প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭, জমা.সানি-রজব ১৪৩৮ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২৩-২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
এ জগতকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করার জন্য সমাজে মাঝে মাঝে কিছু বিরল প্রতিভা সম্পন্ন মনীষীর জন্ম হয়। সে প্রতিভা বিভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। কেউ গবেষক/লেখক, কবি-সাহিত্যিক, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ আবিষ্কারক, কেউ সমাজ সংস্কারক ইত্যাদি। পরিবেশ, সমাজ, শিক্ষা- সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাঁরা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্রত গ্রহণ করেন। প্রকৃতির বিচিত্র প্রভাবেরই মতই সমাজে তাঁদের বিচিত্র চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনারও বিকাশ ঘটে।
সৃজনশীল চিন্তা ও গবেষণার অভাবে জাতির মধ্যে যখন অপসংস্কৃতি ও হতাশা জেগে ওঠে, তখন মনীষীরা এই পরিবেশ থেকে জাতিকে মুক্ত করে জীবনকে পূর্ণতায় পৌঁেছ দেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকেন। সাধারণত: সময়ের ব্যবধানে মানুষের চিন্তা নদীর স্রোতের মতই তার নিত্য নতুন গতিপথ অনুসন্ধানে ব্যাপৃত থাকে। তাই প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগের মনীষীদের কর্মে ও চিন্তার মধ্যে একটি ব্যবধান পরিলক্ষিত হয় বলে মনে হয়। ধীরে ধীরে সমাজ ও পরিবেশের উন্নয়ন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, সমরাস্ত্র, বিজ্ঞান-ইত্যাদি শাখায় যে উন্নতি লক্ষ করা যায়, সেখানে তাঁদের অপরিসীম অবদান ফুটে ওঠে। তাঁরা নিজ গুণে অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে দেশে বিদেশে খ্যাতিমান হয়ে অমর হয়ে থাকেন। এই পরিবেশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তী প্রজন্ম নতুনভাবে এগিয়ে যেতে সাহসী হয়। প্রত্যেক যুগেই সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়েছে তার সমসাময়িক সমাজ-সংস্কৃতি ও পরিবেশকে কেন্দ্র করে। উপযুক্ত পবিবেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা ও প্রতিভার উত্তরোত্তর বিকাশ ঘটে। তাই প্রত্যেকটি যুগের প্রতিভার মধ্যে তার নিজস্ব চিন্তা ও সমাজ সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। শিক্ষা, সাহিত্য, ধর্ম-কর্ম সকল অধ্যায়ে এর ছাপ প্রত্যক্ষ করা যায়। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর আপন বুদ্ধিদীপ্ত স্বমহিমায় সব সময় সমুজ্জ্বল এক শ্রেষ্ঠ প্রতিভাসম্পন্ন আলেমে দ্বীন, যাঁর চিন্তায় এই যুগের সমাজ, পরিবেশ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রভাব বিদ্যমান। তাঁর এই প্রতিভা এবং প্রভাব দেশ ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তেও। একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে পৃথিবীতে তাঁর সুনাম প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর একবিংশ শতাব্দীর একজন চিন্তক। তাই তাঁর রচনায়ও এই যুগের সমাজ পরিবেশ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রভাব বিদ্যমান এবং এখানে তার উন্নত চিন্তা ও প্রতিভারও পরিচয় পাওয়া যায়। লেখনি এবং বক্তৃতা-উভয় মাধ্যমে তিনি দ্বীন প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এভাবে সমাজে মূল্যবোধের যে অবক্ষয়, কুসংস্কার, খ্রিস্টান মিশনারীদের অপতৎপরতা এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যে অপপ্রচার ও রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী তথা হাদীসের নামে যে সকল ভিত্তিহীন কথাবার্তা প্রচলিত ছিল তা দূরীকরণে বলিষ্ঠ এবং সাহসী ভূমিকা পালন করে দেশে এবং বিদেশে খ্যাতিমান হয়ে আছেন। বিশেষ করে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় পরাস্ত হয়ে খ্রিস্টান ইউরোপ অনৈতিক পন্থায় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যে অপপ্রচার এবং কৌশল প্রয়োগ করার চেষ্টায়রত আছে-সে বিষয়ে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন এবং সেই এলাকায় ইসলাম প্রচারক মিশন প্রেরণ করে ধর্মান্তরিত লোকদেরকে পুনরায় ইসলাম ধর্মের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।
