অসিয়ত ও নসিহত
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
১। সকলে কালেমা তাওহীদের উপর কায়েম থাকিবেন, হযরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আখেরি জামানার শেষ নবী বলিয়া মান্য করিবেন, হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর আর কোন নবী হইবে না। নবী হইবে এরূপ কেহ ধারণা করিলে সে কাফের হইবে।
২। সুন্নাতের তাবেদারী নাজাতের একমাত্র পথ। শরিয়াত ও তরিকতে কাহাকেও খেলাফ দেখিলে তাহার তাবেদারী করিবেন না।
৩। সুন্নতী পোষাক পরিচ্ছদ, আচার ব্যবহার সব বিষয়ে সুন্নতে মোয়াক্কাদার খেয়াল রাখিবেন, গায়ের কওমের রীতিনীতি ধরিবেন না, কারণ শরীয়াত অনুযায়ী নাজায়েজ। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি যে দলের অনুকরণ করিবে তাহার হাশর সেই দলের সঙ্গে হইবে।
৪। কোট, প্যাণ্ট, এলবার্ট, কলারওয়ালা জামা, ওয়াসকোট, পার্সীকোট, সাহেবী টুপি, ইংরেজী জুতা এবং কাছামারা ইত্যাদি নাজায়েজ কার্য্য করিবেন না। কিস্তি টুপি আমি পছন্দ করি না। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোল টুপি ব্যবহার করিতেন।
৫। মেয়েলোকদিগকে পুরুষের পোষাক এবং পুরুষকে মেয়েদিগের পোষাক পরাইবেন না, ইহা নাজায়েজ ও হারাম।
৬। স্ত্রীলোকদিগের মাথার চুল কাটিবেন না, ইহা নাজায়েজ কার্য্য।
৭। পুত্র কন্যাদিগকে দীনের ইলম শিক্ষা দিবেন।
৮। স্ত্রীলোকদিগকে পর্দায় রাখার বিশেষ ব্যবস্থা করিবেন। পর্দার ব্যবস্থা করিয়া বিদ্যা-বুদ্ধি, হুনুর-হেকমত শিক্ষা দিবেন।
৯। কোন কবর, আস্তানা, পীরদরবেশকে তাজিমের সিজদা বা চুম্বন করিবেন না, ইহা কঠিন হারাম।
১০। কোন পীরের কবরে মান্নত নিয়াজ বা ফুল শির্নী চড়াইবেন না, পীরের নামে হাজত মান্নাত হারাম জানিবেন।
১১। পীরকে আল্লাহর মত হাজের বা নাজের জানা র্শিক।
১২। টকি, বাইস্কোপ, থিয়েটার, নাচ, গান, বাজনা বা কাওয়ালীর মজলিস হারাম। খবরদার ঐ স্থানে যাইবেন না।
১৩। হুক্কুা, বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা, সিদ্দি, আফিম সেবন করিবেন না। ইহা মকরুহ তাহরিমা ও হারাম, তবে মহিতার পাতা খাইতে পারা যায়, না খাওয়া ভাল।
১৪। সুদখোর, ঘুষখোর, জেনাকার, মদ্যপানকারী, ফাসেকে মুলইন বা কোন হারাম ব্যবসা-দারের দাওয়াত গ্রহণ করিবেন না। ইহাদের কোন প্রকার হাদিরা তোহফা জানা অবস্থায় গ্রহণ করিবেন না।
১৫। হারাম খানেওয়ালার মাল জানা অবস্থায় গ্রহণ করা জায়েজ নয়।
১৬। হারাম উপার্জনের মাল হারাম এবং উহা লইতে পরহেজ করিবেন।
১৭। পুত্র-কন্যার বিবাহে পণ দেওয়া ও লওয়া হারাম। তাহাদের বাড়ীতে জানা অবস্থায় দাওয়াত খাওয়া নিষেধ।
১৮। পুজা, মেলা, কাওয়ালী ইত্যাদি যে কোন হারাম কার্য্যে সাহায্য করাও হারাম।
১৯। আমার খলীফা, মুরীদ, সন্তান, কোরআন, হাদীস, ফেকার বিপরীত কথা বলিলে তাহার তাবেদারী করিবেন না।
২০। এক মুষ্টির উপরে দাড়ি ছাটা বা কামান হারাম। গোঁফগুলি ছোট করিবেন, মাথায় মেয়েদের মত লম্বা চুল রাখিবেন না, ইহা নাজায়েজ।
২১। ফুটবল, ব্যাটবল, তাস এইরূপ বেকার বেহুদা কাজ নাজায়েজ।
২২। শবেবরাত, বিবাহে বা উৎসবে বোম ফুটানো, বাজী পোড়ানো, কলের গান ইত্যাদি ফজুল খরচ করা হারাম।
২৩। যেখানে থাকুন জামাতে নামাজ পড়িবেন। জুমা ত্যাগ করিবেন না। বাংলার গ্রামে জুমা জায়েজ।
২৪। পীরের আম মজলিসে পীরের কদম বুচি ও মোসাফাহা করিবেন না, সালাম দেওয়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা।
