রোজা অবস্থায় মেসওয়াক
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রেখেও মেসওয়াক করতেন। আমের বিন রাবিয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অসংখ্যবার রোজাবস্থায় মেসওয়াক করতে দেখেছি।
মেসওয়াকের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদীসে এসেছে-
অর্থাৎ মেসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রকারী এবং রবের সন্তুষ্টি আনয়নকারী।
অপর হাদীসে এসেছে-
মেসওয়াকের ব্যাপারে আমাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, এমনকি, একসময় আমার মনে হয়েছিল যে, এ ব্যাপারে আমার উপর কোরআন কিংবা ওহি নাজিল হবে।
স্পষ্ট যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো দিবস জুড়েই মেসওয়াক করতেন। দিবসের সূচনা বা সমাপ্তির মাঝে কোন প্রকার পার্থক্য করতেন না। হাদীসে এসেছে-
আমার উম্মতের উপর যদি বিষয়টি কঠিন না হত, তবে প্রতি ওজুর সময় তাদের জন্য মেসওয়াক আবশ্যক করে দিতাম।
অপর হাদীসে এসেছে-
মোমিনদের জন্য যদি কষ্টকর না হত, তবে প্রতি নামাজের কালে আমি তাদের জন্য মেসওয়াক আবশ্যক করে দিতাম।
ইবনে আব্দুল বার বলেন : এ হাদীস প্রমাণ করে, যে কোন সময় মেসওয়াক বৈধ। হাদীস দুটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘প্রতি ওজুকালে’ এবং ‘প্রতি নামাজ কালে’ বাক্যাংশ দুটি ব্যবহার করেছেন। নামাজ নির্দিষ্ট একটি সময়েই নয়, ওয়াজিব হয় দ্বিপ্রহর, বিকেল ও রাতের নানা সময়ে।
ইমাম বুখারীর উক্তি- রোজাদারকে এ হুকুমের আওতা-বহির্ভূত করা হয়নি।
ইবনে খুযাইমা বলেন : হাদীসটিতে প্রমাণ হয় স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যক্তির জন্য যেভাবে প্রতি নামাজের সময় মেসওয়াক করা ফজিলতের বিষয়, তেমনিভাবে ফজিলতের বিষয় রোজাদারের জন্যও। সুন্নতের অনুসারীগণের অবশ্য কর্তব্য বিষয়টির প্রতি যত্নশীল হওয়া। কারণ, এর প্রতিদান অঢেল, উপকারিতা অগণিত।
রাসূলের অন্য হাদীসে বর্ণিত একটি উক্তি এ ক্ষেত্রে কোন জটিলতা তৈরি করবে না, উক্তিটি হচ্ছে-
মেশকের সুঘ্রাণের চেয়েও আল্লাহর নিকট রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ অধিক প্রিয়। কারণ, হাদীসটির অর্থ হচ্ছে, রোজাদারের মুখের এ গন্ধ, যাকে তোমরা দুর্গন্ধ বলে অবহিত কর, আল্লাহ তায়ালার নিকট মেশকের চেয়েও উত্তম, ভালো ও প্রিয় যাকে তোমরা সুগন্ধি বল। কারণ, এ গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে তার এবাদত পালন ও আল্লাহ তায়ালার হুকুমের অনুবর্তী হওয়ার ফলে। মুখের গন্ধ মৌলিকভাবে প্রিয় ও ভালো নয় এবং তা দূর করার ব্যাপারে বান্দার উপর কোন নিষেধাজ্ঞাও নেই।
ভেজা ও শুকনো মেসওয়াকের মাঝে রাসূল পার্থক্য করেছেন, এমন কোন প্রমাণ আমরা পাই না। তাই, সালাফের অধিকাংশই এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য করতেন না। ইবনে সীরীনের নিকট আগমনকারী জনৈক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন : এতে কোন অসুবিধা নেই, এ কেবল খেজুরের ডাল, এর স্বাদ রয়েছে। যেমন স্বাদ রয়েছে পানির, অথচ তা দিয়ে তুমি কুলি কর।
ইবনে উলয়া বলেন : রোজাদার কিংবা পানাহারকারী উভয়ের জন্যই মেসওয়াক করা সুন্নত। শুকনো কিংবা ভেজা মেসওয়াক দুটোই এ ক্ষেত্রে বরাবর।
রাতে অপবিত্র অবস্থায় রোজার নিয়ত করা
রাসূল কখনো কখনো রাতে অপবিত্র অবস্থাতেই রোজার নিয়ত করে নিতেন। বিষয়টির প্রমাণ রাসূলের সহধর্মিণী উম্মুল মোমিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস-
রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে অতিক্রম করতেন। অতঃপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন।
রাসূলের অপর স্ত্রী উম্মুল মোমিনীন উম্মে সালমা (রাঃ) বর্ণনা করেন-
সহবাসের ফলে না-পাকি অবস্থায় রাসূল সুবহে সাদিক অতিক্রম করতেন, অতঃপর গোসল করে রোজা রাখতেন।
একই হুকুম-ভুক্ত হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত নারীরা। ফজর হওয়ার পূর্বেই যদি তারা পবিত্র হয়ে যায়, তবে গোসল না করেই নিয়ত করে নিবে।
