গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

এ প্রসঙ্গে জনাব মওলবী আব্দুল আউয়াল সাহেব বলেছেন জনাব সৈয়দ নওশের আলী সাহেবের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দীতায় আমাকে বেগ পেতে হয়নি। আমি শুধু ভোটারদেরকে বলতাম, ফুরফুরার হযরত পীর সাহেব আমাকে দাড় করিয়েছে, আমি তাঁরই লোক। অতএব আমাকে ভোট দিবেন। জয়লাভের পর বাংলার সর্ব সাধারণের নিকট আমি একজন দর্শনীয় ব্যক্তি হয়ে গেলাম। আমাকে দেখবার জন্য জনতার সে কী আকুল আগ্রহ! সকলেরই ধারণা-আমি বিরাট প্রভাবশালী ব্যক্তি। আর তা না হলে কখনই সম্ভব হতো না অতি প্রসিদ্ধ সৈয়দ নওশের আলী সাহেবকে শোচনীয় রূপে পরাস্ত করা। অথচ আমি কিছুই করিনি। আর কিছু করা আমার পক্ষে কখনই সম্ভব ছিল না। যা কিছু অসম্ভব সম্ভব হয়েছে হুজুরের সমর্থন ও তার নামের বদৌলতে। অনুরূপভাবে নোয়াখালীর রামগাতিগঞ্জে হযরত পীর সাহেবের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত ও কংগ্রেস প্রার্থীকে বিজিত করার উদ্দেশ্যে হিন্দু মহা সভার শ্রী রাজেন্দ্র লাল রায় চৌধুরী প্রচুর অর্থের প্রতিশ্রুতি প্রলুব্ধ করিয়ে প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন জনাব গোলাম সরোয়ার হোসায়নীকে। অতঃঃপর হযরত পীর সাহেবের প্রার্থীর নিকট শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করেন কংগ্রেস প্রার্থীসহ শ্রী রাজেন্দ্রলাল রায় চৌধুরীর প্রার্থী গোলাম সরোয়ার হোসায়নী। পরাজয়ের কারণে প্রতিশ্রুত অর্থ দিতে অস্বীকারের ফলে পুত্রসহ জমিদার শ্রী রাজেন্দ্র লাল রায় চৌধুরী নিজস্ব পূজা মন্ডপে নিহত হন এক পূজাকালীন উৎসবে। নোয়াখালীতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুরু হলো হিন্দু মুসলিম দাংগা। যার মীমাংসার কারণে রামগাতিগঞ্জে সপ্তাহকাল অবস্থান করেছিলেন শ্রী শ্রী করম চাঁদ মহাত্মা গান্ধী। পরবর্তীতে এই দাংগাই রূপ নিল বাংলা ভারতের হিন্দু মুসলিম দাংগায়। জনাব হযরত পীর সাহেব অনেক সময় বিভিন্ন আলাপ প্রসঙ্গে বলতেন- ও বাবা এনায়েতপুরী, ভাল করে শুনে রাখো, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আমার পরে এ ইতিহাসের সন্ধান কোথাও পাবে না। তিনি দুঃখ করে বলতেন তোমরা মনে কর জিন্নাহ সাহেব পাকিস্তান এনেছেন। কিন্তু জ্বিন্নাহ সাহেব যখন তিন তলার উপরে নরম বিছানায় ঘুমে অচেতন, আর ঠিক সেই সময় আমি স্বাধীনতার নির্বাচনে লোকদের সাথে আলাপ আলোচনা শেষে, বিরুদ্ধবাদীদের যুক্তির ইস্পাত কঠিন উত্তর দিয়ে রাত তিনটায় ঘরে ফিরে ঠান্ডা ভাত খাচ্ছি। এই স্বাধীনতা আন্দোলনে বিভিন্ন নেতার রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের অক্লান্ত পরিশ্রম। রাত দিন তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আমি ও আমার একনিষ্ট অনুসারীগণও করেছেন। কিন্তু অনেক নেতার পরিশ্রমের পিছনে ছিল স্বার্থের ইংগিত। মন্ত্রী হওয়া ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার সন্ধানে অনেকেই