখেরাতে কঠিন আজাবে গ্রেফতার হইতে হইবে।
আলেম সমাজকে বিশেষভাবে হুঁশিয়ার হইতে হইবে– যাহাতে ইসলাম ও মুসলমানের নামের মুখোশ পরিয়া কেহ দ্বীন ইসলাম ও কওমের সর্বনাশ করিতে না পারে। ইসলামের কিতাব, ইসলামের শিক্ষা, ইসলামের আদর্শ হইতেছে– কুরআন, হাদীস, ফেকাহ্ ও এলমে তাছাওউফ্। এই কিতাব, শিক্ষা ও আদর্শ গ্রহণ করিলে পূর্ণভাবে ইসলামকে গ্রহণ করা হয় এবং ইসলাম গ্রহণ করিলে মুসলমান হওয়া যায়। ইসলাম পরিত্যাগ করিলে কখনও মুসলমান হওয়া যায় না। সুতরাং কুরআন, হাদীস প্রভৃতি পরিত্যাগ করিলে সে কখনও মুসলমান হইতে পারে না।
ইসলামই হইতেছে মুসলমানের সবচেয়ে বড় সম্পদ। ইসলাম অর্থাৎ কুরআন, হাদীস প্রভৃতি পরিত্যাগ করিয়া যদি কোন ব্যক্তি মুসলমান হইবার অথবা মুসলমানের নেতা, প্রতিনিধি, লীডার হইবার দাবি করে– তবে তাহা একান্ত অন্যায় ও অসম্ভব। ইসলাম পরিত্যাগ করিয়া মুসলমান হওয়া অথবা মুসলমানের পথপ্রদর্শক হইবার দাবি যাহারা করেন-হয় তাহারা ভ্রান্ত, না হয় তাহারা ভণ্ড। এই সমস্ত লোক হইতে সাবধান হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
হাদীস শরীফে আছে, হযরত রাসূলুল্লাহ (দঃ) বলিয়াছেন–
ফা ইয়্যাকুম আইয়্যাহুম লা ইয়ুদিল্লুনাকুম ওয়ালা ইয়ুফতিনু না কুম।
অর্থাৎ তোমরা নিজেরা তাহাদের হইতে সাবধান থাক এবং অপরকে সাবধান কর। যেন তোমাদের মধ্যে তাহারা ফিৎনা ফাসাদ আনয়ন করিতে ও তোমাদিগকে গোমরাহ করিতে না পারে।
অতএব যাহারা প্রকৃত আলেম, যাহারা আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাসী এবং যাহারা নবীর যথার্থ নায়েব, তাহাদিগকে বিশেষ করিয়া বর্তমান সময়ে খুব হুঁশিয়ার হইয়া অগ্রসর হইতে হইবে। সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ ও রাসূল (দঃ) এর এবং কুরআন ও হাদীসের তাঁবেদার হইয়া ইশাআতে ইসলাম ও খেদমতে কওম করিতে হইবে। একমাত্র আল্লাহর উপরই সম্পূর্ণ ভরসা এবং তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী।
ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল্ বালাগ্।
(শরিয়তে ইসলাম, আষাঢ়-শ্রাবণ সংখ্যা, ১৩৪৭ বাংলা; উত্তর-বাংলার আউলিয়া প্রসঙ্গ মুহম্মদ ইব্রাহীম, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃঃ ২১৮-২২৩)
২) নায়েবে মুজাদ্দেদ মাওলানা আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহঃ)
ফুরফুরার গদ্দিনিশীন পীর, নায়েবে মুজাদ্দেদ আবুল আনসার মুহাম্মদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী (রহঃ)
বাংলাদেশের ঢাকার পোস্তগোলা মাহফিলে হুজুরের (রহঃ)জীবনের শেষ ওয়াজ
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি অসুস্থ ছিলাম। কিছুদিন হয়েছে সুস্থ হয়েছি। দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমিন দেন; বলেন আল্লাহুম্মা আমিন।
হাজেরান, আমি বহু জায়গায় ওয়াজ করি, কিন্তু এমন মাঠের মধ্যিখানে এসব তো করা নিয়ম না। আপনারা একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করেন। বড় বড় ইরাদা আছে, ভেতরে এ পাশে ও পাশে আছে, সবাই মিলে আলাপ আলোচনা করেন। আপনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
হাজেরান, আমি কিছুদিন পরেই চলে যাবো। বুঝছেন না, আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। বলেন আল্লাহুম্মা আমিন।
আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার এই স্বপ্নটা স্থায়িভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে এক দারুস সালামে, আরেক পাকশীতে। আপনারা দেখে আসবেন। এখানে বড় জিনিস হচ্ছে হাজেরান, সবাই আপনারা সাহায্য করবেন। পাকশীর মসজিদটার জন্য আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ করছি। এখানে বিরাট বড় একটা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, ইসলামী ইউনিভার্সিটি করার কাজ চলছে। ইসলামী ইউনিভার্সিটির জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, আবেদন জানাচ্ছি আপনারা সকলে দিবেন, সকলে শরীক থাকবেন। হাজেরান, এখানে সত্যিকারের এলকা-এলহামের সাথে সব কাজ হয়। এখানে সব কিছু এলকা এলহামের সাথে হচ্ছে। আমাকে উনি বলে গিয়েছিলেন, দোয়া করছি যেন আল্লাহ আপনাকে জীবিত রাখেন, খাছ করে আমাদের যে হুজুর মরে গেছেন, কি নামটা যেন, খন্দকার সাহেব, তাকে আল্লাহ সওয়াব দেন, বলেন আল্লাহুম্মা আমীন, আল্লাহুম্মা আমীন। যাহোক আপনারা এ কাজের জন্য সকলে সাহায্য করুন বাপ।
হাজেরান, এরপরের কথা হচ্ছে, আমাদের সকলের কলেমা এক, তামাম নবীদের কলেমা এক। কিন্তু সকলের কলেমা এক হওয়া সত্ত্বেও আমরা সবাই পরস্পর থেকে আলাদা আলাদা হয়ে যাচ্ছি। হাজেরান, এটা আমাদের আদর্শ না। আমাদের কিছু সরদাররা, কিছু নেতারা ডুপ্লিকেটভাবে এরূপ করছে। আমাদের কলেমা একটাই, যা হযরত নূহ (আ.) বলেছেন, হযরত ইব্রাহিম (আ.) বলেছেন, এক লক্ষ বা দুলক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর যে কলেমা নিয়ে এসেছেন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ….. (কিছুক্ষণ যিকির করালেন)। মাঝে মাঝে পড়ুন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এছাড়া কামিয়াবী আসতে পারে না।
হাজেরান, ইসলাম আজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সবাই এক একটা পন্থা নিয়ে নেমে পড়ছে। এ ধরে এক পন্থা ও ধরে এক পন্থা এভাবে হয় নাকি? এভাবে মুসলমানের ভালো হবে না, উন্নতি হবে না। সব ছেড়ে একটা ধরতে হবে, বিভেদ ভুলে এক কলেমার অনুসারী হতে হবে। এ পৃথিবীর সবার কলেমাই হবে এক- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। আর বাকি কলেমাগুলো আমাদের বানানো, বাতিল।
হাজেরান, সারা জীবন ধরে চেয়েছি, মুসলমানদের এক হওয়া দরকার। আমাদের মধ্যে গোলোযোগ হচ্ছে, কিন্তু কি নিয়ে হচ্ছে? ছোট ছোট বিষয়ে আর এসব নিয়ে সাধারণ আমরা মুসল্লি সাহেবেরা একেবারে অস্থির হয়ে গেছি। বুঝছেন না, এটা মুসলমানদের নিয়ম না। আমার যা মনে হয়, যা ওয়াজ-গন্ডগোল, তাতে সোজা আপনারা নতুনভাবে সাজিয়ে নেন, একজন একেকটা লাইন ধরেন, সবাই ইসলামের খেদমত করেন। কেউ ধন দিয়ে আসুন, কেউ জবান দিয়ে আসুন, কেউ জামাত নিয়ে আসুন, যে যেভাবে পারেন আসুন; সবাই মিলে ইসলামের খেদমত করেন। মুসলমানের দিলটা, আমাদের অন্তরটা বিভক্ত-বিভ্রান্ত হবে কেন? বরং মুসলমানরা পরস্পরের দুঃখ বেদনায় মর্মাহত হবে, একের জন্য অন্যে কাঁদবে। মুসলমান মুসলমানকে মমতা করবে, ভালবাসবে। না মুসলমান মুসলমানকে ভাগ করবে? ঠিক কথা না ভুল কথা? আরে বলেন না ঠিক কথা না ভুল কথা? হাজেরান, এইটাই আমার চিন্তা। আমরা মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই হয়ে কাজ করবো। বুঝছেন না, হাজেরান, এ ওকে কাফের ও একে কাফের বলা এটাতো অন্যায় কথা।
হাজেরান, আমাদের মধ্যে এটিই থাকবে, পরস্পর মিল থাকবে। আমরা মৌলভী সাহেব মানুষ, আমাদের দৌড় না-কি মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত; ঐ দেয়াল নিয়েই থাকবো, আর কী করবো বলুন! বুঝছেন না, আমাদের তো কেউ নিবে না, আমাদের নিলো না তো! হাজেরান, তোমরাই খাচ্ছ, তোমরাই গন্ডগোল করছো!
দোস্তরা বন্ধুরা, মুসলমানদের মধ্যে একরা হওয়া দরকার। আজ পৃথিবীর দিকে চোখ মেলে দেখুন, এক দল আরেক দলের সাথে মিলে এক হয়ে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ার মতো জায়গায় সব এক হয়ে গেছে। তাদের নেতারা তাদেরকে মিলাচ্ছে, তাদেরকে পরস্পর এক করছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে তা হয়নি। হাজেরান, বড় অন্যায় কথা। আসেন আমাদের মাঝে সকল বিভেদ ভুলে আমরা একতার বন্ধনে আবদ্ধ হই, ভাই ভাই হয়ে যাই। হাজেরান, দোস্তরা, বড় বেকায়দা সময়। বুঝছেন না আমার বাবাজিরা, বড় উভয় সংকট, বড় সঙ্গীন সময়! এ সময় আমাদেরকে খুব সংযত হয়ে চলতে হবে। বড় সংযতভাবে কাজ করতে হবে। মোটকথা এক হতে হবে। এক না হলে উপায় নেই। এ ওকে কাফের, ও একে কাফের বলবেন কেন? কাফের কার কাছে? কাফের আল্লাহর কাছে; তাই না? আপনি কেন কাফের বলতে যাবেন? বুঝছেন না! এ ওকে খারাপ বলে, ও একে খারাপ বলে এমন করেন কেন?
হাজেরান, দোস্তরা, বাপ, আসুন সকলে আমরা মুরিদ হই। দীনদারি নেই। জীবনটা আল্লাহর বানাই। জীবন তো চলে গেল, জীবনভর চেষ্টা করলাম, লোক পেলাম না! আসুন বাপ আল্লাহ্র হন। আল্লাহকে নিয়ে কাজ করেন। আসুন সকলে পড়ি আমরা আসতাগ্ফিরুল্লাহ। সকলে পড়েন না আসতাগ্ফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিও ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিউল আযিম।
হাজেরান, দোস্তরা, এই ওয়াজটাই আমার ওয়াজ, এইটাই আমার শেষ প্রান্ত, আমার বাবাজিরা, মুসলমানদের কাছে আসতে দিন, মুসলমানদের ঘৃণা করবেন না। এমন কথা বলবেন না বা এমন কাজ করবেন না যাতে কোনো মুসলমান দূরে সড়ে যায়। আজ একটা পার্টি আরেকটা পার্টিকে ঘায়েল করার জন্য কত চেষ্টা করে। এটা অন্যায় কথা। হাজেরান, আমাদের আখেরাত আছে, সওয়াল জওয়াব আছে। আমাদের আল্লাহকে জবাব দিতে হবে। আমার আশা আছে, আল্লাহ্র হন বাবাজি, আল্লাহ্র হন। আল্লাহর দলের কলেমা একটাই হবে, তামাম নবী, তামাম সাহাবা, তামাম ওলীদের কলেমা একটাই ছিল, তামাম ইমাম, তামাম মুজতাহেদ, তামাম পীরানে পীরদের কলেমা, আমার রাসূলের কালেমা একটাই ছিল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। বলেন না সকলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ….। মাঝে মাঝে পড়ুন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আমি দারুস সালামের লোক নিয়ে আসলাম। আপনারা সবাই দীনের কাজে যে যা দেবেন, দেন না বাপ। আমার দারুস সালামের লোক যারা এসেছেন, আপনারা নামেন না, বসে আছেন কেন, আপনারা নামেন না সকলে।
হাজেরান দোস্তরা, আমাদের মাদ্রাসায় ফতোয়া বিভাগ, হেফজ বিভাগ আছে, আমাদের বেশি না, দাওরা পর্যন্ত শেরয়াত আছে। সব জায়গায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করছি। দোয়া করেন আল্লাহর কাছে, আল্লাহ যেন কবুল করেন। বলেন আল্লাহুম্মা আমিন। হাজেরান, দোস্তরা, বড় নিয়ত। আমি তো অস্থির হয়ে গেছি। যত ঠান্ডা আসছে আমি আরো বেশি কাবু হয়ে পড়ছি। যাই দেখি শেষ পর্যন্ত কি হয়। আমি অনুরোধ করলাম আপনাদের কাছে, আপনারা সবাই মিলে কাজ করেন। আমি অনুরোধ করলাম মাহফিলের এলাকায় আশপাশে যেসব বাড়ি ঘরগুলো আছে এ বাড়িগুলোর দাম ধরে কিনে নিতে হবে। স্থায়ী জায়গা না হলে কাজ হবে না। এ মাঠে রাস্তার উপর মাহফিল করে স্থায়িভাবে কোনো কাজ হবে না। আপনারা চিন্তা করে দেখুন, এখানে কাজ করতে গেলে একটা অরগানাইজেশন করতে হবে। বুঝছেন না, আপনাদের সকলের কাছে ইন্শাআল্লাহ্ অনুরোধ আমার বাবাজিরা সবাই মিলে তৈরি হোন।
আমার বাবাজিরা এ মধ্যখানে কিছু হবে না। মধ্যিখানে আপনারা স্থায়িভাবে কিছু করতে পারবেন না। এখানে একমাত্র প্যান্ডেল ছাড়া কিছুই করতে পারবেন না। এ জায়গাটার দু’দিকে মাঠ, অতএব এ জায়গার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থায়ী জায়গা হলে সেখানে কাজ করা যাবে। আপনারা সকলে সহযোগিতা করেন। এত করছেন, আরেকটু করেন। আমার মনে হয় তৌফিক অনুযাযী যে যা পারেন দিয়ে আমরা সকলে মিলে আসুন প্রাণপণ চেষ্টা করি। বুঝছেন না, একটা ঘর নেন। এই ঘর নিয়ে আজকে কত লোক, এই ঘর নিয়ে আপনারা সকলে চেষ্টা সহযোগিতা করেন।…
আমার কথা বুঝতে পারছেন না? আমার কথা হচ্ছে এখানে আল্লাহ্র আইন ছাড়া কোনো রকম কিছু চলবে না। একা একা কিছু করতে পারবেন না। আপনারা আগে সবার কাছ থেকে পয়সা নেন। এরপর আইন নেন। আইন নিয়ে কাজ করেন। আপনারা একের জায়গায় দশ হন। দশ হয়ে জিনিসটা বড় করেন। জিনিসটা ভালো করেন। আমাদের দাদা হুজুর চলে গেছেন। তাঁর কর্ম জীবনটা থেকে আমরা শিক্ষা নেই, আমরা সকলে এক হই। আমরা সকলে মিলে কাজ করি আসুন। হাজেরান, আমি চাই স্থায়িভাবে ইসলামের খেদমত হোক। সকলে হই হই করে আসলেন, টাকা দিলেন, চলে গেলেন, ব্যাস। দীর্ঘমেয়াদী কোনো লাভ হচ্ছে না। দোস্তরা, এর একটা নিয়ম আছে। বুঝছেন না, হয়তো আমরা সবাই কিছু পেলাম। কিন্তু এই পাওয়াই সব না। এর একটা প্রোগ্রেশন দরকার। সকলে আমরা আসুন, সকলে আমরা আকল করি, মাশোয়ারা করি। এইটা নিয়ে আমরা চিন্তা করি। এইটা নিয়ে আমরা দরবার করি। এছাড়া আশপাশে যত জায়গাগুলো আছে যারা ভোগ দখল করছে তাদের সাথে পরামর্শ করি। আমি দুয়া করি আল্লাহর কাছে, আল্লাহ তৌফিক দেন। বলুন আল্লাহুম্মা আমীন। আপনারা আমার জন্য দুয়া করেন, আমিও দুয়া করি আল্লাহর কাছে।
মুনাজাত
আল্লাহুম্মা আমীন। বলেন না আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহুম্মা আমীন। ইয়া আল্লাহ্! ইয়া আল্লাহ্! আজ কদিন ধরে মাহফিলে আমার ভাইয়েরা হাজির হচ্ছেন আল্লাহ্। আহ যাদের বাবা মা কবরে গেছেন, তাঁদের কবরে কেউ নাই আল্লাহ। আত্মীয়স্বজন কেউ নাই। জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছেন। আমরা দুয়া করি আল্লাহ, তাদের সকলকে নাজাত দেন। আল্লাহ, তাদের সকলকে মাফ করে দেন। ইয়া আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ!! রাব্বানা জালামনা আন্ ফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগ্ফিরলানা ওয়াতার হামনা লানা কূনান্না মিনাল খাসিরিন।
হাজেরান, ভুলবেন না, ভুলবেন না একটা কথা; তাখাল্লাকু বি আখ্লা কিল্লাহ স্বভাবটা আল্লাহর মতো হতে হবে। আসেন বাপ, সবাই্ আল্লাহর হন বাপ। বাপ নিভে গেছি, আমি বুড়ো হয়ে গেছি, তথাপি আমি অনুরোধ করবো যে, আল্লাহর পথে আসেন বাপ, আল্লাহ্ আল্লাহ্ করে যান, আল্লাহর পথে চলে যান। আমি দুয়া করি, আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো কাছে চাইবেন না। আজকে যারা মনটা আল্লাহকে দিল, আল্লাহর পথে দান করলো, ইয়া আল্লাহ্, হাশরের দিন আপনার হাবীবের সাথে হাশর দেন আল্লাহ্। আমি কদিন পড়ে চলে যাবো মদীনা শরীফে। দুয়া করছি আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে ভালো করুন। আজকে ওয়াদা করেন বাপ। বুঝছেন না বাপ, রাগ বেশি হওয়ায় অসুবিধা আছে। সমস্ত কিছু উপেক্ষা করে এক লক্ষ্যে আসুন, এক আল্লাহর হবো, এক রাসূলের হবো, আর কাউকে মানবো না। আল্লাহর হবো, আল্লাহর হবো, আর কাউকে মানবো না। আল্লাহর হবো, আল্লাহ্র হয়েই থাকবো। তামাম দুনিয়া একদিকে, আমার আল্লাহ্-রাসূল একদিকে। এইভাবে আমরা দুনিয়ায় থাকবো। ইয়া আল্লাহ্, আমাদের সবাইকে কবুল করেন আল্লাহ্। ইয়া আল্লাহ্। আমার ভাইদের কবুল করেন আল্লাহ। ইয়া আল্লাহ্, আমাদের কবুল করেন আল্লাহ্। রাব্বানা জালাম না আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগ্ফিরলানা ওয়াতারহামনা লানা কূনান্না মিনাল খাসিরিন।
ইয়া আল্লাহ্, আমার ভাইদের ওলী করে দিন। ইয়া আল্লাহ্, আমাদের মাহফিলে যারা সাহায্য দিয়েছেন, আজ কবরে চেলে গেছেন, তাদের স্বামী দিয়েছেন, স্ত্রী দিয়েছেন, সন্তানরা দিয়েছেন, আজ তারা কবরে শুয়ে আছেন, তারা জীবিত থাকলে হয়তো আরো বেশি জিনিস বেশি করে আনতেন, আল্লাহ্, এসব সদকায়ে জারিয়ার ওসিলায় আজকে তাদের মাফ করে দেন, কবুল করে লেন, তাদের কবরকে জান্নাতের বাগিচা করে দেন। আর সবাই মিলে আমরা এই মাহফিলের ইন্তেজাম করি। আরো বড় করে হবে। ইয়া আল্লাহ্, আমাদের হেদায়েতের জারিয়া যেন হয়। ইয়া আল্লাহ্, আমরা দীন ইসলামের যেন খাদেম হতে পারি। কোনো মানুষ লাগবে না, থাকবে না। ইয়া আল্লাহ আপনাকে কেউ চিনলো না। আপনাকে চিনানোর জন্য, আপনার বান্দাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ্! কোনো মানুষ থাকবে না। আপনারাও চিরকাল থাকবেন না। এভাবে আজকে আছেন কাল নাই। আসেন সকলে মিলে আমরা একটা স্থায়ী কাজ করে যাই। ইয়া আল্লাহ, আমাদের সকলকে তৌফিক দেন আল্লাহ। আমাদের সকলকে হেদায়েত দেন। ইয়া আল্লাহ আমাদের সকলকে জানে মানে হেফাজত করেন। রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগ্ফিরলানা ওয়াতার হামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরিন।
ইয়া আল্লাহ, আমার ভাইদের মন ঘুরিয়ে দেন। আমার ভাইদের দিল ঘুরিয়ে দেন। আমার ভাইদের অন্তর ঘুরিয়ে দেন। আমাদের এক আল্লাহ্, এক রাসূল। এক আল্লাহ্ নিয়েই থাকবেন। ইন্শা-আল্লাহ্ আমরা জিতবো। আমরা জিতবোই জিতবো। ইয়া আল্লাহ! ওয়াউ ফাওয়িদু আমরি ইলাল্লাহ্ ইন্নাল্লাহা বাসিরুম বিল ইবাদ। সালামুন আলাল মুরসালিন। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।
দুয়া করেন, আল্লাহ্ হায়াত দেন। আমার ভাইরা যারা আছেন দুয়া করেন। বলেন আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহুম্মা আমীন। ইয়া আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ্!! কই যাবো আল্লাহ? এই দুনিয়ায় পড়ে আছি, যাওয়ার জায়গা নাই। আমার ভাইদের ওলী করে দিন আল্লাহ। আমার ভাইদের ওলী করে দিন আল্লাহ। যারা আজকে এসেছেন, আমাদের আসা বিফলে যাবে, আমাদের কথা বিফলে যাবে; যাদের মরণে ঈমান নসিব হবে না। তারা আল্লাহর কাছে আজকে ওয়াদা করে যান বাপ, ওয়াদা করে যান আল্লাহর কাছে, আজকে ওয়াদা করে যান বাপ, ওয়াদা করে যান আল্লাহ্ ছাড়া কারো কাছে চাইবেন না। ইয়া আল্লাহ্, আমার ভাইদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেন। ওয়াউ ফাওয়িদু আমরি ইলাল্লাহ ইন্নাল্লাহা বাসিরুম বিল ইবাদ। ইয়া আল্লাহ, বাচ্চা কাচ্চা, জানে মালে হেফাজত করেন। যারা আছেন, সবার জন্য দুয়া করি। ছারছীনার হুজুরের জন্য দুয়া করি। আল্লাহ তাঁর খায়ের দেন। আমাদের বাচ্চা কাচ্চাকে খায়ের দেন। আমার জন্য দুয়া করেন। আমার বাপ-আব্বা হুজুরের জন্য দুয়া করেন, ইয়া আল্লাহ্ ফুরফুরা শরীফ, মুজাফাতে ফুরফুরা শরীফে যারা শুয়ে আছেন তাদের রূহে এর সওয়াব পৌঁছে দিন।…
ওয়াউ ফাওয়িদু আমরি ইলাল্লাহ ইন্নাল্লাহা বাসিরুম বিল ইবাদ। সালামুন আলাল মুরসালিন, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
ইয়া আল্লাহ্! দুয়া করেন বাবারা। আমি বহু নেয়ামত পেয়েছি। আমার মেশকাত আমার মেশকাত… তার জন্য দুয়া করেন। ইয়া আল্লাহ!… (কান্নার জন্য বুঝা যাচ্ছে না)
আমার জন্য দুয়া করবেন না?…..ইয়া আল্লাহ্, অনেক মেয়েরা এসেছেন। আম্মাজান, আল্লাহ আপনাদের বরকত দেন, আল্লাহ, সব দেন।… আল্লাহওয়ালা হোন মা, আল্লাহ্ওয়ালা হোন। যে বাড়িতে রেডিও টেলিভিশন থাকবে, খোদায়ি গজব পড়বে। পর্দার মধ্যে থাকবেন। আল্লাহ্ওয়ালা হোন। আল্লাহ্ওয়ালা হোন। আল্লাহ্ওয়ালা ঘরে টেলিভিশন থাকবে না। আল্লাহওয়ালা ঘরে কুরআন পড়া হবে। আল্লাহওয়ালা ঘরে আল্লাহর যিকির হবে। বাবারা শুনুন, আরবের একটা ঘটনা- মা কুরআন পড়ছিলেন আর মেয়ে তা অবজ্ঞাভরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ্র গজব এসে গেছে। মেয়েটা কুকুরের আকৃতি বিশিষ্ট হয়ে গেছে। ইয়া আল্লাহ্, আমার ভাইদের গজবথেকে বাঁচাও। আল্লাহ্, ভাইদের ঈমান নসিব কর। ঈমান নসিব কর। খাছ করে জান্নাত নসিব কর।ওয়াউ ফাওয়িদু আমরি ইলাল্লাহ ইন্নাল্লাহা বাসিরুম বিল ইবাদ। সালামুন আলাল মুরসালিন। আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্। (টেপরেকর্ড হতে সংগৃহিত)।
৫ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক ইত্তেহাদুল ওলামা সম্মেলনে শেরে ফুরফুরা হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী (রহঃ)এর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ (১৯৯২ ইং)
প্রিয় পাঠক, এবার আসুন ৫ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক ইত্তেহাদুল ওলামা ও পীর-মাশায়েখ সম্মেলনে আমাদের রাহবার, মুসলিম বিশ্বের মুক্তির দিশারী ফুরফুরার জনাব হযরত পীর সাহেব হুজুরের যে ঐতিহাসিক ভাষণ রেখেছেন তার থেকে সামান্য কিছু আপনাদের খেদমতে তুলে ধরি।
৫ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক মাহফিলের প্রত্যেক দিনই মাগরিব নামাজ বাদ হযরত পীর সাহেব হুজুর উপস্থিত জনসমুদ্রকে উদ্দেশ্য করে তাঁর শানদার বক্তব্য রেখেছেন। মহাসম্মেলন মঞ্চ নালায়েন শরীফে (ওয়াজের ষ্টেজে) উঠেই তিনি তাঁর জ্ঞানগর্ভ অমিয় বাণী শুনেছেন আর চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছেন। তাঁর ভাষণে মূল বিষয় ছিল মুসলমান জাতির একতা ও সংহতি।
গোটা ভাষণে তিনি বার বার মুসলমানদের একতাবদ্ধ হবার আহবান জানিয়েছেন। মুসলমানদের যে একই মত, একটাই মাত্র পথ, একটাই মাত্র দল তা তিনি সকল শ্রেণীর মুসলমানকে বার বার বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। সমবেত জনসমুদ্র হাত উঠিয়ে তাঁর যুক্তিপূর্ণ কথায় সমর্থন জানিয়েছেন।
শ্রদ্ধেয় হযরত পীরসাহেব হুজুর তামাম বিশ্বের মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন
মুসলমান মানে একটাই দল। আবার দল কিসের? ইহুদী, নাছারা, বৌদ্ধ, জৈন, নাস্তিক সমস্ত দল থেকে বেড়িয়ে এসে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কায়েম করে একটা দল তৈরী হয়ে গেল সেটা হল মুসলমান। চাঁদ খোদা, সূর্য খোদা, তারা খোদা, গাছ খোদা যত খোদা সব বাতেল। বাতেল মাবুদের গর্দানে মেরে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কায়েম করে একটা দল হয়েছে। আবার দল কিসের ?
দেওবন্দী, বেরেলী, মারওয়ারী, মাদরাজী আপনাকে কে শিখিয়েছে বলুন ? মিঞা সাহেব! দেওবন্দে একটা মাদ্রাসা আছে। ফুরফুরা একটা জায়গা আছে। এখন আপনারা অনেকে ফুরফুরা যেতে পারেন না।এরপর আপনারা বলবেন নাকি ছিলছিলায়ে দারুস সালাম? দেওবন্দের অনুকরণে মাদ্রাসা আছে হাট হাজারী,লালবাগ। আপনিকি বলবেন নাকি ছিলছিলায়ে হাট হাজারী, ছিলছিলায়ে লালবাগ ? মিঞা সাহেব, আমরা সবাই এক দল, সেটা হচ্ছে মদীনাতুল মুনাওয়ারার দল।
মুসলমান জাতির একতার স্বার্থে সকল দল ও মত ভুলে যাবার জন্য তিনি সকলকে পরামর্শ দিলেন। তামাম বিশ্বের মুসলমানরা যে একে অন্যের ভাই, মুসলমানদের মাঝে যে আত্মার সম্পর্ক সেকথা তিনি অতীব জোড় দিয়ে উল্লেখ করলেন।
তিনি বললেন
আহলে হাদীস সে আমার ভাই, আহলে তাবলীগ সেও আমার ভাই, আহলে দেওবন্দ সেও আমার ভাই। পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান আমার ভাই। যতক্ষণ না মুসলমান কুফরে পৌঁছাবে সে আমার ভাই, আমার ভাই, আমার ভাই গুনাহগার হতে পারে, খাতাকার হতে পারে, বদকার হতে পারে। মুসলমান হলে সে আমার ভাই, আমার ভাই।
সুবহানাল্লাহ, কত বড় ঘোষণা। তামাম পৃথিবীর তৌহিদবাদী মানব সন্তানদের নিশান ফুরফুরার বাঘ জনাব হযরত পীর সাহেব হুজুর মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে সামর্থ হয়েছেন। তাঁর এ ঘোষণা মুসলমানদেরকে একই প্লাটফর্মে একতাবদ্ধ হবার প্রেরণা যুগিয়েছে। মুসলমানরা যে এক জাতি সে কথা আজ সবাই অনুধাবণ করতে পেরেছে। তিনি কিছুটা শান্ত ও নমনীয় কন্ঠে দেওবন্দ ও ফুরফুরা সম্বন্ধে কথা রাখলেন।
তিনি বললেন
নিয়ম মাফিক চলবেন। ভাইয়ে ভাইয়ে মহব্বত রাখবেন। যার যেটা ভাল লাগে সে সেটা নিয়ে চলবেন। দেওবন্দ ফুরফুরা ভাই ভাই। যে আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) এর অনুসারী বুর্জোগের মুরীদ হয়েছেন, মহব্বত করেন তাঁকে নিয়ে চলবেন। যে ফুরফুরা পীর সাহেবের মুরীদ হয়ে মুহব্বত করছেন তাকে নিয়ে চলবেন। যার যেটা খুশী। আমরা সবাই ভাই ভাই।
এক পর্যায়ে হযরত পীর সাহেব রাজনীতি সম্বন্ধে তাঁর বলিষ্ঠ বক্তব্য রাখলেন।
তিনি বললেন
আমরা কোন রাজনীতি করিনা। আমরা খোদার নীতি করি। আমাদের দলের নাম হিযবুল্লাহ। আমার বাবা বলতেন বাবা রাজনীতি মানে শয়তানী, পলিটিক্স মানে ইবলিসি। ইমাম মেহেদী জাহির হবেন।তাঁর সৈনিক হতে হলে সবাইকে আল্লাহ ওয়ালা হতে হবে। তিনি বললেন বাবারা, এ জমিনে যারা এসেছেন ওলী হয়ে যান। এ জমিনটা ওলী হবার জায়গা। ফুটবল মাঠে ফুটবল খেলা হয়, মাছের বাজারে মাছ বিক্রি হয়, গোস্তের বাজারে গোস্ত বিক্রি হয়, এখানে মানুষ আল্লাহওয়ালা হয় বলুন সুবহানাল্লাহ।
দারুস সালামের আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনে হাজেরান সর্বস্তরের শ্রোতা সাধারণকে, উদ্দেশ্য করে জনাব হযরত পীর সাহেব হযরত সাইয়েদেনা নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের একটা ঘটনা বর্ণনা করলেন।
তিনি বললেন
একদিন আবুজেহেল আল্লাহর হাবিবকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখে বলছে আয় মুহাম্মদ ! তোমার চেহারা দেখতে বদছুরত ,খারাপ, কালো কুৎসিত
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাচাজান! আপনি যা বলেছেন ঠিক বলেছেন।
কিছু সময় পরে হযরত সাইয়েদেনা আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) এসে বললেন ইয়া নবী আল্লাহ! আপনার চেহারাটা পূর্ণিমার চাঁদের মতো। হযরত নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন আয় আবুবকর! তুমি ঠিক বলেছো।
হযরত সাহাবায়েকেরাম (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ আপনি বললেন এটাও ঠিক, ওটাও ঠিক। তাহলে প্রকৃতপক্ষে আপনি দেখতে কেমন ?
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন আবুজেহেল হিংসার ভিতর দিয়ে, শেরেকীর ভিতর দিয়ে, মুশরেকির ভিতর দিয়ে, জুলমতের ভিতর দিয়ে আমার চেহারাটা বদছুরত দেখেছে, কালো কুৎসিত দেখেছে। আর আবুবকর ঈমান ও ইসলামের ভিতর দিয়ে আমার চেহারাটা পূর্ণিমার চাঁদের মত দেখেছে।সুবহানাল্লাহ।
বাবা, ঐ আবুজেহেল আবুবকরের মত লোক দুনিয়া থেকে শেষ হয়ে যায়নি আছে।আর ঐ আবুজেহেল মার্কায় যারা আছেন বাবা, আপকা নছীব পোড়া হ্যায়। আপনাদের ভাগ্য পুড়ে গেছে। শয়তান জুতো মেরে দিয়েছে, আপনার তকদীরে তার পায়ের চপ্পল মেরে দিয়েছে। কত প্যাচে পড়ে আছেন আপনি মিঞা সাহেব। হবেনা বাপ, কোন লাভ হবে না।আর যদি সাইয়েদেনা আবু বকরের (রাঃ) মত কেউ এসে থাকেন ইনশাআল্লাহ,তখনও পূর্ণিমার চাঁদ, এখনও পূর্ণিমার চাঁদ। জোড়ে বলেননা সুবহানাল্লাহ। মন থেকে সকল প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ, খারাপ খাছলতগুলি দূর করে আল্লাহর মাহবুব প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য তিনি সকলকে পরামর্শ দিলেন। তিনি বজ্র কঠিন কন্ঠে বললেন, মনটা ভাল করেন বাপ। হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন পৃথিবীর কোন মানুষকে আপনি হিংসা করতে পারবেন না।
আপনার আল্লাহ্ হিংসা করেন না, আপনি কেন হিংসা করবেন?
আপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংসা করেন না, আপনি কেন হিংসা করবেন?
আপনার পীর হিংসা করেন না, আপনি কেন হিংসা করবেন?
হিংসা হল কুত্তার খাছলত স্বভাব। মানুষ হিসেবে আমরা সব ভাই ভাই। মুসলমান কোন মানুষটা ? যে মানুষটা আল্লাহর মতে চলে। বাবা! মনটা ঘুড়ান। এরকম হিংসা (কিনা) থাকলে আল্লাহকে আল্লাহ বললে কবুল হবে না।
মুসলমানদের মাঝে যারা মিল মহব্বত নষ্ট করছে তাদের কথা উল্লেখ করে তিনি যার পর নাই দুঃখ প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন
কোন কিতাবে আছে সে কিতাবটার নাম বলুন, যে কিতাবে ওলামায়ে দেওবন্দিরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লামকে বড় ভাই বলেছে ? তাদের কিতাবের নামটা নিয়ে আসেন।
দোস্তরা! না, না এটা হতে পারে না। লোক কি বলবে? যে যুগের কোটি কোটি মানুষ শিক্ষিত। কলেজ, ইউনিভারসিটিতে দেশ বোঝাই। সে দেশের মুসলমানের এ অবস্থা থাকতে পারে না। মিল মহব্বত সবচেয়ে বড় জিনিস। যেখানেই দল সেখানে হানাহানি। ইসলামের শত্রু তারাই যারা মিল মহব্বত নষ্ট করছে।
এ পর্যায়ে তিনি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য জিকিরের উপর অত্যাধিক গুরুত্ব দিলেন। তিনি বললেন
সমস্ত জিনিসের মূল জিনিস হচ্ছে আত্মা। আত্মার খোরাক দিতে হবে। ঘি, দুধ, মাখন, পনির খেলে দেহের শক্তি বাড়ে। আর আল্লাহর জিকির করলে আত্মার শক্তি বাড়ে। রীয়া, কিনা, হিংসাকে মেটানোর জন্য জিকিরের ব্যবস্থা নিজের আনা নিয়াত অহংকারকে মেটানোর জন্য জিকিরের ব্যবস্থা।
জিকিরটা করবেন বাবা! জিকির ছাড়া আত্মা শান্তি পেতে পারে না। হাজেরান কোরআনে পাকে ৮২ জায়গায় নামাজের কথা আছে, ৩০ জায়গায় জাকাতের কথা আছে আর ১৩০ জায়গায় জিকিরের কথা আছে। আল্লাহর বান্দা হতে গেলে জিকির লাগবে। হাজেরান আত্মার খোরাক দিবেন। সকাল বিকাল জিকির করবেন। তওবা এস্তেগফার করবেন।
কোটি কোটি মুসলমানের আধ্যাত্মিক রাহবার গদ্দিনিশীন পীর সাহেব হুজুর তওবা এস্তেগফার সম্বন্ধে কথা বলেই একটা ঘটনা বর্ণনা করলেন। এক বিপথগামী মহিলার কিরূপ খাটি তওবা নছীব হয়েছিল তারই ঘটনা। ঘটনাটি তিনি এ জন্য বর্ণনা করলেন যাতে গুনাহগারেরা তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে।
তিনি বললেন
এক মেয়েলোক আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হুজুর আমি জ্বেনা করেছি। আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। মেয়ে লোকটি আবার বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি আবার মুখ ফিরিয়ে নিলেন। মেয়ে লোকটি আবারও বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমি জ্বেনা করেছি।
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবার কথা বললেন। তিনি বললেন তোমার পেটেকি বাচ্চা আছে ? মেয়ে লোকটি বলল, হ্যাঁ হুজুর ।তিনি বললেন যাও যতদিন পর্যন্ত বাচ্চা না হয়, ততদিন পর্যন্ত তোমার বিচার হবে না।
মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় আর ভাবে আমি যদি মরে যাই তবে তো আমি জ্বেনাকারিনী হয়ে মরে গেলাম।এরপর………
যখন বাচ্চা হলো তখন মেয়ে লোকটা আবার আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে ছুটে এলো এবং বললো ইয়া নবী আল্লাহ !! আমার বিচার করে দেন।
দোস্তরা বন্ধুরা, মেয়ে লোকটা জানে তাকে পাথর মেরে, মেরে ফেলা হবে, তাও সে জ্বেনার ভয়ে ব্যভিচারের ভয়ে, জাহান্নামের আজাবের ভয়ে বিচার চাচ্ছে।
হযরত নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন দেখ, তুমি জ্বেনা করেছ তুমি গুনাহগার। কিন্তু তোমার ছেলেতো আর গুনাহগার না। অতএব , ইসলামের বিধান হচ্ছে, যতদিন পর্যন্ত তোমার ছেলে দুধ খাবে, ততদিন পর্যন্ত ইসলামের বিধান জারী হবে না।
বাচ্চার দুধ খাওয়া শেষ হলেই মেয়ে লোকটা আবার দৌড়ে আসলো। ইয়া নবী আল্লাহ! আমার দুধ পান করানোর সময় শেষ হয়েছে, আমার উপর আইন জারী করুন।
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুকুম দিলেন যাও এ মহিলাকে কোমর পর্যন্ত পুতে পাথর মারতে মারতে থাক। সাহাবায়েকেরাম (রাঃ) পাথর মারা শুরু করেছে। পাথরের আঘাতে কিছু রক্ত এক সাহাবার (রাঃ) গায়ে পড়েছে। ছাহাবা (রাঃ) তাকে ধিক্কার দিচ্ছে হ্যাঁ তুমি এ কাজ করেছ।
আল্লাহর হাবীব (দঃ) একথা শুনলেন। তিনি বললেন, হে সাহাবী তুমি ধিক্কার দিও না। যে অন্তর নিয়ে মেয়ে লোকটা তওবা করছে, ঐ তওবাটা যদি ছড়িয়ে দেওয়া হয় তামাম পৃথিবীর সমস্ত মানুষ মাফ পেয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ।
ফুরফুরার মুরীদানদের সংগঠন জামিয়াতুল মুসলিমিন হিযবুল্লাহর অংগ সংগঠন তালিমি জামাতের সকল শ্রেণীর মোবাল্লিগ ভাইদেরকে উদ্দেশ্য করে হযরত পীর সাহেব হুজুর কিছু কথা রাখলেন। প্রত্যেক মোবাল্লিগকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সতর্ক করে দিয়ে তাদেরকে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে যাবার জন্য নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন
যারা ফুরফুরার আমানত নিয়েছেন, যারা মোবাল্লিগ হয়েছেন, দেখবেন ফুরফুরার বদনাম যেন না হয়। আপনারা বড় আমানতের কাজ নিয়েছেন। পর্দা পুশিদা নেই, দ্বীনের সাথে সম্পর্ক নেই এমন মোবাল্লিগদের বাদ দিয়ে দেন। লোকের অভাব আছে নাকি মিঞা সাহেব! আমাদের মুরুব্বীরা এমন কোন ঠকবাজী করে যায়নি যে আমাদেরকে কারো ঘাড়ে পড়ে কোন কাজ করতে হবে। আমরা আল্লাহর মতে আছি, আল্লাহর মতে থাকব, আল্লাহর মতে চলব আল্লাহরই হবো। ইন্না সলাতি ওয়া নুছুকি ওয়া মাহইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। জমিয়াতুল মুসলেমিন হিযবুল্লাহর অরাজনৈতিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক ছাত্র ও যুব সংগঠন হিলফুল ফুযুল সম্পর্কে বললেন
আমার হিলফুল ফুযুল অরাজনৈতিক পার্টি, আপনারা তাকে নিয়ে কাজ করবেন।
৫ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনের বিদায় ভাষণে জনাব হযরত পীর সাহেব আবারও মুসলমানের একতা ও সংহতির কথা, মিল ও মহব্বতের কথা জোড় দিয়ে উল্লেখ করলেন। তিনি মিলে মিশে একতাবদ্ধ হয়ে মহান ইসলামের খেদমত করার জন্য সকল মহলে দরখাস্ত রাখলেন। তিনি বললেন
নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহব্বত তাদের মধ্যে থাকবে যারা ইসলামকে ভাংবেনা। আমরা ফুরফুরার খান্দান, আমরা দুনিয়াবী কোন দল নই। আমরা আল্লাহর দল। পৃথিবীর সব হক পন্থীদের সাথে আমরা বন্ধুত্ব করবো। আমরা আল্লাহর দল হয়ে তাদের সাথে কাজ করবো।
শাফী মাজহাবের মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। শাফী বলে বুকে হাত বাঁধ। হানাফী হলে কোমরে হাত বাঁধ। এরকম হবে। ফুরফুরার হুজুররা বলছেন এটা এ রকম হবেনা, অন্য রকম হবে। যাই হউক, যে ভাবেই কাজ করুক না কেন সবাই ভাল। কিন্তু আমি
আপনার ভাই আপনি আমার ভাই।
দেখুন খানায়ে কাবার ধারে সব ইমামরা এক সাথে নামাজ পড়ে, আল্লাহর জমিন আরাফাতের ময়দানে সব এক সাথে হয়। ঐ রকম দ্বীনের কাজের দ্বারা সব আমরা এক আছি। বাবাজীরা, ছোট ছোট জিনিস নিয়েই ঝগড়া বাঁধে। অতএব বাবারা, আল্লাহর ওয়াস্তে যা হবার হয়েছে, যা করেছি করেছি। অনেক ভক্ত মুরীদকে আমরা হিংসা কিনা সহ কবরে পাঠিয়েছি। মুখ সিটকালে, ঝগড়া করলে মিমাংসা হয় না। আসুন, আমরা মিলে-ঝিলে কাজ করি।
গদ্দিনিশীন পীর আল্লামা আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী
টেপ রেকর্ড হতে সংগৃহীত ওয়াজ পাকশী মাহফিল ও ইসালে সাওয়াব ২০১০, ২য় দিন
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্আলহামদুলিল্লাহ্। আমরা সকলে কথা বন্ধ করি। আমরা কেউ কথা না বলি।
ইন্নাল হামদা লিল্লাহ্। আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিনা ওয়াল আকিবাতু লিল মুত্তাকিনা ওয়া উদওয়ানা ইল্লা আলাজ্জালিমিন ওয়া নাউজুবিল্লাহি আন আকুনা মিনাজ্জালিমিন, ওয়াস্সালাতু ওয়াস্সালামু আলা আশরাফিল আম্বিয়ায়ি ওয়া খাতামিল মুরসালিন। নাবিয়িনা মুহাম্মাদিনিল মুস্তফা ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়ামান তাবিয়া হুম বি এহ্সানিন ইলা ইয়াও মিদ্দিন। আম্মাবাআদদু ফা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রজিম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ওয়া সারিউ ইলা মাগফিরাতিম মির রব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন আরদু হাচ্ছামা ওয়াতু ওয়াল আরদু উয়িদ্দাত লিল মুত্তাকিন। সদাকাল্লাহুল আলিউল আযিম ওয়া সদাকা রাসূলুহুন্নাবিয়্যুল কারিম। ওয়া নাহনু আলা যালিকা মিনাশ্শাহিদিন। ওয়াশ্শাকিরিন।
আল্লাহ্তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দিয়েছেন জিকিরের মাহফিলে বসার জন্য, সকলে শুকরিয়াতান পড়ি আল-হামদুলিল্লাহ্। সকলে আরও জোরে শোরে বলি আল-হামদুলিল্লাহ্। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযিম। সুবহানাল্লাহি, ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। আল-হামদুলিল্লাহ্। সকলে দরুদ শরিফ পড়ি আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লিম।
না চাইতেই আল্লাহ্ দিয়েছেন
আল-হামদুলিল্লাহ্! আল্লাহ্ তাআলার শুকরিয়া। সর্ব অবস্থায় সবসময় আল্লাহর শুকরিয়া করতে হবে যে আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে এতো নিয়ামত দান করেছেন, যে নিয়ামতগুলো আমরা কখনই হয়তো আল্লাহ্তাআলার কাছে চাইনি। কথা ঠিক কিনা? আল্লাহ্তাআলা বান্দার প্রতি এতো নিয়ামত দান করেছেন যে নেয়ামতগুলো বান্দা কখনই চায়নি। কথা সত্য কিনা? মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। সকল সৃষ্টির সেরা মানুষ। আমরা মানুষ হলেও আল্লাহর কাছে দরখাস্ত আমরা নিজেরা করিনি, করেছিলাম ভাই? রুহের জগতে আমরা কি বলেছি যে আল্লাহ্ আমাদেরকে গরু-ছাগল না বানিয়ে মানুষ বানান। যে নেয়ামতগুলো আমরা উপভোগ করছি, আমরা সৃষ্টি জগতের মধ্যে যা কিছু উপভোগ করছি, যা কিছু ব্যবহার করছি, অনেক সময় আমরা কোন জিনিস বেশী প্রয়োজন হলে চাচ্ছি যেটা আমার মনে চাইছে বেশী, কিন্তু আপনার আমার মন বাসনা পূরণ হওয়ার আগেই যে নেয়ামতগুলো আমরা উপভোগ করছি আল্লাহ্ তাআলা সেগুলো আমাদেরকে দান করেছেন না চাইতেই। সকলে বলি আল-হামদুলিল্লাহ্। কথা ঠিক না বেঠিক। আমার চোখ, আমার কান, আমার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, আমি যে পরিবেশে আছি, যে এনভায়রনমেন্টে আছি, আমার পরিবেশ, গাছ-পালা, তরুলতা, শস্য, শ্যামল ফসলাদি যা কিছু আমি উপভোগ করি, যা কিছু আমি খাই, এ সব কিছু আল্লাহ্ তাআলা আমাদের জন্য দান করেছেন। আমরা কোনটাই চাইনি। সকলে বলি সুবহানাল্লাহ্! এটা আল্লাহ্ নিজের প্রতি দায়িত্ব করে নিয়েছেন। সৃষ্টিও আল্লাহ্ তাআলা করেছেন। সকল সৃষ্টি আল্লাহ্ একাই করেছেন এবং সকল সৃষ্টি দেখাশোনার দায়িত্ব আল্লাহ্ তাআলা নিজেই রেখেছেন। সকলে বলি সুবহানাল্লাহ। কথা ঠিক না বেঠিক। আল্লাহ্ বলেন, ওমামিন দাব্বাতিন ফিল আরদি ইল্লা আলাল্লাহি রিজকুহা ওয়াইয়া লামু মুস্তাকাররাহা ওয়া মুস্তাওদাআহা কুল্লুন ফি কিতাবিম মুবিন, আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ভূ-পৃষ্ঠে জমিনের উপরে এমন জীবন ওয়ালা বস্তু নাই যে তার রিজিকের দায়িত্ব যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব আল্লাহ্ রব্বুল আলামিনের নাই। সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
আল্লাহর দয়ার শেষ নেই
যতকিছু আল্লাহ্তাআলা সৃষ্টি করেছেন, এ সৃষ্টির যা কিছু প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনাদি মেটানোর দায়িত্ব কে নিয়েছেন? কে নিয়েছেন? এই যে প্রয়োজনাদি মেটান এতে আল্লাহ্ তাআলার সহযোগিতায় অনেক খোদা আছে না কি বলেন? তারা হলো সহকারি আল্লাহ্ নাকি! সহযোগী আল্লাহ্! এসিস্টেন্ট আল্লাহ্ নাইযুবিল্লাহ্ বলেন। তিনি একাই স্বয়ং সম্পন্ন কিনা? কারো কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয়? সুবহানাল্লাহ্ বলেন। এই কথা আমরা দৈনন্দিন পড়ছি, সূরা ফাতেহা আমরা সকলে পড়িনা ভাই! সূরা ফাতেহা আমরা প্রত্যেক দিন পড়ছি। আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বান্দাকে দৈনন্দিন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বুল আলামিন। সকল প্রশংসা কার? আল্লাহর। কোন আল্লাহ্? আল্লাহর গুণ কি? যিনি তামাম জগতসমূহ প্রতিপালন করেন, লালন-পালন করেন। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ্। আর এই যে আল্লাহ্ লালন-পালন করেন কি গুণাবলী দিয়ে? তিনি হলেন রাহমান, গাফ্ফার সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
আল্লাহর গুণ কি ?
আল্লাহর গুণ কি? আররাহমানির রাহিম, তিনি হলেন করুণাময় দয়ালু। পরম করুণাময় পরম দয়ালু কে? আল্লাহ্। যার দয়ার যার করুণার কোন শেষ নাই। সৃষ্টির করুণা তার দয়ার শেষ আছে, যত ভাবেই দিক, দিলদার হোক, যতবড় উদার মনের হোক, যতবড় হাত কোশাদা হোক, এক দিন, দুদিন, চারদিন, পাঁচদিন চাইবেন, এরপর সে বিরক্ত বোধ করবে। ঠিক না বেঠিক? দান করবে একবার দুবার তিনবার এরপর রাগ করবে। কত দয়া করবে ভাই অনেক দয়া করেছে। আল্লাহ্ তাআলা বান্দার প্রতি কখনও এরকম করেছেন কি? বান্দা অনেকেই আছে। কত ঈমানদার গুনাহ করে তওবা করে, আবার গুনাহ করে তওবা করে। কিন্তু কত মানুষ আছে যারা জন্ম থেকে মরণ পর্যন্ত পুরো জীবনটাই আল্লাহর বিরোধিতা করে, তবুওতো আল্লাহ্ তাআলা বিরক্ত হন না, কথা সত্য কিনা? সুবহানাল্লাহ্ বলেন। এর মানেই হলো তিনি হলেন রাহমান রাহিম, সকলে বলি সুবহানাল্লাহ্। এই দুনিয়ার পরিচালনা আল্লাহ্ তাআলা করেন তার দয়া মায়া দিয়ে আর বিচার দিনের মালিকও তিনিই। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। দুনিয়ার দেখা শোনাও তিনি করেন। বিচারের দিনে তিনিই বিচার করবেন। কে করবেন? আল্লাহ্। কে করবেন? আল্লাহ্। আল্লাহ্ তাআলার হুকুম এড়িয়ে, আল্লাহর রায়কে জাল করে হুকুম পরিবর্তন করতে পারবে? আল্লাহ্ তাআলার ঘোষণাকে জাল ঘোষণা করে অন্য কোন ঘোষণা কেউ দিতে পারবে? আল্লাহ্ তাআলা কাউকে জাহান্নামের ঘোষণা দিলে কেউ জান্নাতের ঘোষণা দিতে পারবে? তাহলে সেই দিনের বিচারের মালিক কে? মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। সুতরাং আমাদের সকলকে একমাত্র ইবাদাত কার করতে হবে? ইয়ায়াকা নাবুদু ওয়া ইয়ায়াকা নাস্তায়্যিন, ইহদিনাছ সিরাতাল মুস্তাকিম।
এখন বিষয় হলো আল্লাহ্ তাআলা এতো নিয়ামত দিয়েছেন এই নিয়ামত আমরা পেয়েও নাফরমানী করছি, কথা ঠিক না বেঠিক? নাফরমানী করছি তথাপি আল্লাহ্ তাআলা বান্দাকে আবার ডাকছেন যে বান্দা নাফরমান হোসনি। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ্! তোরা আমার বিধানের বাইরে যাবিনা। গোনাহ করে ফেলেছিশ। আর তোরা তাওবা কর। আমার রাস্তায় ফিরে আয়। আমি তোদের পিছনের গুনাহগুলো মাফ করে দেবোত, সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
জান্নাতের সুসংবাদ
আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলেন, ওয়াছারিউ ইলা মাগফিরাতম মির রব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন আরদুহাস সামা ওয়াতু ওয়াল আরদ উয়িদ্দাত ইদ্দাত লিল মুত্তাকিন। আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করছেন, হে ঈমানদারেরা, হে বান্দারা, তোমরা তোমাদের রবের মাগফিরাত কামনায়, তোমরা তোমাদের রবের কাছে, তোমরা যেগুলো করেছো সে গোনাহর ক্ষমা চেয়ে তোমরা সেদিকে ধাবিত হও, তার দিকে দৌড়ে দৌড়ে এসো। আর ঐ জান্নাতের দিকে এসো। আর সে জান্নাত আল্লাহ্ তাআলা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। জান্নাত কাদের জন্য প্রস্তুত করা আছে? কাদের জন্য? মুত্তাকিদের জন্য। এই মুত্তাকি কারা? তারা জন্মগতভাবে আল্লাহর ওলী হয়েছে তা নয়। এই মুত্তাকি তারা, যারা দুনিয়ার অনেক অপকর্ম গোনাহ করে, তথাপি আল্লাহ্পাক বলছেন, তারা তাওবা করলে ঐ মুত্তাকি তারা হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, সাহাবায়ে কেরামরা, সাহাবায়ে কেরামদের সবই প্রায় শতকরা নিরানব্বই কেন মানে নয়শ নিরানব্বই বলা যায় যে তারা শিরক করেছিলেন, অন্যায় করেছিলেন মূর্তি পূঁজো করেছিলেন। কথা ঠিক না বেঠিক? এর থেকে বড় গোনাহ হতে পারে। নাকি চুরি করা গোনাহ, অশ্লীলতা করা গোনাহ, যেনা করা গোনাহ সবই গোনাহ ঠিক আছে বুঝলাম, কিন্তু এগুলোর থেকেও সব থেকে বড় গোনাহ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা। কি করা? শিরিক করা, আল্লাহ্র সাথে অংশীদার বানানো সব থেকে বড় গোনাহ। তোহ আল্লাহর সাথে শরিক করেছে যে মানুষগুলো সে মানুষগুলো সে শিরকের রাস্তা থেকে যখন আল্লাহর পথে এসে আল্লাহর তাওহীদের উপর দৃঢ় হয়ে আল্লাহর জন্য নিজেদের জান মালকে কোরবাণী করে দিয়েছে আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন তাদের অনেককেই দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দান করেন।
১০ জনকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের মুখে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বেশারাত দান করেছেন যে, আশারায়ে মোবাশ্শারা যারা তারা অবশ্যই কোথায় যাবেন? তাঁরা দুনিয়া থেকেই জান্নাতে যাবেন শিওরিটি আল্লাহর রাসূল দিয়েছেন আল্লাহ্র পক্ষ থেকে। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আর এ ছাড়া আমভাবে মোটামুটিভাবে বুঝা যায় আল্লাহ্র রাসূলের সাথী যারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম বা এরকম শরিক যারা ছিলেন, তারা সকলেই জান্নাতে চলে যাবেন। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ্। এটা আমাদের আশা ভাই ঠিক না বেঠিক? তাহলে এত বড় অন্যায় করেও তারা মুত্তাকি হয়েছেন, সুবহানাল্লাহ্ বলেন, সুবহানাল্লাহ্ বলেন। তো আমাদের সমাজে অনেকেই তো ভাই এতবড় অন্যায় হয়তো করে নাই, হয়তো সে বেনামাযি হয়েছিল, হয়তো নামায পড়েনি, রোজা করে নাই। তারা মূর্তি পূঁজা করেনি। হয়তো বড় কোন অপরাধ করেনি। এখনও বেনামাযিরা নামাযি হয়ে যাও, এখনও বেরোজাদাররা রোজাদার হয়ে যাও। পর্দাবিহীন মা-বোনেরা পর্দা ধরে ফেলো। তোমরাও সেরকম সাহাবায়ে কেরাম হতে পারবে না হয়তোবা, কিন্তু সাহাবাদের ফজিলত আল্লাহ্তাআলা তোমাদের দান করবেন। সাহাবাদের মর্যাদা পাওয়া যাবে না এই মর্যাদা ভিন্ন মর্যাদা। কিন্তু আল্লাহ্তাআলা কোন বান্দাকে ঠকান না। সুবহানাল্লাহ্ বলেন, সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
আশ্চর্য ঈমান
আল্লাহর রাসূল একদিন বলছেন যে, আশ্চর্য ঈমান কি তোমরা জানো? সব থেকে আজিব ঈমান, কাদের, মানে কাদের ঈমানটাই রহস্যজনক? মানে কাদের ঈমানটা নরমালি আশ্চর্য ধরণের? সাহাবারা কেউ বললেন নবীদের ঈমান, নবীদের সাথী যারা আছেন তাদের ঈমান বা ফেরেস্তাদের ঈমান মানে ফেরেস্তারা যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন। বিভিন্ন কথা আমি সংক্ষেপে বলছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন যে, ফেরেস্তারা তো আল্লাহ্ রব্বুল আলামিনের কাছে যাওয়া আসা করেন, তাদেরতো আশ্চর্যের কিছু নেই। ওরা তো আল্লাহ্র ব্যাপারে দেখে ঈমান আনবেই, নবীতো আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি পেয়েছেন, তাঁরাতো ঈমান আনবেনই। সাহাবায়ে কেরাম নবীকে দেখেছেন, ওহী নাযিল হচ্ছে দেখলেন, তাদের ঈমানের ভিতরে আশ্চর্যের কি আছে? আশ্চর্য ঈমানদার তারাই যারা নবী দেখলো না, কুরআন নাজিল হওয়ার অবস্থাকেও দেখলো না, তথাপি তারা সেই ঈমানের প্রতি জান কোরবান দিতে প্রস্তুত, মাল কোরবান দিতে প্রস্তুত। বলুন সুবহানাল্লাহ্। সেই ঈমানদার হলো সাহাবাদের পরবর্তী তাবেঈন তাবেতাবেঈন বা পরবর্তীতে আমরা যারা আছি। আল হামদুলিল্লাহ্ বলেন। আল্লাহ্তাআলা আমাদেরকে ঠকাননি। আমরা সাহাবা হতে পারিনি সেই জন্যে আমাদের কষ্ট পাওয়ার কোন কিছু নেই। আল্লাহ্তাআলা কোন বান্দাকে ঠকান না, সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
মুত্তাকি পরহেজগার হওয়ার ফজিলত
মুত্তাকি পরহেজগার হতে পারলে সে যদি হাজি নাও হয় আল্লাহ্ তাআলা তাকে হজ্বের নেয়ামত দান করেন, সে যদি যাকাত দাতা নাও হয় তাকে আল্লাহ্তাআলা যাকাত দেওয়ার মত সওয়াব তাকে দান করেন, সকলে বলুন না সুবহানাল্লাহ্। বলবেন কিভাবে? পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতে পড়ার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ওলামারা বলছেন যে লোক বাড়ী থেকে ওযু করে শুধু মাত্র নামাযের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামায আদায় করবে, শুধু নামায নয় আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন তার নামায় আমালে পূর্ণাঙ্গ একটি এহরাম অবস্থায় হজ্বকারীর সওয়াব দান করবেন। হয়তো ঐ লোকটা গরীব মানুষ, হয়তো হজ্ব করতে পারবেন না, তাকে হজ্বের সাওয়াব আল্লাহ্ দান করলেন, সুবহানাল্লাহ্ বলেন! সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি। আল্লাহ্তাআলা কাউকে ঠকান না। গরীব মানুষরা তো দান খয়রাত করতে পারছে না। সে তাসবিহ তাহলিল জিকির ফিকিরে লিপ্ত আছে। মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করে। ভালো ব্যবহারেও দানের মত সাওয়াব হয়। একটা মানুষের সাথে একটু হেসে কথা বলবেন, ভালো ব্যবহার করবেন, সেটাও আপনার নামায় আমলে দু চার দশ টাকা দান করলে যেমন সাওয়াব হতো আপনার এ ভালো কথার দ্বারা ঐ রকম দানের সাওয়াব আল্লাহ্ তাআলা লিখে দিবেন। সুবহানাল্লাহ্।
আল্লাহর রহমত, গোনাহ থেকেও বেশি
তো আমার ভাইয়েরা যারা দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন, আমার যুবক ভাইয়েরা, মাইকের আওয়াজ যে সকল মা-বোনেরা শুনছেন বিভিন্ন বাড়ি-ঘর থেকে, আমি সকলকে আহ্বান করি, আল্লাহর আহ্বানে আমি আহ্বান করি, তোমরা যত বড়ই গোনাহগার হওনা কেন, তোমার আল্লাহর রহমত তোমার গোনাহ থেকেও বেশি। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। এ জন্য আরবী এক কবি আল্লাহ্র কাছে দোআ করে কাঁদছেন আর বলছেন,হে আমার রব, আমার গোনাহ যত বড়ই হোকনা কেন আপনার ক্ষমা আপনার দয়া ভিক্ষাতো আরও বেশি বড়। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। হ্যাঁ, তো আমাদের চিন্তা কোথায়? নিরাশ হবেন কেন? আপনি আল্লাহর পথের পথিক হোন, আল্লাহ্তাআলা পেছনের সকল গোনাহগুলোকে মাফ করে দিবেন। সকলে বলুন না সুবহানাল্লাহ্।
আল্লাহর পথের পথিক হই
আমরা পারবোনা আল্লাহর পথের পথিক হতে ভাই, আমরা পারবো না ইনশাআল্লাহ্? পারবোনা ইনশাআল্লাহ্? মনে মনে নিয়ত করে ফেলুন। আজ থেকে যারা এসেছেন আমরা স্বজ্ঞানে বুঝে শুনে আর কখনও নামায কাযা করবো না। রোজা কাযা করবো না। হজ্ব যাদের প্রতি ফরজ হয়েছে দেরি করবো না, আমরা আগে আগে হজ্ব করে ফেলবো। যাকাত যাদের প্রতি ফরজ হয়েছে আর দেরি করবোনা সাথে সাথে যাকাত দিয়ে দেবো। হারাম যে কাজগুলো করে ফেলেছি আর করবো না।
আল্লাহর পথে ফিরে আসার ফজিলত
শুধু গোনাহই মাফ হবে না, আপনি যদি আল্লাহর পথে ফিরে আসেন পিছনের গোনাতো মাফ হবেই, ঐ গোনাহর পরিমাণ সাওয়াবও আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে আমল নামায় লিখে দিবেন। আমি বানিয়ে বলছি না, আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ইল্লা মান তা-বা ওয়া আ-মানা ওয়া আমিলা আমালান সলিহান ফা-উলাইকা ইউ বাদ্দিলূল্লাহু সায়্যিআ-তিহিম হাসানাত। ঈমানদার বান্দার জন্য, আল্লাহর বান্দার জন্য আল্লাহ্ কত নেয়ামত রেখেছেন দেখো। যে বান্দা গোনাহ করে ফেলেছে, সে তাওবা করেছে, অনুতপ্ত হচ্ছে যে, আল্লাহ্ পেছনে তো কত গোনাহ করলাম, ঐ সময় আমি যদি শুধু ইবাদাত করতাম আমার কত সাওয়াব হতো। আমি তখন যে ভাল কাজ করেছি শুধু এটার সাওয়াব পাবো। বান্দা যখন এমন অনুশোচনায় অনুতপ্ত হতে থাকে, তখন ঐ বান্দার জন্য আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলেন যে, তার মনের সান্তনার জন্য আমি তার পেছনের গোনাহগুলোকে সাওয়াবে পরিবর্তন করে দেবো। এর থেকে আর কি নেয়ামত চাই! সুবহানাল্লাহ্ বলেন। এর চাইতে আর কি নেয়ামত চান ? এরপরে আবার ঐ বান্দা এমন আমল করেনা, করতে পারেনি, করার ইচ্ছে করেছিলো, সেটাকে আল্লাহ্তাআলা তার নামায় আমলে করার মত সাওয়াব দিয়ে দিবেন। পক্ষান্তরে গোনাহ না করলে গোনাহ হয় না। আবার ইচ্ছাকৃত না হলে গোনাহ হয় না। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। সওয়াব ইচ্ছায় অনিচ্ছায় করেন অথবা করতে পারেন নাই নিয়ত করেছেন, তাতেই আল্লাহ্ সাওয়াব লিখে দেন। তাহলে বান্দার জন্য আল্লাহ্ তাআলা রহমান। বান্দার জন্য আল্লাহ্ তাআলা রহিম গাফ্ফার। সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
যে মুত্তাকি হবে সেই জান্নাত পাবে
তো ভাইয়েরা, আজকে আমি এই বলতে চাইছি আমার অনেক ভাইয়েরা অনেক দূর দূরান্ত থেকে এসেছেন, আপনারা আলোচনা শুনেছেন, আরো শুনবেন ইনশাআল্লাহ্। প্রথম কথা হলো আমরা আল্লাহর পথের পথিক হই। আমরা আল্লাহর রহমত মাগফেরাতের দিকে ধাবিত হবো। রাজি আছেন সকলে? রাজি আছেন তো সকলে? আমরা সকলে মুত্তাকি হবো; পারবোনা হতে? পারবোনা হতে? পারবো না হতে? আর মুত্তাকি হলে আল্লাহ্তা’আলা আমাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ্। নতুন করে বানাতে হবে না। জান্নাত প্রস্তুত আছে। আপনি মুত্তাকি হলেই আপনার জন্য বরাদ্দ হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আমি মুত্তাকি হতে পারলেই আল্লাহ্ তাআলা বরাদ্দ করে দেবেন সুবহানাল্লাহ্ বলেন। উইদ্দাত লিল মুত্তাকিন এটা বরাদ্দ হয়েই গেছে ….. যে মুত্তাকি হবে সেই জান্নাত পাবে। যেই নবীর উম্মত হবে সেই জান্নাত পাবে। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। দশ লাখ, তিন লাখ, পাঁচ লাখ, এক কোটির কোঠা না। আজকে যদি কোন উন্নত কান্ট্রি থেকে কোন ডিক্লারেশন আসতো, কোন বিজ্ঞপ্তি আসতো যে, অত লক্ষ লোক, এত হাজার লোক, কি বলে আপনার আমেরিকায় নেওয়া হবে, লন্ডনে নেওয়া হবে, যদি এক হাজার কোঠা থাকে তাহলে কত দরখাস্ত পড়বে ভাই? এক হাজার কোঠা থাকলে ক’হাজার দরখাস্ত পড়বে? ক’লাখের কাছাকাছি না! কোঠা এক হাজার দেখা যাবে যে দরখাস্ত লাখ লাখ। কথা ঠিক না বেঠিক? কিন্তু সবাই জানে যে নেবে কতজন, নেয়া হবে কতগুলো। আর আল্লাহ্তাআলার জান্নাতের কোন লিমিটেশান নেই। যে চাইবে সেই যেতে পারবে। বলবেন তো হুজুর আমি গোনাহগার, কেমন করে হবে? তুমি গোনাহগার! তো আল্লাহ্ তো তোমাকে বাধ্য করেনি গোনাহ করতে। তুমি আল্লাহ্র পথের পথিক হ॥ আল্লাহ্ তোমার জন্য জান্নাত রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
যারা জান্নাতে যেতে চাইবে না
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন কুল্লু উম্মাতুই ইয়াদ খুলুনাল জান্নাতা ইল্লা মান আবা ক’লু ইয়া রাসূলুল্লাহ ওয়া মান আবা ক’লা মান আতোআনি দাখলাল জান্নাত ওয়া মান আছআনি ফাক্বাদ আবা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার সব উম্মতেরাই জান্নাতে যাবে তবে যারা যেতে চাইবে না তারা বাদে। সাহাবারা বলছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, জান্নাতে কারা যেতে চায়না, কারা যেতে চাচ্ছে না জান্নাতে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যারা আমার এত্তেবা করে, অনুসরণ করে মান আতো আনি আমার এত্তেবা করে, আমার এতআত করে, আমার বাধ্য হয়ে চলে, সেই জান্নাতে যাবে। ওয়ামান আছনি ফা ক্বাদ আবা আর যে আমার অবাধ্য হবে, মূলত জান্নাতে যেতে চাইলো না। ……… তার কাজই সাক্ষি দিচ্ছে যে সে জান্নাতে যেতে চাইছে না,কারন মুয়াজ্জেন আযান দেয় আল্লাহু আকবার, হাইয়্যা আলাস্সালাহ্, হাইয়্যা আলাল ফালাহ্ আর উনি বলছেন, আমরা সকলে পালাই। কি বলেন এ্যাঁ! নাউযুবিল্লাহ্ বলেন! মুয়াজ্জেন বলে হাইয়্যা আলাল ফালাহ্ সফলতার দিকে এসো, আর শয়তান বলছে জান্নাত থেকে পালাও জাহান্নামে যাও। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন! তাহলে মুসলমান নামধারী সফলতার কথা শুনে না যেয়ে শয়তানের কথা শুনলো তাহলে কোথায় গেলো? জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে যাবে? কোন দিকে যাবেরে বাবা? কথা বুঝে নিন।
শয়তানের ওলি
যে শয়তানের কথা শুনলো তার ওলি তার বন্ধু কে? শয়তান। তো ঐ রকম যারা বেনামাযি আল্লাহ্ তাদের বলছেন, নামায পড় আর তারা বলছে যে, নামায না পড়লেও আল্লাহর ওলি হওয়া যায়। হ্যাঁ, ওলি হওয়া যায়! বেনামাযীও ওলি তবে সেটা হলো শয়তানের ওলি। কার ওলি? জোরে বলুন না কার ওলি? শয়তানের।
মানত পূরণ হওয়া
ও ঐরকম কিছু আমাদের দেশে অনেক সময় দেখা যায়, বেশরা পীরের দরগায়, মাজারে মানত করলেও কিছু মাকসুদ পূরণ হয়। এজন্য লোকেরা বলে, না তারা ভাল মানুষই হবে, না হলে এরকম হলো কেন? আচ্ছা তাহলে তো হিন্দুদের মন্দিরে মানত করলেও তো অনেক কিছু হয়। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি হিন্দুরা তাদের মন্দিরে, এরপরে গয়াকাশিতে যে মানত করে নানা রকম রোগ ব্যাধির জন্য যার যেই মকসুদ তার জন্য; ঐ কোটি কোটি হিন্দুদের মানত পূরা হয় না ভাই! না হলে কি আর যেত নাকি! ও বন্ধ হয়ে যেত! একজন, দুই জন, পাঁচ-দশ জন সকলেই যখন যান। যখন কিছু হয়না, তাহলো তো অটোমেটিক ক্লোজ হয়ে যেত। কথা ঠিক না বেঠিক? তাহলে দশ জন যায়, পাঁচ জনার হয় আর পাঁচ জন বলে আমি গিয়েছিলাম আমার হয়েছিলো। আরেক জনের হয়নি বলে তোর নিয়ত ঠিক ছিলো না, এজন্য তোরটা হয়নি। কথা বুঝলেন, না বুঝেন নাই? নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। তো এজন্য আপনারাও কি গয়াকাশিতে যাবেন মনে হয়? অবশ্য বর্ডারটা খোলা থাকলে দেখা যেত। বর্ডারটা খোলা থাকলে আমাদের এখানে পাকশি আগত অনেককেই দেখা যেত যে উনি পাকশিতেও আসেন, গয়াকাশিতেও যান। সেখানেও যান, এখানেও আসেন। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। শুধু বর্ডারটা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে আল্লাহ্তাআলা বিশেষভাবে অনেককে মাফ করে দিয়েছেন। কথা ঠিক না বেঠিক? তবে হ্যাঁ, তাও শয়তান কম না, গয়কাশিতে যায় না, কিন্তু তথাপী সে ঈমানও রাখতে জানেনা। আজমিরে যায়, মাজারে যায়, এখানে যায়, সেখানে যায়; ঈমানটা বরবাদ করে আসে। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন।
বুজুর্গদের সমালোচনা
বলবেন হুজুর আপনি তাদের শেকায়েত করছেন। নাউযুবিল্লাহ্, না খবরদার না। সবধরণের আলেম ওলামা বুজুর্গ ভালো মানুষ তাদের সমালোচনা করাটা বেয়াদবী হবেই। অবশ্যই হবে। যে করবে সে গোনাগার হবে। কথা ঠিক না বেঠিক? কিন্তু আমরাতো তাদের সমালোচনা করিনি। আমরা খ্রিষ্টানদের সমালোচনা করি তার মানে আমরা কি ঈসা (আ:) সমালোচনা করি নাকি? আমরা খ্রিষ্টানদের সমালোচনা করি, বলি যে তারা অন্যায় করে, তারা পথভ্রষ্ট। এজন্য কি আমরা ঈসা (আ:)-এর সমালোচনা করি নাকি? বরং আমাদের নামাযের ভেতরেও ঈসা (আ:)-এর নাম নিয়ে কুরআন শরিফ তেলাওয়াত করতে হয়। কথা ঠিক না বেঠিক? এটাও কোরআনের মোজেজাত। বরং আমাদের ঈমান হলো লা নুফাররিকু বাইনা আহদিম মির রুসূলিহ। আল্লাহ্তাআলার কোন রাসূলের মধ্যে আমরা পার্থক্য করিনা। সকল নবী রাসূলের প্রতি ঈমান আনতে হবে মুসলমান হতে হলে। কথা ঠিক না বেঠিক?
ঐরকম যারাই ভালো মানুষ যারাই আল্লাহ্ তাআলাকে কদর করেছেন, তাদেরকে মোহাব্বত করা ঈমানদারদের জন্য কর্তব্য। কথা ঠিক না বেঠিক? এজন্যই তো আমরা দোয়া করি : ইহদিনাছ ছিরাতাল মুসতাকিম সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম গাইরিল মাগদু-বি আলাইহিম ওয়ালাদ্দা-ল্লি-ন। দোয়া পড়েন না? ইহদিনাছ ছিরাতাল মুছতাকিম হে আল্লাহ্ আপনি আমাদেরকে সিধা পথ সিধা রাস্তা ওপেন করে দেখান। আমাদেরকে সে পথে পরিচালনা করুন : ছিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম তাদের পথ যাদের প্রতি আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। সেই নিয়ামত প্রাপ্ত কারা? প্রথম কাতারে নবী রাসূলগণ, নবী রাসূলদের সাথে যারা সাহাবারা ছিলেন তাদের অনুসারীগণ। তারপর তাদেরকে যারা অনুসরণ করেছেন, এইভাবে যারাই তাদের সাথে লেগে আছেন তারাই হলেন সেই কাতারের। তাদের সাথে অন্যায় করা, সমালোচনা করা, আমাদের জন্য ঈমানের খাতরা, কথা ঠিক না বেঠিক?
কিন্তু তাদেরকে কেউ যদি পূজো করে তাহলে তাদেরকে সতর্ক করতে হবে, না হবে না? সাবধান করতে হবে, না হবেনা? ঐ পূজোর রাস্তা বন্ধের চেষ্টা করতে হবে, না হবে না? আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। সকলে বলুন আমিন।
সব ধর্মেই কিছু ভালো কথা আছে
তো ভাইয়েরা কোন জিনিস হয়ে যাওয়া ঘটে যাওয়াটাই সেটা সঠিক হওয়ার প্রমাণ না। যদি তাই হতো তাহলে ইসলাম ছাড়া যত পথ-মত আছে সবগুলোর পিছনে কিছু না কিছু ভালো কথা আছে। কিছু না কিছু বাস্তবতা মানুষ দেখেছে তাদেরকে অবলম্বন করে। এজন্য কি আপনারা বিশ্বাস করবেন নাকি যে সকল ধর্ম সঠিক? ওসব ধর্মের কেউ ডাকলে যাবেন নাকি, না ঈমানের উপর থাকবেন।
দায়সারাভাবে চেষ্টা করলে হবে না
ঈমানের উপর আপনি থাকেন। আপনার পরিবারকে রাখার চেষ্টা করেন। আপনার সাধ্য অনুযায়ী আপনি চেষ্টা করেন। এরপরে কে গোমরা হলো তার জন্য আপনি দায়ী হবেন না। সুবহানাল্লাহ্। তবে আমর বিল মারুফ নেহি আনিল মুনকার আপনার সাধ্য, ঐ দায়সারা সাধ্য পালন করলে হবে না।
একটা মুরগীর গল্প
একটা মুরগীর গল্প আছে, শুনবেন নাকি? তো সেটাও বুঝতে হবে। সে গল্প লিখা নেই। আমি আগেও বলেছি আপনারা শুনেছেন, শুধু স্মরণ করিয়ে দিই। মুরগীর গল্প হলো, একজন লোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো। গ্রাম অঞ্চলে দেখলো একটা মুরগী ঘুরে বেড়াচ্ছে। লোকটার চিন্তা হলো একটা ফাঁকা জায়গায় মুরগী ঘুরে বেড়াচ্ছে। কুকুর বা শিয়াল দেখলে তো খেয়ে ফেলবে। অসুবিধা না? মুরগীটার উপর নির্যাতন হবে। খুবই দয়ালু মানুষ। এই জন্য তিনি শিয়াল কুকুরের থেকে মুরগীটা বাঁচানোর জন্য নিজেই ধরলেন। কথা বুঝলেন না বুঝেন নাই? নিজেই ধরে এখন চিন্তা করছে কি করা যায়। এটাকে নিয়ে বাড়ী গিয়ে যদি জবাই করি তাহলে সরাসরি হারাম হয়ে যাবে। এখন হালাল করা দরকার। কথা বুঝলেন। একটু ভয়ও আছে আবার লোভও আছে। দুটোই আছে। কিছু ভয়ও আছে আবার লোভও আছে কথা বুঝলেন না। এত তরতাজা মুরগী দেখে লোভ সামলাতে পারে নাকি? আবার ফাঁকা জায়গা তো! যাই হোক মুরগী যখন ধরেছে, বসে থেকে চিন্তা করছে এখন তাকে কি করা যায়।
এরকম আমার মত এক মৌলভিকে জিজ্ঞেস করছে যে, হুজুর এটা কি করা যাবে? তো বলে যে তুমি এটাকে নিয়ে এলান করো। এলান করে যার মুরগী তাকে দিয়ে দাও। ও বেচারা মনে মনে বলছে, এতো কাজ হলো না হুজুরের ফতওয়ায়। তো বলল, হুজুর এলান করবো, যদি মালিক না পাই তখন কি করবো? কথা বুঝলেন কি না? হুজুর বলছেন, তুমি সাধ্যমত এলান করো, চেষ্টা করো, আর একান্তই যদি না পাও তাহলে কি করবে, ওতো এমনিতে মরে যাবে, তাহলে তুমি জবাই করে খেয়ে ফেলে তাওবা করে ফেলো আর কি করবে। তো হুজুর যেটা বলেছে ও সেটাই করবে। কথা বুঝলেন কি না?এখন সে বেচারা ঐ রকম গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটছে কিন্তু ওর তো লোভও সামলাতে পারছে না। এখন চিল্লে যদি বলে লোক তো জেনে যাবে, কার মুরগী তাহলে নিয়ে যাবে, তাহলে নিজেরতো এটা হলো না। আবার সরাসরি জবাই করবে এটাও আবার কেমন হয়, তাহলে ফতোয়া মানা হয় না। এখন কী করা যায়? বেচারা মুরগীটাকে পিছনে নিয়েছে। কোথায়? পিছনে। পিছনে মুরগীটাকে ভালো করে রেখেছে এমনভাবে যে কক কক না করে। কথা বুঝলেন কি না? এখন পিছনে মুরগীটা বেঁধে এবার সামনে চিল্লাচ্ছে। এইভাবে বলছে, আস্তে বলছে এই মুরগী, আর জোরে বলছে কার? কথা বুঝলেন না! আস্তে বলছে কি, এই মুরগী আর জোরে বলছে কার। এখন যারা শুনছে সবাই শুনছে যে ঐ ব্যক্তি বলছে কার? কি কার সেটাতো কেউ শুনতে পাচ্ছে না। এরকম সারাদিন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সন্ধ্যা বেলায় বলছে, কত চিল্লালাম কেউ নিচ্ছে না। কি আর করা যাবে, আমি জবাই করে খেয়ে ফেলি। কথা বুঝলেন না বুঝেন নাই? তাহলে এটা কি ফতোয়া ভুল হলো ভাই? জ্বিনা। হক্ব আদায় হলো? হক্ব আদায় হলো? না।
একবার দুবার বললাম। ছেলেকে বললাম, বাবা নামায পড়িশ। একবার দুবার বললাম। ছেলেকে বললাম, বাবা কুরআন শরিফ পড়িশ। একবার দুবার বললাম। একটা মাষ্টার থাকলো। এমন বেতন দিলাম যেন ছ মাস পড়ে মাষ্টার পালায়। কথা বুঝলেন না বুঝেন নাই? এরকম মাষ্টার রেখে আমার হক্ব আদায় হয়ে গেল, এরকম কথার দ্বারা হক্ব আদায় হয়ে গেল। বাড়িতে হুজুর এসে ওয়াজ নসিহত করে গেল, বলে গেল আমার আবার বলার দরকার কি। কথা ঠিক না বেঠিক। এই রকম দেখা যাচ্ছে যে, পীর মাশায়েখের দরবারে এসে বিভিন্ন সংগঠন দল-টল করে দেখা গেলো নিজে পাগড়িওয়ালা, জুব্বা ওয়ালা, সব ঠিক আছে, নিজের বউ-এর বোরখা ঠিক নেই, নিজের সন্তান এম. এ পাশ করেছে, এখনও নাবালেগ শিশু, এজন্য নামায ধরেনি। কি বলেন ভাই! অ্যাঁ! এম. এ পাশ করেছে, নাবালেগ কচি, এখনও নামাযের বয়স হয়নি কি বলেন? বি. এ পাশ করেছে মেয়ে এখনও সাবালিকা হয়নি, এখনও তার বোরখার বয়স হয়নি। বিয়ে-শাদী হোক তারপর না হয় মাথায় ঘোমটা দেবে। কি বলেন আপনারা? এই হলো আমাদের ইসলাম। মাথায় কাপড় দিতে হয় কখন? বুড়ি হলে না কি বলেন? ইসলাম কি উল্টো হলোনা, উল্টো ইসলাম হলোনা?
যুবক বয়সে আল্লাহর দীন পালনের ফজিলত
বরং হে যুবকেরা, হে মা-বোনেরা, হে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা! আল্লাহ্র রাসূলের বে-শারত আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুসংবাদ তোমাদের জন্য আছে শুনে রাখ। আল্লাহর রাসূল বলেন, যে যুবকেরা যুবক বয়সে আল্লাহ্র দীন পালন করবে, যাদের উঠতি বয়স যাদের অপরাধের প্রবণতা আছে, সে প্রবণতাকে চেপে রেখে আল্লাহর পথের পথিক হবে, আল্লাহ্ তাআলা হাশরের ময়দানে আল্লাহর আশ্রয়ে আশ্রয় দান করবেন। আমার যুবক যুবতীরা তোমরা কি চাওনা আল্লাহর আশ্রয় পেতে। আল্লাহর আশ্রয় তোমাদের দরকার আছে না নেই, দরকার আছে না নেই? আপনার সন্তানের আল্লাহর আশ্রয়ের প্রয়োজন আছে? না ওটা পরে হবে। আগে দুনিয়াটা হোক, তারপরে হোক নাকি বলেন? আমার সন্তান তাকে যে পেশায় দিলাম বা যে পেশার জন্য পড়া-শোনা করতে দিলাম সেই পড়া-শোনা শেষ করে ঐ পেশা অবলম্বন করে কর্মজীবনে যেতে পারবে এর কোন নিশ্চয়তা আছে? আমরা অভিশাপ দিচ্ছিনা, আমরা বদদু’আ দিচ্ছিনা। আপনি চিন্তা করেন সে কি সেই কর্ম জীবনে যেতে পারবে, নিশ্চয়তা দিতে পারবেন, গ্যারান্টি দিতে পারবেন? আপনার আমার সন্তান আজ, কাল যে কোন মুহুর্তে যদি কবরে চলে যায়,সে প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে হয়ে যদি কবরে যায়, তার যদি নামায কাযা থাকে, তার যদি শরিয়তের লঙ্ঘন থাকে, সে যদি অশ্লীল কাজ করে থাকে, তাহলে আল্লাহর দরবারে কি হবে? আপনি বলেন নি, শেখাননি, বুঝাননি, আপনার দায়িত্ব পালন করলেন না, তার জন্য আপনাকে জবাব দিতে হবে, না হবে না?
প্রত্যেকেই দায়িত্ববান
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কুল্লুকুম র-য়িন ওয়া কুল্লুকুম মাছউ-লুন আন র-ইয়য়াতিহি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন তোমাদের প্রত্যেককেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্ববান। তোমাদেরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হলো সেই দায়িত্বের জন্য প্রত্যেককেই আল্লাহর কাছে জওয়াব দিতে হবে। জবাব দিতে হবে কি না? আল্লাহর রাসূলের উদাহরণ, এমন উদাহরণ যেটার থেকে কেউই রেহাই পাবে না। কেউ রেহাই পাবে না। শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট হলেই না, পীর সাহেব হলেই না, আলেম হলেই না, নেতাজী হলেই না। এক জনের একটা বউ, একটা সন্তান আছে। তার জন্য সেটাই তার দায়িত্ব। কথা ঠিক না বেঠিক? যার কেউ নেই সে নিজে আছে। তার নিজেকে কন্ট্রোল করাও সেটা তার দায়িত্ব। কথা ঠিক না বেঠিক।
ফরজ কম করে নফল আদায় করলে হবে কি ?
কু আনফুছাকুম ওয়া আহলি-কুম না-রা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। কেমন করে বাঁচাবেন? হারাম কাজ তরক করে, ফরজ ওয়াজিব পালন করে। ফরজ কম করে নফল আদায় করলে হবে নাকি? অ্যাঁহ! হুজুররা ওয়াজ করেন হাদীসে আছে। হাদীস সত্য কথা। এখন ব্যাখ্যা যদি উল্টো করি তাহলে হবে? হাদীস তো সত্য যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে একজন রোজাদারকে ইফতার খাওয়াবে, কি খাওয়াবে, ইফতার; একজন রোজাদারকে যে ইফতার খাওয়াবে আল্লাহ্তাআলা তার নামায়ে আমলে পূর্ণাঙ্গ একটি রোজার সওয়াব দান করবেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। এখন আমার মতো কোন নেতাজী বলে যে হাদীসতো সত্য কথা। আল্লাহর রাসূলের হাদীস একজন রোজাদারকে ইফতার খাওয়ালে একটি রোজার সওয়াব পাওয়া যাবে। কথা ঠিক না ? তো আমরা আমল করি কিসের জন্য? সাওয়াবের জন্য না! আমল করি কিসের জন্য ? নামায পড়ি, রোজা রাখি, হজ্ব করি, যাকাত দিই। সওয়াবের জন্য। তাহলে সওয়াবটা অর্জন করাই আমাদের উদ্দেশ্য। কথা ঠিক না বেঠিক? ঠিক। সওয়াব যেহেতু অর্জন করা আমাদের উদ্দেশ্য তাহলে আল্লাহ্ তাআলা আমাদের জন্য রমজানে ৩০টা রোজা বা ২৯টা রোজা মানে ১ মাস রোজা ২৯ হোক ৩০ হোক সেটা আমাদের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন। মানে সেটার সওয়াব আমাদের দরকার। অবশ্যই আমাদেরকে সেটা নিতে হবে। তো এখন আমরা যদি মনে করলাম যে ৩০টা সাওয়াব আমাদের দরকার। তা আমরা সেখানে এহতিয়াতান সিকিউরিটি স্বরূপ ১,০০০ সওয়াব আমার নামায় আমলে জমা করলাম অর্থাৎ ১,০০০ মানুষকে আমরা ইফতার খাওয়ালাম। সে ১,০০০ রোজার সাওয়াব আমরা পেয়ে গেলাম। এখন তিরিশটা রাখলাম না তাকে কি! এতে কি রোজা আদায় হয়ে যাবেনা ভাই? মাঝে মধ্যে কেয়াস করবেন। কেয়াস আপনাদের দলিল তারপরও ছোট্ট কেয়াস করলাম। সওয়াব তো আপনার নামায় আমলে হলো। সহি হাদীসের দ্বারা বোঝা যায় যে ইফতার খাওয়ালে রোজার সাওয়াব। তো আপনি ১,০০০ রোজাদারকে ইফতার খাওয়ালেন। ১,০০০ রোজার সাওয়াব হলো। মোটে ৩০টা রাখলাম না তো কি অসুবিধা হলো? সওয়াব হবে ভাই? সাওয়াব হবে? না। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন!
তো ঐ রকম কথা আবার ভালো করে বুঝে নেন। আবার বলবেন না হুজুর ফতওয়া দিয়েছে যে রোজা না রেখে ইফতার খাওয়ালে সাওয়াব হবে! নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। নিজের রোজা আগে রাখতে হবে। এর সাথে সাথে সাধ্য অনুযায়ী কিছু নফল করেন সেটা আপনার আমল নামায় যোগ হবে। কথা ঠিক না বেঠিক? নিজের নামায আদায় করতে হবে। নিজের নামাযের ঠিক নাই, আমার বান্ডিল আছে দান করে দিলাম হুজুরের মসজিদে। দরবারের মসজিদে বড় বড় মিনার হলো, বড় বড় গম্বুজ হলো, বাকি সবকিছু হলো, নিজের নামাযের খবর নাই, তারা মনে করলেন যে বান্ডিল দিয়ে নামায রোজা হয়ে গেল! নাকি? এ্যাঁ! মাদ্রাসায় টাকা দিলাম কি হবে? কুরআন পড়া হবে। নিজের সন্তানের কুরআন পড়ার দরকার নেই। আমি টাকা দিয়েছি কত গরীব মানুষের ছেলেরা কুরআন পড়ে। তো আমার ছেলের কুরআন পড়ার দরকার আছে নাকি? কি বলেন আপনারা ? দরকার আছে না নাই ?
প্রত্যেককে মুসলমান হতে হবে
আপনার আমল নিয়ে আপনাকে যেতে হবে। নিজের সন্তানদের মুসলমান বানাতে হবে। আরেক জনকে নামাযের সুযোগ করে দিয়ে নামায না পড়লে কাজ হবে না। আরেক জনকে আলেম করে দিলে নিজে যদি এলম না শিখি কাজ হবে না। আমি বলছি না যে সকলকে মুহাদ্দিস হতে হবে, সকলকে মুফাস্সির হতে হবে, সেটা বলছিনা, বরং সকলকে ঈমানদার হতে হবে, মুসলমান হতে হবে। কি হতে হবে? ঐ ঈমান হেফাজতের জন্য যে জ্ঞান, ইসলাম জানার জন্য যে জ্ঞান, এটা প্রত্যেকের জন্য সে যে পেশাই অবলম্বন করুক না কেন, সে ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যারিস্টার, রাষ্ট্রীয় প্রধান, প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, এম এল এ, মেম্বর যা কিছু হোক না কেন, প্রত্যেককে মুসলমান হতে হবে। কি হতে হবে? মুসলমান হতে হবে। কি হতে হবে? মুসলমান হতে হবে। আর মুসলমান সমাজের নেতারা তো ধর্মীয় কাজেরও নেতৃত্ব দেবেন, কিন্তু এটা তো আমাদের বিষয় যে আমাদেরকে হায়ার করে নিতে হয় আরেক জনকে। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। আল্লাহ্ আমাদের হেফাজত করুন। সকলে বলুন আমিন!
মুত্তাকিদের গুণাবলী
তো ভাইয়েরা আমি যে কথা বলতে চাইছি, আপনাদের আমাদের সকলকে আমি নছিহত করছি যে, আমরা গোনাহগার এতে সন্দেহ নেই। তবে আসুন আমরা এই গোনাহর বোঝা মাথায় নিয়ে আমরা যদি দৌড়াই তাহলে আল্লাহ্তাআলা আমাদের জন্য জান্নাত দান করবেন। আসুন আমরা মুত্তাকি হই। এই মুত্তাকি হওয়ার জন্য আল্লাহ্ তাআলা কিছু গুণাবলী বলেছেন। সেই গুণাবলীর ভিতরে আল্লাহ্ বলেছেন আনিন নার। মুত্তাকি কারা হবে? আমি আগেই বলেছি মুত্তাকি পরহেজগার কি। সুদি কারবারের টাকা, হারাম কারবারের টাকা সেটা দিয়ে যদি নেছফে সাখ জামা গায়ে দিই তাকওয়া হলো ভাই? এ্যাঁহ! যদি হারাম টাকা দিয়ে মেছওয়াক করি কাজ হবে? হারাম টাকা দিয়ে জায়নামায কিনেছি কাজ হবে? হারাম টাকা দিয়ে টুপি মাথায় দিই কাজ হবে? চুরি করা মুরগী বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করে বিসমিল্লাহ্ বলে রান্না করে লাল দস্তরখান বিছিয়ে আমাদের মত হাফ ডজন পীর সাহেবদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যেয়ে এক মজলিশে বসে বিসমিল্লাহি ওয়াআলা বারাকাতিল্লাহ্ বলে যদি খাওয়া শুরু করে হালাল হয়ে যাবে? কি বলেন? এ্যাঁহ্! তাই বলি ! কোথায় বিসমিল্লাহ বলছি খবর আছে ? কোথায় সুবহানাল্লাহ্ বলছি খবর আছে ?
