প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭, জমা.সানি-রজব ১৪৩৮ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২৩-২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
এডিট করতে হবে
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
অর্থঃ “পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স¦ীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম
থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি-যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই”। (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল, আয়াতঃ ০১, তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন, পৃঃ ৭৬৩)
ﻯﺮﺳﺍ (ইস্্রা) এর অর্থ রাত্রে নিয়ে যাওয়া। ﻼﻴﻟ (লাইলান) এ জন্য বলা হয়েছে, যাতে রাতের কম সময় বুঝা যায়।“লাইলান” শব্দটি দ্বারা রাতের এক অংশ অথবা কিছু অংশ বুঝানো হয়। অর্থাৎ চল্লিশ রাতের এ দূরত্বের সফর পূর্ণ এক রাতেও নয় বরং রাতের কিছু অংশ সফর করানো হয়েছে। ﺎﺻﻗﻻﺍ (আক্বসা) অর্থ দূরবর্তী। ﺎﺻﻗﻻﺍ ﺪﺠﺴﻤﻟﺍ (মসজিদুল আক্বসা) অর্থ দূরবর্তী মসজিদ। বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদটি। মক্কা মুয়াজ্জেমা হতে আল কুদ্স পর্যন্ত দূরত্ব *৪০ দিনের। এ কারণে বাইতুল মুকাদ্দাসকে মসজিদে আকসা (দূরের মসজিদ) বলা হয়। বায়তুল মুকাদ্দাস হযরত সুলায়মান ‘আলাইহিস্ সালাম নির্মাণ করেন। বহু নবী ‘আলাইহিস্ সালাম এখানে সমাহিত।
বস্তুতঃ আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আবিস্কারের প্রায় দেড় হাজার বৎসর পূর্বে সংঘটিত মহাকাশ সম্পর্কীয় অবিস¥রণীয় ইসলামী যুগান্তকারী ঘটনাটি হচ্ছে পবিত্র ইস্রা এবং মি’রাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যার বাস্তব সত্য-সত্যতা ¯্রফে ﺎﻨﻌﻄﺎﻮ ﺎﻨﻌﻤﺳ সামি‘ঈনা ওয়াত¦‘য়ানা অর্থাৎ “আমরা শুনেছি এবং মেনেছি” (সূরাহ্ বাক্বারাঃ আয়াত ২৮৫ এবং সূরাহ্ আন্ নূরঃ আয়াত ৫১। ছহীহ্ নূরাণী সংক্ষিপ্ত তাফসীর মূল ঃ তাফসীর ইবনে কাসীর ও তাফসীরে আশরাফী)-এই আকিদা-বিশ্বাসে কেন্দ্রীভূত ছিল এবং আছে।
ইউমিনুনা বিল গয়ব-অদৃশ্যে যেমনঃ (১) আল্লাহ রব¦ুল ‘আলামীনের যাত ও সিফাতের প্রতি, (২) পরকাল, (৩) তকদীর, (৪) জান্নাত-জাহান্নাম, (৫) ফেরেশতা-জ্বীন, ছেহের-যাদু, বদনজর ইত্যাদি সেই সাথে পবিত্র ইস্রা ও মি’রাজ ইত্যাদি অতীন্দ্রীয় এবং অদৃশ্য বিষয়ে বিনা দলিলে পূর্ণরূপে বিশ্বাস স্থাপন মুমিন-মুসলিম হওয়ার অপরিহার্য শর্ত-এতে কোন প্রকার যুক্তি-তর্ক বা দলিল-প্রমাণের কোনই জরুরত বা প্রয়োজন ছিলনা, এখনও নেই, ভবিষ্যতেও থাকার কথা নয়। তবে ঈমান-কে (সাধারণ বিশ্বাস) ইয়াকীনে (সুদৃঢ় বিশ্বাস) পরিণত করার জন্য আল্লাহপাক প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে তাঁর অস্তিত¦ প্রমাণবাহী অপূর্ব নির্দশন জারী রেখেছেন। পবিত্র ইস্রার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে সূরাহ্ বানী ইসরাঈল, আয়াতঃ ০১-এ আল্লাহপাক ফরমানঃ “যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি-যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই”। (তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন, পৃঃ ৭৬৩)
পাদটিকাঃ *৪০ দিনের এই দূরত্ব হচ্ছে তৎসময়ের যানবাহনের গতিবেগের আলোকে।
পবিত্র ইস্রা এবং মি’রাজের ইসলামী ইতিহাস :