ছিলেন। কিন্তু আমার দাবি কি ছিল? আমি কী মন্ত্রী হতে চেয়েছি বা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার যতটুকু প্রাপ্য তার থেকে অধিক কিছু কি আমি দাবি করেছি? আমি কিছুই চাইনি। শুধু এই আশা করেছিলাম-ওয়াদাকৃত আজাদী জমিন পাকিস্তানে হুকুমাতে ইসলাম কায়েম হবে। সুদীর্ঘ বছর পার হয়ে গেল। এই মুনাফিকের দল তাও করল না। এরা আল্লাহকে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ঠকালো, অতঃপর আল্লাহওয়ালাদেরও ঠকালো। অতঃপর এমন দিন আসছে যে এরাও ঠকবে। আর এমন ঠকা ঠকবে যে আফসোস ও আত্মধীক্কার ছাড়া প্রকাশের দ্বিতীয় কোন ভাষা থাকবে না। আপনাদের দেশে আসতে হচ্ছে আজকে পাসপোর্ট ও ভিসা করে। নিজ দেশে আজ আমি পরবাসী। এতেও আমার আফসোস ছিল না, যদি এদেশে হুকুমাতে ইসলাম কায়েম হতো, তাহলে আমার সমস্ত বেদনার হতো অবসান। আমরা জানতাম-ভারত ভাগাভাগী হয়ে গেছে, আজাদী জমিন হুকুমাতে ইসলাম পাকিস্তানে হয়তো আমরা নাও পড়তে পারি। তবুও পাকিস্তান চেয়েছিলাম। কেননা সেখানে হুকুমাতে ইসলাম কায়েম হবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর প্রভূত্ব কায়েম হবে, সমস্ত বিশ্ব মুসলিম রাষ্ট্রের পথ দিশারী হবে পাকিস্তান। সেই পাকিস্তানে আমি যদি বাস নাও করতে পারি, তাতে কী হয়েছে? আমার অন্য মুসলমান ভাইয়েরাতো সেই ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানে অতি সুখ ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করবে আর সেখান হতে ঘটবে মানবতার পূর্ণ বিকাশ। অতঃপর ১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগস্ট, ভারত ভাগ হয়ে রূপ নিল হিন্দুস্থান ও পাকিস্তান। ভৌগলিক সীমা রেখায় আমরা পড়লাম হিন্দুস্থানে আর আপনারা পড়লেন পাকিস্তানে। অর্থাৎ আমরা বিভক্ত হয়ে পড়লাম সাবের ও শাকেরের মোকামে। পাকিস্তান ভূখন্ডে যারা আছেন, তারা হবেন শাকের আর হিন্দুস্থানে আমাদেরকে হতে হবে সাবের। ওয়াদার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন না করে মুখে মুখে আলহামদুলিল্লাহ অথবা শুধু মাত্র জিন্দাবাদ বললে প্রকৃত শাকের হওয়া যায় না। আর নাশোকর বান্দার নিকট হতে আল্লাহপাক অতি অবশ্যই ছিনিয়ে নেন তার প্রদত্ত নেয়ামত। আর আমরা যারা রয়েছি সাবেরের মাকামে, আমাদের রয়েছে বিষাদের মাঝে মহা আনন্দ। কেননা প্রকৃত সাবেরের সাথে রয়েছে স্বয়ং আল্লাহ। ইন্নাল্লাহা মায়াস সাবেরীন-বলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রকৃত সাবের বান্দাদেরকে দিয়েছেন সুসংবাদ। মুসলিম রাজনীতিতে ফুরফুরার পীর সাহেব (রহ.) শীর্ষক পান্ডুলিপি, মাওলানা আমিনুল্লাহ এনায়েতপুরী বড় হুজুর (রহ.)-এর খলিফা এবং হিযবুল্লাহর রাজশাহী বিভাগীয় মুবাল্লিগ মাওলানা সাজ্জাদ আলী খান মাদানীপুরী(বাংগাবাড়ীয়া, নওগাঁ) স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ১৯৪৫ ও ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ফুরফুরার পীর সাহেব হযরত মাওলানা আবু নসর