গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

নফসানিয়াত মুক্ত পীর

পীর অনেকেই আছেন, কিন্তু হাক্কানী শরিয়তপন্থী পীরের বড় অভাব। আবার হাক্কানী পীর মাশায়েখদের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে নফসানিয়াত মুক্ত পীর খুঁজে পাওয়া বড়ই দুর্লভ। আমাদের পরম সৌভাগ্য-ফুরফুরার হযরত পীর সাহেব (রহ.) সম্পূর্ণরূপে একজন নফসানিয়াত মুক্ত পীর ছিলেন। হুজুরের প্রতিটি কর্মকা-ই তার এক একটি জলন্ত প্রমাণ। নিজের পকেট থেকে পয়সা দিয়ে তিনি অনেক মাহফিলের ইন্তেজাম করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত এক ডজনেরও বেশি বাৎসরিক ওয়াজ ও ইসালে সওয়াব মাহফিলের ইন্তেজাম তিনি নিজেই করতেন। শুধু তাই নয় যে এলাকায় লোকেরা নিজেরা টাকা পয়সা তুলে মাহফিল করতে অপারগ-তিনি নিজের পকেট হতে টাকা দিয়ে সেখানে মাহফিলের ইন্তেজাম করতেন। একবারের ঘটনা। হুজুর (রহ.) হিলফুল ফুযুলের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্যগণকে ডেকে বললেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করার চেষ্টা করো। আমার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যেও। প্রায়ই দেখা যায়, বিভিন্ন শুক্রবার হুজুর (রহ.) শহরের বিভিন্ন বড় বড় মসজিদে জুমুআর নামাজ আদায় করতেন এবং খোতবার আগে সমবেত মুসলদীদের উদ্দেশ্যে ওয়াজ নছীহত করতেন। এমন নিঃস্বার্থ এবং নফসানিয়াতমুক্ত দীনি খেদমতের নজীর সত্যিই বিরল। হুজুর (রহ.) আম মাহফিলে সাধারণত কাঁদতেন না। এর কারণ সম্পর্কে একদিন বললেন বাবা! আমি আম মাহফিলে কাঁদিনা। কারণ, মানুষ হয়তো ভাববে কেঁদে কেঁদে মুরিদ বাড়াতে চাইছে হুজুর মাঝে মাঝে আফসোস করে বলেন আমার মত বড় গোনাহগার আর নেই। চোখ বন্ধ করলে এমন একটা দিনও দেখি না, যেদিন কিছু আল্লাহর কাজ করেছি যিনি তাঁর জান-মালকে ইসলামের খেদমতে কুরবান করে দিয়েছিলেন, কী পরিমাণ নফসানিয়াত মুক্ত হলে তাঁর মুখ হতে এরূপ উক্তি বের হতে পারে একটু চিন্তা করে দেখুন। এমন নফসানিয়াত মুক্ত পীর সত্যিই দুর্লভ।