মি’রাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্ব গমন। ‘রসূল সাঃ কাবা শরীফের হাতিমে গভীর নিদ্রাকালীন সময়ে জিবরাইল (আঃ) এসে বোরাক বাহনে করে বায়তুল্লাহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস (মসজিদুল আকসা) নিয়ে যান’। (সূত্রঃ পবিত্র মি’রাজের শিক্ষা, মাসিক মদীনা, বর্ষ ৩৫, সংখ্যা ০৮, পৃঃ ৩৬)
“নবুয়াত প্রাপ্তির দ্বাদশ বর্ষে মে’রাজ অনুষ্ঠিত হয়। (ছহীহ্ কুরআন, মূলঃ তাফসীর ইবনে কাসির ও তাফসীরে আশরাফী, পৃঃ ৩০৭-৩০৮)
অধিকাংশ হাদীস ও সীরাত গ্রন্থের উল্লেখ অনুযায়ী রাসূল (সাঃ) এর হিজরতের এক বছর আগে অর্থাৎ মক্কা অবস্থানের প্রায় শেষ ভাগে এই মি’রাজ সংঘটিত হয়েছিল। ইস্রা বা মি’রাজ স¤পর্কে বহু সংখ্যক সাহাবী বর্ণনা করেছেন। এঁদের সংখ্যা প্রায় ২৫। এই সাহাবীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন, হযরত ওমর (রা.), হযরত আলী (রা.), হযরত আয়েশা (রা.), হযরত মালিক (রা.), হযরত আনাস (রা.), হযরত আবু যর গিফারী (রা.), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), আবু সাঈদ খুদরী (রা.) প্রমুখ জলিলুল কদর সাহাবী বৃন্দ।
উল্লেখ্য, ইমাম ইবনে কাসীর স¦ীয় তফসীর গ্রন্থে ইস্রা ও মি’রাজ সংক্রান্ত আয়াতের তফসীর এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করার পর বলেন, “মক্কা মোকারমা থেকে বাইতুল মোকাদ্দাস পর্যন্ত এ সফর (ইসরা) বোরাকযোগে করেন।….অতঃপর সিঁড়ি আনা হয়, যাতে নীচ থেকে উপরে যাওয়ার জন্য ধাপ বানানো ছিল। তিনি সিঁড়ির সাহায্যে প্রথমে প্রথম আকাশে অতঃপর অবশিষ্ট আকাশ সমূহে গমন করেন। এ সিঁড়িটি কি এবং কিরূপ ছিল, তার প্রকৃত স¦রূপ আল্লাহতায়ালা-ই জানেন। প্রত্যেক আকাশে সেখানকার ফেরেশতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানায় এবং প্রত্যেক আকাশে সেখানকার পয়গ¤বরগণের সাথে সাক্ষাত হয়, যাঁদের অবস্থান কোন নির্দিষ্ট আকাশে রয়েছে। উদাহরণতঃ ষষ্ঠ আকাশে হযরত মূসা আঃ এবং সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম আঃ এর সাথে সাক্ষাত হয় (প্রাঃ পৃঃ ৭৬৪)”
ইসলামী বিশ্বাসে মহাকাশের বিশালত্ব
ﻃ ﺎﻖﺎﺒﻃ ﺖﺍﻮﺎﻤﺳ ﻊﺒﺳ ﻖﻠﺧ ﻯﺬﻟﺍ
“যিনি স্তরে স্তরে বিনস্ত সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন”। (সূরাহ্ মুলক, আয়াতঃ ০৩)
ﺤﻴﺑﺎﺼﻤﺑ ﺎﻴﻧﺪﻟﺍ ﺀﺎﻤﺴﻟﺍ ﺎﻨﻳﺯ ﺪﻖﻟﻭ
“আমি দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা দ্বারা”। (সূরাহ্ মুলক, আয়াতঃ ০৫)
আমাদের চতুর্পার্শ্বে দৃশ্যমান আকাশটিকে পবিত্র ক্বুরআানে ‘দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশ’ বলা হয়েছে-যাকে আমরা ‘প্রথম আসমান’ বা ‘আকাশ’ (ঝশু) বলে থাকি। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় আসমানের তুলনায় প্রথম আসমান অতি ক্ষুদ্র, তৃতীয় আসমানের তুলনায় দ্বিতীয় আসমান, চতুর্থ আসমানের তুলনায় তৃতীয় আসমান এভাবে সপ্তম আসমানের তুলনায় ষষ্ঠ আসমান অতি নগন্য। সুতরাং সপ্তম আকাশের শেষ সীমা তথা ‘সিদরাতুল মুনতাহা’য় পৌঁছতে কত দূরত¦ অতিক্রম করা প্রয়োজন- তা মহান আল্লাহ রব¦ুল আ’লামিন-ই পূর্ণ জ্ঞাত-যিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
উল্লেখ্য, আমরা ডানে, বামে, সামনে, পিছনে, উপরে এবং নীচে (ভূ-গর্ভভেদে) চর্মচোখে যে আকাশটি দেখছি, যার বুকের উপর “পৃথিবী” নামক আমদের জন্ম, বাসস্থান এবং কবরস্থান অবস্থিত, যে আকাশটির শুরু এবং শেষ কোথায় তা আজও আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞানীরা হলফ করে বলতে পারছেনা, কেবল এতটুকু বলে হাফ ছেড়ে বাঁচেনঃ জানা আকাশের চেয়ে অজানা আকাশ অ–নে– ক, অ–নে– ক বড় ! কত বিরাট-বিশাল? তার জবাব আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞানে আজও নেই।