কুরআন যাদের অভিশাপ দিচ্ছে
কার গলায় তাবিজ দিচ্ছেন? কার গলায় কুরআন ঝুলাচ্ছেন? কার অফিসে কার চেয়ারে বসে কোরআনের আয়াত ঝুলাচ্ছেন? নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। তোমার ঘরে কুরআন ঝুলিয়েছো বরকতের জন্য। তোমরা ঘরে কুরআন খতম করছো বরকতের জন্য। কুরআন তেলাওয়াত খতম, সবই খতম, ইসলাম খতম। তারপর অনৈসলামিক কার্যকলাপ হলো, হচ্ছে। তাহলে কি সেই ঘরে আল্লাহর বরকত হবে? এ্যাঁহ! তোমার কারবার, তোমার খাতা কলম সব কিছুই হচ্ছে জালিয়াতি। মানুষকে ধোকা দিচ্ছ। মানুষকে ধোকা দিয়ে তুমি কোরআনের আয়াত খাতার মধ্যে লিখে রাখছো বরকতের জন্য যে তাবিজ থাকলে ভাল বরকত হবে। বরকত হবে, না লানত হবে? এতে কোরআনের সঙ্গে অবমাননা করা হলো। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। আপনাকে দাওয়াত দেওয়া হলো। আপনি যে জিনিস পছন্দ করেন না, আমি জানি যে ঐ জিনিস আপনি পছন্দ করেন না, জেনেশুনে আপনাকে ঐ জিনিস দিলে আপনি সম্মানবোধ করবেন না অপমান বোধ করবেন? কথা বুঝলেন না! আপনি জানেন আমি জানি যে ঐ জিনিস আপনি পছন্দ করেন না, আপনাকে খেতে দিলাম বা বললাম। তাহলে এটা আপনাকে অপমান করা হলো না হলো না? তাহলে কুরআনে যে জিনিস নিষেধ করা হলো, কুরআন যেটার হুকুম দিলো, সেটার ধার ধারলাম না আর সেই কুরআন গলায় ঝুলালাম। সেই কুরআন ঘরে রাখলাম। বরকত হলো না লানত অভিশাপ হলো। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন রুব্বা ক-রিইন লিল কুরআনী ওয়াল কোরআ-নু ইয়াল আনুহু। হাদীস ছোট, এর ব্যাখ্যা অনেক। শুধু কুরআন ভুল তেলাওয়াত করলে লানত হয় সেটা না। ভুল ইচ্ছা করে করছে, তার লানত হবে, অভিশাপ হবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন, রুব্বা ক-রিইন লিল কুরআন ওয়াল কুরআনু ইয়াল আনুহু কতক কোরআনের পাঠক আছে, কত তেলাওয়াতকারী আছে, কুরআন তাকে অভিশাপ দিচ্ছে। কি দিচ্ছে? কি দিচ্ছে? অভিশাপ দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। কিভাবে? কয়েকভাবে।
কুরআন শুদ্ধ করে পড়া ফরজ
একটা হলো সে কুরআন ভুল পড়ে ইচ্ছা করে। মানে তার সুযোগ আছে সঠিক করার, শুদ্ধ করার, কিন্তু শুদ্ধ করলো না। ح এর জায়গায় ه পড়লো, ع এর জায়গায় اَ পড়লো, ط এর জায়গায় ت পড়লো ইত্যাদি পড়লো। তাহলে ঐ অর্থ ঠিক থাকলো ভাই? অর্থ ঠিক হলো ভাই, অর্থ ঠিক হলো? এ্যাঁহ্! চুলো আর ছুলো দুটো এক জিনিস? চুলা আর ছুলা। আপনাদের দেশে ছুলা বলে আর চুলা বলে। চ আর ছ। চুলাতে কি হয়? আপনাদের আঞ্চলিক ভাষায় আপনারা বলেন চুলা আর শুদ্ধ ভাষা হলো চুলো, কথা বুঝলেন কিনা ? তো চুলা, এতে কি হয়? চুলার ভিতরে ছুলা রান্না করা হয়। কথা ঠিক না বেঠিক? চুলা এক জিনিস আর ছুলা এক জিনিস। কথা ঠিক না বেঠিক? এতে ভাষার পার্থক্য হলো, না হলো না? তাহলে اَلْحَمْدُ আর اَلْحهَمْدُ দুটো এক জিনিস হলো? এ্যাঁহ্! آَلِمْ আর عَلِمْ এক হলো? عَلَمْ আর آَلَمْ এক হলো? একটা হলো পতাকা আর একটা হলো ব্যাথা। কথা বুঝলেন না! عَلَمْ মানে কি? পতাকা আর آَلَمْ মানে হলো ব্যাথা । দুটো এক জিনিস হলো? তাহলে কি কুরআন পড়ছেন? তাহলে কোরানে আল্লাহ্ তাআলা যেখানে বলছেন যে, তুমি পড় যে আল্লাহ্ তাআলা এক, আপনি পড়ছেন যে, তোমরা খাও যে আল্লাহ্ তাআলা এক। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। এ্যাঁ! আপনি আমি যখন কুরআন পড়ছি এ যখন আরবী ভাষা-ভাষি যখন শুনবে ও বেচারা তখন অস্থির হয়ে যাবে যে, এ পাগলা কি বলছেরে ভাই। এই পাগলা কি বলে? আল্লাহ্ কি বলেন আর ও কি বলে, কথা ঠিক না বেঠিক? আল্লাহ্ কি বলে আর ও কি বলে। নাউযুবিল্লাহ্ পড়েন। তাহলে কুরআন শুদ্ধ পড়ার দরকার আছে না নাই। কুরআন শুদ্ধ পড়ার দরকার আছে না নাই। দরকার আছে না নাই? কি, নফল না ফরজ? কাদের জন্য? শুধু মাদ্রাসায় যারা পড়বে তাদের জন্য, পীর সাহেবের ছেলের জন্য, মাওলানা সাহেবের ছেলের জন্য? কুরআন হাদীস জাগতিক কোন বিষয় উপার্জনের জন্য শিখলে সে কঠিন গোনাহগার হবে। কুরআন হাদীসের এলেম, ফেকাহ্ও তার সাথে মিলেছে, এর সাথে সম্পর্কিত এলেমগুলো শিখতে হবে আল্লাহ্র জন্য, নিজের জান্নাত-জাহান্নামের ফায়সালা ঠিক করার জন্য। এর সাথে জাগতিক যতো এলম আছে শিখেন।
আল্লাহর পথে ডাকা ঈমানদারের নেশা
আপনারা পেশা অবলম্বন করেন। তবে হ্যাঁ যিনি আল্লাহর পথে ডাকবেন এটাই হলো সব থেকে বড় পেশা। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আর যারা গান গায় কত নামীদামী পেশা নাকি! কি গান গায় তার আগামাথা নেই, যার কোন তাল নেই, কোন অর্থ নেই, কথা ঠিক না বেঠিক। মানুষের অশ্লীল কথা উনি সুর দিয়ে বলেন, তার মর্যাদা আছে, আর এ ব্যাটা আল্লাহর কথা বলে আর সেটা সমাজে অবহেলিত! নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। যারা অবহেলা করবে অবজ্ঞা করবে ভুল করবে। আবার অনেকে এটাকে ব্যবসার মত মনে করে। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। খবরদার আমরা দুটো ভুল করছি। একদল ব্যবসা মনে করছি আরেক দল ওটাকে খারাপ পেশা মনে করছি। নাউযুবিল্লাহ্! পেশা নয় এটা ঈমানদারের নেশা। সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
আল্লাহর পথে দাওয়াত
যারা আল্লাহর পথে দাওয়াত দেবে আল্লাহর কাছে তারাই হলো সব থেকে উত্তম। সুবহানাল্লাহ্। এটা আল্লাহর কথা। কার কথা ? আল্লাহর। তবে আমি বলছিনা যারা মওলানা সাহেব হন নাই, পীর সাহেব হন নাই, ওয়ায়েজ হন নাই, তারা পারবেনা। না আপনিও পারবেন। আপনি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়েও কোরআন হাদীসের পথে ডাকেন। আপনিও ঐ ফজিলত পাবেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। তবে হ্যাঁ সেটার জন্যও পর্যাপ্ত এলেম লাগবে। না জেনে ফাতওয়া দেবেন না। যতটুকু জানবেন ততটুকু ডাক দেবেন। বেশি ডাকতে গেলে আবার এ্যাকসিডেন্ট হবে। কথা ঠিক না, বেঠিক? আপনি যে গাড়ি পারেন সে গাড়ি চালাবেন, মটর সাইকেল পারেন, মটর সাইকেলই চালাবেন। এখন দু’চাকা চালাতে পারেন। চার চাকার ট্রেনিং নেই। যদি চার চাকা গাড়িতে উঠে পড়েন ওতো এ্যাকসিডেন্ট করবে। কথা ঠিক না বেঠিক? তো আপনার এলেমের দৌড় যতটুকু ততটুকু বলবেন। ওটা নয় যে বড় বড় কিছু বলতে গিয়ে বেধে যাবেন। কথা ঠিক কি না? এটাও খেয়াল রাখতে হবে।
আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলেন, ওয়ামান আহসানু কওলাম মিম মান দাআ ইলাল্লাহি ওয়া আমিলা স’লিহা ওয়া ক্বলা ইন্নানি মিনাল মুসলিমিন। আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলেন, ঐ লোক ঐ ব্যক্তি থেকে উত্তম বলনেওয়ালা, ঐ লোকটা থেকে উত্তম বক্তা বা উত্তম দায়ি, উত্তম আহ্বানকারী কে আছে, মিম মান দাআ ইলাল্লাহ্ ঐ ব্যক্তি আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকে। কার দিকে ডাকে? কার দিকে ডাকে? আল্লাহর দিকে। কার দিকে? ইলাল্লাহ্। আল্লাহর দিকে।
মানুষকে আল্লাহর পথে ডেকে, নিজের কথা ভুলে যাওয়া
আল্লাহর দিকে শুধু ডাকবে নিজে করবে না, মানুষকে ভাল কথা বলবে আর নিজেকে ভুলে যাবে না কি? মানুষকে ভাল কথা বলে নিজেকে ভুলে যাবে? মানুষকে বলবে আল্লাহ্ওয়ালা হও, পরহেজগার হও, আত্মশুদ্ধি কর আর নিজের মধ্যে সব গন্ডোগোল থাকবে তাহলে কি ঐ গুণাবলী পাওয়া যাবে? আত্মশুদ্ধির কথা বলে অথচ নিজে হিংসুক। আত্মশুদ্ধির কথা বলে অথচ নিজে মিথ্যাবাদী। আত্মশুদ্ধির কথা বলে অথচ নিজে চোগলখোর। তাহলে কি আল্লাহর ঐ নেয়ামত পাওয়া যাবে? এটা হলো ইহুদীদের খাছলত। কাদের খাছলত? কাদের খাছলত? আল্লাহ্ তাআলা ঐ ইহুদীদের খাসলত থেকে সকলকে হেফাজত করুন । ইয়া আইয়ুহাল্লাযিনা আমানু লিমা তাকুলুনা মা-লা তাফআলুন। হে ঈমানদারেরা, কেন তোমরা এমন কথা বল যা তোমরা করো না। লিমা তাক্বুলুনা মা-লা তাফআলুন কেন তোমরা ঐ সকল কথা বল যা তোমরা করোনা। এই কথা বললে কি হয়? এ কাজ করলে কি হয়? কাবুরা মাক্বতান ইনদাল্লাহি আন তাকু-লু মা-লা তাফআলুন আল্লাহর কাছে খুব রাগের বিষয় হয়। আল্লাহ্ তাআলা এই অবস্থার প্রতি রাগ করেন গোস্সা হন যে মানুষ যারা আল্লাহর কথা বলবে বা তাঁর কথা বলে নিজেদেরকে ভুলে যাবে। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমিসহ সকলকে হেফাজত করুন। সকলে বলুন আমিন!
দোয়া করতে তো অসুবিধা নেই। আমরা কি ফেরেস্তা নাকি? ওয়াস ওয়াসা আসে, শয়তান ধরে, আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সকলকে শয়তান থেকে হেফাজত করুন। সকলে বলুন না আমিন! আমরা প্রত্যেক দিন বলি আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম’। কথা ঠিক না বেঠিক। বেশি বেশি করে শয়তানের আক্রমণ থেকে, শয়তানের চক্রান্ত থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন। সাহায্য আল্লাহ্ তাআলা করবেন। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ্। তো যে কথা বলছিলাম, ভাইয়েরা, ভাল কথা বলনেওয়ালা তারাই যারা আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকে। কার পথে ডাকে? মিম মান দাআ ইলাল্লাহ্ আর ওয়া আমিলা সলিহা নিজেরাও ভালো কাজ করে, ভাল কথা বলে। ভালো কাজ করে। ভাল কথা বলে নিজেরা কাজ করেনা সেটা নয়। আবার নিজে ভাল কাজ করে, কিন্তু মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে না তাহলেও ভালো হলো না। তাহলেও কি হবে না? তুমি নামাযী তুমি নামাযে যাচ্ছ তোমার বন্ধু বেনামাযি সে ঘরে বসে আছে। তাকে একবার বলেন না যে, ভাই, চলো আমরা নামায পড়ে আসি। আপনি এই দাওয়াত দিতে পারেন না ভাই? একদিন, দুদিন, তিনদিন, না হয় একটু গালিই দিলো, তো কি হলো আপনার? আপনি যদি যান দুটো গাল শুনবেন। তাহলে আপনার মর্যাদা আল্লাহর কাছে বেড়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আল্লাহর কাছে আপনার মর্যাদা কমে গেল নাকি?
মরে গেলে ঈমানদারের আনন্দ শুরু হয়
ঈমানদারের মর্যাদা তো গাল শুনলে কমেনা। ঈমানদারের মর্যাদা মরলেও কমেনা, বরং বেড়ে যায়। কথা ঠিক না বেঠিক? অমুসলমানেরা, যালিমেরা যুলুম করে যদি কোন ঈমানদারকে হত্যা করে তাহলে ঐ ঈমানদার যদি গোনাহগারও হয়, তাহলে ঐ নির্যাতনের কারণে তার গোনাহগুলো আল্লাহ্তা’আলা মাফ করে তার জন্য শাহাদাতের দরজা লিখে দেন। তাহলে ঈমানদারের ভয় কোথায়? হে ঈমানদার তোমার ভয় কোথায়? তুমি মরলেও তো শহীদ, আর বাঁচলে গাজি। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। তাহলে আর কোন ভয়ের কারণ আছে নাকি? আর কোন ভয় আছে আপনার। আর কোন দুশ্চিন্তা আছে? বলবেন হুজুর মরলে তো সব শেষ হয়ে গেলো। আরে শেষ হলো কোথায়? আরে ঈমানদার তো মরে গেলে আনন্দ শুরু হলো। কথা ঠিক না বেঠিক? ঈমানদার তো মরলে আনন্দ শুরু হলো। যে যত তাড়াতাড়ি পারলো আনন্দের জায়গায় চলে গেল। কথা ঠিক না বেঠিক। স্বাভাবিকভাবে মরলে হয়তো তুমি গোনাহর জন্য ধরা পড়ে যেতে, তুমি নির্যাতিত হয়ে জুলুমের শিকার হয়ে মরলে আল্লাহ্ তাআলা তোমার জন্য শাহাদাতের দরজা করে দেবেন। তোমার দোয়া এমনি কবুল হতো কিনা সন্দেহ্ ছিলো।
মজলুমের বদদোয়া থেকে সাবধান হোন
তুমি অনেক পাপাচারে লিপ্ত ছিলে। তুমি নির্যাতিত। আল্লাহর দরবারে কাঁদো। যে বান্দা নির্যাতিত আল্লাহর মাঝে তার আর কোন পর্দা থাকে না। এটা আল্লাহর রাসূলের কথা, কার কথা? কার কথা ? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ওয়াত্তাকি দাআওয়াতাল মাযলুম ফাইন্নাহু লাইসা বাইনাহু ওয়া বাইনাল্লাহি হিযাব। সাবধান! কোন মানুষের প্রতি যুলুম করবেন না। কোন জাতির প্রতি জুলুম করবেন না। কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি যুলুম করবেন না। তারা যাইহোক না কেন তারা ঈমানদার। তারা আল্লাহর কথা বলে। যুলুম করলে আজ হোক কাল হোক আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন একদিন এ্যাকশন নিবেন। আল্লাহ্ কাউকে ছেড়ে দেন না। সুযোগ দেন। নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার। আল্লাহ্ তাআলা ছেড়ে দেন না। ইনাল্লাহা লা ইউহমিলু ওয়ালা কিন ইউমহিলু আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন ছেড়ে দেন না। একটু সুযোগ দেন, দড়িটা একটু ঢিলে করে দেন। যখন টানেন একদম নাড়ীশুদ্ধ টেনে নিয়ে আসেন। কথা ঠিক না বেঠিক? এ্যাঁহ্! আল্লাহ্র রাসূলের কথা ওয়াত্তাকি দাআওয়াতাল মাজলুম। ঐ আহ্বানকারী মানে যার প্রতি নির্যাতন হয় তার দোয়া থেকে তোমরা সাবধান হও। কারণ যে নির্যাতিত সে যখন আল্লাহ্র কাছে দোয়া করে ঐ দোয়া আল্লাহ্র কাছ থেকে কখনও ফেরত আসে না। ঐ ব্যক্তি আর আল্লাহর মাঝখানে কোন পর্দা থাকে না।
তো ঈমানদাররা নির্যাতিত কিনা বলুন। মুসলমানরা আমরা নির্যাতিত কিনা আপনারা বলুন। মুসলমানরা আপনারা নির্যাতিত কিনা বলুন, নিষ্পেষিত কিনা বলুন। যে যাই হোক না কেন, আপনাদের তো নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু আপনারা আল্লাহ্কে ডাকছেন না। এদিক সেদিক কথা বলছেন। ওগুলো বলেন ঠিক আছে, কিন্তু একটু শেষ রাতে উঠে আল্লাহর দরবারে একটু কাঁদেন : হে আল্লাহ্, আমাদের গোনাহ্ মাফ করে দাও, হে আল্লাহ্, আমরা আপনার কথা বলছি, যারা আমাদের পথ বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে, আল্লাহ্ তুমি তাদের ব্যবস্থা নাও। সকলে বলেন আমিন! সকলে বলুন না আমিন!
ভয় কিসের?
ভয় আছে নাকি? এ্যাঁ! তোমার কিসে ভয়? আমি তো বললাম আগে, বড়জোর খুন করবে, মেরে ফেলবে। বড়জোর কিছুদিন না হয় মারবে আর কি করবে? তবে হ্যাঁ, আমরা মরার চেষ্টা না করি। বাঁচার চেষ্টা করি। ঈমানদার বাঁচার জন্য চেষ্টা করবে। কিন্তু মরতে হলে মরতে রাজী আছি। কথা ঠিক না বেঠিক ? তার মানে আমি বলছি না যে, সুইসাইড করুক। নিজেরা তাদের তলওয়ারের তলায় যেয়ে, রাইফেলের গুলিতে বুক পেতে দেন তা বলছি না। আল্লাহ্ আমাদের তাওফিক দেন সকলে বলুন আমিন! তো ভাইয়েরা মুত্তাকি হন, আল্লাহর পথের পথিক হন।
আল্লাহর পথে ব্যয়
আল্লাহ্ তাআলা বলছেন, মুত্তাকিদের অনেক গুণাবলী আছে, তার মধ্যে কিছু গুণাবলী হলো আল্লাযিনা ইউনফিকুনা ফির্ছ্ছারা ওয়ার্দ্দর যারা সর্ব অবস্থায়, তার অগাধ থাকলেও, অনেক টাকা পয়সা সম্পদ থাকলেও দান করে, আর কম থাকলেও বা টানাটানি থাকলেও মুত্তাকি বান্দা আল্লাহর পথে ব্যয় করে। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ্। মুত্তাকি বান্দা তার কম থাকলেও দান করে, বেশী থাকলেও দান করে। কিন্তু বেশী আছে বলে দান করলাম তার মানে? তার তো গায়ে লাগছে না, ওতো এমনিই কত টাকা উড়ায়। কত টাকা উড়াই, কিছু হুজুরদের দিলাম, কিছু মাদ্রাসায় দিলাম ওকি কবুল হয়? এ্যাঁহ্! এখলাসের সহিত আল্লাহর জন্য তাকওয়ার উপরে যেটা দেওয়া হবে সেটা কবুল হবে? কথা ঠিক না বেঠিক? ছেলেদের জন্মদিন পালন করতে ৫০/৬০ হাজার টাকা খরচ করলাম, একটু মিলাদ মাহফিলে ১০ হাজার টাকা দিলামই, তাতে কি হলো? ওরকম দান করলে কবুল হয় না কি বলেন? এ্যাঁহ্! গানের অনুষ্ঠান করার জন্য বিশিষ্ট দানবীর বিশিষ্ট সমাজ সেবক তিনি পঞ্চাশ হাজার, ১ লাখ টাকা দান করলেন, হুজুররা ওয়াজ মাহফিল করছে দিলাম না হয় ১০ হাজার তাতে কি হলো? ওরকম দান করলে কবুল হয়? ওরকম দান করলে কবুল হয় না।
দান করতে হবে আল্লাহর জন্য
আল্লাহর জন্য দিতে হবে। কার জন্য? আল্লাহ জন্য। কার জন্য? এহতেসা’বান’ সাওয়াব আল্লাহর কাছ থেকে পাব। সমাজে একটু নাম ধাম হবে এটার জন্য দান করলে সে দান কবুল হবে, না কি। হবে না? আমি বলছিনা যে দেবেনা। তারা দান করুক। আপনারা দান করেন। হালাল জিনিস থেকে দান করবেন। কোন জিনিস থেকে? হালাল জিনিস থেকে। তাই বলে হালাল জিনিস থেকে দান করবেন আর হারামগুলো রেখে দেবেন নিজের জন্য তাও বলছি না। ঐ হারাম বিষয় থেকে তাওবা করে আসতে হবে। হারাম বিষয় থেকে কি করতে হবে? তওবা করতে হবে। হারামগুলো জমা না করে হিসাব করে ওগুলো আস্তে আস্তে বের করে দেন। বলবেন কেমন করে বের করবেন? নিজে খাবেন না, নিজে ব্যবহার করবেন না, নিজে ওর থেকে উপকৃত হবেন না। বরং সাধারণ মানুষকে সাওয়াবের নিয়তে না, ফেলে দেওয়ার নিয়তে, এমনি এমনি দিয়ে দেন। আল্লাহ্ তাআলা ইনশাআল্লাহ্ আপনাকে মাফ করে দেবেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। ইনশাআল্লাহ্ মাফ করে দেবেন। এর পরে দান করেন হালাল রুজি থেকে। আল্লাহ্ কবুল করে নেবেন। তো আল্লাহ্ তাআলা বলছেন, আল্লাযিনা ইউনফিকুনা ফির্ছ্ছারা ওয়ার্দ্দারা। সর্ব অবস্থায় যারা দান করে, গরীব মানুষ একবেলা খায় তো আরেক বেলা খায়না, সেখান থেকেও আল্লাহর অনেক বান্দা আছে নিজে এক প্লেট খায় কি তার ভাগে এক গ্লাস কি এক কাপ চাল জোটে, সে এক কাপ চাল থেকেও ওয়ান থার্ড বা ওয়ান ফোর্থ চাল জমায়। এভাবে জমিয়ে জমিয়েও এ মাহফিলে নিয়ে আসে। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। এইভাবে জমিয়ে জমিয়েও অনেকে টাকা দান করে। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। তো এই বান্দাকে আল্লাহ্ তাআলা ফেলে দেবেন? না। এ্যাঁহ্! এই বান্দাকে আল্লাহ্ তাআলা ফেলে দেবেন? না। ……আমি ঐ রাগের বহি প্রকাশ করবোনা। আমার সাথে জুলুম করা হলো, অন্যায় করা হলো, আমি উল্টোগুলো করবোনা। আমি গালাগালি করবোনা। খুন-খারাপি করবোনা। ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড করবোনা। বরং আমরা সবর করবো। কি করবো? কি করবো? সবর করবো।
ওয়ালা নাবলু ওয়ান্নাকুম বি-শাই ইম মিনাল খওফি ওয়াল জুয়ি ওয়া নাক্বসিম মিনাল আমওয়ালি ওয়াল আনফুছি ওয়াছ ছামার’ত ওয়াবাশ্মিরিছ ছ’বীরিন।
বান্দার হেফাজতকারী আল্লাহ
আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলেন আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো নানাভাবে। তোমাদেরকে ক্ষুধা দিয়ে, ভয় ভীতি দিয়ে, ভয় হবে দাঁড়ি-টুপি দেখলে মারবে, পাগড়ি দেখে ধরে মারবে, আল্লাহর কথা বললে ধরে মারবে। আরে তোমার হবে কি? তুমি আল্লাহর জমিনে আছো তো! এ জমিন কার? জমিন কার? জমিন কার? বান্দাকে পাহারা কে দেন? আল্লাহর বান্দাকে আল্লাহ্ পাহারা দেন। আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়ুম লা তাআ খুজুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম তুমি যদি আল্লাহর জন্য দাঁড়ি রেখে থাকো, তুমি যদি এখলাছের সাথে আল্লাহর কাজ করে থাকো তোমার হেফাজতকারী আল্লাহ্। আমার হেফাজতারী কে হবে? এ্যাহ? ওয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যূম তোমাকে যারা ভয় দেখাচ্ছে ওরাতো এদিক ওদিক করতে ঘুমিয়ে যাবে। কিন্তু তোমাকে যিনি পাহারা দিচ্ছেন তিনি কখনও ঘুমাবেন না। সুবহানাল্লাহ্ বলেন! কথা ঠিক না বেঠিক? তোমার শত্রু যতই শক্তিশালি হোক, এক সময় তার ক্লান্তি আসবে। কিন্তু তোমার পাহারাদার তাঁর কোন ক্লান্তি নাই। এই বিশ্বাস রাখতে হবে। কথা ঠিক না বেঠিক?
নিজেই তাবিজ হয়ে যাবেন
শুধু জ্বেন-ভূত ধরলে আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহু এটা গলায় ঝুলিয়ে রাখি, তাও আবার পড়তে চাই না। হুজুর পড়তে কষ্ট তাবিজ লিখে দেন গলায় ঝুলিয়ে রাখি। এর থেকে শয়তানী আর আছে? আবার ভুল বুঝবেন না। আমি বলছিনা তাবিজ এটা শয়তানের। তুই পড়তে পারিশ পড়বিনা কেন? ঔষধ খেতে পারলে স্যালাইন দেবে নাকি? তখনতো ডাক্তারকে বলবেন, স্যার যত পারেন ঔষধ দেন, স্যালাইন দিয়েন না। কথা ঠিক না বেঠিক। ইঞ্জেকশান দিয়েন। ঔষধ দেন খাই। কথা ঠিক না বেঠিক। তাহলে আপনি কোরআন পড়বেন, নিজেই তাবিজ হয়ে যাবেন, সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আবার তাবিজ কি সব? তাবিজ দিলেতো ও গলায় ঝুলাবেন পানি পড়ে দেবো খাবেন, তো আপনি সেই আয়াত নিজে পড়ুন, নিজের অন্তরে গাঁথুন, নিজের জিকিরে ফিকিরে সেটা গাঁথুন। নিজে দামী হবে জ্বেনতো দূরের কথা তার চৌদ্দ গোষ্ঠী আপনার কাছে আসবে না ইনশাআল্লাহ্। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। কথা ঠিক না বেঠিক?
নিজের ভাষাটাই বোঝে না
হ্যাঁ বেচারা পড়তে পারে না, লিখতে পারে না, বুঝতে পারে না, নিজের মাতৃভাষাই জানেনা, এরকম লোক আছে না? বাংলা ভাষাই বোঝেনা। তো আমি এক জায়গায় অনেক কিছু বলছিলাম। কথা বুঝলেন কিনা? তো বেচারা সাধারণ মানুষ বলছে, হুজুর বাংলা বলেন। কথা বুঝলেন কিনা? হুজুর আপনি বাংলা বলেন। অত ব্যাখ্যা ট্যাখ্যা করা বুঝবোনা, ষ্ট্রেইট কথা বলেন। কি করবো আর কি করবো না। কথা বুঝলেন না বুঝেন নি?….. ও বেচারা রাগ করে বলেনি। ওর ভাষাটাই ওরকম। কথা বুঝলেন কি না? তার মানেটা কি? ঐ বেচারা নিজের ভাষাটাই বুঝেনা। এরকমও লোক আছে। আল্লাহ্ তাআলা তাকেও ফেলে দেন নাই। শরিয়তের সুযোগ আছে, সে বেচারাটাকে আমরা নাউম্মিদ করবোনা। সে যেহেতু আল্লাহকে মহাব্বত করে, নিজে পড়তে পারেনা, একটু লিখে দিলে আল্লাহ্্ তাকে হেফাজত করবেন। কথা বুঝলেন না! এটা মন্দের ভালো। ঠ্যাং ভেঙ্গে গেছে। একটু লাঠি দিয়ে দিলেন কিছুদিনের জন্য যাতে করে ঠ্যাংটা ভালো হয়। এখন ভালো হলেও প্লাষ্টার করবেন নাকি? কথা বুঝলেন না বুঝেন নাই?
যখন কোন আছবাব থাকবে না
তো ভাইয়েরা যে কথা বলছিলাম আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহু ওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূম। আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আল্ হাইয়্যুল ক্বইয়্যুম সদা সর্বদা জীবিত শুধু জীবিত। হয়ে শুধু দর্শক নন, পরিচালনা কারি। আল ক্বাইয়্যূম। সকল কিছু পরিচালনা কে করেন? কে করেন? কে করেন? আল্লাহ। আল ক্বাইয়্যূম। লা তাআখুযুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম। আর এই পরিচালনা কর্মে তাঁর এ দেখা শোনার কাজে তাঁর এ বিষয়ে কখনও তিনি তন্দ্রাগ্রস্থ হন না, কখনও তিনি ঝিঁমানও না, ঘুমানও না। সুবহানাল্লাহ বলেন। লাহুমা ফিচ্ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ আসমান জমিনের সবকিছুই তো তাঁর জন্য। তাঁর হুকুমের উপর। কার হুকুমের উপর? আল্লাহ্। তো সেই আল্লাহর বান্দা আপনি হতে পারবেন না? যখন আপনার আর কোন আছবাব থাকবে না।
আল্লাহর রাসূল তরবারী নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু এমন একটা সময় যখন তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করার প্রসেস নাই। আল্লাহ্ তাআলা ওহী করলেন ধুলো উঠিয়ে উড়িয়ে দাও। তাদের লেগেছে না লাগে নাই? লেগেছে না লাগে নাই? লেগেছে না লাগে নাই। তার মানে এটা না যে আরবী বুঝা যায়না। মাসতাত’তুম মিন কুউওয়া এটাও হুকুম। ওটাই বিশ্বাস করতে হবে। ঈমানদার দুটোই বিশ্বাস করে যে আমার যতটুক সাধ্য আছে আমি করবো। কিন্তু আমার সাধ্য বন্ধ হয়ে গেলেও তো আমার আল্লাহর তো অসাধ্য কিছুই নাই। এ্যাঁহ্! আমার সাধ্য না থাকলেও আল্লাহর সাধ্য আছে না নাই? আছে না নাই। আমি সাঁতরাতে পারবো, সাঁতরাবো। সাঁতরাতে সাঁতরাতে ক্লান্ত হয়ে গেলে আমি যখন অজ্ঞান হয়ে গেলাম, আর সাঁতরাতে পারলাম না, তখন এ নদীর উপকুলে আমাকে কে ফেলে রাখলো? এ্যাঁহ! আমিতো নদীর গর্ভে ডুবে মরে যেতে পারতাম। আমাকে তো মাছ খেয়ে ফেলতে পারতো, আমাকে তো হিংস্র পশু খেয়ে ফেলতে পারতো। কিন্তু আল্লাহর বান্দা সাঁতরাতে সাঁতরাতে ক্লান্ত হয়ে গেলো, সেন্সলেছ হয়ে গেলো, তাকে পানিতে ঢেউয়ে ঢেউয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে এসে রাখা হলো। সূর্য উঠলো। পানি চলে গেল। হঠাৎ সে জীবিত হয়ে গেলো। ঘটে, না ঘটে না? হয়, না হয় না? হয় না হয় না?
মাছের পেট থেকে ইউনুস (আ:)-এর ডাক আল্লাহ শুনেছেন
হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাতু আসলাম সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন। সেখানে সাঁতরিয়েও লাভ নেই। এমনি ভেসে থাকলেও উপাই নেই। সাঁতরিয়ে যাবেন কোথায়? ডুবে গেলেন। আল্লাহ্ তাআলা ওহী করে দিলেন। মাছ গিলে ফেললো। সেই মাছের পেটে ইউনুছ (আ:)-কে আল্লাহ্ তাআলা রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন না করেন নাই। করেছেন না করেন নাই। মাছের পেট থেকে ইউনুছ (আ:) আল্লাহকে ডেকেছেন। আল্লাহ্ শুনেছেন না শুনেন নাই? কোন কোম্পানীর সীম কার্ড ছিল? কোন কোম্পানীর মোবাইল দিয়ে সীম কার্ড দিয়ে ডেকেছেন? কোন কোম্পানীর? ওহী কোম্পানীর, নবুওয়াতের কোম্পানীর লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা হে আল্লাহ্ আপনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এই সীম কার্ড এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করেছেন। তাঁর কথা সাথে সাথে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে গেছে। আল্লাহ্ তাআলা বলছেন, মুফাস্সেররা বলছেন ইউনুসের দোয়া শেষ করতে সময় হয়নি, আল্লাহ তাআলার তাকে নাজাত দিতেও দেরি হয়নি।
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ্জালিমিন, ফা নাজ্জাইনাহু মিনাল গম্মে ওয়া কাযালিকা নুনযিল মুমিনিন। ইউনুছ (আ.) কী বললেন, আল্লাহ্ বলছেন। কেউ তার কথা শুনেনা। সেখান থেকে তিনি ডাকছেন লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা, হে আল্লাহ্, আপনি ছাড়া ইলাহ্ নেই আপনি ছাড়া ইলাহ নেই, আমি গোনাহগার বান্দা, আমি ভুল করে ফেলেছি। সুবহানাল্লাহ। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। সুবহানাল্লাহ বলেন। ইউনুছ (আ.) বলছেন, হে আল্লাহ্, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আমি গোনাহ্গার বান্দা। আর আমাদের মুত্তাকী পরহেজগার যিনি হলেন দুনিয়ার যত লকব, সব লকব তিনি নিজের জন্য লাগাবেন, আর আল্লাহর দরবারে নিজের কথা না বলে, আল্লাহর কথা না বলে, অমুক অমুক অমুক অমুক অমুক অমুক তাদের দোহাই দিবেন। আল্লাহ বলছেন আমাকে ডাকবে। অত ভয় কেন? তোর আল্লাহ্ তোকে দেখেনা? তোর আল্লাহ্ তোর কথা শোনেনা? তোমার অবস্থা কি তোমার আল্লাহ্ জানেন না? তিনি কি আলিম নন? তিনি কি বাসির নন? তিনি কি সামিঅন নন? উদউ-নি আসতাজিব লাকুম কোরআন সেখানে বারবার সাক্ষ্য দিচ্ছে, যেখানে আল্লাহর রাসূলের হাদিস বার বার সাক্ষ্য দিচ্ছে, কেন সেখানে অপব্যাখা করবে? কেন সেখানে আরেক ব্যাখ্যা করবে? এটা কি সোজা হওয়ার প্রমাণ? এটা কি রাসূলের উম্মত হওয়ার প্রমাণ? আল্লাহ তাআলা হেফাজত করুন। সকলে বলি আমিন।
আল্লাহ যে বান্দার কথা ফেলেন না
আপনার আমার বালা-মছিবত হলে কাকে ডাকবো? এ্যাঁহ, কাকে ডাকবেন? কাকে ডাকবেন? আল্লাহ্ তাআলা তুমি ছাড়া কেউ নেই। আমি গোনাহ্গার। আমি কি? আমি গোনাহগার। আমি বদকার খাতাকার। আমাকে মাফ করে দেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন, এই হালত, আজিজে এনকেছারী যখন আসবে, তখন ঐ বান্দা মুছতাজাবুদ্দাওয়াহ্ হয়ে যাবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কিছু বান্দা আছে, যেই বান্দা আল্লাহর কাছে যদি কছম কাটে, আল্লাহ্ তাআলা ঐ বান্দার কথা ফেলেন না। ঐ বান্দার কথা ফেলেন না আল্লাহ্। ইন্না মিন ইবাদিল্লাহি লাও আক্বসামা আলাল্লাহি লা আবাররহু। সেই বান্দাটা কেমন? কোথাকার পীর সাহেব? কোথাকার আলেম সাহেব? কোথাকার সাইনবোর্ড ধারী? কোথাকার মোহাদ্দিস? কোথাকার মুফাচ্ছের? কোথাকার চিন্তাবিদ? আল্লাহর রসূল বলছেন কেউ তাকে চেনেনা, কেউ তাকে দাম দেয়না, কেউ তাকে পোছেনা। আর সেই লোক আল্লাহর কাছে বললে আল্লাহ্ তাকে ফেরান না। সুবহানাল্লাহ্ বলেন।
কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না
তার মানেটা কি বুঝলেন? অনেক বুঝতে হবে। এর মানে হলো : আল্লাহ্তাআলার কোন বান্দার সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবেনা। আপনার আমার সমাজে ঐ রকম মানুষেরা আছেন। আপনি খারাপ ব্যবহার করলেন। আমি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করলাম। সেতো অভিশাপ দেবেনা। কিন্তু অন্তরে ব্যথা পেলো। ঐ ব্যথাই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যাবে। আপনার জন্য খারাপ পরিণতি হয়ে যাবে। এজন্য কোন মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করতে নেই। কোন মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে নেই। কথা ঠিক না বেঠিক? কথা ঠিক না বেঠিক? এই মানুষের মধ্যে এই সবার মধ্যে এত বুড়োর মধ্যে আমি আলেম, আমি পীর সাহেব ও আমার মুরিদ মুরিদের বাচ্চা মুরিদ, খলিফার ছেলে খলিফা, আরে যাইহোক না কেন, সে যে আল্লাহর কত মুকাররব জানি না। জানি নাকি? এজন্য মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে।
অন্যকে সম্মান দিলে আপনিও সম্মানিত হবেন
মানুষকে সম্মান দিতে হবে। একরামুল মুসলিমিন। ঈমানদার মুসলমানকে সম্মান দিতে হবে। সাহাবারা অন্যকে সম্মান দিতেন। আর আমরা মনে করি সবাই আমাকে সম্মান দিক। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। আমরা প্রত্যেকেই মনে করি আমরা কেন সম্মান দেবো? সে আমাকে সম্মান দিক। তার মানে কেউ সম্মান পাবোনা। লজিক হলো প্রত্যেকে প্রত্যেককে সম্মান দিলে প্রত্যেকেই সম্মানিত হবেন। বাস্তবতাটা কি? আমি আপনাকে সম্মান দেবো। আপনি আমাকে সম্মান দেবেন। আবার ঐ হাজি সাহেবের গল্পের মত না। একজনের হাজি সাহেব সাজার খুব ইচ্ছে। এখন কি করবে? দু বন্ধু দুজনকে বলছে তুই আমাকে হাজি সাহেব বলবি, আর আমি তোকে হাজি সাহেব বলবো। কথা বুঝলেন না বুঝেন নাই? দুজন দুজনকেই হাজি সাহেব বলে ডাকে। এখন সবাই মনে করে সত্যই মনে হয় তারা দুজন হাজি সাহেব। কথা বুঝলেন না বুঝেন নাই?
