গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

হযরত বড় হুজুর (রহ.) মুসলমানদেরকে সতর্কীকরণ-

হযরত বড় হুজুর (রহ.) মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, খুব হুঁশিয়ার! মুসলিম ঐক্য ছিন্ন করে ইসলামকে ধ্বংস করার মানসে বাতেল শক্তি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে উঠে পড়ে লেগেছে। এমতাবস্থায় নিজেদের মধ্যে সামান্য বিষয়ে মতবিরোধ না করে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ় হস্তে ধারণ করুন। সর্ব উন্নতির পথ হচ্ছে ইত্তেফাক (একতা)। সেজন্যই আল্লাহতায়ালা কুরআনপাকে বলেছেন ওয়াতাসিমু বিহাব লিল্লাহি জামীআও ওয়ালা-তাফাররাকু।অর্থাৎ আয় আমার বান্দারা, তোমরা আল্লাহর রশি মজবুত করে ধরো। আল্লাহর রশি কুরআন, আল্লাহর রশি ইসলাম, আল্লাহর রশি আমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই তিন রশিকে তোমরা মজবুত করে ধরো।……যেথায় স্বার্থ সেথায় দল। যেথায় দল সেথায় অশান্তি, অবনতি। যেথায় দল-সেথায় ধ্বংস। যেথায় ইত্তেফাক সেথায় শান্তি ও উন্নতি। আজ আমাদের রাজনীতিতে শতদল, সমাজনীতিতে শতদল, ধর্মনীতিতে বহু গল। এই অবস্থায় আবার শান্তি? এই ধ্বংস আর অশান্তির পথে চললে কখনও শান্তি আসতে পারে না। যতদিন না দলাদলি মিটবে, ততদিন শান্তি পাবে না, কখনই পেতে পারে না।…… (টেপ রেকর্ড থেকে সংগৃহীত বক্তৃতা, দিওয়ান মুহম্মদ ইব্রাহীম তর্কবাগীশ, পৃঃ ২৩৬, ২৬৬, ২৬৭, ২৭২)। তিনি আরও বলতেন, দুনিয়ায় লক্ষ লক্ষ মসজিদ আছে। সব মসজিদে ইমাম কি একজন? লক্ষ লক্ষ মসজিদে লক্ষ লক্ষ ইমাম থাকে। ঐরূপ দুনিয়ার সোয়াশ কোটি মুসলমানের মধ্যে অসংখ্য নেতা থাকবে। কিন্তু যে যেই নেতার অনুসারীই হোক না কেন, সবাই পরস্পর ভাই ভাই। দুনিয়ার কোটি কোটি মুসলমানের কোটি কোটি নাম। নাম আলাদা আলাদা হওয়ায় চিনতে সুবিধা হয়। কিন্তু নাম ভিন্ন হলেও মানুষ হিসেবে সবাই সমান। ঠিক তেমনি, কে কোন্ নেতার অনুসারী তা চেনার জন্য দেওবন্দী, জৈনপুরী, ফুরফুরাভী ইত্যাদি নাম হয়তো হতে পারে, কিন্তু মুসলমান হিসেবে সবাই ভাই ভাই। নামে ভিন্ন হলেও যেমন হাকীকতে ইনসান এক, তেমনি বিভিন্ন নেতার অনুসারীদের ভিন্ন নামে ডাকা হলেও তারা সবাই এক,সবাই ভাই ভাই। হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) এর উপর একদল আলেম কাফের ফতোয়া দিলে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) যদি মুসলমান না হন তবে তো উপমহাদেশের কেউ মুসলমান নন। শুনে রেখে দাও, আমি দুজনের মতে চলি। একজন হলেন আমার ওয়ালেদ সাহেব মোজাদ্দেদে জামান (রহ.) আর অপর জন হলো হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)। হযরত জামান বড় হুজুর (রহ.) তাঁর সমসাময়িককালের সমস্ত হাক্কানী আলেম ও পীর-মাশায়েখগণকে বরহক্ব বলে জানতেন এবং তাদেরকে পূর্ণ সমর্থন করতেন। তিনি দলাদলি বা ফেরকা পোরস্তী না করে সবাই মিলে-ঝিলে কাজ করার পক্ষপাতি ছিলেন। তিনি কোন দিন কোন হাক্কানী পীর-মাশায়েখের কুৎসা রটনা করেননি। কাউকে এরূপ করতে দেখলে তিনি কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। ওয়াজের ভেতর অনেক আলেম ও পীর-মাশায়েখ বিভিন্ন দলের নাম উল্লেখ করে তাদের দোষত্রুটি ও কুৎসা বর্ণনা করে থাকেন। এতে মুসলমানদের মধ্যে দলাদলি ও ফেরকা পোরস্তী আরও জোড়দার হয়। তাই হযরত বড় হুজুর (রহ.) কখনও ফেরকা পোরস্তী উস্কে দেবার মত কোন কথা ওয়াজের মাহফিলে বলতেন না। নাম উল্লেখ করে কখনও কোন দলের দোষত্রুটি ও কুৎসা বর্ণনা করতেন না। বিশেষ প্রয়োজন হলে হক্ব প্রকাশ করার জন্য ইঙ্গিত-ইশারায় নাম উল্লেখ না করে বাতেলপন্থীদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতেন।