প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬, জমা.আউ-জমা.সানী ১৪৩৭ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
৪৫. মদ ও মাদক দ্রব্যের ব্যাপক ব্যবহার
১. মদ ও মাদক দ্রব্যের ব্যাপক ব্যবহার কিয়ামাতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০,৮১,৬৮০৮;মুসলিম ২৬৭১)
২. শুধু মদ পান যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা একদা হালালও মনে করা হবে। আবু আমির আশ্আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ আমার উম্মাতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)
৩. কেউ কেউ তা সরাসরি হালাল মনে না করলেও ভিন্ন নামে উহাকে হালাল মনে করবে। উবাদাহ্ বিন্ সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক লোক মদকে হালাল মনে করবে প্রচলিত নাম ভিন্ন অন্য নামে। যা তারাই সুচতুরভাবে চয়ন করবে। (আহ্মাদ ৫/৩১৮ ইব্নু মাজাহ্ ২/১১২৩ সহীহুল্ জামি, হাদীস ৪৯৪৫)
বর্তমানে বিভিন্ন নামে প্রচলিত মদ ও মাদক দ্রব্যের মধ্যে ওয়াইন ব্রান্ডি, এ্যালকোহল, প্যাথেডিন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, সীসা, হেরোইন, এ্যালকোহল যুক্ত এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
৫. মদ ও মাদক দ্রব্যকে হালাল মনে করা দু ধরনের হতে পারে : (১) মদ পান করা হালাল বলে বিশ্বাস করা। (২) পানির মতো তা অধিক পান করা। যা কার্যত হালাল হওয়াই প্রমাণ করে। বর্তমান যুগে প্রকাশ্যভাবে মদ ও মাদক দ্রব্যের ব্যবসা ও যত্রতত্র উহার পান কিয়ামাত অতি সন্নিকটে বলেই প্রমাণ করে।
৪৬. ব্যয়কুন্ঠতা ও কার্পন্যতা বৃদ্ধি
১. ইসলামী সমাজে ব্যয়কুন্ঠতা ও কার্পণ্যতার মত -মানসিক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া কিয়ামাতের অন্যতম আলামাত। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: কিয়ামাতের অন্যতম আলামত হচ্ছে এই যে, তখন কার্পণ্য প্রকাশ পাবে। (মাজ্মাইয্ যাওয়ায়িদ্ ৭/৩২৭)
২. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- সবকিছু কঠোর হয়ে যাবে, মানুষের মধ্যে কার্পণ্যতা বৃদ্ধি পাবে। (ইবনে মাজা)
৩. অন্যত্র নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- সময় দ্রুত অতিবাহিত হয়ে যাবে, (আখেরাতের জন্য) মানুষের আমল কমে যাবে অন্তরে কার্পণ্যতা সৃষ্টি হবে এবং অধিক হারে সংঘাত (হত্যাযজ্ঞ) ঘটতে থাকবে। (বুখারী-মুসলিম)
৪. মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দিন দিন পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হবে এবং মানুষ ধীরে ধীরে আরো কৃপণ হয়ে উঠবে। (মাউজ্যাউয্ যাওয়ায়িদ্ ৮/১৪)
৫. জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন তোমরা যুলুম থেকে বেঁচে থাকো । কারণ, যুলুম কিয়ামাতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে। তেমনিভাবে তোমরা কার্পণ্য থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, কার্পণ্য পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কার্পণ্য তাদেরকে উৎসাহিত করেছে একে অপরের রক্তপাত ঘটাতে এবং একে অপরের ইয্যত- আবরু লন্ঠন করতে। (মুসলিম ২৫৭৮)
