গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

শেষ ইশতেহার

[২০০৬ সনে দারুস্ সালাম বার্ষিক মাহফিলের সপ্তাহখানেক আগে হযরত মরহুম পীর সাহেব হুজুর (রহ.) একটি ইশতেহার প্রকাশ করেন। এটিই তাঁর জীবনের শেষ ইশতেহার। এই ইশতেহারে শেষ কথা হিসেবে তিনি যে নসীহত করেছেন তা এখানে হুবহু প্রকাশ করা হলো।] অসুস্থতার জন্য আমি বেশি কথা বলতে পারছি না। শেষ কথা হিসেবে আপনাদের হাতে পায়ে ধরে বলছি শিরক, কুফর, বিদআত হতে বেঁচে থাকবেন। আল্লাহ, রাসূল ও পীরকে এক করে ফেলবেন না। আল্লাহকে আল্লাহর জায়গায়, রাসূলকে রাসূলের জায়গায় আর পীরকে পীরের জায়গায় রেখে চলবেন। রাসূলকে আল্লাহর স্থানে বা পীরকে রাসূলের স্থানে বসাবেন না। আল্লাহর কাজে রাসূলকে শরীক করবেন না। সর্বহারা হতে হলেও ঈমান হারাবেন না। ঈমান হারার স্থায়ী নিবাস জাহান্নাম। পীর কোনো কাজ করলেই অন্ধভাবে তার অনুসরণ করবেন না। পীরের কাজ নবীর সাথে মিললে তবেই তা সুন্নত, নচেৎ তা বিদআত। আল্লাহর জিকির আল্লাহর জন্য করবেন, গাইরুল্লাহর জন্য নয়। অবতারের খেয়ালে আল্লাহ্ পাওয়া যায় না, আল্লাহর খেয়ালে আল্লাহকে ডাকুন। সবচেয়ে বড় মারেফাত কুরআন পড়া ও তাহাজ্জুদের সিজদা। অন্তরকে অহংকারমুক্ত রাখবেন। কোনো মুসলমানের দোষ না খুঁজে গুণ খুঁজবেন আর ভাই বলে জানবেন। কোনো মানুষকে এমনকি কোনো বোবা জানোয়ারকেও কষ্ট দিবেন না। কাউকে ঘৃণা বা হিংসা করবেন না। হিংসামুক্ত হৃদয়ের অধিকারী জান্নাতী হবে। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা সেই ব্যক্তি যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নেক আমল কোনো মুসলিমের হৃদয়ে আনন্দ প্রবেশ করানো, অথবা তার বিপদ, কষ্ট বা উৎকণ্ঠা দূর করা অথবা তার ঋণ আদায় করে দেওয়া অথবা তার ক্ষুধা দূর করা। কারো কোনো কাজে তার সাথে একটু হেটে যাওয়া মসজিদে এক মাস ইতেকাফ করার চেয়েও উত্তম। রুজি রোজগার হালাল না হলে ইবাদত কবুল হবে না। শুয়োর, মদ, কচ্ছপ, মল খাওয়া যেমন হারাম, সুদ, ঘুষ, ভেজাল বা ওজনে ফাঁকি দেয়াও তদ্রুপ হারাম। সকাল সন্ধায় বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ জিকির করবেন। কমপক্ষে ১০০ বার অবশ্যই করবেন। এশাবাদ দরুদ শরীফ পড়বেন। তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করবেন। বিপদ মুসিবতে পড়লে লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা সুব্হানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমিন এবং ওয়াল্লাহুল মুস্তাআনু আলা মা তাসিফুন পড়বেন। অসুখ বিসুখে সূরা ফাতেহা পড়ে পানিতে ফুঁক দিয়ে খাবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কোনো মুসলিম যদি দুটি কাজ নিয়মিত করতে পারে তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। প্রথমত, প্রত্যেক নামাযের পড়ে ১০ বার করে সুবহানাল্লাহ্, আল্হামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলবে। দ্বিতীয়ত, বিছানায় শয়ন করার পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে। সুন্নাত, বিদআত, হাদীসের নামে জালিয়াতি ও প্রচলিত জাল হাদীস ও মিথ্যা কথা সম্পর্কে জানতে এহ্ইয়াউস সুনান ও হাদীসের নামে জালিয়াতি বই দুটি পড়ুন। শয়তান হয়তো আপনাকে ধোঁকা দিতে পারে যে, এই সব কথা ফুরফুরার পীর সাহেবের নিজস্ব মত। সুতরাং সতর্ক থাকবেন। আল্লাহর কসম করে বলছি কুরআন সুন্নাহর বাইরে অর্থাৎ আল্লাহ-রাসূলের কথার বাইরে আমার কোনো নিজস্ব মত নাই। এবার অসুস্থ শরীর নিয়েই বড় কাফেলাসহ হজ্জ করার নিয়ত করেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহর ওয়াস্তে আমার ভুল-ভ্রান্তি ও দায়-দাবি মাফ করে দিবেন। আমিও সবাইকে মাফ করে দিলাম।