আমাদের নামে লকব ব্যবহার করবেন না
তো আমরাও ঐ রকম এবাদত বন্দেগী না করে মুরীদদের শিখিয়ে দিই যে, তোমরাও কুতুব হবে, আমরাও কুতুব হবো। তোমরাও মুজাদ্দেদ হবে আমরাও মুজাদ্দেদ হবো। তোমরা ওলীকুল শিরোমণি, আমরাও ওলীকুল শিরোমণি। শয়তান বুদ্ধি দিয়ে দিয়েছে। নাউজুবিল্লাহ্ বলেন। তুমি হাদীস পড়েছো মুহাদ্দেস হতে পারো, তাফসীর পড়েছো মুফাস্সির হতে পারো, কোরআন হিফ্জ করেছো হাফেজ হতে পারো, ক্বারীয়ানা পাস করেছো ক্বারী হতে পারো, কিন্তু তুমি নামায পড়ে মুত্তাকী হয়ে গেছো এ সার্টিফিকেট তোমাকে কে দিলো? তুমি আল্লাহ্কে ডেকে আল্লাহওয়ালা হয়ে গেছো এ সার্টিফিকেট তোমাকে কে দিলো? ফালা তুজাক্কু আনফুছাকুম হুয়া আ’লামু বিমানিত্তাক্বা।
আমাদের যারা আছেন সকলকে আমি নছিহত করি সবাইতো আর শুনবেন না, তবে আল্লাহর জন্য বলি সকলে শুনুন। ফুরফুরাকে যারা মুহাব্বাত করেন এবং সকলকে আমি আহ্বান করি, আমাদের পোষ্টার, হ্যান্ডবিলে বা আমাদের কোন বিষয়ে এমন কোন লকব দেবেন না। আমরা কোরআন হাদীস পড়েছি মওলানা বলতে পারেন। তবে হাজি সাহেব, নামাযী, অলীকুল শিরোমণি, কুতুবুল আকতাব, মুজাদ্দেদে যামান এই ধরনের কোন শব্দ আমাদের জন্য ব্যবহার করবেন না। আমি অনুরোধ করি খবরদার ব্যবহার করবেন না। যদি অন্যরা রাগ করে তো সেটা তাদের ব্যাপার। মেহেরবানী করে আমাদের ক্ষেত্রে এরকম ব্যবহার করবেন না। আমাদের নাম আছে নাম বলবেন, মাদরাসায় পড়েছি মাওলানা বলবেন। ব্যস্ শেষ। একটা জায়গায় বসে আছি সেটা ফুরফুরার গদী সেটা বলবেন। তার মানে এটা না যে আমি পীর সাহেব হয়েছি একবারে আরশে মুয়াল্লায় পৌঁছে গেছি। নাউজুবিল্লাহ্ বলেন। তার মানে এটা না আমরা আল্লাহর পথে নেই সেটা বলছি না। অহংকার করবো না। আল্লাহ্ তাআলা নেয়ামত দান করেছেন। চেষ্টা করছি আমরা সঠিকভাবে থাকার জন্য। সকলে আলহামদুলিল্লাহ্ বলেন। আপনারা দোয়া করবেন আল্লাহ্ আমাদের হেফাজত করেন। আমরা যা বলি তাই করার তৌফিক আতা করেন। সকলে বলুন আমিন।
লা ইউকাল্লিফুল্লাহু ইল্লা উস আহা সাধ্যের বাহিরে তো কেউ কিছু করবে না, আমার ঘরে আমি বলতে পারি, আপনার ঘরে আপনি বলতে পারেন, আরেক জনতো আর চড়াও হতে পারে না। ডাকতে পারেন, দাওয়াত দিতে পারেন, না শুনলে আর কি করা যেতে পারে। কিছু করা যাবে? কিন্তু আমরা আমাদের কথা বলে যাবো। আল্লাহর জন্য বলবো। কার জন্য বলবো? আল্লাহর জন্য। আমরা কাউকে ছোট করার জন্য না। কাউকে বড় করার জন্য না। আমাদের উদ্দেশ্য সকল ঈমানদাররাই যে আল্লাহড় কাছে বড় হয়ে যায়। সকলে বলি সুবহানাল্লাহ্! তো ভাইয়েরা এমন কোন লকব এমন কোন বিষয় ব্যবহার করবেন না যেটাতে অহংকার হয় তাকাব্বুর হয়। তার মানে এমন ন্যাড়া করে ফেলবেন না যে ওর কোন অস্তিত্বই থাকেনা। সেটা বলছিনা। তাহলে তো মানুষ চিনবে না। পরিচয় তো লাগবে। অমুকের পুত্র অমুক,ফুরফুরার হুজুরের ছেলে। ফুরফুরার হুজুরের ছেলে এটাতো অহংকারের কোন ব্যাপার না। ওর বাবা হুজুর, ও তার ছেলে, এটা অহংকার হলো না। এটা নেয়ামত হতে পারে যদি এর মর্যাদা দেন। কথা ঠিক না বেঠিক? ঠিক। হ্যাঁ অহংকার হবে যদি আমরা ওখানে ব্যবহার করি অলীকুল শিরোমণি, জামানার শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দেদ হেনতেন হাবিজাবি কথা কেউ বলবেন না। কথা ঠিক না বেঠিক? ঠিক। শিখে নেন। সবকিছু শিখে নেন। এরপরে পোষ্টার, হ্যান্ডবিলে আলেম-ওলামাদের ক্ষেত্রে বক্তা শব্দটা ওভাবে ব্যবহার করা ঠিক না। নসিহত করবেন, ওয়াজ করবেন ইত্যাদি এইভাবে শব্দগুলো লিখবেন। তশরীফ রাখবেন, বিশিষ্ট মেহমান এভাবে লিখবেন। প্রথম বক্তা, দ্বিতীয় বক্তা, তৃতীয় বক্তা এটা ভাষাগত দিক থেকে অনেক দুর্বল আর শরিয়তের নিয়মে এটা পড়ে না। হ্যাঁ জাগতিক বক্তা আছে, দলীয় বক্তাও তক্তাগীরি করবে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। ওদের ক্ষেত্রে এক, দুই, তিন, দশ, পনের বক্তা-তক্তা বানান তাতে দোষ নাই। কিন্তু আলেম-ওলামার ক্ষেত্রে এরকম লিখলে ভাষাগত ত্রুটি হয়। কথা বুঝলেন না বুঝেন নাই? আল্লাহ্ তাআলা আমাদের বুঝার তাওফিক আতা করেন। সকলে বলুন আমিন!
ওয়াজ মাহফিল হবে আল্লাহর জন্য
এরপরে ওয়াজ মাহফিলগুলোকে আল্লাহ্র জন্য প্রতিষ্ঠা করবেন। যত ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করবেন এখলাসের সহিত করবেন। আমার মাহফিল হতে হবে, আমার বাড়িতে হতে হবে, আমার মাঠে হতে হবে, আমার নাম ফুটবে, এই রকম নিয়তে যদি ওয়াজ মাহফিল করেন, কিছু আওয়াজ হবে, লোকজন শুনে যাবে, হেদায়েত আল্লাহ্ করবেন ঠিকই। কিন্তু ঐ মাহফিল থেকে হেদায়েতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। নাউজুবিল্লাহ্ বলেন। এখলাসের সহিত করতে হবে। আল্লাহর কথা আল্লাহর জন্য বললে আল্লাহ্ সেটা কবুল করেন। আল্লাহর কথা নিজের জন্য বললে আল্লাহর কি ঠেকা পড়ে গেছে নাকি তোমার সাথে পার্টনারশীপ করতে হবে? অ্যাহ্! তোমাকে কি আল্লাহ্র পার্টনার বানাতে হবে? তুমি তোমার নামে পূজো করবে আবার আল্লাহ্র কথা বলবে তুমি আল্লাহর পার্টনার অংশীদার নাকি? নাকি বলবেন আল্লাহ্ আপনার নামতো বলবো আপনার নাম বললে আমারটাও যেন হয়ে যায়। নাকি বলেন। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। তুমি আল্লাহর কথা আল্লাহর জন্য বলবে। কার জন্য বলবে? কার জন্য বলবে? আল্লাহর জন্য।
ওয়াজ মাহফিল ব্যবসার উদ্দেশ্যে করবেন না। ব্যবসার জন্য খানা পিনার জন্য ওয়াজ মাহফিল করা হয় না। বাড়ীতে একটা ইসালে সাওয়াবের নিয়ম করেছেন ধান, চাল, ডাল হবে আমার ইনকাম হবে। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। ওরকম কাজ করবেন না। খবরদার! ফুরফুরার পীর আবু বকর সিদ্দিক (রহ:) ব্যবসার জন্য ইসালে সাওয়াব মাহফিল কায়েম করেননি। তাঁর মুরিদরাও করতে পারে না। যদি এত সমস্যা হয় প্রয়োজনে সব খানাপিনা বন্ধ করে দিবো। প্রয়োজনে সব, সব বন্ধ হয়ে যাবে। ওয়াজ শুনতে এসেছেন শুনবেন, নিজের খেয়ে চলে যাবেন। আমরা কারো ধার ধারিনা। আমরা ব্যবসা করি না। আল্লাহ্ তাআলা হেদায়েত করুন সকলে বলুন আমিন! আমাদেরকেও ঈমানের উপর দৃঢ় থাকার তৌফিক দান করুন। সকলে বলুন আমিন! ওয়াজ মাহফিল হবে আল্লাহর জন্য। কার জন্য? কার জন্য? কার জন্য? আল্লাহর জন্য। আপনারাও আসবেন কোরআন হাদীস শোনার জন্য।
অত্যাধুনিক ফুঁ
বালা-মসিবত হয় দোয়া, ঝাড়-ফুঁক নেবেন কিন্তু ওটাই মকসুদ করে ফেলবেন না। পীর-মুরীদি মানে ফুঁক দেওয়া না। ফুঁ দিতে দিতে গলা শুকিয়ে গেছে। এখন মনে করছি সিলিন্ডার পুরে রেখে দিবো, যে আসবে ফুস করে দিয়ে দিবো, কি বলেন ভাই, অত্যাধুনিক ফুঁ। অ্যাঁহ্! আমাদের এক চাচাজান ছিলেন আল্লাহ্ জান্নাত নছীব করেন সকলে বলুন আমিন! হযরত মাও: আইয়ুব সাহেব, আমি গীবত করছিনা, রসিকতা করছি। (আল্লাহ্তাআলা তাকে জান্নাত নছীব করেন)। তো একসময় তার কোন এক ব্যাগে মোটা লম্বা প্লাষ্টিকের পাইপ দেখা গেলো। তো আমরা বলছি, চাচাজি এই পাইপ দিয়ে কি হয়? উনি বললেন, ফুঁ দিই। আমরা বললাম, পাইপ দিয়ে ফুঁ দেন মানে? এখন উনি পরহেজগার মানুষ তো, অনেক মুরিদ আসেন ফুঁ নেয়ার জন্য, আর বেগানা মহিলার মাথার কাপড় উঠিয়ে তো ফুঁ দেয়া যায় না, তো উনি করতেন কি পর্দা-দরজার ফাঁক দিয়ে পাইপ দিয়ে তিনি এখান থেকে ফুঁক দিতেন। কথা বুঝলেন কিনা? আলহামদুলিল্লাহ্! যাই হোক মা-বোনদের এলাজের জন্য, চিকিৎসার জন্য, অনেক পীর সাহেবরা মা-বোনদের সামনে বসিয়ে ফুঁ দেন। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। নাউযুবিল্লাহ্ বলেন। ফুঁয়ের প্রয়োজন নাই। ফুঁয়ের প্রয়োজন নাই। দোআ করে দেবেন। আল্লাহ্ তাআলা ভালো করে দেবেন। সকলে বলুন আমিন!
পর্দার ব্যাপারে সতর্কতা
যদি একান্তই কথা বলার প্রয়োজন হয়, সম্পূর্ণ শরিয়ত অনুযায়ী ঢেকে কথা বলতে হবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে মহিলা সাহাবিরা আসতেন। কিন্তু তাদের সাথে মাহরাম থাকতো। একা একি গল্প করতেন না। আর আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একা-একি তাদের সাথে বসতেন না। বরং আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতেকাফ অবস্থায় আছেন। এ অবস্থায় আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তাঁর এক স্ত্রী এসেছেন দেখা করার জন্য। রাতের বেলা অন্ধকারে, তো দেখা হয়ে যাওয়ার পরে এখন তিনি একা একা যাবেন, নির্জন এলাকা, এজন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওজরের জন্য সেই উম্মুল মোমেনিনকে এগিয়ে দিতে গেলেন। লোকালয়ের কাছে এগিয়ে দিতে গেলেন। যাতে ভয়-ভীতি না লাগে। তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এগিয়ে দিচ্ছিলেন অন্ধকার ছিলো। এ অবস্থায় কোন এক সাহাবী ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ঐ সাহাবী রাসূলকে স্ত্রীসহ দেখেছেন। আবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ঐ সাহাবীকে দেখেছিলেন কথা বুঝলেন না? তো আল্লাহর রাসূল বলছেন, ঐ সাহাবাকে নাম ধরে ডেকে যে, হে অমুক! ইনি হলেন আমার স্ত্রী অমুক। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। উনি কে? উনি আমার স্ত্রী অমুক।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এ কথা বলেছেন তখন ঐ সাহাবী আল্লাহু আকবার বলে বলছেন যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি কি আপনার প্রতি সন্দেহ করবো? আল্লাহর রাসূল বলছেন যে, না তুমি হয়তো করবেনা, কিন্তু আমি তোমাকে সতর্ক করে দিলাম, হয়তো তুমি সন্দেহ করে বসবে আর তোমার ঈমানটা বরবাদ হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি! তো আল্লাহর রাসূলও তিনি তাঁর অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে, আমি কোন বেগানা মহিলার সাথে একা-একি ঘুরছি না। তার মানে কি? আমার জন্য যদি এটা জায়েজ হতো তো আল্লাহর নবীর জন্য সেটা আগে জায়েজ হতো। সাহাবায়ে কেরাম জানতেন আল্লাহর রাসূলের জন্য বেগানা মহিলার সাথে বেড়ানো নেই। তো আল্লাহর রাসূলের জন্যও যেটা শরিয়তে বৈধ নেই। সাহাবারা জানেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেগানা মহিলার সাথে ঘুরেন না। আল্লাহর রাসূল ক্লিয়ার করে দিচ্ছেন আর তুমি পীর সাহেবগীরি করতে গিয়ে মহিলা মুরিদদের সামনে বসিয়ে রেখে তাওবা-এসতেগফার পড়াচ্ছো? তাওবা হচ্ছে ওটা ? তাওবা হচ্ছে নাকি শয়তানী হচ্ছে? যদি তাওবা এস্তেগফার বায়াতের প্রয়োজন হয় তাহলে মা-বোনরা পর্দার আড়ালে থাকবেন। সেটা জায়েজ আছে। যদি একান্তই পর্দা না থাকে, যদি পুরো শরীর ঢেকে রাখেন, একসাথে অনেক মহিলা থাকেন বা তাদের অভিভাবক থাকেন এসব ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, পীর মাশায়েখদের কাছে যেতে পারবেন। কথা ঠিক না বেঠিক? শরিয়তের নিয়মগুলো শিখে নেবেন।
সহশিক্ষা
এরপরে মাদরাসা হোক আর যাইহোক সহশিক্ষা, একই ঘরে যুবক যুবতীরা পড়বে, এরকম শরিয়তের কোন নিয়ম নাই। বরং এটা হারাম হবে। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা এটাও যেমন কথা আবার আল্লাহতাআলা বলেছেন, ওয়ামাই ইত্তাকিল্লাহা ইয়াজ আল্লাহু মাখরজা ওয়া ইয়ারযুকুহু মিন হাইছু লা ইয়াহতাসিব। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আপনি আল্লাহ্কে ভয় করুন। আপনার রাস্তা আল্লাহ্তাআলা দেখিয়ে দেবেন। সুবহানাল্লাহ্! একই মাদরাসা বা একই স্কুলে ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী। ২০০ জন ছাত্র আছে, ৩০০ জন ছাত্রী আছে। তার মানে কি হলো? এখানে পুরুষ শিক্ষার্থীও আছে, আবার মহিলা শিক্ষার্থীও আছে। তো আপনার এলাকায় এই যত স্কুল যত মাদরাসা আছে সবগুলো কি সরকার টাকা দিয়ে কিনে মাদরাসা মসজিদ করেছে? গভর্ণমেন্টের পক্ষ থেকে হয়েছে? শতকরা কেন, হাজারে কেন, নয় শত নিরানব্বইটা সাধারণ মানুষের করা। তারা জায়গা দিয়েছেন, তারা ঘর তৈরী করে দিয়েছেন, তারা দশটা ঘর করে দিয়েছেন। এরপরে গভর্ণমেন্ট অনুমোদন হয়েছে। হয়তো দু’চারটে পাঁচটে ঘর করে দিয়েছে। কথা ঠিক না বেঠিক? তাহলে আপনারা চেষ্টা করলে পারেন না পারেননা? যে এলাকায় যে মাদ্রাসায় ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে ঐ এলাকার যারা ভাইয়েরা আছেন আপনারা যুক্তি পরামর্শ করে ঐ এলাকার পাশেই কাছাকাছি কোন জায়গায় এমন জায়গা দেন যেখানে বালিকা শাখা করা হবে। ১০০ ভাগ মেয়েরা সেখানে পড়বে। ১০০ ভাগ মেয়েরা পড়লে সেখানে ১০০ ভাগ মহিলা শিক্ষিকা নিয়োগ দেন। তাহলে যেই মহিলারা পাশ করবে সেই মহিলাদের কর্মসংস্থান হবে। না যায়েজ হবে? না যায়েজ হবে? না যায়েজ হবে? না। আল্লাহ্ দ্বীন পালন করা সম্ভব না সম্ভব না? আল্লাহ দ্বীন পালন করে সব করা সম্ভব। আল-হামদুলিল্লাহ্ বলেন।
মা বোনদের মর্যাদা
প্রয়োজনে মহিলারা পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে মহিলারা উপদেষ্ঠা হতে পারেন। উম্মুল মো’মেনিন হযরত আয়েশা (রা:) খলিফাতুল মোমেনিন ওমর (রা:)-কে, আলী (রা:)-কে তিনি পরামর্শ দিয়ে পাঠালেন যে, তোমরা এটা এটা কর। তার মানে রাস্তায় গিয়ে মিছিল করেছেন নাকি? সঙ্গি সাথীদেরকে নিয়ে কি মিছিল করেছিলেন নাকি? না না। মা-বোনদের মর্যাদাতো আল্লাহতাআলা কম দেন নাই। তার যোগ্যতা অনুযায়ী, তাদের মেধা অনুযায়ী,শরিয়ত অনুযায়ী করেন । তাতে কোন বাধা নাই। কিন্তু তার মানে এটা না যে তারাও রাস্তা-ঘাটে বের হয়ে আপনার মত সমান অধিকারে চলবে। তাদের অধিকার যেখানে প্রয়োজন আল্লাহ্ তাআলা সেখানে পুর্ণাঙ্গভাবে দান করেছেন। সকলে বলি আলহামদুলিল্লাহ্!
বান্দার এলান আল্লাহ করেন
তো যাই হোক বেশী আলোচনা করে আমি আপনাদের বিরক্ত করবো না। তো মুখতাছার যে কথাগুলো বললাম, বাঁকীগুলো আবার সামনে শেষ করবো ইনশা আল্লাহ্। সংক্ষিপ্ত আজকের কথা হলো আমরা মুত্তাকি হবো। রাজি আছি সকলে ইনশা আল্লাহ্? প্রথম শর্ত হলো আমরা যা গুনাহ করেছি আল্লাহ্ কাছে তাওবা করবো। রাজি আছি সকলে? তাওবা করে হারাম তরক করবো। ফরজ, ওয়াজিবগুলো যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবো। এর সাথে সাথে নফলগুলো সাধ্য অনুযায়ী পালন করবো। আর যে নফল সাধ্য অনুযায়ী পালন করে আল্লাহ্তাআলা ঐ বান্দাকে ভালবেসে ফেলেন। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। তবে ফরজ বাদ দিয়ে না। ফরজের সাথে যখন বাড়তি এবাদাত করা হয় তখন সে লেটার মার্কে ফার্ষ্ট ক্লাস ফার্ষ্ট হয়ে যায়। মূল বিষয়ে তো পাশ করেই, যখন ফোর্থ বিষয়ে যখন পূর্ণাঙ্গ নম্বর পায় তখন তার রেজাল্ট গোল্ডেন এ-প্লাস হয়ে যায়, নাকি বলেন! তো ঐ রকম ঈমানদার মুত্তিকীরা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ঠিকমত আদায় করে যখন নফল আমল বাড়াতে থাকে, সে তখন আল্লাহ্ এতই নৈকট্যতা অর্জন করে যে আল্লাহ্ তাআলা ফেরেস্তাদেরকে বলে দেন যে, অমুক বান্দা আমার নৈকট্যের জন্য মেহনত করে। আমি তাকে ভালবেসে ফেললাম। হে ফেরেস্তারা তোমরা ঐ বান্দা সম্পর্কে সকলকে জানিয়ে দাও যে আল্লাহ্ তাকে ভালবাসে। তোমরাও তাকে ভালবাসো। তো এলান কে করে? ঐ ব্যক্তির এলান কে করে? ঐ ব্যক্তির এলান কে করে? আল্লাহ্ বান্দার এলান আল্লাহ্ করেন। তাঁকে বলা লাগেনা। সুবহানাল্লাহ্ বলেন। আর ও বেচারা যদি আল্লাহ্ কথা বাদ দিয়ে নিজের কথা বলে বেড়ায় তাহলে আল্লাহ্ কি ওর এলান করবে নাকি? আল্লাহ্তাআলা আমাদেরকে হেদায়েত করুন সকলে বলি আমিন!! তো এর সাথে সাথে তাকওয়ার একটা বিষয় আমি বলেছি। পালন করবেন।
দীনের কাজে সহযোগিতা করবেন
আর যেখানে থাকেন দান খয়রাত বেশি বেশি করে করবেন ইনশাআল্লাহ্। রাজি আছি সকলে, ইনশাআল্লাহ্? তো পাকশীর এই ওয়াজ মাহফিল দীর্ঘ দিন ধরে হয়ে আসছে, আপনারা সহযোগিতা করছেন। এই বিশাল প্যান্ডেল, লাইট, মাইক, এই মসজিদ তিন-চারতলা করা কি প্রয়োজন ছিলো, কি প্রয়োজন ছিলো? আপনারা বলেন! আল্লাহ্ মাফ করুন, আল্লাহ্তাআলা আবহাওয়া ভালো রেখেছেন। একান্তই যদি অসুবিধা হয়ে যায় আপনারা তো দাঁড়িয়ে-বসে তো এক জায়গায় আশ্রয় নিতে পারবেন। কথা ঠিক না বেঠিক? এরপরে আমাদের নিয়মিত তালিম হয়। শুরু হয়েছে আরও হবে। ৭ দিন, ১৫ দিন, ২১ দিনের কোর্স হবে।
আপনারা বাড়ীতে থাকলে খাওয়া-দাওয়া করতেন না ভাই? বাড়ীতে থাকলে চাল-ডাল খান না? তরকারী খান না? তো আপনাদের কাছে বাড়তি কোন টাকা নেবোনা। দরকার হলে মাপেন এক সপ্তাহ যে, আমি সপ্তাহে কতটুকু চাল খেলাম, ডাল-তারকারী খেলাম। ঐ পরিমাণ চাল-ডাল প্যাকেট করে নিয়ে আসবেন। আমার এখানে বাবুর্চির টাকা দিতে হবে না, মাওলানা সাহেবের টাকা দিতে হবে না। আপনি ওগুলো জমা দিয়ে দেবেন, আপনাকেও রাঁধতে হবে না। বাবুর্চিরা রেঁধে বেড়ে দেবে। আপনি খাবেন, থাকবেন। জিকির ফিকির করবেন। তালিম নেবেন শিখবেন। এক সপ্তাহ, দশদিন, পনের দিন, একুশ দিন থেকে কোরআন, মাসাআলা-মাসাঈল শিখে মোটামুটি একটা পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন। সকলে বলি আলহামদুলিল্লাহ্। প্রস্তাবটা আপনাদের পছন্দ হলো? আলহামদুলিল্লাহ্। আমরা আপনাদেরকে জানাবো। কোন সময়টায় হবে আমরা জানাবো। আলহামদুলিল্লাহ্ গত রমজানে হয়েছে। রমজানের ৬ দিন আগে শুরু হয়ে ১৫ ই রমজান মোট ২১ দিন তালীম হয়েছে। অনেক ভাইয়েরা এসেছিলেন। বেশ কিছু ভাইয়েরা কোরআনের অক্ষরগুলো ঠিকমত চিনতেন না। তারাও আলহামদুলিল্লাহ্্ আস্তে আস্তে মোটামুটি রিডিং পড়তে শিখে গেছেন। তারা অনেকেই নামাযের মাসাআলা-মাসাইল জানতেন না। তারাও কোনটা ফরজ-ওয়াজিব, কিছু জেনে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্ বলেন। আর আমরা এখানে ২০০ জনের মত লোক রাখতে পারবো যারা তালীম নিতে পারবেন। আলহামদুলিল্লাহ্ বলেন।
আমরা এলান করবো আপনারা আসবেন, পাকশীতে ও দারুস্সালামে। ১৫ দিনের জন্য, ১ সপ্তাহের জন্য। ঐভাবে যদি চাল-ডাল বয়ে আনতে কষ্ট হয় তাহলে ঐ পরিমাণ টাকা নিয়ে আসবেন। পাঁচ কেজি চাল হলে পাঁচ কেজি চালের টাকা নিয়ে আসবেন। তরকারীর জন্য কিছু টাকা নিয়ে আসবেন। আমাদের এখানে জমা দেবেন। বাজার-সদাই কষ্ট করে করতে হবে না। আপনারা বাসায় যা খেতেন, ঘরে যা খেতেন এখানে এনে তা খাবেন। থাকবেন। কোন এন্ট্রি ফি লাগবে না, উপরন্তু কিছু এলেম শিখে যাবেন। আল্লাহ্তা’আলা সকলকে তৌফিক দেন সকলে বলুন আমিন! আমার কথাটা বুঝতে পারছেন আপনারা? প্রস্তাবটা বুঝতে পেরেছেন তো? আপনারা আসবেন।
আমাদের পাকশীতে কাজ চলছে। মাদরাসা আলহামদুলিল্লাহ্ তিনতলা হয়ে গেছে। এটা চার তলার ফাউন্ডেশান আছে। চার তলা হবে। তিন তলা কমপ্লিট করার পর করবো। এরপর আমাদের উদ্যোগ আছে আমরা এই ষ্টেজের এখান থেকে টিনশেড করবো ইনশাআল্লাহ্। যাতে করে সর্বসময় তালীম হয়। বর্ষার সময়ও যাতে আপনারা তালীমে শরিক হতে পারেন কষ্ট ছাড়া। আল্লাহ্ তাআলা তাওফিক দেন সকলে বলি আমিন!আমি চেষ্টা করবো। আপনাদের সহযোগীতা হলে সম্ভব হবে। এখানে তো টিনশেড হবে ইনশাআল্লাহ্। এরপর যদি আপনাদের জায়গা সংকুলান না হয় তাহলে প্যান্ডেলগুলো এক্সটেনশন করে মাঠে নিয়ে নেবো ইনশাআল্লাহ্। এরপর যদি জায়গা না হয় ইনশাআল্লাহ্ ওপেন ফ্লোর করবো কয়েক তলা করবো ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহর তাওফিক দেন সকলে বলুন আমিন! তবে আপনারা আল্লাহর জন্য আসবেন। কিসের জন্য? আল্লাহর জন্য। কার জন্য? আল্লাহ্ জন্য। দীন শিক্ষার জন্য, ইসলামের উপর দৃঢ় থাকার জন্য। তো পাকশী, দারুস্সালাম মাদরাসার ছাত্র ও আমাদের স্বেচ্ছাসেবক ভাইয়েরা আপনাদের সামনে রুমাল নিয়ে যাবেন। আপনারা মেহেরবাণী করে হাত খুলে, দিল খুলে দান করবেন। আর মনে মনে, অনেকেই দূরে আছেন, আমি দেখতে পাচ্ছিনা, নিয়ত করেন যে আমি আগামী বছর সারা বছরে প্রতি মাসে আমি কিছু কিছু জমা করবো। যারা দোকানদার তারা প্রয়োজনে একটা মাটির ব্যাংক কিনেন। ওটার মধ্যে দৈনন্দিন আপনার লভ্যাংশ থেকে ১, ২, ৫ টাকা আপনি জমাতে থাকেন। সারা বছর পরে গণনা করার দরকার নেই। এখানে মাদরাসায় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার হবে। তো ছাত্র ভাইয়েরা তোমরা রুমাল নিয়ে নেমে যাও ভাইদের কষ্ট দিওনা। ধীরে সুস্থে যাবে। যেন পা না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকবে। এরপর আমাদের এই ষ্টেজে দান বাক্স আছে আপনারা এখানেও দিতে পারবেন। রুমাল নিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকেও দিতে পারবেন। আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা আসছেন। আপনারা মুক্ত হস্তে দান করুন। আর বিশেষ করে যাদের কাছে নগদ-ক্যাশ টাকা কম, যাদের ধানের ব্যবসা তারা ধান জমা করেন, চালের ব্যবসা হলে চাল জমা করেন। বয়ে আনতে কষ্ট হলে সেটা আপনি ওখানে বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে এসে জমা দেন। কত সুন্দর প্রসেস আছে। আলহামদুলিল্লাহ্ বলেন। আল্লাহ্ আমাদের তাওফিক আতা করেন। তবে মেহেরবানী করে, আমরা কাউকে কষ্ট দিতে চাইছি না বা হেয় করছি না, আমাদের নির্দিষ্ট রশিদ ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না। নির্দিষ্ট অফিস ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না। মাহফিলে যখন আসবেন তখন নিদিষ্ট বাক্স, এই ষ্টেজের বাক্স বা আমি যেখানে বসি সেই কাঠের বাক্স, বা মাদরাসা অফিস বা যেখানে যেখানে রশিদ দিয়ে কাউন্টার করা হয়েছে এছাড়া অন্য কাউকে, অন্য কাউকে, কোন প্রতিষ্ঠানে মেহেরবানী করে টাকা দেবেন না। নির্দিষ্ট জায়গায় দেন। দিলে সেটা আপনার হয়তো সাওয়াব আদায় হবে, কিন্তু ও বেচারারা গোনাহগার হবেন যারা নেবেন, তাদেরকে গোনাহগার বানানো ঠিক হবে না। কাজেই আপনারা সতর্ক হলে তারাও গোনাহ থেকে বাঁচবেন। ইনশাআল্লাহ্ আল্লাহ্তাআলা সকলকে তাওফিক দেন। সকলে বলি আমিন!!!