এক নজরে বিভিন্ন আকাশে বিভিন্ন নবী ‘আলাইহিস্ সালামদের অবস্থান বিবরণী
প্রথম আকাশঃ হযরত আদম ‘আলাইহিস্ সালাম।
দ্বিতীয় আকাশঃ হযরত ঈসা ‘আলাইহিস্ সালাম।
তৃতীয় আকাশঃ হযরত ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম।
চতুর্থ আকাশঃ হযরত ইদ্রিস ‘আলাইহিস্ সালাম।
পঞ্চম আকাশঃ হযরত হারুন ‘আলাইহিস্ সালাম।
ষষ্ঠ আকাশঃ হযরত মূসা ‘আলাইহিস্ সালাম।
সপ্তম আকাশঃ হযরত ইবরাহীম ‘আলাইহিস্ সালাম।
(সূত্রঃ পবিত্র মি’রাজের শিক্ষা, মাসিক মদীনা, বর্ষ ৩৫, সংখ্যা ০৮, পৃঃ ৩৬)
এক নজরে নিকটবর্তী প্রথম আকাশের বিশালতার সংক্ষিপ্ত বিবরণী
সাধারণ জাগতিক সৃষ্টির সর্বোচ্চ স্থান “সিদ্রাতুল মুন্তাহা” আর সর্বনিম্ন স্থানের নাম “তাহাতাশ্ শাজারা”। নিম্ন স্থল (পৃথিবী) হতে ঊর্ধ্ব স্থলের (সাত সাতটি আকাশের সর্বশেষ সীমানার) দূরত্ব কত তা একমাত্র আহকামুল হাকিমীন আল্লাহপাকই জানেন। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা নিকটতম নক্ষত্র সূর্য (ঝঁহ) পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। জাগতিক “সাধারণ আলো”য় প্রতি সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল গতির হিসাবে পৃথিবীতে সূর্যের আলো পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ৯ মিনিট। জাপানের সুপার টেলিস্কোপ দিয়ে সনাক্তকৃত “ঠ-৭৭৪১০৪” নামক বস্তুকে সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবী হতে যার দূরত্ব হচ্ছে আনুমানিক ১৫কোটি ৫০ লাখ কিলোমিটার। আমেরিকার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির ডিভিশন অব প্ল্যানেটরি সায়েন্সের ৪৭তম বার্ষিক অধিবেশনে এই আবিস্কারের কথা প্রকাশ করা হয়। (সূত্রঃ বিবিসি, তাং-১৪.১১.২০১৫) উল্লেখ্য, এ যাবৎকালের মহাকাশের সবচেয়ে দূরতম বস্তুটির বৈজ্ঞানিক নাম *“কোয়াসার” (ছঁধংধৎ) যা পৃথিবী হতে ১৫০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত-যার মাইলেজ দাঁড়ায় = ১ সেকেন্ডে = ১,৮৬,০০০ (এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার) মাইল
পাদটিকাঃ *কোয়াসার (ছঁধংধৎ)ঃ অত্যন্ত দূর থেকে আগত রেডিও অথবা আলোক তরঙ্গের উৎস (ছঁরপশ উরপঃরড়হধৎু)
ইস্রা ও মিরাজের বাস্তবতা নিরূপণে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আলোচ্য বিষয় নি¤œরূপঃ
(১) ভর এবং ওজনঃ নীচ থেকে উপরে উঠার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব যা কোন ভর এবং ওজন বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র বস্তু/পদার্থ-কে উপর থেকে দ্রুত নীচে নামিয়ে আনে। ফলে ভর এবং ওজনদার দেহ বিশিষ্ট কোন ﺪﺒﻋ (আ’ব্দ্) বা ব্যক্তিসত¦ার পক্ষে পৃথিবী থেকে মহাকাশের অকল্পনীয় বিশাল দূরত¦ রাতের কিয়দংশের মধ্যে অতিক্রম করে পৌঁছা এবং আবার ফেরতও আসা কল্পনাতীত ব্যাপার বটে।
(২) দূরত্ব ঃ মহাবিশ্বের মহাকাশের অকল্পনীয় বিশাল দূরত¦ অতিক্রম করে রাতের এক ক্ষুদ্রাংশে আবার ফিরে আসার জন্য প্রয়োজন আলোর চাইতেও দ্রুত গতি সম্পন্ন বস্তু/পদার্থ দ্বারা গঠিত বিশেষ যানবাহনের। এ যান এর সমস্যার বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিগত সমাধান রয়েছে ইস্রা ও মিরাজের বাহনটি “বুরাক” নামধারী হওয়ায়। “বুরাক” শব্দটি “বরকুন” শব্দ থেকে নি¯পন্ন-যার অর্থ “বিদ্যুৎ” (ঊষবপঃৎরপরঃু) আর বিদুৎ মানে অতি দ্রুতগতিশীল অতি পারমানবিক বস্তুকণা বিশেষ।
মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোকে পবিত্র ইস্রা এবং মি’রাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামঃ
ইসলাম এবং গতিবিজ্ঞানঃ গতির দ্রুততা বুঝাতে ইংরেজিতে ঝঢ়ববফ, প্রচলিত কথায়ঃ চোখের পলকে, আরবীতে ‘তারফাতা আ’ইন’ বলা হয়।
গতি তাত্ত্বিক ইসলামী ঘটনাবলী ঃ
(১) ইস্রা (২) মি’রাজ (৩) সাবা’র রাণী বিল্কিসের সিংহাসন বাদশাহ্ সোলায়মান আঃ এর আনায়ন (৪) পুলসিরাত পারাপার।
উপরোক্ত ঘটনাবলীর সাথে গতি’র নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
ইস্রাঃ বায়তুল্লাহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস (মসজিদুল আকসা) পর্যন্ত গমনাগমন-কে ইস্রা বলা হয় যার বাহন ছিল বোরাক। বোরাকের গতিবেগ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমানঃ
“বোরাকের পীঠে সওয়ার হয়ে আমি সফর করছিলাম। সেটার গতি ছিল দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে এক এক কদম” (বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী, ঃ ‘যমীন থেকে আসমানের দূরত¦’, চতুর্দশ অধ্যায়, পৃঃ ৯১)।
মি’রাজঃ “…হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (বায়তুল্লাহ থেকে) বায়তুল মুকাদ্দাস এবং তথা হতে সিদ্রাতুল মুন্তাহা’য় নিয়ে যান” (ছহীহ্ কুরআন, মূলঃ তাফসীর ইবনে কাসির ও তাফসীরে আশরাফী, পৃঃ ৩০৭-৩০৮)
সাবা’র রাণী বিল্কিসের সিংহাসন বাদশাহ্ সোলায়মান আঃ এর আনায়ন ঃ বাদশাহ হযরত সোলায়মান (আঃ) রাণীর প্রতি এ মর্মে পত্র প্রেরণ করেছিলেন যে, রাণী যেন কুফর ও শিরক বর্জন করে আল্লাহপাকের একতে¦ ঈমান আনায়ন করে এবং ক্ষমতার দ¤ভ পরিত্যাগ করে তাঁর আনুগত্য স¦ীকার করে তার নিকট উপস্থিত হয়ে যায়।
এদিকে হযরত সোলায়মান আঃ দরবারের লোকদের বলেছিলেনঃ হে পরিষদবর্গ, ইয়ামানের রাণী আত্মসর্ম্পন করে আমার নিকট আসার পূর্বেই তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসতে পারবে? এক শক্তিশালী জি¦ন বললোঃ আপনার মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বেই আমি তা আপনার নিকট এনে দিতে পারব। হযরত সুলাইমান আঃ এর একজন নিকটতম সাহাবী বললেন, আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই তা (সিংহাসন) নিয়ে আসতে পারব। তিনি আসমানী কিতাবের জ্ঞানসম্পন্ন ছিলেন এবং তাঁর *ইসমে আযমও জানা ছিল। মুহুর্তের মধ্যে সে রাণী বিলকিসের সিংহাসন বাদশাহ সুলাইমান (আঃ) এর দরবারে নিয়ে আসল।
রাণী বিলকিস হযরত সোলায়মান আঃ এর দরবারে যথারীতি হাজির হলেন। তিনি এখানে তাঁর নিজ সিংহাসন দেখে যারপর নাই বিসি¥ত হলেন এবং এক আল্লাহর প্রতি ঈমান প্রকাশ করলেন। অতঃপর পাঠ করলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছিলাম। আমি সুলাইমানের সঙ্গে জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন করছি” (সূরাহ নামাল, আয়াতঃ ৪৪)।
পুলসিরাত পারাপারঃ “মুমিন ব্যক্তি কেউ চোখের পলকে, কেউ বিদ্যুতের বেগে, কেউ ঝড়ের বেগে, কেউ পাখির মত, কেউ দ্রুতগামী ঘোড়ার মত, কেউ সাধারণ সোয়ারীর মত পুলসিরাত অতিক্রম করবে”। (সূত্রঃ তাফসীরুল উশ্রিল আখীর মিনাল কুরআনিল কারীম, রিয়াদ, মক্কা আল মুয়াজ্জিমা)
ইস্রা, মিরাজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিঃ
জজিরাতুল আরবের মক্কা মুয়াজ্জিমায় অবস্থিত পবিত্র ক্বাবা তথা বায়তুল্লাহ শরীফ থেকে ফিলিস্তিনের আল কুদ্স শহরে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস তথা মসজিদ আল আকসায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাত্রিকালীন ঊর্ধ্বগামী সফরকে ইস্রা বলা হয়। এতে মহাকাশ যান হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল “বুরাক” নামক অতি দ্রুতগামী কুদরতি যানবাহন-যার এক কদম এক দিগন্ত ব্যাপী। পবিত্র ইস্রার সাথে “বুরাক” এর সম্পর্ক আর বুরাকের সাথে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক। আলোচ্য ইস্রা ছিল “ঊর্ধ্বাকাশীয় নৈশ সফর” যার জন্য প্রয়োজন ছিল নিউটনীয় তত্ত¦মতে মধ্যাকর্ষণ শক্তি অতিক্রম। পৃথিবীর আকর্ষণ বা টান মুক্তির জন্য আবশ্যক ছিল রকেট প্রযুক্তির। “অ ৎড়পশবঃ’ং ংঢ়ববফ রং ১১ শরষড় সবঃবৎ ঢ়বৎ লঁংঃ ধ ংবপড়হফ ফবঢ়বহফং ড়হ ঃযব ৎড়পশবঃ ধহফ ঃযব ঢ়ধুষড়ধফ. ঙহব শরষড়সবঃবৎ রং বয়ঁরাধষবহঃ ঃড় ০.৬২১ সরষবং. (০.৬২১ী১১) = ৬.৮৩১ সরষবং”. অর্থাৎ একটি সাধারণ রকেটের (মালবাহী নয়-এমন) সাধারণ গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে সাধারণতঃ ৬.৮৩১ মাইল বা প্রায় ৭ মাইল। এই রকেট গতিতে সম্ভব হয়েছে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অতিক্রম করে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া যাকে আল ক্বুরআনে আল্লাহপাক ﻥﻁﻟﺳﺑ বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, মানবোতিহাসে সর্ব প্রথম রকেটচালিত সুয়েজ মহাশুন্যযানে পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেছিল সোভিয়েত (রাশিয়ান) মহাশুন্যচারী ইউরিন গ্যাগারিন। উল্লেখ্য, পবিত্র ইস্রা-তে ব্যবহৃত বুরাকের গতিবেগ ছিল প্রতি কদমে এক দিগন্তব্যাপী। আর বায়তুল্লাহ থেকে মসজিদে আকসার দূরত¦ ৪০ দিনের দূরত¦। বুরাক অর্থাৎ কুদরতি গতিতে এই দূরত¦ অতিক্রম মুহুর্তের ব্যাপার মাত্র।
বুরাকের আধুনিক প্রযুক্তির কথাঃ
আমরা অনেকেই জানি যে, ইসরাতে ব্যবহৃত যান-টির নাম বুরাক-যাকে “মহাকাশীয় কুদরতি দ্রুতযান” বলা যায়। উল্লেখ্য, “প্রাক ঐতিহাসিক যুগের মানুষের যাদের বাহন ছিল একমাত্র তাদের নিজস¦ পদযুগল অথবা তৎকালীন সভ্যতার যুগে যখন তাদের দ্রুতগামী তৃপ্তিকর বাহন হয়ে দাঁড়ায় পশুতে চাকাওয়ালা গাড়ী (উট, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর ইত্যাদি) সেই মানুষদেরকে তখন যদি শুনানো হতো উড়োজাহাজের কথা-অত্যাধুনিক রকেট মহাকাশযানের কথা না হয় বাদই থাকল তখন তা কি তাদের নিকট বোরাকের মতই মনে হতো না?….আমরা এও জানি নিউজিল্যান্ডে যখন রাত ধরুন রবিবার, ইংল্যান্ডে তখন আগের দিনের দুপুর অর্থাৎ শনিবার। এক্ষণে বিজ্ঞানের কল্যাণে যদি এমন একটি বাহন হয় যাতে চড়ে ২/১ মিনিটেই নিউজিল্যান্ড থেকে লন্ডন পৌঁছা যায় যা খুবই সম্ভব কয়েক ঘন্টায়তো এখনই যাওয়া যায়। নিউজিল্যান্ড থেকে রবিবার রওয়ানা হয়ে শনিবারে লন্ডনে পৌঁছে কয়েক ঘন্টা ঘুরে ফিরে মার্কেটিং সেরে আবার ঐদিনই (রবিবার) নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসা যায়। (মি‘রাজ বিস¥য়কর আল কোরআনে ও বিজ্ঞানেঃ কৃষিবিদ আলহাজ্ব মোঃ নূরুল ইসলাম, মাসিক মদীনা, বর্ষঃ ৩৮, সংখ্যাঃ ০৮, শাবান-১৪২৩, নভে¤বর ২০০২, পৃঃ ৩৫)
মি’রাজ এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিঃ
আকাশ সিঁড়িঃ আধুনিক মি’রাজ সংস্করণ!