২৫। পেশাব পায়খানার সময় সকলে কুলুখ ব্যবহার করিবেন।
২৬। শরীয়াতপন্থী পীরের কাছে বয়াত হইবেন, বেশরীয়তী পীরের মুরীদ হওয়া হারাম।
২৭। আমার বাড়ীতে আমার ওয়ালেদ সাহেব ২১/২২/২৩শে ফাল্গুন মাহফিলে ওয়াজ ও ইসালে সওয়াব করিয়া গিয়াছেন, আমি করি। আমার বাড়ীর কায়েম মোকাম ইসালে সওয়াব বাংলা ভাগ হইয়া যাওয়ার পর পাকশী ও মীরপুর দারুস্সালামে ওয়াজ মহাফিল ও ইসালে সওয়াব হেদায়েতের জন্য করিয়া থাকি।
২৮। বাজে পীরের দরবারে অমাবশ্যা, পূর্ণিমা বা পীরের মৃত্যুর তারিখে নির্দিষ্ট করিয়া ওরস ইত্যাদি হইয়া থাকে, এমন কি জামায়াতে নামাজ পড়া হয় না, তথায় মেয়েলোক যায়। তাহারা হাল্কা করে ও বেপর্দা চলে, গান বাজনা ও সিজদা ইত্যাদি করে। লোক জামায়েত করার জন্য নিজের এজেণ্ট দিয়া বিভিন্ন জায়গা হইতে গরু, মহিষ, ছাগল খরিদ করত পীরের বাড়ি লইয়া যাওয়া হয় এবং পরিশেষে উহার তাবারক নিলামে বিক্রি করিয়া আসল পয়সা উঠাইয়া লভ্যাংশ এজেণ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এরূপ স্থানে যাওয়া হারাম এবং পীরের নামে দেওয়া গরুর গোশত খাওয়া হারাম।
২৯। জলি জিকির জায়েজ দুরুস্ত আছে; কিন্তু নির্জন স্থানে করিতে হইবে, লোকালয়ে করা জায়েজ নাই।
৩০। যোয়াল্লীন ও দোয়াল্লীন সম্পর্কে মতভেদ আছে। তৎসম্বন্ধে আমার মত এই যে, মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফের মোহাক্কেক আলেমগণ যেরূপ দোয়াল্লীন পড়ে আমিও তদ্রুপ পড়ি, দাল জাল দ্বারা পড়িলে নামাজে ফতুরি আসিবে। কিন্তু যে ব্যক্তির চেষ্টা করা সত্বেও মাখরাজ আদায় না হয় তাহার জন্য মাফ।
৩১। কেহ জমি কটবন্ধক রাখিবেন না। জায়-সুদী ইত্যাদি দ্বারা কেহ সুদ খাইবেন না ও জুলুম করিবেন না।
৩২। হানাফী, মালেকী, হাম্বলী ও শাফিয়ী এই চারি মাজহাবের কোন মাজহাবকে এহানাত করিবেন না। আমি হানাফী, আমার মুরীদগণও হানাফী। শিয়া, রাফেজী ও খারেজী ইত্যাদিদের আকীদা বাতিল।
৩৩। চার মাজহাব নহে চারের মাজহাব, চার ইমামেরই মাজহাবের দলিল হইতেছে কোরআন, হাদীস, এজমা ও কেয়াছ।
৩৪। যাহা কোরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে নাই তাহাকে কেয়াছ বলে। তাহাকে মান্য করিতে হইবে। এই চার মাজহাবকে যে এহানাত (অবজ্ঞা) করিবে তাহার কাফের হইবার সম্ভাবনা আছে। কেননা ইহাতে কোরআন শরীফ ও হাদীস শরীফকে অবমাননা করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানা হইতে আজ পর্যন্ত সকলে আহলে হাদীস ও আহলে কোরআন হইতেছে। যে আহলে হাদীস ও কোরআন হইবে তাহার আমল চারের কোন এক মাজহাবের সহিত মিল খাইবে।
৩৫। আমি নিজে মিলাদে কেয়াম করি। যাহারা করেনা তাহারা জাহান্নামী হইবে না, যাহারা করেন তাহারাও জাহান্নামী হইবেন না, বরং যাহারা মিলাদ-কেয়াম এবং খুটিনাটি বিষয় লইয়া ফাসাদ করেন তাহারাই জাহান্নামী।
৩৬। এলমে গায়েব আল্লাহতায়ালা হজরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যতদূর জানাইয়া দিয়াছেন ততদুর জানেন। গায়েবের মালিক আল্লাহ তায়ালা এইরূপ আকীদা রাখিবেন। হজরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরূপ গায়েব জানিতেন সে গায়েবকে এলমে হাসুলী বলে।
৩৭। দাঁড়ি রাখা, লম্বা কোরতা পরা ইত্যাদি সুন্নত পোষাককে যে অবজ্ঞা করিবে তাহার ইমান যাইবে। যেহেতু হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাতকে অবজ্ঞা করা হইল।