(অনুলিখনে : মাওলানা সাইফুল্লাহ্ জাকী আনসারী; মাসিক নেদায়ে ইসলাম)
৩)আল্লামা শায়েখ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল কুরাইশী
গদ্দিনিশীন পীর আল্লামা আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী সাহেবের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান, পোস্তগোলা মাহফিল ২০১২ ইং
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। ইন্নাল হামদালিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিনা ওয়াল আকিবাতু লিল মুত্তাকীনা ওয়ালা উদওয়ানা ইল্লা আলাযযালিমিন। ওয়াসসালামু আলা আশ্রাফিল আম্বিয়ায়ি ওয়া খতামিল মুরসালিন, নাবিয়িনা মুহাম্মাদিনিল মুস্তাফা ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়ামান তাবিয়াহুম বিইহসানিন ইলা ইয়াওমিদ্দিন, আম্মাবাআদু ফা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِالل
আলে ইমরান ১১০
আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাতের দরবারে আমরা শোকর গুজার হচ্ছি, যে আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত আমাদেরকে এই ২ সপ্তাহ যাবত আয়োজিত জিকিরের মাজলিসে বসবার ,হাজিরা দেবার তাওফিক দান করেছেন এ জন্য শুকরিয়াতান বলি আলহামদুলিল্লাহ। সাথে সাথে আমরা আল্লাহ তাআলার দরবারে তাদের জন্য দোয়া করছি যারা আজকের এই মহতি জিকির মজলিসের আয়োজন করেছেন এবং আজকের এই মজলিস পরিচালনার দায়িত্ব যারা পালন করছেন,আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তাঁদের সকলকেই জাযায়ে খায়ের নসিব করুন সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন। যদিও এটি একটি সামান্য জায়গা, সাধারন একটি মাঠ, রাস্তা ঘাটের একটা বালুর মাঠ বলে পরিচিত কিন্তু আজকের এই সময়ের জন্য বা এই দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য এই স্থানটুকু সাধারন দুনিয়ার মাটি হিসেবে পরিচিত নয় বরং আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের দরবারে এটি জান্নাতের অংশ হিসেবে পরিচিত। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । আর আমরা যারা বসে আছি,আমরা এই এতেকাদ বিশ্বাস নিয়ে বসে আছি যে,আমরা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের জিকিরে মশগুল ,আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের জিকিরে মশগুল আছেন সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ ।
এই এতেকাদ বিশ্বাস আমাদের সকলের আছে তো নাকি ? আলহামদুলিল্লাহ। আর আমরা যে তাসবিহ তাহলিল পড়ছি আল্লাহ রব্বুল আলামিনের মহত্তে কথা বলছি , তাঁর বিধি বিধানের আলোচনা করছি ,আমাদের এই জিকির আসমান ও জমিনের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই বরং আমরা আশা করতে পারি আমাদের এই কথা গুলো আল্লাহ তাআলার আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে এবং আমরা যে দুরুদুসসালাম আদায় করছি তা হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও আমরা যাই পড়ছি আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁর ফেরেস্তাদের মাধ্যমে তাঁর প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর শরিফে রাওযা মুবারাকে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন, সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ এবং তিনি সেখান থেকে আমাদের দুরুদুসসালামের জবাবও দিচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ । এই বিশ্বাস সকলের আছে তো ? আছে । আলহামদুলিল্লাহ । আমরা বিশ্বাস করি মানুষ মাত্রই মরনশীল। সৃষ্টি মাত্রই লয়, ধ্বংসশীল । সব কিছুই ধ্বংস হবে, তবে ধ্বংস নেই একমাত্র কার ? আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের । তিনি ছাড়া সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে ।
সেই মানুষের ধারায় নবী রসুলগণও দুনিয়ায় জন্ম গ্রহনের মাধমে দৈহিক জীবনে মৃত্যুর দ্বারা তাঁরা এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন ।সকলকেই নিতে হবে। যদিও সর্বশেষ একজন এখনও পর্যন্ত মাধ্যমে বিদায় নেননি কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য সেটা প্রস্তুত করে রেখেছেন কথা ঠিক কিনা ? তিনি কে ? হযরত ঈসা (আঃ) । তাকেও এই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে তথা দুনিয়ার হায়াত থেকে বিদায় নিতে হবে কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামিন নবীদের একটা মর্যাদা দিয়েছেন । আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি মযাদা হলো তিনি দুনিয়ার হায়াত থেকে বিদায় নিলেও তাঁর দেহ মুবারককে আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরে কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষত রাখার ব্যবস্থা রেখে দিয়েছেন এটা আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামেরকথা থেকে । তো আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন যে আল্লাহ তাআলা আমার দেহকে মাটিকে খেতে হারাম করে দিয়েছেন, মাটি কখনই আমার দেহ খেতে পারবেনা আর আল্লাহ রব্বুল আলামিন এই দুনিয়ার হায়াতের পরেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের দেহের কাছে তাঁর রুহটাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আল্লাহর রসুলের রুহ তাঁর দেহ মুবারকের সাথে সম্পর্ক রাখে। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । এটা হল সাহাবায়ে কেরাম , তাবেইন তাবে তাবেইন এই ধারায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস আকিদা ।এই অর্থেই সাধারনত উর্দু বা ফার্সি ভাষায় আমরা বলে থাকি হায়াতুন নবী । তার অর্থ হল আল্লাহর রসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কবরের হায়াতে তিনি জীবিত বরযখি হায়াতে তিনি জীবিত। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । পৃথিবীর এরকম কোন সৃষ্টি নাই যে দুনিয়ার এই হায়াতে কেউ সদাসর্বদা সর্বসময় থাকবে । এই বিশ্বাস আমাদের সঠিক করে নিতে হবে । এ কথা গুলো বললাম এ জন্যই যে, আমরা যে দুরুদুসসালাম পড়ি এই অনুভূতি আমাদের থাকতে হবে, খেয়াল থাকতে হবে শুধু মুখরোচক কথা বললেই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়না । আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন “ ইন্নাল্লাহা লা ইয়ানজুরু ইলা আযসামিকুম ওয়ালা ইলা সুওয়ারিকুম ওয়া লাকিন ইয়ানযুরু ইলা কুলুবিকুম “ যে নিশ্চয়ই আল্লাহ রব্বুল আলামিন তোমাদের চেহারা সুরত দেখেননা তিনি তোমাদের অন্তর দেখেন । সুবহানাল্লাহ । থলে আমাদের অন্তরের যে আকুতি-মিনতি এটাই আল্লাহ তাআলার দরবারে পৌঁছে যায়। কোরবানির কথা আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন যে “ লাই ইয়ানালাল্লাহা লুহুমুহা ওয়ালা দিমাউহা ওয়ালা কেই ইয়ানালুহুত্তাক্বওয়া মিন কুম ” অনেক টাকা ব্যয় করে তোমরা যে কোরবানি কর, বড় বড় পশু যবেহ কর, এর রক্ত গোস্ত কোনটাই আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না, কি পৌঁছায় ? তাক্বওয়া । আল্লাহকে ভালবেসে তোমরা এ কাজটি করলে আল্লাহ রব্বুল আলামিন সেটাই বিচার করবেন । তাহলে আমরা যে মাহফিলে এসেছি এজন্য নিয়ত অনুভূতি ঠিক রাখতে হবে ,অন্তর দিয়ে খেয়াল করে আসতে হবে তাহলেই ইনশাআল্লাহ মাহফিলের রহমত বরকত পেয়ে আমরা আশা করতে পারবো যে এ মাহফিলের অসিলায় নিস্পাপ হয়ে যেতে পারব । আলহামদুলিল্লাহ । ওলামা হযরত এখানে দীর্ঘ দিন যাবত আলোচনা করছেন আশাকরি তাঁরা বলেছেন, তো এখন আমি আপনাদের শুধু স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য বলছি যে, জিকিরের মজলিসে যারা বসেন আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের গুনা গুলোকে ক্ষমা করে দেন । এই বিশ্বাস সকলের আছে তো ? সহীহ হাদিস কিতাবুদ্দাওয়া বোখারি শরিফের রেওয়ায়েত । তো যাইহোক এগুলো আমার আজকের আলোচনার মূল বিষয় না হলেও একটু বলে দিলাম এজন্যই যে আমাদের খেয়াল,নিয়তটা ঠিক করে নেয়ার জন্যে । আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের এই মেহনতকে এই পরিশ্রমকে কবুল ও মনজুর করে নেন । সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমীন । আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে আমি মানুষ ও জিনকে আমার শুধু মাত্র আমার ইবাদাত করার জন্য, দাসত্ব করার জন্য । আল্লাহ এ কথা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, কথা ঠিক না ! আল্লাহ বলছেন
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُون
সুরা জারিয়াত ৫৬
নিশ্চয়ই অবশ্যই মানুষ এবং জিন জাতিকে শুধু মাত্র আমার এবাদাত গোলামী করার জন্যই সৃষ্টি করেছি , এখন গোলামী বান্দারা কিভাবে করবে সেই গোলামী শিক্ষা দেওয়ার জন্যই আল্লাহ তাআলা এই মানুষদের মধ্যে থেকে নবী রসুলের ধারাকে জারি করেছেন এবং মানুষের ধারাবাহিকতাও এক সময় শেষ হয়ে যাবে যেটাকে কেয়ামত বলা হয় সা-আত বলা হয় । এমনিভাবে নবুওয়াতের ধারাবাহিকতাকেও সমাপ্ত করার বিধান দিয়েছেন আর তা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে শেষ করেছেন তাঁর পরে আর কাউকে নবুওয়াত রেসালাত দেওয়া হবেনা আল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন করে কোন বিধান ওহী আর কেউ জানতে পারবেনা । এ হল খোলাসা কথা । তো মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন শেষ নবী এবং তিনি এমনই এক নবী যার পরে আর কোন নবুওয়াত আসবেনা অর্থাৎ তাঁর নবুওয়াতটাকে এমনভাবে দান করলেন যে এই নবুওয়াত রেসালাতের ভেতরে মানব জাতির কল্যাণকর ও ক্ষতিকর সব বিষয়ে বলা হয়েছে , কোন বিষয় বাদ রাখা হয়নি । সব বিষয় গুলো কি আংশিক ভাবে নাকি বিস্তারিত ভাবে দান করেছেন ? বিস্তারিত ভাবে। সুবহানাল্লাহ । এ বিশ্বাস আমাদের সকলের আছে তো ? আলহামদুলিল্লাহ।আর যেগুলো ক্ষতিকারক সেগুলোও বিস্তারিত জানিয়েছেন। এজন্য আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁর রেসালাতে নবুওয়াতে শুধু মাত্র ইমানদার মুসলমানদের জন্য রহমত এ কথা তিনি বলেননি,কোরআন রহমত সেটা ঠিক আছে কিন্তু মহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সম্পর্কে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِين
সুরা আম্বিয়া ১০৭
হে নবী আপনাকে আমি তামাম জগত সমূহের জন্য রহমত স্বরূপ রেসালাত দান করেছি । সুবহানাল্লাহ বলুন । তাহলে কথাটা কি ? রেসালাত কাদের জন্য ? শুধু মানুষের জন্য ? শুধু মুসলমানদের জন্য ? “ রহমাতাল্লিল আলামিন ” আলামিন বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ জগত সমূহের জন্য রহমত । সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । রেসালাতটা কি ? সেটা হলো কোরান । আর এই রেসালাত প্রাপ্ত জাতি হলো তাঁরা যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মেনে নিলো কেয়ামত পর্যন্ত, সাহাবী তাবেঈ তাবেতাবেঈ এই ধারাবাহিকতা যারা অনুসরণ করে যাবেন ।একটু খেয়াল করে শুনতে হবে । এই রেসালাত দ্বারা মানুষ-অমানুষ,জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই কল্যাণ প্রাপ্ত হবে, রহমত প্রাপ্ত হবে । এই রেসালাতকে যারা কেয়ামত পর্যন্ত অনুসরণ করে যাবেন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলছেন “ কুন্তুম খইর উম্মাতিন উখরিজাত লিন্নাস ” তোমরাই হলে সব থেকে উত্তম জাতি । “ উখরিজাত লিন্নাস ” অর্থাৎ যাদেরকে মানব কূলের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে, কাদের জন্য ? আল্লাহ কি এমন বলেছেন নাকি উখরিজাত লিল মুসলিমিন, উখরিজাত লিল মু মিনিন, উখরিজাত লিল আরব, উখরিজাত লিল আযম মানে আরব সম্প্রদায়ের জন্য, মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ এমন করে না বলে,এরকম বললেন যে “উখরিজাত লিন্নাস ” সকল মানুষের জন্য এর কারন হলো যে আল্লাহ রব্বুল আলামিন নবুওয়াত রেসালাত দেওয়ার পরেও কোরানের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন যে সব মানুষ ঈমানদার হবেনা সব মানুষ মুসলমান হবেনা সব মানুষ জান্নাতি হবেনা বরং মানুষদের অধিকাংশই জাহান্নামী হবে । এই সমাজে আমরা মুসলমান বসবাস করে মানুষদের দাওয়াত দিলেও দাওয়াত দিয়ে মানুষদের বোঝালেও একটা বড় অংশ থেকে যাবে যে, যারা মুসলমান হবেনা কোরান জানবেনা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মানবেনা এ ধরনের একটা দল থাকবেই কোরান বলছে । তাহলে এখন কি করতে হবে ? আল্লাহ তাআলা আমাদের বলে দিয়েছেন, যারা ইমান আনবেনা মুসলমান হবেনা, দাওয়াত দিলে যদি না শোনে তাহলে সাথে সাথে কতল করে দেবে ,কি বলেন আল্লাহ কি তাই বলেছেন !!! না । যদি তাই বলা হতো তাহলে আল্লাহ তাআলার বিধান হতোনা , মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে ইহুদিদের সাথে চুক্তি করতেননা নাসারাদের সাথে চুক্তি করতেননা, আরবের মুশরেকদের সাথে চুক্তি করতেননা , হ্যাঁ জেহাদ হয়েছে যুদ্ধ হয়েছে সেটা একটা বিষয় কিন্তু মুসলমান সমাজে অমুসলমানরাও থাকবেন তারও তাদের স্বাধীনতা নিয়ে থাকবেন Security নিয়ে থাকবেন মুসলমানেরা তাদের উপর আক্রমন করবেন না এটাও মুসলমানদের একটা বৈশিষ্ঠ্য হবে, সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । এই কথাটা আপনারা বিশ্বাস করেনতো ?? হ্যাঁ । আলহাদুলিল্লাহ । অনেকের কাছে মনে হয় কথাটা পছন্দ হলোনা ! অনেকে মনে করছেন আমরা মুসলমান মানেই অমুসলমানদের যেখানেই পাবো সেখানেই মারতে হবে এরই নাম জেহাদ, আপনারা কি বলেন? না। এটা জেহাদ না এটা হলো সন্ত্রাস । জেহাদের সংজ্ঞা আছে শর্ত আছে , জামাতে নামায পড়ার সংজ্ঞা আছে শর্ত আছে, নামাযেরও বৈশিষ্ট্য আছে, আছে না নাই ? নামায মানেই হলো অযু গোসল ছাড়া আল্লাহু আকবর বলে হাত বাঁধবেন নাকি বলেন ? কি করতে হয় ? অনেক শর্ত আছে না ? শরীর পাক, কাপড় পাক, জায়গা পাক কত রকম কথা আছে না ! এই সব কিছু মিলিয়েই এরপর নামায, ঐ রকম জেহাদেরও কিছু শর্ত আছে শুধুমাত্র মাথা গরম করে দু চারটে বোমা ফাটালেই আর গণহারে মানুষ মেরে ,ঘর জ্বালিয়ে দিলেন এটা আল্লাহতাআলা বলেননি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বলেননি কিন্তু আফসোস !!! এ কাজ গুলো কারা করেন ? আল্লাহরওয়ালা মানুষেরা করেন ? নামাযীরা করেন ? কারা করেন ? মুসলমানের সন্তান কিন্তু নামায পড়েনা , সওম রোযা পালন করেনা, হজ্জ করেনা, আল্লাহর কোরান মানে না কিন্তু বংশ মুসলমান তাই ওরাও মুসলমান ওদেরকে মারধোর দিয়ে যদি কিছু লুটপাট করা যায় তাই করা হবে।ঈমানদার আল্লাহওয়ালা মুসলমান,বুযর্গ তাঁরা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়না । আমাদের এই দেশ এক সময় ভারত ছিল এরপর পাকিস্থান হলো এরপর বাংলাদেশ। তো যাইহোক আপনারা শুনে থাকবেন ভারতে মাঝে মাঝে রায়ট হয় দাঙ্গা হয়, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, হয় নাকি হয়না ? সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে একটা হয়ে গেছে, তো আপনাদের কি মনে হয় ? এ দাঙ্গা গুলো মুসলমান ধার্মিকরা করেন নাকি ? অন্য ধর্মের ধার্মিকরা করেন নাকি ? কারা করেন ? যারা এই ধর্মের ধার্মিক নয় আবার মুসলমান ধর্মেরও ধার্মিক নয় , সত্য কথা হলো মুসলমানও না বলা যায় যদিও বললে হয়তো গায়ে লাগবে অনেকের কিন্তু তারা আগেও মুসলমান কিনা তাতে সন্ধেহ আছে কারন কোন আল্লাহওয়ালা, নামাযী , রোযা যিনি পালন করেন, কোরান হাদিস জেনেছেন , আলেম ওলামার সোহবতে থেকেছেন এরকম মানুষ হঠাৎ করে যেয়ে আরেকজনের বাড়ী জ্বালাবে, ঘর ভাঙচুর করবে এই ধরনের কাজটি তারা করবে না। কারা করবে ? ঐ মুসলমানের বাচ্চা নামধারী মুসলমান গুলো নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য মুসলমান সেজে এই সমস্ত কাজ গুলো তারা করেছে । নাউজুবিল্লাহ । হ্যাঁ তবে এগুলো করানোর পিছনে কিছু লোক আছে যাতে করে অন্য ভাইয়েরা আসামি হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের এগুলো বুঝার তাওফিক দেন ও সকল চক্রান্ত থেকে হেফাযত করেন আমিন । তো ভাইয়েরা যে কথা বলছিলাম , আল্লাহ তাআলা নবীকে বলছেন ও তাঁর সাহাবাকে সম্বোধন করে বলছেন আর এই সম্বোধনটা শুধু মাত্র তাঁদের জন্যই না কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারাকে যারা অনুসরন করবেন ঈমান আনবেন তারাও এর মধ্যে শামিল আছেন, কথা ঠিক কি না ? কারন কোরান শরিফের একটা বৈশিষ্ঠ্য হলো বিভিন্ন আয়াত নাযিল হওয়ার কিছু প্রেক্ষাপট থাকে যেটাকে বলা হয় শানে নুযূল বা সাবাবুন নুযূল অর্থাৎ কেন নাযিল হলো, মুফাসসিরিন মুহাদ্দিসিনগন একমত যে আয়াতের অর্থটাই আমাদের জন্য মূল বিষয় ঐ প্রেক্ষাপটটা বড় বিষয় নয়, প্রেক্ষাপটেরও দরকার আছে প্রেক্ষাপটের আলোকে ব্যাখা করতে হবে কিন্তু ঐ প্রেক্ষাপটেই ঐটা হবে অন্য সময় হবেনা বিষয়টা এমন না, ঐ আয়াত নাযিল হওয়ার পরে সেই অর্থে কেয়ামত পর্যন্ত এই আয়াতের ভাবার্থ প্রকাশ হবে সব গুলোকেই মেনে নিতে হবে। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ। এটা হল কোরানের একটা Basic বিষয়। যাইহোক, আল্লাহ রব্বুল আলামিন বললেন যে, তোমরা হলে উত্তম জাতি তোমাদেরকে মানবকূলের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে যে তোমরা মানুষের কল্যাণ কামনা করবে। কি কামনা করবে কল্লা নাকি কল্যাণ ? আসলে আমরা কি কামনা করি ? অমুকের কল্যা খুলে নিব আমরা ,অমুকের চামড়া খুলে নিব আমরা। চামড়া খুলে নিবেন ? আপনারটা যখন আরেকজন খুলবে তখন কি হবে ? এ্যাহ ! বাংলায় একটা কথা আছে না “ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় “ আপনি একজনের চামড়া খুলে নিলেন আর কেয়ামতের দিন আল্লাহ আপনার চামড়া একবার খুলবে আবার লাগবে, আবার খুলবে আবার লাগবে তখন কোথায় যাবেন ? যারা আল্লাহর দ্বীনকে অবমাননা করে, কোরানকে অবমাননা করে কবরে যাবে তারা কি জান্নাতি নাকি জাহান্নামি ? জাহান্নামি । তো জাহান্নামে কি দু চার দশ বছরের জন্য যাবে নাকি চিরস্থায়ী হবে ? এ জন্য আল্লাহ তাআলা
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖفَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖالْعَذَابَ
সুরা নিসা
যারা ঈমানহারা হয়ে জাহান্নামি হবে আল্লাহর দিনকে অস্বীকার করে অবমাননা করে, আল্লাহওয়ালা মানুষ গুলোকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যারা ঈমান হারাবে তারা চির জাহান্নামি হবে, তাদের শাস্তিটা হবে এই রকম যে তাদের গায়ের চামড়া গুলো জাহান্নামের আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যাবে আবার চামড়া নতুন করে হয়ে যাবে আবার পুড়ে যাবে এভাবেই চলতে থাকবে । নাউযুবিল্লাহ । কেন এরকম করা হবে ? বড় বড় কথা বলেছিল, ফেরাউনের মত অহংকার করেছিল,নিজেদেরকেই সব কিছু মনে করেছিল ফেরাউন বলেছিল “আনা রব্বুকুমুল আলা “ঐ বড় খোদা মনে করে মানুষের প্রতি জোর জুলুম করেছিল কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামিন ঐ বড় খোদার পরিণতি দেখানোর জন্য কেয়ামত পর্যন্ত ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তো যারা এরকম করবে তাঁদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম এবং সেখানে তাদের চামড়া পুড়বে আবার চামড়া হবে আবার পুড়বে এভাবেই চলতে থাকবে। কাজেই অমুকের চামড়া খুলে নিব আমরা ,অমুকের কল্লা খুলে নিব আমরা স্লোগান না দিয়ে এইসব কথা বিশ্বাস না করে মানুষের চামড়া লাগানোর ব্যবস্থা করেন, কল্লা অক্ষত রাখার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তাআলাও শান্তির ব্যবস্থা করে দিবেন । আল্লাহ তাআলা আমাদের হেদায়েত দিন, সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন। তাহলে এই কথাটা পেলাম কোথায় ? আল্লাহ বলছেন “ উখরিজাত লিন্নাস “ কথাটা সামান্য কিন্তু এই সামান্য কথার ভিতরে পূর্বের জাতি গোষ্ঠীর শান্তি নিহিত আছে। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ ।মনে গেঁথে নিতে হবে যে আমি কারও প্রতি আক্রমন করার জন্য করো ক্ষতি করার জন্য নই, বরং আমি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ অমানুষ নির্বিশেষে সকলের উপকার করার জন্যই ঈমানদার মুসলমান।আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই বিশ্বাসের উপরে থাকার তাওফিক দান করুন, সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন।এখন কথা হলো সৃষ্টির সেবা,আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করলেন ও সৃষ্টির সেবা করতে বললেন,কিভাবে সেবা করবেন ? কিভাবে উপকার করবেন ? আল্লাহ তাআলা আপনাকে জ্ঞান বুদ্ধি বিবেক দিয়েছেন ,শক্তি দিয়েছেন, সামর্থ্য দিয়েছেন এটা দ্বারা আপনি উপার্জন করবেন, মানুষকে সাহায্য করবেন,নিজে চলাফেরা করবেন,সমাজ পরিচালনা করবেন আর এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে আমার দ্বারা কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় আমার দ্বারা সবাই উপকৃত হোক।
এজন্য আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, “প্রত্যেক ঈমানদারের দায়িত্ব মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা । সাহাবীগন প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহর নবী ! যদি কারো দান করার মতো কিছু না থাকে ? আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাহলে সে নিজ হাতে কর্ম করবে যে কর্মের উপার্জন দিয়ে সে নিজে উপকৃত হবে এবং অন্যকে দান করবে। তাঁরা আবারও বলেন, হে আল্লাহর রসুল ! যদি সে সেটাও করতে সক্ষম না হয় ? আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন সমস্যাগ্রস্থ সাহায্য প্রার্থীকে সাহায্য করবে তাঁরা আবারও প্রশ্ন করেন যদি সে তাও করতে অক্ষম হয় ? আল্লাহর নবী বলেন তাহলে সে কল্যাণকর কাজ করবে এবং অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে তাহলে সেটাও তার জন্য দান বলে গণ্য হয়ে যাবে। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ ।এমনিভাবে মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার সম্পর্কে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “ আল মুসলিমু মান সালিমাল মুসলিমুনা মিন লিসানিহি ওয়া ইয়াদিহি “ একজন মুসলমান ঈমানদারের বৈশিষ্ঠ্য হলো তার হাত ও মুখ দ্বারা কোন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবেনা ।তো ভাইয়েরা আমরা যারা ঈমানদার মুসলমান আছি তাঁরা সবাই কি এই বৈশিষ্ঠ্য অর্জন করতে পেরেছি ? অ্যাঁহ । আমরা হয়তো কাউকে মারধোর না করলেও মুখটা মোটামুটি ভালোভাবেই চালাই, আপনারা কি বলেন ? এখন একজন পীর মাশায়েখ মুহাদ্দিস থেকে শুরু করে একদম নিচু পর্যায়ে আমরা যারা আছি এই লাইনের, আবার অন্য লাইনের একেবারে উঁচু থেকে শুরু করে নিচু পর্যন্ত প্রফেসর, বিচারক, উকিল, ব্যারিস্টার সব ঐ একই অবস্থা। নাউজুবিল্লাহ। এজন্য আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, যারা জাহান্নামী হবে সেই জাহান্নামীদের বেশিরভাগ জাহান্নামী হওয়ার কারন হলো তাদের জবান ও গুপ্তাঙ্গ । এই জবান দিয়ে তারা এতোই দুর্ব্যবহার করে,এমন এমন কথা বলে যে তার জন্য এগুলোই জাহান্নামে যাওয়ার কারন হয়ে যায়।নাউযুবিল্লাহ বলেন। ওইরকম ভাবে তারা উপার্জনের ক্ষেত্রেও হালাল হারাম বিচার না করে দুনিয়ার নানান জায়গায় গিয়ে তাদের ঐ প্রয়োজন নামের পশুত্বকে ব্যবহার করে । যেটাকে যেনা ব্যভিচার বলা হয় এগুলো করে মানুষ জাহান্নামী হয়। নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমীন।তো ভাইয়েরা আমি যে কথা বলছিলাম, আল্লাহর নবী বললেন যে তোমরা দান করবে।গরীব দুঃখী ইয়াতিম,মিসকিন,অসহায়,তোমাদের সমাজে যারা আছে খোঁজ খবর নিয়ে তোমরা দান খাইরাত করবে এটাই হল আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে সব থেকে প্রিয় আমল, এজন্যই ঈমানদারদের বৈশিষ্ঠ্য হলো :
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُوم
সুরা জারিয়াত ১৯
ঈমানদারদের বৈশিষ্ঠ্য হবে এমন যে তাদের সম্পদ থেকে কেউ যদি চায় অর্থাৎ অসহায় মানুষ যদি এরকম বলেযে, ভাই আমার থাকার জায়গা নেই, খাবার নেই ,পরিধানের কাপড় নেই, শীতের সময় পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই,মনে করুন আপনার কাছে চাইলো তখন কি তাকে গালাগালি করে সরিয়ে দেবেন ? তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন ? এমনকাজ আমাদের করা কি ঠিক হবে? নাউজুবিল্লাহ। আমারা সুন্নতের কথা বলি ,মোহাব্বাত করে মাথায় টুপি দেই,মোহাব্বাত করে মেসওয়াক করি,মোহাব্বত করে আতর লাগাই,মহাব্বাত করে সুরমা লাগাই, লাগাইনা ? কিন্তএরকম পাগড়ীওয়ালা জুব্বাওয়ালা,সুরমাওয়ালা আমরা এরকম অনেক সুন্নতপন্থী আছি যাদের আচরন গুলো আল্লাহর রাসুলের খেলাফ। এরকম বদ খাসলত আমাদের আছে না নাই ?আল্লাহতাআলা আমাদের হেদায়েত করেন।সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন।আল্লাহর রাসুলের সুন্নত শুধুমাত্র একটা সাইড নিলে হবেনা।আখলাক চরিত্রের সুন্নতও নিতে হবে।দাওয়াতি কাজে নবী শুধু কোরানের আয়াত পড়ে শুনিয়েছেন সেটা নয়, এই কোরানের আয়াতের সাথে আল্লাহতাআলা তাঁর ব্যক্তিগত আখলাক চরিত্রকেও সুন্দর করে দিয়েছেন।আল্লাহতাআলা তাঁর নবী সম্পর্কে বলেন
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِ
আলে ইমরান ১৫৯