৬. কার্পণ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার মধ্যেই সমূহ সফলতা। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন
وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (৯)
যারা কার্পণ্য থেকে মুক্ত রয়েছে তারাই সফলকাম। (হাশর : ৯ তাগাবুন : ১৬)
৪৭. স্বল্প বসনা নগ্ন মহিলাদের আত্মপ্রকাশ
১. কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনার ছড়াছড়ি। রাস্তাঘাটে বের হলেই আজকাল নগ্ন-প্রায় মহিলাদের অবাধ চলাফেরা প্রত্যক্ষ করা যায়। দেহের অনেকাংশ-ই খোলা থাকে -এমন সংকীর্ণ বস্ত্র পরে তারা পুরুষদের সামনে বেহায়ার মত চলাফেরা করে। বাহ্যত তারা বস্ত্র-পরিহিতা হলেও ফিতনা ছড়ানো এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রদর্শনের ফলে তারা নগ্ন।
২. আব্দুল্লাহ্ বিন্ আমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন আমার উম্মাতের শেষাংশে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে যারা ঘরের ন্যায় আসনে তথা গাড়িতে আরোহণ করবে । যাতে চড়ে তারা মসজিদের দরজায় অবতরণ করবে। তাদের মহিলারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। তাদের মাথা হবে দুর্বল খুরাসানী উটের কুঁজোর ন্যায়। তোমরা তাদেরকে অভিসম্পাত করবে। কারণ, তারা অভিসম্পাত পাওয়ার উপযুক্ত। তোমাদের পর যদি অন্য কোন জাতির আবির্ভাব হয় তা হলে তোমাদের মহিলারা তাদের মহিলাদের খিদমত করবে যেমনিভাবে পূর্বকার জাতির মহিলারা তোমাদের খিদমত করে। (মুসনাদে আহ্মাদ্ ১২/৩৬)
৩. অন্য বর্ণনায় এসেছে, এ উম্মতের শেষাংশে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে যারা নরম নরম আসনে তথা উন্নত মানের গাড়িতে আরোহণ করবে। যাতে চড়ে তারা মসজিদের দরোজায় অবতরণ করবে। তাদের মহিলারা হবে কাপড় পরিহিতা, অথচ উলঙ্গা। (হাকিম ৪/৪৩৬)
৪. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ দুজাতীয় মানুষ জাহান্নামী। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে এমন লোক যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় লম্বা লাঠি। যা দিয়ে তার মানুষকে অযথা প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে এমন মহিলারা যারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। অন্যকে আকর্ষণকারী এবং নিজেও হবে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট। তাদের মাথা হবে খুরাসানী উটের ঝুলে পড়া কুঁজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি উহার সুগন্ধও পাবে না। অথচ উহার সুগন্ধ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (মুসলিম ২১২৮)
৫. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন কিয়ামাতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে আরেকটি আলামত এই যে, তখন এমন পোষাক-পরিচ্ছদ আবিস্কৃত হবে যা পরবে এমন মহিলারা যারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গ। (মায্মাউয্যাওয়ায়িদ ৭/৩২৭)
৪৮. অশ্লীলতা বেহায়াপনা বৃদ্ধি পাবে
১. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন – কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না অশ্লীলতা- বেহায়াপনা বৃদ্ধি পাবে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে এবং প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার করা হবে।(মুসনাদে আহমদ ১০/২৬-৩১)
