গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

ইসলাম প্রচারের অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন

ফুরফুরার মরহুম পীর সাহেব (রহ:) ইসলাম প্রচারের জন্য খোদায়ী সংগঠন জামিয়তুল মুসলিমীন হিযবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ সংগঠন পথহারা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকার জন্য সদা নিয়োজিত রয়েছে। সমগ্র বিশ্বে এ সংগঠন হেদায়াতী কাজকে সম্প্রসারিত করার জন্য এক ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে এবং সংগঠন যথেষ্ঠ অগ্রগতি সাধন করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫টি জেলা, ৩২৫টি উপজেলা, ১৫৫টির মত ইউনিয়ন এবং ১২,০০০ এরও বেশী গ্রামে এ সংগঠনের মাধ্যমে হেদায়াতী কাজ চলেছে। এ সংগঠনের আওতায় ৭টি অংগ সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। অংগ সংগঠনগুলো হচ্ছে ১. তালিমী জামাত (মুরিদদের জন্য) ২.ফাতেমা জামাত (পর্দানশীন মহিলাদের জন্য) ৩.হিযবুল্লাহ হিলফুল ফুযুল (ছাত্র ও যুবকদের জন্য) ৪.আঞ্জুমানে ওয়ায়েজীন (ওয়ায়েজীনদের জন্য) ৫.জমিয়তে ওলামায়ে হানাফিয়া (আলেমদের জন্য) ৬.হিযবুল্লাহ তাবলীগ ইসলামী কাফেলা (ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য) ৭.সিদ্দিকীয়া বিশ্ব ইসলাম মিশন কুরআনী সুন্নী (মানবসেবামূলক কাজের জন্য) দ্বীনি সংগঠন জমিয়তুল মুসলিমীন হিযবুল্লাহর কেন্দ্রীয় দপ্তর মার্কাজে ইশাআতে ইসলাম, দারুস্সালাম, মীরপুর, ঢাকায় অবস্থিত। এ মার্কাজকে কেন্দ্র করেই তামাম বিশ্বে এ সংগঠন দীন প্রচারের কাজ করছে। বিগত বছরগুলিতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে শাখাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বহু মার্কাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব কেন্দ্র মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, কুতুবখানা প্রভৃতি স্থাপন করা ছাড়াও দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে আরো বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেসব মার্কাজ এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তাদের মাঝ থেকে কয়েকটি জেলা মার্কাজের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। যেমন : ১. ঢাকা (দারুস্সালাম) ২. নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা) ৩. মুন্সীগঞ্জ ৪. নেত্রকোণা ৫. ফরিদপুর ৬. রাজবাড়ি ৭. চাঁদপুর ৮. ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ৯. চট্টগ্রাম ১০.ফেনী ১১. লক্ষ্মীপুর / রায়পুর ১২. ঝিনাইদহ ১৩. চুয়াডাঙ্গা ১৪. মেহেরপুর ১৫. খুলনা ১৬. কুষ্টিয়া ১৭. মাগুরা ১৮. পাবনা (পাকশী) ১৯. রাজবাড়ী ২০. নওগাঁ ২১. রংপুর ২২. ঠাকুরগাঁও ২৩. গাইবান্ধা ২৪. দিনাজপুর ২৫. ঝালকাঠি ২৭. ২৮. ২৯. ৩০. ৩১. ৩২. ৩৩. ৩৪. ৩৫. ৩৬. ৩৭. ৩৮. ৩৯. ৪০. আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পর্যুদস্ত [যেমন বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি], যুদ্ধবিধ্বস্ত, সর্বশান্ত, এতিম, নিরাশ্রয়, অনাথ, বিধবা, দুস্থ, ঋণগ্রস্থ, কন্যাদায়গ্রস্থ, পীড়িত ও অভাবগ্রস্থের অভাবমোচন ও পুনর্বাসনের জন্যে ফুরফুরায় পীর সাহেবের বিভিন্নমুখী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। হযরত পীর সাহেবের প্রতিষ্ঠিত সিদ্দিকীয়া বিশ্ব ইসলাম মিশন কুরআনী সুন্নী জমিয়াতুল মুসলিমীন হিযবুল্লাহ সংগঠনের মূল লক্ষ্যই হল ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে আর্তমানবতার সেবা করা। বাংলা-ভারতের বিভিন্ন স্থানে এ সংগঠনের মাধ্যমে অনেক এতিমখানা, দাতব্যচিকিৎসালয়, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ইত্যাদি পরিচালিত হচ্ছে।