হে নবী আপনি যদি কর্কশ ভাষী হতেন,আপনি যদি খারাপ ব্যবহারকারী মানুষ হতেন,কটু কথা বলতেন,শক্ত হৃদয়ের হতেন আর যদি মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন তাহলে আপনার কাছে মানুষ এসে হেদায়েতের কথা শুনা তো দূরের কথা, সবাই পালিয়ে যেত । তো কেউ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একবার আসলে দ্বিতীয়বার কি আসতে চাইতেন ? নাকি আসতে চাইতেন না ? আসতে চাইতেন।সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি।বরং তাঁর কাছে যিনি যেতেন মন খারাপ হয়ে থাকলেও মন ভালো হয়ে যেত। সুবহানাল্লাহ বলেন ।ক্ষুধার্ত মানুষ আসলে খাবার পেয়ে যেত,অসহায় মানুষ সহায়তা পেতো এ কথাগুলো বিশ্বাস করেন কিনা ? জরিমানা দিতে গিয়ে উল্টো আরও জরিমানা আদায় করে নিয়ে যেতো, সুবহানাল্লাহ বলেন।আমি আগেও সম্ভবত বলেছি ,এখন কথা প্রসংগে বলতে হচ্ছে যে আল্লাহর রসুলের দরবারে গিয়ে সাহাবীগন কত নেয়ামত পেয়েছেন দেখুন,অমুসলমানেরাও তাঁর কত আদর পেয়েছেন দেখুন ! আপনারা হয়তো শুনেছেন। রাস্তাঘাটে যে মসজিদ,মাদরাসা গুলো আমরা দেখি সেগুলো অনেক সাজানো গোছানো থাকে,বাউন্ডারী দেয়া থাকে আগেত এমন ছিলনা ।আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে নববী ছিল মাটির মসজিদ,মাটির সাথে কিছু পাথর দিয়ে গাঁথুনি করে ওর মাঝে কিছু খেজুরের ছিল আর ছাউনী ছিল খেজুরের ডাল এর উপর পাতা । তো সেরকম কোন চাকচিক্য ছিলনা। সাহাবাগন আসতেন বসতেন আবার কখনও দু চারজন অমুসলমান ইয়াহুদী খ্রিষ্টান আসতো রসুলের কাছে, তখনও সেখানে ইয়াহুদী নাসারা ছিল,ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ও ছিল পরবর্তীতে তাদের চক্রান্তের কারণে তাদেরকে ওখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। যাইহোক, তো এক ইয়াহুদি এসে মসজিদের এক পাশে ইচ্ছা কৃত বা অনিচ্ছা কৃত হোক প্রস্রাব করা শুরু করে দিয়েছে, নাউজুবিল্লাহ বলেন।তো এখন এই দৃশ্য দেখলে সাহাবাদের কি আর মেজাজ ঠিক থাকবে নাকি ! আপনাদের বারান্দায় এরকম প্রস্রাব করলে আপনারা কি করবেন? সে যদি আবার অমুসলমান হয় তাহলে বিপদ হয়ে যাবেনা ? তো ওখানে যা হবার তাই হয়েছে সাহাবারা বলছেন অ্যাই ও কি করছে ! আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তোমরা ক্ষান্ত হও,এখন চিৎকার করোনা প্রস্রাবের মাঝে বাধা দিলে তার শারীরিক ক্ষতি হয়ে যাবে, আগে প্রস্রাব করুক এরপর যা হয় হবে।এবার শেষ হওয়ার পরে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তাকে ডাকো তারপর তাকে ডাকা হলো ,তিনি বললেন তুমি এখানে প্রস্রাব করলে কেন এটাতো আমাদের ইবাদতের জায়গা ,খবরদার এরপর এখানে আর এমনটা করবেনা, শুধু নিষেধ করা নয় তাকে বুঝিয়েও দেওয়া হলো, সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । তাকে ধরে গণধলাই দেওয়া হয়নি, আপনারা হলে কি করতেন ? নাউযুবিল্লাহ।বেচারা জানেনা করে ফেলেছে তাদের জন্য ইসলামও ওজর পেশ করে দিয়েছে।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ।হ্যাঁ, আরেকজন আক্রমন করে কিছু ক্ষতি বা চক্রান্ত করতে চায় সেই ব্যাপারটা ভিন্ন। যাইহোক এগুলো আমার আজকের আলোচনার মূল বিষয় না । আল্লাহ তাআলা বলছেন যে, হে নবী আল্লাহর পক্ষ থেকে যে রহমত আপনাকে দেওয়া হয়েছে এই রহমত পেয়ে আপনি মানুষদের সাথে আপনি ভালো ব্যবহার করেন, নম্রতার সহিত কথা বলেন, এটার জন্য মানুষ আপনার কাছে আসে, আপনার কথা শুনে অভিভূত হয়,আপনার কথা শুনে হেদায়েতের পথে আসতে চায় ।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ।তাহলে এই গুনটা হলো আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের । বিশেষ করে আমরা যারা আলেম-ওলামা ,পীর মাশায়েখ দাবি করছি, আমাদের ভিতরে এই গুন থাকতে হবে কিনা ? থাকতে হবে কিনা ?নবীর ভদ্রতা নম্রতা আমরা যারা পীর বুযর্গ,ওলামায়ে কেরাম নামধারি আছি আমার মধ্যে যদি না থাকে তাহলে কি আমি সত্যিকারের ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া হতে পারলাম ?কারণ নবীর ওয়ারিস হতে হলে তো নবীর গুন থাকতে হবে, কি বলেন আপনারা ? গুন নাই, ট্রেনিং নাই তো উনি কিভাবে সৈনিক হবেন ?ট্রেনিং ছাড়া লোককে নিয়ে যুদ্ধ করতে গেলে হারবেন না জিতবেন ? মারতে গেলে উল্টো মার খাবেন। আল্লাহর রসুলের গুনাবলী নাই এই সমস্ত পীর-মাশায়েখ,আলেমকে নিয়ে যদি কোরানের আলো জ্বালাতে যাই, তবে ঐ আলো জ্বালাতে না পেরে আমরাই অন্ধকারে পড়ে যাব।কিসের মধ্যে পড়বো ? অন্ধকারের মধ্যে ।কাজেই আলো জ্বালাতে হলে নিজেদের আগে আলোকিত মানুষ হতে হবে নাকি আপনারা আগুন দিয়ে আলো জ্বালাবেন কোনটা ?কোরানের আলো মানেটা কি?কোরানে আগুন জ্বালিয়ে কি আলোকিত করবেন নাকি ? না । নাউজুবিল্লাহ।আল্লাহ তাআলা আমাদের হেদায়েত করুন।তাহলে কোরানের আলোটা কিভাবে জ্বলবে ? এক রেওয়ায়েতে আছে ওলামারা বলছেন, আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে,তোমরা দুনিয়ার আসমানে তারকা রাজি গুলোকে যেমন টিপটিপ করে জ্বলতে দেখ আসমান ওয়ালারা,ফেরেস্তারাও ঐরকম দুনিয়ার বুকে তোমাদের মধ্যে যারা নেককার, জিকিরওয়ালা, কোরানওয়ালা মানুষ,আল্লাহ তাআলার হেদায়েত প্রাপ্ত যারা আছো তোমাদের টিপটিপ করে জ্বলতে দেখেন। সুবহানাল্লাহ ! তাহলে কোরান হলো নূর,যেটা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নাযিল হয়েছে। তাঁর কাছে যে ওহী নাযিল হয়েছে সেটাও নূর। আর নূরটা কি? কোরানের বিধিবিধান, আহকামের দ্বারা নূরটা এসেছে, ঈমানের মাধ্যমে, ইসলামের মাধ্যমে।আল্লাহ তাআলা কোরানকে নূর বলেছেন,রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম সম্পর্কে নূর বলেছেন । এ কথা ঠিক কি না ? ঠিক। আর কুফুরিটা কি ?অন্ধকার।তাহলে এই আলোটা কিভাবে হল ? ঐ ভাবেই হল যখন আমরা কালিমা শরিফ পড়লাম তখন আমরা ঈমানের সন্ধান পেলাম,যখন আমরা এই কালিমা শরিফের দাবি পূরন করলাম নামাজের মাধ্যমে , সাওমের মাধ্যমে ,হজ্জের মাধ্যমে,তাসবিহ তাহলিলের মাধ্যমে আমাদের ভেতরে ঈমানের নূর, ইবাদাতের নূর সংরক্ষিত হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ্ ।আর এটাই কেয়ামতের ময়দানে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত হিসাবে আমাদের ………হয়ে যাবে।আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাউজে কাওসার পান করাবেন।সাহাবীরা প্রশ্ন ইয়া রাসুলাল্লাহ ! কেয়ামতের ময়দানে কত মানুষ থাকবে,কত নবীর উম্মত থাকবে আপনি আপনার উম্মতকে কেমন করে চিনবেন ? আল্লাহর নবী বললেন আমার উম্মতের যারা অজু করবে, তাদের ঐ অজুর স্থান গুলো নূরের মতো চমকাতে থাকবে।সুবহানাল্লাহ। তো যাইহোক ভাইয়েরা , আল্লাহর রসুলের গুনাবলী আমাদের থাকতে হবে, সেটা নম্রতা ভদ্রতা সাহাবায়ে কেরাম যেটা নবীর কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছিলেন।সাহাবারা সবাভাবিকভাবে আল্লাহর রসুলের সাথে কথা বলছিলেন যে রকম আমরা কথা বলি ।কিন্তু আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন এটা পছন্দ করলেন না, নবীর সাথে এরকম আচরণ শোভা পাবেনা আল্লাহ্ তাআলা ওহী নাজিল করে সাহাবাদের কথা বলার আদব শিক্ষা দিলেন।সুবহানাল্লাহ।আল্লাহ্ তাআলা বলেন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
সুরা হুজরাত ২
আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলছেন হে ঈমানদারেরা তোমরা নবীরসাথে উচ্চ বাক্য করবেনা নিজেরা যেমন পরস্পর কথা বলো নিজেদের ভিতর তমাদের যে কথা বলার নিয়ম আছে এই ভাবে নবীর সাথে বলবেনা ,নবীর কথা উপর আর কথা বলবেনা । আর যদি বলে তাহলে কি হবে ? যে তোমাদের এবাদত বন্দেগী ,নামাজ রোযা ইত্যাদি যা করেছো মানে আমাল বলতে যা বুঝায় এর সব বরবাদ হয়ে যাবে যে তোমরা বুঝতে পারবেনা ।তাহলে রসুলের সাথে কেমন কথা বলতে হবে সেটারও আদব আছে না নাই ?আছে। তাহলে আদবের দরকার আছে কি না ?আমরা অনেক সময় বেপরোওয়া হই,হ্যাঁ আপনি হক কথা বলেন বলতে দোষ নেই কিন্তু হক কথা বলার অর্থ গালাগালি নয়,হক কথার অর্থ এটা নয় যে,মুরুব্বি-বয়স্ক মানুষদের আপনার যা খুশি তাই বলে ফেললেন এটা না ।নিয়ম আছে না নেই ? আছে।আল্লাহ্ তাআলা সাহাবিদেরকে নবীর সাথে কথা বলার আদব শিক্ষা দিলেন আর এখন নবী নেই কিন্তু নবীদের দায়িত্ব বর্তমানে কারা পালন করছেন ? যারা ওলামা তাঁরা পালন করছেন । তাহলে তাঁদের সাথে আদবের ব্যাপার আছে না নেই ? আছে না নেই ?আছে।আল্লাহর নবী বললেন “ যারা আমাদের বয়স্ক বৃদ্ধদের সম্মান দেয়না ছোট বাচ্চাদের স্নেহ মমতা ,আদর করেনা তারা আমাদের দলভুক্ত নয় “মুরুব্বিদের সাথে বেয়াদবি করা, উচ্চবাচ্চ করা , তাঁদের সাথে খামখেয়ালিপনা করা ,এটা কি সাধারন জিনিষ, না গুনাহর কাজ৷ আল্লাহর নবীর কথাটি শুনেন,আল্লাহর নবী বলছেন যে,এ কাজটা করার কারণে,তারা ঈমানদারদের দল থেকে খারিজ হয়ে যাবে,তাহলে ঈমানদারের দল থেকে খারিজ হয়ে যাওয়াটার ব্যাপারটা কি ছোট না বড় ? বড় ব্যাপার ।তো আমরা যারা এখানে আছি, সবাই কি এরকম আদব করে চলি ? এই অভ্যাস কি আমাদের আছে ?বরং আফসোস হলো কিছু ভাইয়েরা ঈমান ইসলামের কথার নামে , হক কথা বলার নামে অনেক বেয়াদবি করেন।হক কথা বলতে হবে কিন্তু হক কথা বলতে গিয়ে বেয়াদবি করা না ,হক কথা মানে আরেকজনের সাথে খারাপ ব্যবহার করা না ।হক কথা বলতে হবে মার্জিতভাবে,আদবের সহিত যাতে করে এই হক কথা তার অন্তরে গেঁথে যায়। এটাও একটা দাওয়াতের পদ্ধতি। দাওয়াত দিতে হবে কিভাবে ? আপনি বললেন, ভাই আসেন নামাজ পড়ি একদিন দুদিন তিনদিন বললেন, তারপর কি গালাগালি শুরু করবেন নাকি ! ভাবলেন এতদিন বললাম!! এখন কান ধরবেন নাকি ?না। এর নাম কি দাওয়াত নাকি ? না এটা আপনার কাজ না।আপনারা বলবেন শাস্তির ব্যবস্থা করে দেন।হ্যাঁ শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করবো না।প্রশাসন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।ইসলামি সমাজের যারা প্রসাশক হবেন তারা এটা করবেন।আপনি মুসলমান,আপনার ঘরের সদস্যরা কি হবে ?মুসলমান।এটাই স্বাভাবিক কি বলেন আপনারা ?তাহলে আপনার ঘরের যে আদর্শ সেটা কার নিয়মে হবে ?ইসলামের নিয়মে হবে।বুঝা গেল যে আপনি মুসলমান হলে আপনার পরিবার হবে মুসলমান।এই রকম এক হাজার পরিবার মুসলমান হলে তারা সমাজে বসবাস করলে সেই এক হাজার পরিবার হবে মুসলমান পরিবার।এমনিভাবেই ব্যক্তি পরিবার নিয়ে সমাজ আর সমাজ নিয়েই রাষ্ট্র। তাহলে যে সমাজের মানুষগুলো সত্যিকারের মুসলমান হবে।ঐ রাষ্ট্রটাও মুসলমান হতে বাধ্য হবে হবে।আর যদি না হয় তাহলে বুঝতে হবে “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়“ ।মুসলমানের বাচ্চা হয়েছে সে ঠিকই কিন্তু মুসলমান হয়নি।বলবেন হুজুর এটা কেমন করে হয় ? আমি গালাগালি করছিনা ! মানে মুসলমানের সন্তান হয়েছে কিন্তু তো মুসলমান হয়নি।কারণ আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন সকলকে আলাদা ভাবে মুসলমান হতে বলেছেন,মুসলমানের সন্তান হলে যেমন মুসলমান হওয়া যায় না তেমনি আল্লাহ্ ওয়ালার সন্তান হলেও আল্লাহ্ ওয়ালা হওয়া যায়না, কারণ আমরা দেখেছি আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহিও ওয়াসাল্লাম তাঁরও গ্যাতিগোষ্ঠী অনেকেই জাহান্নামী আবার যাদের বংশ পরিচয়ও পাওয়া যায়না এরকম মানুষও জান্নাতি।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ ! এজন্য বিষয়গুলো বুঝে নিতে হবে।তাহলে বিষয়টা হল ভাইয়েরা দাওয়াত, আল্লাহর কথা বলতে হলে নম্রতা ভদ্রতার সহিত বলতে হবে,বড়দের সম্মান ও ছোটদেরকে স্নেহ করতে হবে।এটা আল্লাহর রসুলের বিধান রসুলের আদর্শ, আদর্শ বলতে সুন্নত,তার মানে এই সুন্নতটা নফল-সুন্নত না, এ আদর্শটা ফরজ আদর্শ। কিন্তু আমরা আপনারা সন্তানদের যে শিক্ষা দিচ্ছি, আমাদের সন্তানরা যে শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, তারা কি এই আদব কায়দা শিখছে ?না । সাধারনভাবে মোটামুটি এখন যাদের পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব বা চল্লিশ ঊর্ধ্ব বয়স আপনারাও ছোট ছিলেন,বড় হয়েছেন স্কুল কলেজে পড়েছেন, তো আপনারা কি ওস্তাদদের গালাগাল দিয়েছেন বলে আপনাদের মনে হয় ? ওস্তাদদের সামনে চোখ রাঙ্গিয়েছেন? মেজরিটি ?না। আশাকরি দেন নাই।ওস্তাদ একটা কথা বললে শুনেছেন।কথা ঠিক কিনা ? জি।কিন্তু আপনাদের নতুন আধুনিক প্রজন্মের যেসব ডিজিটাল সন্তান আছে,ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত আলোকিত সন্তানেরা আপনাদের মত এই রকম আদব কায়দা বজায় রাখতে পারে ? বরং এক্ষণকার শিক্ষকরা উস্তাদরা ছাত্রদের দেখলে টেনশনে থাকে,কখন যেন কি ঘটিয়ে বসে।এ দোষ তো শুধু ছাত্রদের একার না কারণ যারা বিদ্যার আলো ছড়াবেন তিনিই তো অন্ধকার ছড়াচ্ছেন।যিনি শিক্ষক,বিদ্যা শিখিয়ে আলো দেবেন তিনিই যদি ছাত্রকে ঘুষি মারেন তো ছাত্র কি রসগোল্লা খাওয়াবে ? ছাত্র বলবে আপনি যেহেতু একটা মেরেছেন আমি তিনটা মারব অসুবিধার কি আছে ?কথা ঠিক কিনা ? হচ্ছেও তাই।তাহলে এগুলো কেন হচ্ছে ? কারণ দ্বীনি শিক্ষা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই শিক্ষা আপনাদের এই আধুনিক শিক্ষার মধ্যে তো নাই,আছে ? না। এই হাদিস কি ওখানে শিখানো হয় শিক্ষা দেওয়া হয় ? কোথায় শিক্ষা দেওয়া হয় ? মাদ্রাসায়,মক্তবে ভিতরে ছোট ছোট শিশুরা টিনের বেড়ার ভাঙ্গা ঘরে এই হাদিস পড়ে।খুবই নিচু মানের জিনিস অ্যাহ !!!! আর আপনারা যে শিক্ষায় শিক্ষিত করেন ঐ শিক্ষায় তারা শিক্ষিত হয়ে ওইরকম আলো ছড়াচ্ছে।আপনাদেরও সন্তানরা কিছুদিন পর আলো ছড়াবে দেখবেন নাউজুবিল্লাহ।আল্লাহতাআলা আমাদের হেদায়েত করুন,সকলে বলুন আমিন।তাহলে আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন আমাদের শিক্ষা দিলেন আদব কায়দা শৃঙ্খলা বয়স্কদের সম্মান করা,ছোটদেরকে স্নেহ করা, মানুষদের সাথে সৎ আচরণ করা। এগুলো হলো ফরজ ইবাদাত। নফল ইবাদাত না।আমরা সকলে এই ফরজ ইবাদাত করতে রাজি আছি ইনশাল্লাহ? আল্লাহ্ আমাদের সকলকে তৌফিক দেন; সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন।আমি সাধারনত আপনাদের হাত তুলতে বলিনা,কষ্ট দেইনা,এটা ভালো কাজ একসাথে অনেকক্ষণ বসে থাকেন তো মাঝে মাঝে হাত উঠালে একটা এক্সারসাইজ হয়।তবে আমরা বিশ্বাস করি আমরা যে কথা গুলো বলছি আল্লাহ্ রব্বুল শুনছেন,দেখছেন,ফেরেস্তারাও দেখে লিখে রাখছেন কাজেই আপনি হাত তুললেন কি তুললেন না সেটা আমাকে দেখানোর দরকার নাই।ও যেখানে রেকর্ড করা দরকার সেখানে রেকর্ড হয়ে গেল যে,আপনার কানে এ কথাটি বলা হয়েছিল। এখন বলতে পারবেন না যে আল্লাহ্ আমি শুনিনি, জানতে পারিনি।এরকম বলতে পারবেন নাকি যে আল্লাহ্ আমি তো হাত উঠাইনি,হাত তো নামিয়েই রেখেছিলাম বলতে পারবেন ?কাজেই আল্লাহর দরবারে সব পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা একটা কথা বলিনা এরকম যে, “ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ “ বলা হয়না ?তাঁর মানেটা কি ? হুজুররা বলেন যে, আমাদের উপরে পৌঁছানোর দায়িত্ব ছিল আমি বলে দিলাম এখন করবে কি করবেনা সেটা তোমাদের ব্যাপার।আল্লাহ্ তাআলা আমাদের বুঝার তৌফিক দেন।সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন।তাহলে এটাও একটা ব্যাপার।এভাবেই আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন মানব জাতির সেবা করার জন্যে বিভিন্ন বিধান দান করেছেন। যেহেতু মানুষ একা একা থাকবেনা সে তার পরিবার নিয়ে থাকবে,এরকম একাধিক পরিবার মিলে একটি সমাজ গঠন হবে,সেই সমাজ নিয়ে রাষ্ট্র গঠন হবে, এভাবেই রাষ্ট্রের একটা নিয়ম থাকবে, এই সর্ব জায়গায় আল্লাহ্ তাআলা ঐ রাষ্ট্রে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মুসলমান হবে,এটা তিনি জানেন যে হবেনা তারপরও মুসলমানরা রাষ্ট্র পরিচালনা করলে সে রাষ্ট্রে অমুসলমানরা থাকলে তাদের ভিতরেও গরীব দরিদ্র থাকবে, তারাও রাষ্ট্রের সবধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে,সেই বিধানও আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন সেখানেও দান করেছেন সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । এ জন্য ঈমানদারদের প্রশংসা করতে গিয়ে আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলেছেন
কদ আফলাহাল মঅমিনুনাল্লাযিনা হুম ফি সলাতিহিম খ-শিউন ওয়াল্লাযিনা হুম আনিল্লাগবি মঅরিদুন ওয়াল্লাযিনা হুম লিজ্জাকাতি ফা-ইলুন
এভাবে আয়াত আছে, না নাই? ওগুলো আমি আজকে আর আলোচনা করছিনা। তো আল্লাহ্ সফল ঈমানদার কারা তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআলা বলছেন ঐ সমস্ত ঈমানদার সফলতা অর্জন করতে পারবে যারা নামাজে বিনয়ী নামাজ ঠিক মতো আদায় করে ফালতু কথা বলেনা যবানকে হেফাযত করে, এইটার কথা আমি আগেই বললাম আর তারা জাকাত আদায় করে। আপনারা জাকাত কাকে দেন ?জাকাত কাদেরকে দিতে হয় ? ফেরেস্তাদের দিতে হয়? নাকি শুধু মাওলানা,পীর সাহেব, মাদরাসাতে দিতে হয়? কাকে দিতে হয় ?আল্লাহতাআলা জাকাতের বিধান করে দিয়ে আটটি শ্রেণিকে উল্লেখ করে দিয়েছেন। কয়টা শ্রেণি ?আটটি।
ইন্নামাস সদাক-তু লিল ফুকারা-ই ওয়াল মাসাকিনা ওয়াল আ-মিলিনা আলাইহা,ওয়া মুওয়াল্লাফাতি কুলুবুহুম ওয়াফির রিকা-বি ওয়াল গ-রিমিনা ওয়াফি সাবিলিল্লাহি ওয়াবনিসসাবিল
আল্লাহ্ তাআলা আটটি শ্রেণিকে জাকাত দিতে বলেছেন আর জাকাত দিতে হয় কতটুকু ?সেটার জন্য নির্ধারিত সম্পদ লাগবে।নির্ধারিত সম্পদ হলে তার শতকরা ২.৫% জাকাত দিতে হবে।তাহলে এই মানুষের সেবা করার জন্য দুটো সাইড আছে,মানুষের দুটো ধারা আছএ।এক দল হল মুসলমান আরেক দল হল অমুসলমান।আমি আগেই বলেছি যে অমুসলমানরাও আমাদের সমাজে থাকবে। তাহলে তাদের বিধান কি হবে ?আল্লাহ্ তাআলা দুই রকম বিধান দিয়েছেন।মুসলমানদের সেবা করার জন্য একরকম বিধান আবার অমুসলমানদের সেবা করার জন্য আরেক রকম বিধান।আপনারা বলবেন এটা কেমন করে হল ? অমুসলমানদের সেবার জন্য রাষ্ট্রীয় আল্লাহর বিধান হল তাদের ধনী লোকদের কাছ থেকে জিযিয়া আদায় করতে হবে।এখন জিযিয়া গুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে থাকবে।এবার সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় ভাবে এই জিযিয়া গুলো তাদের যে গরীব দুঃখী আছে সেখানে তারা তাদের সেবা করবে ।আর কোন মুসলমান যদি চান তাহলে তিনি কোন অমুসলমানকেও খাওয়াতে পারবেন ,বাড়ি-ঘর বানিয়ে দিতে পারবেন দান করতে পারেন,থাকার জন্য ব্যবস্থা করে দিতে পারেন এগুলো করতে পারেন তবে সেটা জাকাত থেকে দেওয়া যাবেনা।তাতেও তার সোয়াব হবে ইনশাআল্লাহ।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ।নাকি গুনাহ হবে ? তবে হ্যাঁ জাকাত সরাসরি অমুসলমানকে দেওয়া যাবেনা । কিন্তু একজন নতুন মুসলমান হয়েছেন তার আর্থিক অসচ্ছলতা আছে বা অসচ্ছলতা না থাকলেও তাকে যদি টাকা দিয়ে স্টাবলিস্ট করা যায় এতে যদি তার ঈমানটা মজবুত হয় এরকম যদি প্রেক্ষাপট থাকে এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, তাকেও দেওয়ার সুযোগ আছে,তবে এটা নিয়ে ওলামাদের ইখতিলাফ আছে, তো সেই বিস্তারিত আলোচনার দিকে আমি যাবনা।তাহলে এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য পরস্পর পরস্পরের সেবা যেন করতে পারে,সমাজে তারা যেন সুষ্ঠ ভাবে বসবাস করতে পারে সেই বিধান আল্লাহ্ তাআলা দান করেছেন। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ।তাহলে এই আটটি শ্রেণিকে জাকাত দিতে হবে।গরীব,মিসকিন,এতিম,এতিম শুধু বলা হয়নি,কারণ এতিমের অনেকেই আছে ধনী লোক,সব এতিমরা কিন্তু যাকাত নিতে পারেনা।এজন্য সরাসরি এতিমদের কথা এখানে বলা হয়নি।আমরা সাধারনত বাংলাদেশের মানুষরা জাকাত বলতেই মনে করি প্রথমে মনে হয় এতিমকে দিতে হয়, এরকম একটা ধারণা আছে। এই ধারনার পেছনেও কারণ আছে যে, বেশিরভাগ এতিমই গরীব হয়।এটি বেশিরভাগ হওয়ার কারণে সচরাচর জাকাত মানেই এতিমের দিকে একটু টানি।জাকাত মানে এতিমকে দিতে হবে এটা না, আল্লাহ্ বলছেন গরীব মিসকিন অসহায় যার প্রয়োজন মিটানোর কিছু আছে বাকিটা নাই।আবার যার মোটেই কিছু নাই,এই দুই শ্রেণি।আবার এরকম আছেন সংসার চালাতে গিয়ে ঋণ করেছেন তার ইচ্ছা ছিল আশা ছিল শোধ করতে পারবেন কিন্তু তিনি হঠাৎ করে এমন সমস্যায় পড়ে গেলেন যে এই ইনকাম দ্বারা তিনি ঋণ শোধ করতে পারছেন না,এই অবস্থায় তার চলমান ইনকামে সংসার চললেও পূর্বের ঋণ শোধ করার জন্যে আল্লাহ্ তাআলা জাকাতের বিধান রেখেছেন।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ।এরপর যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত উঠানোর কাজ-কর্ম করেন তাদের।আমাদের সমাজের একটা ভুল থিউরি আছে যে আমরা অনেকেই জাকাত দেই, কিছু গরীব মানুষদেরকে এটা ভালো কথা কিন্তু লুঙ্গি, শাড়ি, কিছু মাদরাসায় দেই এগুলোও ভালো কাজ খারাপ না।কিন্তু আমাদের দেখতে হবে যে আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন আটটি শ্রেণির কথা যে বললেন এই দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।আর বণ্টনটা যদি সুষ্ঠভাবে না করা হয় তাহলে জাকাতের যে সামাজিক একটা উপকারিতা আছে সেটা কিন্তু আমরা পাব না।জাকাতের উপকারিতা আছে না নেই ? আছে।উদাহরন স্বরূপ একজনের সারা বছরের আট মাসের খাবারের ব্যবস্থা আছে, বাকি চার মাসের নাই, আপনি যদি তাকে কিছু শাড়ি লুঙ্গি দিলে তাহলে তার সমস্যা কাটলো ? তাহলে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এই লোকটা আট মাস খেতে পারে চার মাস টানাটানি হয়,তাকে চেষ্টা করবেন এমন ভাবে জাকাত দিতে যে, ঐ চার মাস তাকে হাত পাততে না হয়।তাহলে তার প্রবলেমটা সল্ভ হবে ,কিন্তু আমরা এখানে ভুল করি, লাইন ধরিয়ে শাড়ি, লুঙ্গি দেই, মাঝে মধ্যে একটু খাবার খাইয়ে দেই এভাবে দেওয়ার কারণে সমস্যা গুলো কাটেনা,দেখা যায় যে, ঐ গরীব গুলো ২০ বছর থেকে গরীবই থাকছে, মিসকিনরা ২০ বছর ধরে মিসকিনই থাকছে ।তাদের মূল সমস্যা কাটছেনা।কিন্তু আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন যেভাবে জাকাতের ব্যবস্থা করেছেন আমরা যদি সুষ্ঠভাবে জাকাত দিতে পারতাম তাহলে প্রতি বছরই কিছু কিছু লোকেরা নেয়া থেকে অব্যাহতি পেতো।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ।এটা বিশ্বাস হয়, নাকি হয়না ? যেমনটি হয়েছিল খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহ)এঁর সময়।তিনি হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এঁর বংশের ধারাবাহিকতায় তিনি এসেছিলেন।তো উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহ) তার সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে এত সম্পদ ছিল যে, জাকাত নেওয়ার মতো কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। মানে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এত পরিমান জাকাত ছিল যে যেটা দেওয়ার জন্য লোক খোঁজা হচ্ছিল কিন্তু জাকাত নেওয়ার লোকই পাওয়া যাচ্ছিলনা।এরকম ঘোষণা দিতে হতো যে ভাইয়েরা তোমরা কারা জাকাতের হকদার আছো, তারা জাকাত নিয়ে যাও। জনগণও তেমন ছিলেন,তারা হালাল হারাম বেঁচে চলতেন।জাকাতের হকদার না হলে কেউ নিতেন না।একারনে আল্লাহ্ বরকত দিয়েছিলেন। আর আমাদের সমাজে জাকাত দেওয়ার জন্য কি ডাকতে হয় ? মাঝে মধ্যে এমনও হয় যে জাকাতের হকদার না সেও অনেক সময় বলে আমাকে একটু জাকাত দিয়েন, কথা ঠিক না বেঠিক ?যাইহোক তাহলে বুঝা গেল জাকাত ঠিক মতো আদায় করলে,হালাল হারাম বেঁচে চললে আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন সে সমাজে সম্পদে বরকত দেন এবং সে বরকত সমাজের সকলেই পেতে পারেন।গরীব থাকলেও তারা শান্তিতে থাকেন,আল্লাহ্ সেই সমাজে নিয়ামত দেন।এরকমটি হবেনা যে একজন সাততলায় আরেকজন গাছতলায় থাকবে, বরং প্রত্যেকটা মুসলমান সমাজে, ইসলামি সমাজে মোটামুটি মাথা গোঁজার একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ।কিসের মাধ্যমে হবে?যাকাতের মাধ্যমে হবে।তাহলে মানুষের সেবা করতে হলে, আল্লাহতায়ালা বলছেন দান করতে হবে।কী দান করতে হবে?সম্পদ দান করতে হবে।তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে।যারা চাইতে আসবেন ,তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করা যাবেনা।আল্লাহর নবীকে আল্লাহতায়ালা শিক্ষা দিচ্ছেন “ফায়াম্মাল ইয়াতিমা ফালাতাক্বহার,ওয়াআম্মাসা-ইলা ফালাতানহার।আল্লাহর নবীকে আল্লাহতায়ালা শিক্ষা দিচ্ছেন হে নবী ! কোন এতিম আসলে , এতিম দুঃখী বা এরকম কেউ এলে, তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করবেন না। তার সাথে খারাপ আচরন করবেন না। জোড়ে কথা বলবেন না,কর্কশ স্বরে কথা বলবেন না। তার সাথে নমনীয় আচরন করবেন। সকলে বলেন সুবহানাল্লাহ। কেউ আপনার কাছে হাত পেতেছেন,বাবা আমাকে কিছু দেন বা ভাই আমাকে কিছু দেন। আমরা অনেক সময় রাগ করি,বিরক্ত হই। যদি না দেয়ার মত অবস্থা হয়,বলবেন যে বাবা এখন দিতে পারবো না। এ রাগকে, এ বিরক্তি বোধটাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা কিন্তু না করে আমরা বিরক্ত হই, ধমক দেই,রাগ করি। এরকম কাজ আমরা করি না? এটা আমাদের জন্য অনুচিত। আল্লাহতায়ালা কোরআন শরীফে ওহী নাযিল করে আমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন, ওয়াআম্মাসা-ইলা ফালাতানহার কেউ চাইলে তাকে কর্কশ ভাষায় ধমক দিবেন না। এই আদর্শ আমাদের দরকার আছে না নাই? আছে। দরকার আছে না নাই? আছে ।এজন্য এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা এটা বললেন,অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলছেন , ওয়া ফি আমওয়ালিহিম হাক্কুন লিসসা-ইলি ওয়াল মাহরুম