৩৮। হামজাত আমল করা দুরুস্ত নাই।
৩৯। মিথ্যা সৈয়দ দাবী করা হারাম।
৪০। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তায়ালার নূরের অংশ ধারণা করা ঠিক নহে। হযরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নূরে আলোকিত এইরূপ বিশ্বাস রাখিবেন।
৪১। মাছ, গরুর গোশত, লবন ফকিরিতে খাওয়া ঠিক নহে এইরূপ কথা নাজায়েজ।
৪২। যাহারা জিন ও ফেরেস্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করে তাহারা কাফের।
৪৩। মহরমে তাজিয়া বাহির করা নাজায়েজ হারাম, ইহা হইতে সাবধান থাকিবেন।
৪৪। খবরদার কেহ জীবজন্তু বা স্বীয় পীরের ছবি রাখিবেন না।
৪৫। হজরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মেরাজ স্বশরীরে হইয়াছিল, সিনা চাক, চাঁদ দুই টুকরা এইগুলি সত্য বলিয়া বিশ্বাস করিবেন।
৪৬। বিনা চাওয়ায় ওয়ায়েজকে ওয়াজের পর যে হাদিয়া বা নজরানা দেওয়া হয় তাহা গ্রহণ করা জায়েজ আছে। (ফাতোয়ায়ে শামী দ্রষ্টব্য) তবে হালাল মাল হওয়া চাই, ইহাকে ওজরত বলেনা। বিবেচনা করিয়া নজরানা দিতে হইবে। হক্কানী আলেমের তাজিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তাজিম।
৪৭। খাটি শরীয়তপন্থী পীর অলিদেরকে সর্বদা ভালবাসিবেন।
৪৮। মানুষের হকের দিকে খুব খেয়াল রাখিবেন। কাহারও হক যেন নষ্ট না হয়।
৪৯। সাংসারিক ব্যাপারে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করিবেন।
৫০। যাহা উপার্জন করিবেন তিন ভাগ করিবেন। এক ভাগ জমা রাখিবেন, এক ভাগ খয়রাত করিবেন, এক ভাগ সংসারে খরচ করিবেন।
৫১। তাকওয়া ও পরহেজগারী যথাসাধ্য করিবেন। আধুনিক দুনিয়ার হাওয়ায় মাতিবেন না।
৫২। দীন বজায় রাখার চেষ্টা করিবেন, নচেৎ মওতের পর বিপদ হইবে।
৫৩। জিকির মোরাকাবা দুই বেলা অর্থাৎ সকাল সন্ধ্যায় ঠিক রাখিবেন।
৫৪। আমার নিকট হইতে যাহারা বাতেনী শিক্ষা লাভ করিয়াছেন তাহারা যথারীতি আমল করিবেন।
৫৫। বিদআতে সাইয়েয়াকে আমি লানত করি। হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীদিগের জামানার পর জাগতিক বিষয়ে যাহা কিছু নূতনভাবে বাহির হইবে তাহা যে কেবল বিদাআতে সাইয়েয়া হইবে ইহা ঠিক নহে।
৫৬। মনের কথা পীর বলিতে পারে, হাত দেখে গণনা করিতে পারে, পীরের বাড়িকে কেবলা মনে করা বা মুখ ফিরিয়া বসা হারাম।
৫৭। যে সমস্ত পীর এলেম কালাম জানে না, দীনের খাতিরে ওয়াজ নসিহতে যান না, তালিম তাছাওফ দেন না, শরীয়ত বিরুদ্ধ কাজ দেখিলে নিষেধ করেন না, অবাধে মেয়ে ছেলের সঙ্গে বেপর্দায় মেলামেশা করে এইরূপ লোকের কাছে মুরীদ হওয়া জায়েজ নহে।
৫৮। পীরের ছেলে পীর হইবে এমন কথা কোরআন হাদীসে নাই। যোগ্যতা থাকিলে নিশ্চয়ই হইবে।
৫৯। আমি হীন হায়াতে আমার বড় ছেলেকে কায়েম মোকাম করিয়া গেলাম যেভাবে আমার ওয়ালেদ সাহেব আমাকে করিয়া গিয়াছেন।
৬০। ইসলাম ছাড়া দুনিয়ায় যত মতবাদ আছে সব কুফুরী মতবাদ।
৬১। কোন আলেম, মওলানা, পীর, নেতা, লিডারের, এমন কি আমার রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরও ইসলামের আইনে রদবদল করিবার অধিকার নাই, ইহা খোদার বিধান।
৬২। বিশ্ব ইসলাম মিশন কোরআনী সুন্নী জমিয়াতুল মুসলিমীন হিজবুল্লাহর ঝান্ডা ইমাম মেহ্দী এর হাতে সোপর্দ্দ হইবে। আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূলকে খুশি করিতে হইলে এই মিশনের সহযোগিতা করুন।