২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ঐ সত্তার শপথ- যার হাতে আমার প্রাণ নিহিত! কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না, অশ্লীলতা ও কার্পণ্যতা বৃদ্ধি পাবে, বিশ্বস্তকে ঘাতক এবং ঘাতকে বিশ্বস্ত মনে করা হবে, সভ্রান্ত ব্যক্তিদের বিলুপ্তি ঘটবে। মূর্খদের জনপ্রিয়তা ও মাতব্বরি বেড়ে যাবে। (মুস্তাদরাকে হাকিম)
৩. অশ্লীলতা বলতে মহিলারা শর্ট ড্রেস পরে রাস্তা-ঘাটে চলাফেরা করবে। কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল গালিগালাজ বেড়ে যাবে।
৪৯. দেহে মাংসলতা ও স্থূলতা বৃদ্ধি
১. ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- সর্বোত্তম যুগ আমার যুগ। এরপর আমার সাহাবীদের যুগ। এরপর তৎপরবর্তীদের যুগ। এরপর এমন লোকদের আবির্ভাব হবে, যারা বিনা সাক্ষ্য কামনায় সাক্ষ্য দিবে। বিশ্বসাঘাকতা করবে। তাদের কাছে আমানত রাখা হবে না। মানত করেও পূরণ করবে না। তাদের দেহে মাংসলতা ও স্থূলতা প্রকাশ পাবে। (বুখারী – মুসলিম)
২. রকমারি সুস্বাদু খাবার এবং অত্যাধুনিক সব হোটেল- রেস্তোরা গড়ে উঠার ফলে হয়ত মানুষের দেহে স্থুলতা দেখা দেবে। দৈহিক পরিশ্রমের ক্ষেত্র কমে যাবে। অত্যাধুনিক যানবাহন আবিস্কারের ফলে যাতায়াতে কষ্ট হবে না। এভাবেই ছোট-বড় সকলের দেহে মাংসলতা দেখ দেবে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত জারিপমতে- পৃথিবীর এক-ষাংশ মানুষ অতিরিক্ত মেদ সমস্যায় আক্রান্ত। এ কারনেই অতিরিক্ত ওজন কমাতে আজকার বহু ইলেকট্রিক যন্ত্র আবিস্কৃত হয়েছে। টিভি পর্দায় নিয়মিত ব্যায়ামের ট্রেনিং প্রচারিত হচ্ছে।
৫০. বিনা সাক্ষ্য কামনায় সাক্ষ্য প্রদান, ৫১ মানত করে অপূরণ
উপরোক্ত হাদিসেই এর বিবরণ গত হয়েছে- এরপর এমন লোকেদের আবির্ভাব হবে, যারা বিনা সাক্ষ্য কামনায় সাক্ষ্য দিবে। বিশ্বাসঘতকতা করবে। তাদের কাছে আমানত রাখা হবে না। মানত করেও পূরণ করবে না…। দ্বীন নিয়ে অবহেলা, দুর্বল ঈমান এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে হ্রাস পাওয়ায় এ জাতীয় ঘটনা বহুল পরিমাণে ঘটতে থাকবে।
৫২. বিশ্বস্ততা অন্তর থেকে উঠে যাওয়া
১. প্রতিটি বস্তকে আপন স্থানে রেখে বিচার করা-ই ইসলামের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যেই- জাতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের কল্যাণ নিহিত । এই মৌলিক বস্তটি যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন ঠিক উল্টো দিকটা প্রবেশ হতে শুরু করে। সমাজ সংস্কৃতি সবই বিনাশ হয়ে যায়। এটা-ই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসের মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন।