ঈমানদারদের পরিচয়টা আমি আগেই বলেছি,তাদের সম্পদ থেকে যারা কিছু চায় ,তাদেরও হক্ব আছে। সুবহানাল্লাহ বলেন। তাহলে হক্ব আছে মানেটা কী? আপনি যদি আমার কাছে একটা জিনিস রাখেন, তাহলে ঐ জিনিসটা চাওয়ার অধিকার আপনার আছে না নাই ? আছে। আপনি যদি চাইতে আসেন, আপনাকে ওটা সসম্মানে দিব নাকি ধমক দিয়ে দিব ? অ্যাহ ? মনে করুন যদি ধমক দিয়ে দেই তাহলে আপনি ক্ষেপে যাবেন না ? আপনি বলবেন আমার জিনিস আমি তোর কাছে আমানত রেখেছিলাম এখন নিতে এসেছি তুই আমাকে ধমক দিচ্ছিস কেন একথা আপনি বলবেননা !! হ্যাঁ। আল্লাহ্ কি বলছেন দেখেন ওয়াফি আমওয়ালিহিম হাক্কুন লিসসা-ইলি ওয়াল মাহরুম আমি ঈমানদারদের পরিচয় আগেই দিয়েছি, অর্থাৎ তাদের সম্পদের মধ্যে সায়েল ও বঞ্চিতদের হক আছে। জাকাতের ঐ ২.৫% ফরজ যে দান করলেন এটা ছাড়াও তারা যদি কিছু চায় তখনও কিছু দান করা দরকার, উচিত। কোরান হাদিসের দ্বারা বুঝা যায় এটা নফল হলেও দান করাটা দরকার। তাহলে মাহরুম কারা ? আল্লাহ্ বলছেন তাদেরকে দেওয়া হয়নি । মানে এই গরীব দুঃখী তাদেরকে সরাসরি দেওয়া হয়নি,তাদের সম্পদটা তোমার কাছে দেওয়া হয়েছে এজন্য যে, তুমি তার কাছে পৌঁছে দেবে। সুবহানাল্লাহ বলেন ।তাহলে একজন গরীব মানুষ দুঃখী মানুষ,তাকে আল্লাহতায়ালা সম্পদ দেননি ,ওকে টাকা দেওয়া দরকার, কিন্তু ওকে টাকা না দিয়ে তোমার কাছে দিলাম,তুমি এ টাকা তার কাছে পৌঁছে দিবে। আর সে আপনার কাছে চাইতে আসলো তার হক নিতে আসলো,এখন দয়া কি আপনি করে দিলেন নাকি সে নিয়ে আপনাকে দয়া করলো ? গরীব দুঃখী তার জিনিস সে নিয়ে আমার প্রতি দয়া করলো তাই আমি দায়মুক্ত হলাম। এই মন মানসিকতা ঈমানদারের থাকতে হবে যে,আমি জাকাত দিয়ে দয়া করলাম না,গরীবকে সেবা করে দয়া করলাম না বরং সে আমার কাছ থেকে নিয়ে দান সদকা নিয়ে এমন দয়া করলো যে, আমার জান্নাতে যাওয়ার রাস্তাটা সহজ হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ ! এই বিশ্বাস রাখতে হবে। কিন্তু আমরা দান করলেও অহংকারী হয়ে দান করি । কথা ঠিক না বেঠিক ? আমি দান করলাম কিন্তু বাহবা এতো কম হল কেন ? লেখাটা এতো ছোট হল কেন ? একটু মোটা করে লিখলে ভালো হতো। এই টেনডেন্সি আমাদের আছে নাকি নাই ? আছে । হাদিস শরিফে আল্লাহর নবী বলছেন কেয়ামতের দিনে আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন সাত শ্রেণীকে আল্লাহর আরশের নিচে আশ্রয় দান করবেন। এই সাত শ্রেণীর মধ্যে এক শ্রেণী হবে যারা এমনভাবে দান করতো, এতোই গোপনীয়তা রক্ষা করতো যে,নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদাহরন দিচ্ছেন দেখুন, তারা ডান হাত দিয়ে দান করলে বাম হাতটাও জানতে পারেনা। সুবহানাল্লাহ ! অর্থাৎ আমি যে দান করছি একারনে মানুষ আমাকে দানবীর বলুক,বাহবা দিক, আমার নাম ছড়িয়ে পড়ুক, সম্মান দিক। এতো কিছুর দরকার নাই। বরং ঈমানদার দানকারীর বিশ্বাস এমন থাকবে যে, আমি দান করলাম আর আমার আল্লাহ্ দেখছেন এবং তিনিই এর প্রতিদান আমাকে দেবেন। দুনিয়ার কোন মানুষ এর প্রতিদান আমাকে দেবেনা ও আমিও চাইবনা । এই ইয়াকিনের সহিত দান করতে হবে । আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন। বুঝার জন্য আমি আরেকটি হাদিস বলছি, যে এই রকম দান করলে কত নেয়ামত দেখুন, কাউকে খাওয়ালে, একজন অসুস্থ মানুষ তার মাথায় গায়ে একটু হাত বুলালে কত সাওয়াব। আপনারা হয়তো পড়েছেন ক্লাস ফোর বা ক্লাস ফাইভ এর বাংলা বইয়ে একটা কবিতা আছে,ছোট বেলা পড়েছিলাম। সেটা হলো, “ হাশরের দিন বলিবেন খোদা হে আদম সন্তান তুমি মরে সেবা কর নাই যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান, তারপর এরকম আছেনা !যে, “বলিবেন খোদা ক্ষুধিত বান্দা গিয়েছিল তব দ্বারে,মোর কাছে তুমি ফিরে পেতে যদি খাওয়াইতে তারে, আপনাদের মনে আছে কিছু ? এটা কোন বানোয়াট কথা না,এটা হলো আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সারমর্ম কথা। তো ভাইয়েরা রসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন হাশরের দিনে বান্দাকে বলবেন, হে বান্দা ! আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম আমাকে তুমি খাওয়ালেনা ! বান্দা বলবে হে আল্লাহ্! আপনি তো রব্বুল আলামিন, আমি আপনাকে খাওয়াব এটা কি করে সম্ভব ? আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলবেন,শোনো আমার অমুক এক বান্দা তোমার এলাকায় ছিল সে লোকটা ক্ষুধার্ত ছিল তুমি সেটা জানতে কিন্ত খাবার দাওনি যদি তুমি তাকে খাবার দিতে তাহলে ঐ প্রতিদান আজকে তুমি আমার কাছ থেকে পেতে। সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি !!! আবারও বলবেন হে বান্দা ! আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম তুমি কেন আমার তৃষ্ণা মিটালেনা ? বান্দা বলবে হে আল্লাহ্ ! আপনি তৃষ্ণার্ত হবেন এটা কিভাবে সম্ভব ? আল্লাহ্ তখন বলবেন আমার অমুক বান্দা পিপাসায় কাতর ছিল তুমি যদি ঐ বান্দাকে পানি পান করাতে তাহলে আজকে তুমি তার ফল পেয়ে যেতে। সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ!আল্লাহতায়ালা বলবেন,হে বান্দা আমি অসুস্থ ছিলাম,রুগ্ন ছিলাম তুমি কেন আমার সেবা করলেনা ? বান্দা বলবে হে আল্লাহ ! আপনি অসুস্থ ছিলেন, রোগী ছিলেন এটা কিভাবে সম্ভব ! আল্লাতায়ালা বলবেন ,আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল,তার সেবা করলে তুমি আজকে তার প্রতিফল পেয়ে যেতে ।সুবহানাল্লাহ বলেন । রোগী দেখা, মানুষকে খাওয়ানো, তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি পান করানো এসবই এবাদত। শুধু মানুষকে নয় কুকুর,বিড়াল, জানোয়ারের প্রতি দয়া করাও আপনার আমার গোনাহ মাফ হওয়ার কারণ জান্নাতে যাওয়ার উসিলা। সুবহানাল্লাহ !আরেকটি হাদিস বুখারি ও মুসলিমের রেওয়ায়েত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন – একদিন এক লোক মরুভুমি দিয়ে যাচ্ছিলো তার খুব পানির পিপাসা পেয়েছে, তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে যাবার উপক্রম। তো হাঁটতে হাঁটতে সামনে গিয়ে দেখলো একটি কূপ। খুব কষ্ট করে সে পানি খাওয়ার পর উপরে উঠে দেখে এর মধ্যে একটা কুকুর এসে হাযির। মানে এমনভাবে জিহবা বের করে হাঁপাচ্ছে যে,দেখে বুঝা যাচ্ছে কুকুরেও পানির পিপাসা পেয়েছে। এখন এই লোকটারতো পানি পানের হাযত শেষ,এখন সে চলে যাবে কিন্তু কুকুরের এই অবস্থা দেখে লোকটার মনে খুব দয়া হলো, সে চিন্তা করলো যে একটু আগে তো আমার এমনিই অবস্থায় কষ্ট হচ্ছিলো তাহলে নিশ্চই কুকুরের এমনি কষ্ট হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ!এটা হাদিসের কথা, আমি বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছিনা আল্লাহর নবী বলছেন।এর পর লোকটি আবার সেই কূপে নামলো বুঝলেন কি না ?চাট্টিখানি কথা নাকি কুকুরের জন্য কূপে নামা ? এ তো আর আধুনিক যুগের কূপ না যে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার ব্যবস্থা আছে।আল্লাহর রসূল উদাহরন দিচ্ছেন ভালো করে বুঝেন !আল্লাহর রসুলের কথা, প্রত্যেকটি বিষয় আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। এজন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “ বুইছতু মুয়াল্লিমান “ মানে হল আল্লাহ্ আমাকে শিক্ষক করে পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! একজন শিক্ষক যেমন তার ছাত্রকে বুঝানোর ক্ষেত্রে ব্ল্যাক বোর্ডে আঁকিয়ে এরপর দাঁড়িয়ে,বসে শুয়ে কত রকম করে উপমা দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেন, তেমনি আল্লাহ্ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেরকম দিতেন।সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ ! তো যাইহোক আল্লাহর রসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, ঐ লোকটা আবার কুকুরকে পানি খাওয়ানোর জন্য কূপে নামলো, কিসে করে পানি খাওয়াবে, এখন নিজের চামড়ার মোজা খুলে তার মধ্যে পানি ভরানোর পর দেখল পানি নিয়ে যদি উপরে সম্ভব হচ্ছে না, এক হাত দিয়ে তো আর উপরে ওঠা যায়না এখন সে পানি ভরা মোজাটা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে হাত পা ব্যবহার করে বেয়ে কূপ থেকে উপরে উঠল, কার জন্য ? কুকুরের জন্য। কুকুর তাকে সেলিউট দেবে ? ৫০০ টাকা দেবে ?স্যার বলবে ?না। কি বলবে ,কিছুই বলবেনা। তাহলে কেন এতো কষ্ট করছে কারণ আল্লাহর একটা অবলা প্রাণী কষ্ট পাচ্ছে সে জন্য।আল্লাহর নবী বলছেন, আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন ঐ লোকটির কুকুরের প্রতি দয়া করা দেখে,আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত তার প্রতি দয়া করে তার গুনাহ গুলোকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাত নির্ধারণ করে দিলেন।সুবহানাল্লাহ !! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ভালো করে শিখেন।আর আমরা সেই নবীর উম্মত দাবীদার, মুসলমান দাবীদার কিন্তু জীব-জানোয়ার তো দূরের কথা নিজের মা-বাবাও নিজের কাছে হেফাযতে থাকেন না।কথা ঠিক না বেঠিক ? তাও আবার তারা গন্ডো মূর্খ না।আমি শুধু বাংলা ভারতের কথা বলছিনা।মুসলমানদের সন্তানদের বর্তমান প্রজন্ম যারা হচ্ছেন আরব দেশ বলেন ইউরোপ বলেন যারা ঐ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন, এই শিক্ষিত অনেকেই তারা বাবা-মার সাথে দুর্ব্যবহার করে, কেন করে ? আপনারা আমার উপর রাগ করবেন না, আমি কোন নির্দিষ্ট শ্রেণির কথা বলছিনা ।মানে এই শিক্ষা যারা পাননি ।যারা মাদরাসায় পড়েছেন বা পড়েননি কিন্তু আলেম ওলামাদের,ভালো মানুষদের ওয়াজ শুনে শিখেছেন কিন্তু তাদের সিলেবাসে তো এরকম নবীর কথা, কোরানের কথা,পিতা মাতার কর্তব্য কি, কিভাবে কথা বলতে হবে এই কথা গুলো কি তাদের সিলেবাসে আছে ? না।নাই।কোরানে যেভাবে আছে সেভাবে নাই।যতটুকু আছে তা এই ডোজে অসুখ সারবেনা।প্রাপ্ত বয়স্কদের ডোজ আর অপ্রাপ্তদের ডোজ দুটো কি এক রকম নাকি ? না।মনে করুন আপনার বয়স এখন ২৫/৩০ বছর আপনার লাগবে ৫০০মিলিগ্রামের জায়গায় যদি ২০০ মিলিগগ্রামের ঔষধ দিই তাহলে কি আপনার রোগ ভালো হবে ?না। ভালো হবেনা।তাহলে আমাদের এই প্রজন্মকে সঠিক দ্বীন শিখানোর জন্যে, মানবতা শিখানোর জন্যে যে পরিমান কুরআন হাদিস শিখানো দরকার সেটা যদি আমরা না দিই তাহলে আমাদের সন্তানেরা আধুনিক শিক্ষার নামে শিক্ষিত হবে,ডাক্তার হবে ,ইঞ্জিনিয়ার হবে,উকিল হবে ,ব্যারিস্টার হবে,বড় বড় অফিসার হবে কিন্তু তারপরেও দেখা যাবে যে,তারা খুনি হবে ,জেনাখোর হবে,মদখোর হবে,জুয়াখোর হবে,সন্ত্রাসী হবে ।এগুলো থেকে বাঁচানোর জন্যে কুরআন শিক্ষা আগে দিতে হবে।আপনার আমার সন্তান বুঝ হওয়ার পর থেকে যদি পড়তো
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
“ আল্লাহু আকবার। এই আয়াত ছোটবেলা থেকে যদি শেখাতেন যে আল্লাহ্ তাআলা বলে দিয়েছেন যে বান্দারা তোমাদের প্রতি আল্লাহর বিধান হলো এই যে তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া কারো ইবাদাত করবেনা ,আর তোমরা তোমাদের পিতা মাতার সহিত ভালো আচরণ করবে, ভালো ব্যবহার করবে।এই ভালো ব্যবহারটা কেমন হতে হবে ?আল্লাহ্ তাআলা আবারও বলছেন তোমাদের পিতা মাতা এর মধ্যে একজন অথবা দুইজনই এমন বয়স্ক বার্ধক্যে পৌঁছে যায়,এরকম হায়াত যদি তাঁরা পান আর এ অবস্থায় যদি তোমাদের কাছে থাকেন তোমরা তাঁদের সাথে খবরদার “ উফ’“ কথাটা বলেও বিরক্তবোধ করবেনা প্রকাশ করবেনা। সুবহানাল্লাহ।এরপর বলা হচ্ছে “ ওয়ালা তানহার হুমা “ তাঁদেরকে ধমক দেবেনা। এখন বুঝেন- মানে, আপনার আব্বা আম্মা যখন মধ্য বয়সী তেজি থাকবেন তখন কি তাঁরদের সাথে উফ বা উল্টো কথা বলতে পারবেন ?না।যদি বলতেন তো উল্টো তখন মার খেতেন।কথা ঠিক না বেঠিক ! এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছেন,শয্যাশায়ীর মতো হয়ে গেছেন।রোজগার আপনি করছেন,মনে করছেন আমিই তো সব করছি ।বাবার এখন পারিবার চালানোর মতো শক্তি নেই মা বাবা যদি বলেন বাবা এটা আমার দরকার আপনি তখন কি বলছেন ?বলছেন, উফ এখন বিরক্ত করোনা তো !!!!! নাউজুবিল্লাহ।নাউজুবিল্লাহ বলেন।আমাদের এই ব্যরাম আছে না নাই ? আছে।খবরদার ! যতই তসবি টিপেন, পাগড়ী পরেন, জোব্বা গায়ে দেন বাবা মা যদি একটু কষ্ট পেয়ে যান তাঁরা হয়তো মুখে কিছু বলবেন না, তাহলে আপনার সব বরবাদ।এ ব্যাপারে আরেকটি হাদিস শুনুন, এক ব্যক্তি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রসূল আমার ভালো ব্যবহার ও খেদমত পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকার কোন মানুষের ? তিনি বললেন তোমার আম্মা তোমার ভালো ব্যবহার ও খেদমত পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার। ঐ ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করলো এরপর কে ? দ্বিতীয়বার তিনি বললেন এরপর তোমার আম্মা।এরপর আবারও ঐ ব্যক্তি তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করলো এরপর কে ?তিনি বললেন তোমার আম্মা।ঐ ব্যক্তি চতুর্থবার জিজ্ঞাসা করলো এরপর কে ? এবার তিনি বললেন, এরপর তোমার আব্বা। কোরআন হাদিসের কথা দেখুন… কত ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলা হচ্ছে।এই হাদিসে তিন বার মায়ের কথা বলা হল,কারন সাধারনত বাবা মার অবাধ্য যারা হন মানে আমি তুলনা মূলক বলছি, মায়ের অবাধ্য মানুষ বেশি হয়।মায়ের সাথে মানুষ তুলনা মূলক বেশি খারাপ ব্যবহার করেন।বাবার সাথে সবসময় করা যায়না বা সব বাবার সাথে সম্ভব হয়না।কারণ পুরুষ মানুষ কিছুটা হলেও তেজ থাকে।মায়ের দরদ থাকে, একটু নরম স্বভাবের হয় তাই মাকেই সবাই পেয়ে বসে। এজন্য আল্লাহর নবী বারবার বললেন মায়ের কথা বলে সাবধান করলে দিলেন। কারণ বাবার সাথে তো সবাই পারেনা।বুড়ো হয়ে গেলেও তেজ কিন্তু থাকে,তাই তার প্রতি সন্তানদের ভয় থাকে যদি আবার সম্পদ না দেয়, আমার সম্পদ ছোট ভাইকে দিয়ে দেয়। অন্য কোন ভয় না থাকলেও তো এই ভয়টা আছে, কিছুটা সমীহ করে।কি বলেন আপনারা ? জি।কিন্তু মা তো কিছুই করবেনা।এজন্য মনে করে মা হল দাসী,তিনি ওভাবেই থাকবেন।নাউজুবিল্লাহ।এ কারণটাও কেয়া মতের একটা আলামত যে, দুর্ব্যবহার করতে করতে এমন তারা দুশ্চরিত্রের হবে যে কৃতদাসীর সাথে যেমন আচরণ করা হয় মায়ের সাথে তেমন আচরণ করবে।এসব বলতে গেলে অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে হবে।তো এটা একটা কেয়ামতের একটা আলামত,যেটা আমাদের সমাজে আছে।আছে না নাই ? আছে।আমরা যারা এখানেই বসে আছি খুব ভালো মুত্তাকি পরহেজগার আছি,এরকম নামধারী যারা আছি,আমাদের যাদের দোষ আছে।এই দোষ থেকে মুক্ত হতে হবে।আমরা রাজি আছি ? আল্লাহর কাছে আমরা তাওবা করি,আল্লাহ্ কাছে ফরিয়াদ করি,আল্লাহ্ আমাদের এই দোষ গুলোকে দূর করে দেন।সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমীন।ভাইয়েরা, তাহলে মানুষের সেবা করতে গেলে প্রথম হল মা বাবা,আত্মীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী এভাবে প্রত্যেক ধারায় আমাদের আশেপাশের প্রত্যেকটা মানুষের কল্যাণ করা ও আমার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হোক,এইদিকে খেয়াল রাখাটা ঈমানদারের একটা ফরজ কর্তব্য। ফরজ কর্তব্য নাকি নফল কর্তব্য ? ফরজ। আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বলছেন “ ওয়া আতিযাল কুরবা হক্কাহু ওয়াল মিসকিনা ওয়াবনাস সাবিল ওয়ালা তুবাজ্জির তাবজিরা “ সুবহানাল্লাহ নাল্লাহ।হ্যাঁ …… আল্লাহ্ তাআলাও আবার শিখিয়ে দিচ্ছেন, সুবহানাল্লাহ।মানে তোমার আত্মীয় স্বজন,গরীব মিসকিন যারা আছে,তাদের হক ঠিক মতো দিবে তবে হ্যাঁ,হক দিতে গিয়ে দান খাইরাত করতে গিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করবেনা।আমার মতো এরকম মোল্লা সাহেব হলে বলবেন, আল্লাহ্ দান করতে বলেছেন তাই ঘরের সব দিয়েদিলাম,এবার মাথায় হাত দিয়ে চিন্তা করতে হয় যে একি করলাম।না না না দান সেরকম করবেন না।এখানে আল্লাহ্ কি বলছেন ? ওয়ালা তুবাজ্জির তাবজিরা “অপচয় করবেনা,অর্থাৎ যে সব দিওনা, নিজের দিকেও খেয়াল রাখবে। “ ওয়ালা তাবসুত ইয়াদাকা মাগলুলাতান ইলা উনুকিকা ওয়ালা তাবসুথা কুল্লাল বাস্তি ফাতাকউদা মালুমান মাহসুরা “ অর্থাৎ তুমি টাকা পয়সা একেবারে কুক্ষিগত করে রেখো না,মানে সব আমার লাগবে এটাও করবেনা, আবার দান খাইরাত করবে কিন্তু দান করতে গিয়ে আবার সব দিয়ে দিওনা তখন আবার হাইহুতাশ করবে।পরিকল্পনা করবে সকলে বলুন সুবহানাল্লাহ । ঈমানদার বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করবে।আবেগে হালাক হবেনা।আমার দাদা হুজুর (রাহ.) বলতেন যে, বাবারা আবেগে হালাক হবেনা।ভালো করে বুঝেন।আবেগকে আকল দিয়ে জ্ঞান দিয়ে কন্ট্রোল করতে হবে।আবেগ আছে এটা করব সেটা করব,আল্লাহ্ জন্য জান দেব, তার মানে কি ? আপনি গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলবেন ? না। আল্লাহর জন্য জান দিতে হবে,এখানে থাকলে পাপ হচ্ছে ,আমাদের কথা কেউ শুনছেনা ,তাই তারা অনশন করে,ধর্মঘট করে ।তো আমি একটা নতুন জিনিস চালু করি।আপনারা খুশি হবেন কিনা ? কাজটা, হল আপনারা মসজিদের বড় বড় মিনারে গিয়ে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়বেন, এভাবে এই সমস্ত অপরাধের প্রতিবাদ করবেন।সবাই রাজি আছেন তো ? না ।আরে ভাই আল্লাহর জন্য তো আমি মরতে বলেছি ! তো না খেয়ে যেমন কষ্ট করেন, আমি যেরকম শিখিয়ে দিলাম এভাবে আল্লাহর জন্য আপনারা দুএকজন মরে যান।তাহলে যারা উল্টো পাল্টা করছে,অন্যায় করছে তাদের টনক নড়বে। কি বলেন আপনারা ? আমরা এরকম কিছু মানুষ আছি তারা আবেগে হালাক হচ্ছি।দ্বীনের মৌলিক বিষয় গুলো ঠিকমত ধরে না রেখে আনুষঙ্গিক ব্যাপার গুলো নিয়ে আবেগে এমন এমন উল্টোপাল্টা কাজ করছি যে, ভালো ফল হওয়ার থেকে ক্ষতিটাই বেশি হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন।সকলে বলুন আল্লাহুম্মা আমিন।তো ভাইয়েরা,আল্লাহ তাআলা আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশিদের কথাও বললেন যে, যারা আপনার প্রতিবেশি আছেন তাদের প্রতিও আপনাকে সদয় হতে হবে,খোঁজ খবর নিতে হবে ।সুবহানাল্লাহ। এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত, তারা মুসলমানদের দল ভুক্ত না, যাদের প্রতিবেশি তার থেকে হেফাযতে থাকেনা।যারা প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়,মানে যেটা সবার সবার চলাফেরার জায়গা,একই সোসাইটি যেখানে সবার সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে, সেই জায়গা আমারা অনেক সময় শক্তি খাটিয়ে বলপ্রয়োগ করে নিজের মত ব্যবহার করি। তাতে অন্যদের ক্ষতি হয় অসুবিধা হয়। এরকম কাজ আমারা করি কিনা ?করি। এতা হালাল কাজ না হারাম কাজ ? হারাম। সামাজিক জ্ঞান থাকা, এটাও একজন ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। জরুরী বিষয়।আপনার কারনে একজন রাস্তায় হাঁটতে কষ্ট পেল, বাসা বাড়ীতে থাকতে অসুবিধা হল, আপনার কথার কারণে আপনার প্রতিবেশির কষ্ট হল, এরকম করলে কবিরা গুনাহ হবে ।পক্ষান্তরে আমাদের চলার পথে বা প্রতিবেশিদের বা মানুষের ক্ষতি হবে, মানুষ কষ্ট পাবে এমন জিনিস যদি আমি সরিয়ে দেই তাহলে নবী বলছেন যে, সে আমলটাও জান্নাতে যাওয়ার অসিলা হয়ে যাবে ।সহিহ হাদিস। আল্লাহর নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে একজন মানুষ রাস্তা দিয়ে হাটছিলেন তিনি দেখতে পেলেন যে একটা কাঁটা রাস্তায় পরে আছে, তিনি সরিয়ে দিলেন যাতে মানুষের পায়ে না লাগে ।মানে ঐ জায়গাটাকে তিনি নিরাপদ করে দিলেন।আল্লাহর নবি বললেন, এই যে লোকটা কাঁটা সরিয়ে দিয়ে মানুষকে ক্ষতি থেকে বাঁচালো এ জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার গুনা গুলোকে ক্ষমা করে দিলেন ।সুবহানাল্লাহ। তাহলে আল্লাহর নবি আমাদেরকে কি শিক্ষা দিলেন ভাল করে বুঝে নেন।এভাবে আমাদের দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা এ কাজগুলো যারা করি,নফল ইবাদাত করি নামায আদায় করি রোযা পালন করি, এগুলোতে তো সাওয়াব আছেই। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন নফল ইবাদাত করে আমরা যেমন সাওয়াব পাই এমনি ভাবে কোন মানুষ যদি তার ফরয ইবাদাত ঠিক রাখে এরপর নফল নামায, রোজা করলে যেমন সাওয়াব পায় এমনি ভাবে কেউ যদি শুধু মানুষের উপকার করে তাহলে সে নফল নামায, রোজা করে আল্লাহর নিকট যে মর্যাদা সাওয়াব পায় তেমনি মর্যাদা সাওয়াব আল্লাহ তাকে দান করেন। সুবহানাল্লাহ ।আরেকটি হাদিস শুনুন, আল্লাহর নবিকে প্রশ্ন করা হল হে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব থেকে উত্তম কর্ম কি ? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন উত্তম আমল উত্তম কর্ম হল ভাল ব্যবহার।মনে করুন একজন মানুষ আপনার কাছে আসলো আপনি তার শাথে একটু হেসে কথা বললেন ভাল ব্যবহার করলেন এতে মানুষটি খুশি হল। আবার কারো মন খারাপ ছিল কিন্তু আপনি তাকে এমন কথা বললেন যে তার মন ভাল হলো যদিও আমার আপানার কাছে এই কাজটা অতি সামান্য মনে হচ্ছে কিন্তু নফল নামায তাসবিহ পরে আপনি যে সাওয়াব অর্জন করেন এই কাজের কারনেও আল্লাহ রব্বুল আলামিন আপনার নামায়ে আমলে ঐ রকম সাওয়াব দান করবেন। নবির উম্মত হয়ে কমবেশি যে ইবাদাত গুলো করি তার ভিতরতো ত্রুটি আছেই এরপর আমরা নবির উম্মত হয়ে নবির আখলাক নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলাম না। আফসোস !!! সাধারন মানুষতো দুরের কথা আমরা নামধারী যারা আলেম ওলামা আছি, আমাদের ভিতরেও অনেক ত্রুটি রয়ে যাচ্ছে। আমরা মানুষ, আমাদের ভুল হবে না সেটা বলছিনা কিন্তু আমাদের মধ্যে থেকে এই ত্রুটি গুলো দূর করার চেষ্টা থাকতে হবে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখলাক আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।শুধু পাগড়ী,মেসওয়াক,আতর-সুরমার ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকবনা বরং আমার আচরণে ব্যবহারে কেউ যেন কষ্ট না পায়।এমন কি ওয়াজ মাহফিলের সময়ও লক্ষ্য রাখবেন । আপনি মানুষকে ওয়াজ শুনাবেন এমনভাবে মাইক বাজাবেন না যাতে করে এলাকায় যদি কোনো অসুস্থ মানুষ থাকে তাদের ক্ষতি হয় , স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী আছে তাদের লেখা পড়ার সমস্যা হয় এদিকেও লক্ষ্য রাখার নিয়ম আছে, আছে না নেই ? আছে। আমাদের মতো অনেক মাওলানা সাহেব পীর সাহেব বলবেন আল্লাহর কথা মানুষকে শুনাবো তাতে দোষটা কি !! এরকম কথা আমরা বলি। হ্যাঁ আল্লাহর কথা শুনাবেন সেটা ঠিক আছে কিন্তু একজন মানুষ ঘুমিয়ে আছে তাকে তো শুনানোর কথা আল্লাহতো বলেন নাই।কথা ঠিক না বেঠিক ? ঠিক। স্বাভাবিক একটা সময় হলে সেটা ঠিক আছে। আবার মাইক এমন লাগালেন প্যান্ডেলের ভিতরে মানুষ মোটে দশ বিশ জন আর সারারাত মাইক বাজলো ৩০ টা মানেটা কি হল অর্থাৎ যারা রাতে ঘুমাতে চেয়েছিল তারা ঘুমাতে পারলোনা ।খুব সাওয়াব হচ্ছে নাকি ?? আর আমরা হুজুররা মনে করছি খুব সাওয়াব হচ্ছে ।আমাদেরও ব্যরাম আছে।সরষের ভিতরেও ভুত আছে এই জন্যই তো ভুত ছাড়েনা। সরষের ভিতরে ভুত থাকলে সে ভুত ছাড়েনা এই গল্প শুনেছেন ? আপনাদের কি কষ্ট হচ্ছে নাকি ? না।হ্যাঁ আমি বুঝতে পারছি আমাদের এই কথা পছন্দ করছেন না। আপনারা চান এমন যে, অমকের চামড়া খুলে নেব আমরা ।কি বলেন আপনারা অ্যাঁ ?? মিষ্টি মিষ্টি ওয়াজ কি আর ভালো লাগে ? হ্যাঁ আল্লাহ রব্বুল আলামিন জিহবা দিয়েছেন নরম করে তাই কথাও নরম করে আর হাত দিয়েছেন শক্ত করে তাই হাতের কাজ করতে হবে শক্ত করে। কিন্তু আমরা হাতের কাজ করি নরম নরম ভাবে আর বলি বড় বড় গরম কথা,অ্যাঁ !!! এজন্য আমার আব্বা হুজুর রসিকতা করে বলতেন বিশাল বড় যোদ্ধা সাইকেলের টায়ার পাংচার হলে বেচারা হার্টফেল করে বসে থাকে। এরকম হলে হবেনা। সাহাবায়ে কেরাম মুজাহিদ ছিলেন রাত জেগে ইবাদাত করতেন। তাঁদের বর্ণনা পড়লে বুঝা যায় তারা কেমন ছিলেন।তাবে’ই গন তাঁদের সম্পর্কে বলছেন “ কা-নু রুহবা-নান বিল লাইল ফুরসা-নান বিন নাহার ” তাঁদেরকে রাতে দেখলে মনে হবে সন্ন্যাসী কথার কথা, আর দিনে তাঁদের দেখলে মনে হবে অশ্বারোহী তথা যোদ্ধা ।মানেটা হল এরকম যে, যারা অশ্বারোহী অবস্থায় তাঁদের দেখেছেন তারা মনে করতেন তাঁরা জায়নামাজে বসার সময় পান না আর যারা তাঁদের জায়নামাজে দেখেছেন তাদের মনে হবে তাঁরা জীবনে কারো সাথে কথা বলতেও জানেনা।সুবহানাল্লাহ।আমাদেরও এমন হতে হবে। আর আমরা কেমন ? যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালাবো আর মাঠে ময়দানে এসে বড় বড় লেকচার দিবো।এই হয়ে গেছে মুসলমানের দশা।এটা থেকে উঠতে হবে। আখলাক চরিত্রকে গড়তে হবে।ইসলামে যুদ্ধ আছে জেহাদ আছে কিন্তু বিশ্বাস রাখেন,সিরাত পড়েন, ইতিহাস পড়ে জেনে নেন ইসলাম প্রকাশ পেয়েছে চরিত্র দ্বারা আদর্শ দ্বারা ।তলওয়ার জেহাদের দ্বারা প্রকাশ পায়নি। ওটা ইসলামের একটি বিষয়। নিঃসন্দেহে আমরা স্বীকার করবো ।কিন্তু ওটা মূল বিষয় না। কথা বুঝলেন কিনা ? আমরা অনেকে দ্বীনই কাজ করতে গিয়ে আমাদের ফরজ আমানতকে অনেক সময় নষ্ট করি।চাকরি করি বেতন নিই অথচ ঠিকমত ডিউটি না করে দ্বীনই কাজ করতে যাই।খুব ভাল কাজ হচ্ছে ?হ্যাঁ আপনি দ্বীনই কাজ করবেন সুযোগ বুঝে ছুটি নিবেন কাজ করবেন ঠিক আছে। কিন্তু নিজের ফরজ দায়িত্ব বাদ দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে দ্বীনই কাজ করতে আল্লাহ তাআলা বলেন নাই।এজন্য বান্দার হক, পিতা মাতার হক, আত্মিয়ের হক, পড়া- প্রতিবেশির হক, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সেবা করা।তারা শান্তিতে থাকুক সেই ব্যবস্থা করা এগুলো মুসলমানদের দায়িত্ব কর্তব্য। এর সাথে আমরা আচার-ব্যবহার,চরিত্রকে ঠিক করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে সকলকে তৌফিক দিন। আমীন ।