“সেদিন সম্ভবত খুব বেশি দূরে নয়। যেদিন লিফটে চড়ে মানুষ মহাশূন্য পরিভ্রমণ করবে। তবে তাকে লিফট না বলে আকাশে ওঠার সিঁড়ি বলাই বোধ হয় সবচেয়ে উত্তম হবে।” (সূত্রঃ (১)মি‘রাজ বিস¥য়কর আল কোরআনে ও বিজ্ঞানেঃ কৃষিবিদ আলহাজ্ব মোঃ নূরুল ইসলাম, মাসিক মদীনা, বর্ষঃ ৩৮, সংখ্যাঃ ০৮, শাবান-১৪২৩, নভে¤বর ২০০২, পৃঃ ৩৫।
আকাশ সিঁড়ি প্রধানতঃ দু’ প্রকার।
(১) কাঠের এবং (২) বৈদ্যুতিক সিঁড়ি।
সিঁড়ি মানে নিচ থেকে উপরে উঠার সরঞ্জাম বিশেষ।
“বিজ্ঞান প্রযুক্তির বিস¥য়কর সাফল্যের এই যুগে মানুষ যখন ক্রমশ সকল অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলছে, তখন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা (কেন্দ্র) নাসা এ সুসংবাদ দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। নাসা বলেছে, মহাকাশ পরিভ্রমণের লিফট তৈরী হচ্ছে। এটি তৈরী করবে ‘ওটিস এভিলেটর’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এ কাজে তাদের সময় লাগতে পারে বছর দশেকের মত। নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই লিফটগুলো হবে মূলত রকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণ এবং এদের গতিবেগ রকেটের মতোই। তবে এতে লোকজন আরোহন করার পর বোতাম টিপলেই এর যাত্রা শুরু হবে এবং দেখা যাবে চোখের পলকে এটি মহাশূন্যের নির্ধারিত স্টেশনে এসে পৌঁছেছে। (প্রাগুক্ত, পৃঃ ৩৫)।
আলোচ্য মি’রাজ ছিল “ঊর্ধ্ব-মহাকাশীয় নৈশ সফর” যার জন্যও প্রয়োজন ছিল নিউটনীয় মধ্যাকর্ষণ শক্তি অতিক্রম। এটির জন্যও প্রয়োজন পৃথিবীর আকর্ষণ মুক্তির জন্য নিউটনীয় তত্ত¦মতে ‘মধ্যাকর্ষণ শক্তি’ অতিক্রম এবং ঊর্ধ্বকাশে গমনের জন্য আইনষ্টাইনীয় সীমাবদ্ধ আলোর গতিতত্তে¦র (ঊ= গঈ২) বাইরে “নিউট্রিনো” (ঘবঁঃৎরহড়) মানের গতির চাইতেও অকল্পনীয় *কুদরতি গতিবেগ।
পাদটীকাঃ *কুদরতঃ মানব হস্তমুক্ত সরাসরি আল্লাহপাক সৃিষ্ট করে থাকেন অজানা মাধ্যমে।
নিউট্রিনো কি?
