গদ্দিনিশীন রাহবারে ফুরফুরা

দাদার উত্তরাধিকারী

মরহুম হযরত বড় হুজুর মাওলানা আবুল নসর মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.) তার ইন্তেকালের ৬ মাস পূর্বে পাকশী রিয়াজুল জান্নাত খানকা শরীফে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, আমার ওয়ালেদ সাহেব মুজাদ্দেদে জামান (রহ.) তাঁর মৃতুর প্রায় ছমাস পূবে আমাকে হুজুরের কায়েম মোকাম বলে ঘোষণা করে যান। আমিও তোমাদের বড় ভাই সাহেবকে (অর্থাৎ হযরত আবুল আনসার মোঃ আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী আল কুরাইশী) আমার অবর্তমানে কায়েম মোকাম জা-নশীন বলে ঘোষণা করলাম। (সুফী মোঃ রুস্তম আলী খান কৃত অমর এক জীবন কথা। ১৩৮-১৩৯ পৃঃ এবং মোবারক আলী রহমানীকৃত ফুরফুরা শরীফের ইতিবৃত্ত পৃঃ ১৮৪।) ভারতের কলকাতায় বসবাসকারী মাওলানা তাহের সাহেব, যিনি দেওবন্দী মাদ্রাসার একজন অন্যতম শিক্ষক, তার পত্রিকাতে তিনি লিখেছিলেন, ফুরফুরা শরীফের বর্তমান গদ্দীনশীন পীর হচ্ছেন একমাত্র হযরত মাওলানা আবুল আনসার মোঃ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী আল কোরায়শী সাহেব, অন্য কেহ নহেন। ভারতের পত্রিকায় ছাপানো এই লেখার মূল্য অনেক, কারণ ফুরফুরার মুজাদ্দেদে জামান (রহ.) এর অনেক আওলাদ আছেন যারা অনেকেই পীর এবং ওয়ায়েজীন, তাদেরও বহু ভক্ত ও মুরিদ আছেন। কিন্তু ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর বলতে একজনের অধিক হতে পারে না।

ইশাআতে ইসলাম

ছাত্র জীবন থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ইশাআতে ইসলামের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পিতার সাথে বাংলা ও আসামের আনাচে-কানাচে যেয়ে ইসলাম প্রচার করতে থাকেন। দীনি মাহফিলে পিতার সাথে যোগদান করে হাজার হাজার মানুষের সামনে তিনি ওয়াজ নসিহত করতেন। পিতার ইন্তেকাল (১৩ ই মে, ১৯৭৭)-এর পর তিনি পিতার স্থলাভিষিক্ত হন এবং পিতার আরব্ধ কার্যাবলী সম্পন্ন করায় আত্মনিয়োগ করেন। পিতার ন্যায় তিনিও সমাজে বিরাজিত যাবতীয় অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার ও ইসলাম বিরোধী আচার অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন। বহু সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকাহ, ইয়াতিমখানা, মিডিয়া, পত্র-পত্রিকা, গবেষণা ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি হেদায়াতের কাজকে সম্প্রসারিত করে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। দুনিয়ার মানুষদের সৎপথে ডাকার জন্যে আল্লাহ পাক যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে এ নবুওয়াতী সিলসিলার। এরপর হতে আজ চৌদ্দ শত বছর যাবৎ প্রকৃত ওয়ারেছাতুল আম্বিয়া বা হাক্কানী পীর-মাশায়েখগন এ হেদায়াতের দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালন করে আসছেন। ফুরফুরার মরহুম পীর সাহেব তাদেরই একজন সার্থক উত্তরসূরি ছিলেন। হেদায়াতের কাজে তিনি নজিরবিহীন ত্যাগ স্বীকার করে গিয়েছেন। কিডনী সমস্যা, ডায়াবেটিস, প্রেসার ইত্যাদিসহ হুজুর আরও বেশ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগেছেন। পায়ের সমস্যার কারনে নিচে বসতে পারতেন না। শেষ বয়সে ভালভাবে হাটতে পারতেন না, নামায পর্যন্ত বসে পড়তেন। এ অসুস্থ শরীর নিয়েই দৈনিক ৩/৪ টি করে জলসা করেছেন। এমনও অনেক সময় দেখা গেছে যে, আজ দিনাজপুর, আগামীকাল ঢাকা, তার পরের দিন চট্টগ্রামে জলসা। সুস্থ শরীর নিয়ে সামান্য একটু সফর করলেই আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, সেখানে অসুস্থ শরীর নিয়ে হুজুর নিজের আরামকে হারাম করে সারা বছর এভাবে হেদায়াতের কাজে সফর করেছেন। বিভিন্ন জলসায় হুজুর যে হাদিয়া পেতেন তার প্রায় সবটাই তিনি হেদায়াতের কাজে মাহফিল, মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহতে খরচ করতেন। তাছাড়া পারিবারিক জমিজমা ও অন্যান্য ব্যবসার টাকাও সব ইসলামের খেদমতে ব্যয় করেছেন।