প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬, জমা.আউ-জমা.সানী ১৪৩৭ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
নিজের ঈমান ও আমল বিশুদ্ধ করার মত ইলম অর্জন করা ফরয। এরপর ইলম অর্জন করা নফল ইবাদত হিসেবে সর্বোত্তম ইবাদত। অন্য নেক আমল বেশি করার চেয়ে ইলম বেশি করে শিক্ষা করার সাওয়াব বেশি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ইবাদতের মর্যাদার চেয়ে ইলমের মর্যাদা অধিকতর বা অতিরিক্ত ইবাদতের চেয়ে অতিরিক্ত ইলম উত্তম।(হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/১৭১; হাইসামী মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১২০। হাদীস হাসান।) যে কোনো বয়সের যে কোনো মুমিন ওয়ায মাহফিলে, মসজিদে, শুক্রবারে খুতবার আলোচনায়, আলেমের নিকট প্রশ্ন করার মাধ্যমে, বই পড়ে বা যে কোনোভাবে ইলম শিক্ষা করলেই এই মর্যাদা ও সাওয়াব লাভ করবেন।
কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক আলোচনা করেন এবং ভিত্তিহীন গল্প-কাহিনী পরিহার করেন এরূপ হাক্কানী আলিম ও মুবাল্লিগদের ওয়াজ-নসীহত, আলোচনা ও যিকরের মাহফিলে সময় সুযোগমত উপস্থিত হবেন।
যিকরের মাহফিলের ফযীলত,
যিকরের মাহফিল হলো ঐ মাহফিল যেখানে কয়েকজন মুমিন একত্রিত হয়ে আল্লাহ্র শুণাবলি, নেয়ামত, বরকত, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর দীন, তাঁর বিধান, পুরস্কার, তাঁর সন্তুষ্টির পথে অগ্রসর হওয়ার উপায় ইত্যাদির আলোচনা করেন। আল্লাহর প্রশংসা, মর্যাদা, মহত্ব, পবিত্রতা ও একত্ব উল্লেখ করেন। তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেন। তাঁর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করেন। এরূপ মাহফিলের ফযীলত ও সাওয়াবের বিষয়ে অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখনই কোনো সম্প্রদায় (কিছু মানুষ) বসে মহা মহিমান্বিত আল্লাহ্র স্মরণ (যিকর) করে, তখনই ফিরিশতাগণ তাদেরকে বেষ্টন করে নেন, রহমত তাদেরকে আবৃত করে, তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয় এবং আল্লাহ্ তাদের স্মরণ (যিকর) করেন তাঁর (আল্লাহর) নিকট যারা আছেন তাদের মধ্যে। (সহীহ মুসলিম ৪/২০৭৪, নং ২৭০০)
আবু দারদা (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ কিছু মানুষকে উঠাবেন যাঁদের চেহারায় নূর উদ্ভাসিত থাকবে। তাঁরা মুক্তাখচিত মিম্বরের উপরে থাকবে। সকল মানুষ যাঁদের নিয়ামত দেখে নিজেদের জন্য এই নিয়ামত কামনা করবে। তাঁরা নবী নন বা শহীদও নন। তখন একজন বেদুঈন হাঁটু গেড়ে বসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাঁদের বৈশিষ্ট্য আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যেন আমরা তাঁদের চিনতে পারি। তিনি বলেন : তাঁরা ঐসব মানুষ যাঁরা একে অপরকে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, বিভিন্ন গোত্র বা গোী ও বিভিন্ন এলাকা বা দেশ থেকে এসে তাঁরা আল্লাহর যিকরের জন্য একত্রিত হয়ে আল্লাহর যিকর করে। (মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৭৭, আত-তারগীব ২/৩৮৩)