“নিউট্রিনো” (ঘবঁঃৎরহড়) অর্থ ক্ষুদ্র নিরপেক্ষ কণা। এটি বৈদ্যুতিক চার্জবিহীন দূর্বল সক্রিয় ক্ষুদ্র পারমাণবিক কণা। পদার্থের মধ্য দিয়ে এ কণা প্রায় অবিকৃতভাবে চলাচল করতে পারে। নিউট্রিনো লাখ লাখ কোটি কোটি কণার স্রোত হয়ে অবিরাম বয়ে চলেছে। চলার পথে সবকিছুকেই ভেদ করে চলেছে তা। কিšত্ত আমরা অনুভব করি না। এই কণার কোনোটির সৃষ্টি মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথিত মুহুর্ত ‘বিগ ব্যাং’ এর সময়। কোনোটা সুপারনোভার বিস্ফোরণ থেকে। কোনোটা বা পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের সময়। মানবদেহে পটাশিয়ামের আইসোটোপ ক্ষয়ের সময়ও এই কণা তৈরি হয়। এমন সর্বব্যাপী কণা হলেও নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচন এত দিন অধরাই ছিল।
বিজ্ঞানীরা এই কণাকে ভূতুড়ে কণা বলতেন। এই কণা নদীর স্রোতের মত বয়ে চলে। প্রায় আলোর গতিতে তারা ছুটে বেড়ায় লক্ষ কোটি কোটি কণার স্রোত হয়ে। বয়ে চলার পথে এসব কণা মানুষকেও ভেদ করে চলে। কিন্তু মানুষ এদের উপস্থিতি মোটেও টের পায় না, পায় না এর কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া (সাইড অ্যাফেক্ট)। কারণ, শরীর ভেদ করে চলে যাওয়ার সময় এসব কণা তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মতো কোষ কলার সঙ্গে কোন বিক্রিয়া আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবাণীতে ঘটায় না। তাই ক্ষতির কোন প্রভাব এই কণার কারণে ঘটেনা। নিউট্রিনো নামক এই কণার সঙ্গে বিক্রিয়ায় পানির অনু থেকে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটতে দেখা গেলেও বেশির ভাগ নিউট্রিনোই কোন প্রকার বিক্রিয়া না ঘটিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করে মহাকাশে পাড়ি জমায়। নিস্ক্রিয়তার কারণে ৬ ট্রিলিয়ন মাইল পুরুত্ব বিশিষ্ট সীমার ওপর আপতিত নিউট্রিনোর মাত্র অর্ধেক শোষিত হয়। সূর্যসহ সব ধরনের নক্ষত্রের কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিউশন, বিকিরণ প্রক্রিয়া এবং সুপারনোভাগুলোতেও প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণে নিউট্রিনো উৎপন্ন হয়ে চলেছে। মহাজাগতিক এসব প্রক্রিয়া ছাড়া মনুষ্য তৈরী বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়া এবং পারমাণবিক চুল্লিতেও এ কণা উৎপন্ন হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় লোহা ও প্লাস্টিকের তৈরী উচ্চ পুরুত্ব বিশিষ্ট পাত, ফোটন ডিটেক্টরযুক্ত তেল বা পানি ভর্তি বৃহৎ প্রকোষ্ঠ অথবা সমুদ্রের পানির নিচে বা অ্যান্টার্টিকার বরফের নিচে বসানো ডিটেক্টরের সঙ্গে নিউট্রিনোর বিক্রিয়া ঘটানো সম্ভব হয়েছে। চতুর্দিকে শিলাখন্ড দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় ব্যাকগ্রাউন্ডে অবস্থিত অন্য রশ্মি বা কণা যন্ত্রটিতে পৌঁছতে পারেনা কিন্তু নিউট্রিনো এতটাই পিচ্ছিল, এসব বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হয় এবং কোন কোনটি শনাক্তকারী যন্ত্রে নিউট্রিনো আন্দোলিত হয় এবং এর ভরতে¦র কারণে নিউট্রিনোা অনুভব, অনুধানীয়ও বটে।
যেভাবে নিউট্রিনোর গতিবেগ প্রমাণিত হলোঃ
২০১১ সালের সেপ্টে¤বরে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক ইউরোপীয় পারমানবিক গবেষণা সংস্থা ঈবহঃবৎ ভড়ৎ ঊঁৎড়ঢ়বধহ জবংবধৎপয ড়ভ ঘঁপষবধৎ (ঈঊজঘ) এর খ্যাতনামা পদার্থ বিজ্ঞানের গবেষকেরা ঘোষণা করেছিলেন যে, “নিউট্রিনো” (ঘবঁঃৎরহড়) ‘আলোক কণা’ (চধৎঃরপষব ড়ভ খরমযঃ) থেকেও দ্রুতগতি সম্পন্ন”। এটি গবেষণা করে প্রমাণ করায় ২০১৫ সালের পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুর¯কারে ভূষিত হন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাকাকি কাজিতা এবং কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ম্যাকডোনাল্ড।