২. মৌলিক চরিত্র নষ্ট হয়ে যাওয়া-ই বিশ্বস্ততা ভঙ্গের মূল কারণ। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- মানুষের হৃদয়ের গহীনে সর্বপ্রথম বিশ্বস্ততার অবতরণ হয়েছিল। অতঃপর কোরআন নাযিল শুরু হলে মানুষ কোরআন এবং হাদীসকে ধীরে ধীরে শিখতে থাকে। এরপর নবীজী বিশ্বস্ততা উঠে যাওয়ার কথা বলেছিলেন- মানুষ শয়ন করবে, ঘুমের মধ্যেই হৃদয় থেকে বিশ্বস্ততা উঠিয়ে নেয়া হবে, কিন্তু তার প্রভাব অন্তরে থেকে যাবে। এরপর মানুষ শয়ন করবে, আবারো অন্তর থেকে বিশ্বস্ততা উঠিয়ে নেয়া হবে, কিন্তু তার সূক্ষ্ম ছাপ অন্তরে থেকে যাবে। জ্বলন্ত টুকরা চামড়ায় পতিত হলে চামড়া ফুলে ওঠে। কিছুদিন পর তা শুকিয়ে গেলে চামড়ায় যেমন একপ্রকার ছাপ বা দাগ থেকে যায়,অথচ ভেতবে কিছুই নেই, এরপর শুকনা কিছু নিয়ে চামড়ায় লাগিয়ে দেয়, ঠিক তেমনি..। এরপর মানুষেরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করবে, কেউ কারো বিশ্বস্ততা রক্ষা করবে না! এমনকি বিস্ময় -কন্ঠে মানুষ বলতে থাকবে অমুক গোত্রে একজন বিশ্বস্ত মানুষ আছে। কাউকে সম্বোধন করে বলা হবে যে, লোকটি কত জ্ঞানী কত ভদ্র! কত সুশীল! অথচ তার অন্তরে বিন্দু মাত্র ঈমান নেই। (বুখারী -৬৪৯৭)
৩. হুযায়ফা (রাঃ) বলেন- এমন এক সময় ছিল-যখন- যে কাউকে বায়আত করার সুযোগ থাকত (সবাই বিশ্বস্ত হওয়ার ফলে)। কিন্তু এখন (বিশ্বস্ততা উঠে যাওয়ার ফলে) অমুক অমুক ছাড়া কাউকে আমি বায়আত করব না।
৪. সমাজের সংখ্যাগরি লোকেরা যখন বিশ্বাসঘাতক হয়ে যায়, তখন নেতৃত্ব-ও ঘাতকদের হাতে চলে যায়। আর তখনই বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিলুপ্তি ঘটে। বর্তমান কালে প্রতিটি স্থানে প্রতিটি দেশে বিশ্বাসঘাতকতা ছেয়ে যাওয়ার ফলে যা কিছু ঘটছে, তা কারো অজানা নয়।
৫. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এক বেদুঈন এসে – কিয়ামাত কখন?- জিজ্ঞেস করল। নবীজী তার কথায় কান না দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবস্থা দেখে কেউ কেউ ধারণা করল- নবীজী হয়ত শুনেও উত্তর দিতে আগ্রহী না হওয়ায় কিছু বলছেন না। অন্যরা ধারণা করল, বেদুঈনের কথাই নবীজী হয়ত শুনেননি। আলোচনা শেষ করে প্রশ্নকারী কোথায়? জিজ্ঞেস করলে বেদুঈন বলল- এই তো আমি এখানে হুজুর! বললেন – যখন বিশ্বস্ততা বিনষ্ট হয়ে যায়, তখন কিয়ামাতের অপেক্ষা করবে। বলল- বিশ্বস্ততা কিভাবে নষ্ট হবে? বললেন যখন অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব চলে যাবে, তখন কিয়ামাতের অপেক্ষা কর। (বুখারী ৬৪৯৬)
৬. কিয়ামাতের এই নিদর্শনটি সম্প্রতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সামাজিক পদ, স্কুল- কলেজ এমনকি সরকারী মন্ত্রণালয় পদেও আজ অযোগ্য ব্যক্তিদের ছড়াছড়ি। যে সকল পদে আজ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের দরকার ছিল সেখানেই বিশ্বাসঘাতকরা সাপের মত ফনা তুলে বসে রয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী যে অবশ্যই বাস্তবায়িত হওয়ার ছিল…।
৫৩. বিশ্বস্তকে ঘাতক আর ঘাতককে বিশ্বস্ত জ্ঞান
পূর্বেই আলোচিত হয়েছে- বিশ্বস্ততা উঠে যাবে, অযোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব চলে যাবে। তদ্রুপ বিশ্বস্তকে ঘাতক আর ঘাতককে বিশ্বস্ত মনে করা হবে। সন্দেহ করে বিশ্বস্তের কাছে কেউ আমানত রাখবে না। অপরদিকে ঘাতক, মিথ্যুক কপট ও লম্পটদেরকে বিশ্বস্ত মনে করা হবে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ঐ সত্তার শপথ ! যার হাতে আমার প্রাণ নিহিত! কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না বিশ্বস্তকে ঘাতক আর ঘাতককে বিশ্বস্ত মনে করা হবে…।