নোবেল কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পদার্থের গভীরে কী ঘটে, এ বিষয়ে সাধারণের ধারণা বদলে দিয়েছে কাজিতা ও ম্যাকডোনাল্ড এর এই যুগান্তকরী আবিস্কার। আগে ধারণা করা হতো “নিউট্রিনোস” (ঘবঁঃৎড়হড়ঁং) বা অতি পারমানবিক কণার কোনো ভর নেই। কিন্তু তারা দুইজন প্রধান করলেন, নিউট্রিনোসের ভর রয়েছে এবং তা আন্দোলিত হয়। গবেষণা করে পদার্থের অণুতে নিউট্রিনোর রূপ বদলের স¦রূপ খুঁজে কণার ভরের সাড়া পেয়েছেন তারা। তবে নিউট্রিনোসের আবি¯কারের প্লীহা চমকানো তথ্যটি হচ্ছে এই ভরযুক্ত বস্তু/পদার্থধর্মী এই সৃষ্টি বর্তমান বিদ্যমান আলোর (খরমযঃ) চাইতে কিছুটা দ্রুতগামী।
নিউট্রিনো পরমাণুর চেয়েও ছোট কণা, যার ভর প্রায় শূন্য এবং বলতে গেলে কোন প্রকার মিথ¯ক্রীয়া ঘটে না। এ কারণে এদের নিয়ে গবেষণা করা ছিল প্রায় দুঃসাধ্য। নিউট্রিনোর চুলচেরা সত্য-সত্যতা নিরূপনের জন্য পৃথক দেশে সার্ণের (ঈঊজঘ) সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থাপনায় তাকাকি কাতিজা জাপানে এবং আর্থার বি ম্যাক ডোনাল্ড কানাডায় পৃথক পৃথক যন্ত্র ব্যবহার করে এই কণার সম্পূর্ণ অভিনè বৈশিষ্ট্য ও সুনির্দিষ্ট পরিমাপ নির্ধারণ করতে সমর্থ হন। জাপানের সুপার কামিও কাদেতে মাটির গভীরে নিউট্রিনো ডিরেক্টরে কর্মরত কাতিজা ১৯৯৮ সালে নিউট্রিনোর সাড়া জাগানো এই বিরল বৈশিষ্ট্যগুলির প্রমাণ সামনে আনেন। প্রায় একই বছর কানাডার সদবুড়ি নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে (ঝঁফনঁৎু ঘবঁঃৎরহড় ঙনংবৎাধঃড়ৎু) বৈজ্ঞানিক আর্থার বি ম্যাক ডোনাল্ড এর নেতৃত্বে একটি গবেষণা দল একই রূপাšতরের কথা প্রমাণ করেন। এ প্রসঙ্গে দীর্ঘ ৩০ বছর ‘নিউট্রিনো’ সম্পর্কে গবেষণাকারী বিজ্ঞানী ভিক্টর স্টেঙ্গর (ংঃবহমবৎ) বলেন, পৃথিবী থেকে ১,৬৮,০০০ আলোক বর্ষ দূরে এক জায়গায় এক সুপার নোভা বিস্ফোরণের কথা আমরা জানি। এটাকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে যার দৃশ্যমান আলো পৃথিবীতে পৌঁছার তিন ঘন্টা আগেই নাকি বেশ কিছু সংখ্যক নিউট্রিনোর পৃথিবীতে পৌঁছেছিল। ব্যাপারটি সনাক্ত হয়েছিল তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ভূ-গর্ভস্থ ডিটেক্টরের সাহায্যে। সার্ণ কর্তৃক ব্যবস্থাপনায় এবং ফ্রান্স ও ইতালির সমি¥লিত প্রচেষ্টায় ও অর্থায়নে পরিচালিত ‘অপেরা’ (ঙঢ়বৎধ) নামক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় ৭৩০ কিলোমিটার দূরে ইতালির গ্রানসাসো শহরে আল্পস্ পর্বতমালার নিচে অবস্থিত নিউট্রিনো শনাক্তকারী যন্ত্রে নিউট্রিনো কণাসমূহ প্রেরণ করা হলে নিউট্রিনোগুলো সাধারণ আলোর গতির চাইতে অšততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড আগে ডিটেক্টরে পৌঁছে যেতে দেখা যায়-যার অর্থ দাঁড়ায়ঃ নিউট্রিনোর গতিবেগ শূন্যস্থানে আলোর গতির চেয়ে অন্ততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড বেশি। অথচ আইন¯টাইনের পদার্থ বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিশ্বখ্যাত সমীকরণ ঊ = গঈ২ তত্ত¦ মতেঃ “ওজন ও ভর শুন্য একমাত্র আলো-ই (খরমযঃ) হচ্ছে মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতি সম্পনè সৃষ্টি সত¦া। এতদ্ভিনè ওজন ও ভর সম্পনè কোন বস্তÍ/পদার্থ আলোর চাইতে দ্রুতগতি সম্পনè হতে পারে না”। অবশেষে আইনষ্টাইনের সমীকরণ ঊ = গঈ২ এই জগদ্বিখ্যাত সূত্র সার্ণের নিউট্রিনো আবিস্কারের মাধ্যমে ভেঙ্গে গেল!!!। এতে সু¯পষ্ট প্রতীয়মান যে, বুরাক, মিরাজ, চোখের পলকে সিংহাসন আনায়ন, মুমিনদের চোখের পলকে পুলসিরাত পার হওয়ার ক্ষেত্রে কুদরতি গতিবেগ সম্পন্ন অবস্থা অস¦াভাবিক কিছুই নয়।
