প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭, জমা.আউ-জমা.সানি ১৪৩৮ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
পিতামাতা ও সকল মুসলিমের জন্য ইস্তিগফার
মুমিন যেমন নিজের জন্য আল্লাহর ক্ষমা ভিক্ষা করবেন, তেমনি মুসলিম উম্মাহর সকল সদস্যের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। বিশেষত নিজের পিতামাতা, আত্মীয় ও বন্ধুগণ এবং পূর্ববর্তী মুসলিমগণের জন্য। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, পরবর্তী যুগের মুসলিম প্রজন্মরা বলে :
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ
‘হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং ঈমানের ক্ষেত্রে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন। আর আপনি আমাদের অন্তরে মুমিনগণের বিরুদ্ধে কোনো হিংসা, বিদ্বেষ বা অমঙ্গল ইচছা রাখবেন না। হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই আপনি মহা করুণাময় ও পরম দয়ালু।’ (সূরা হাশর: আয়াত ১০)
এভাবে সকল মুসলিমের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করা ফিরিশতা ও নাবীগণের সুন্নাত। কুরআন কারীমে এ ধরনের অনেক দু’আ উল্লেখ করা হয়েছে।
পিতামাতার জন্য ইস্তিগফারের ফযীলাতে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। একটি সহীহ হাদীসে আবু
হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
ٳِنَّ الرَّ جُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهٗ فِی الْجًنَّةٍ فَيَقُولُ أَنَّی هٰذَا فَيُقَلُ بِا سْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَك ــ
‘জান্নাতে কোনো কোনো ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। তখন সে বলবে: কীভাবে আমার মর্যাদা বৃদ্ধি পেল? তখন তাকে বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, এজন্য তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ (ইবন মাজাহ, (৩৩-কিতাবুল আদব, ১-বাব বিররিল ওয়ালিদাইন) ২/১২০৭, নং ৩৬৬০ (ভা ২/২৬০): বুসীরী, মিসবাহুয যুজাজাহ ৪/৯৮, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/২১০। হাদীসটি সহীহ)
হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই কোনো বান্দার মা-বাবা কিংবা দু’জনের যেকোনো একজন এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, সে তাদের জীবদ্দশায় তাদের নাফরমানী করেছে, তাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। এখন মৃত্যুর পর তাদের জন্য দু’আ ও ইস্তিগফার অব্যাহত রেখেছে। ফলে আল্লাহ তা’য়ালা তাকে মাতা-পিতার সাথে সদাচারণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। (বায়হাকী)
মৃত মুসলমানদের জন্য ইস্তিগফার
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মৃত ব্যক্তির অবস্থা হলো ডুবন্ত সাহায্য প্রার্থনাকারী ব্যক্তির অনুরূপ। সে দু’আর অপেক্ষা করতে থাকে-যা তার নিকট তার পিতা কিংবা মাতা কিংবা ভাই কিংবা বন্ধুর পক্ষ থেকে পৌঁছে। যখন তার নিকট কোনো দু’আ পৌঁছে, তা তার কাছে দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছু থেকে প্রিয় মনে হয়। আর আল্লাহ তা’য়ালা দুনিয়াবাসীর দু’আর কারণে কবরবাসীকে পাহাড়ের সমতুল্য সাওয়াব ও প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই মৃতদের প্রতি জীবিতদের হাদিয়া (উপঢৌকন) হলো তাদের জন্য মাগফিরাতের দু’আ করা। (বায়হাকী)
মু’মিন নারী-পুরুষের জন্য ইস্তিগফারের ফযীলত
হযরত উবাদা ইবনি সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীর জন্য মাগফিরাতের দু’আ করে, আল্লাহ তা’য়ালা তার জন্য প্রত্যেক মু’মিন পুরুষ ও নারীর (জন্য ইস্তিগফারের) বিনিময়ে একটি নেকী লিখে দেন।’ (তাবরানী)
ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণকারীকে ক্ষমা করা হবে
মু’আয ইবনু জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যেকোনো ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে, সে খাঁটি অন্তরে এই সাক্ষ্য দেয় যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল’-আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন। (হাদীসটি সহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/২১৯৯৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৭৯৬; ত্বাবারানী কাবীর ২০/৭২, এবং ত্বাবারানীর কিতাবুদ দু’আ হা/১৪৬৬; মুসনাদে বাযযার হা/২৬২১; ২৬২৩, নাসায়ীর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ হা/১১৩৬; ইবনু খুযাইমাহ ‘আত-তাওহীদ’ ২/৭৯২-৭৯৩; মিযযী ‘তাহযীবুল কামাল’ ২০/২৯১, হুমাইদী হা/৩৭০; আশ-শাশী ‘মুসনাদ’ হা/১৩৩৬, ১৩৩৭, সিলসিলাহ সহীহাহ, হা/২২৭৮; মুস্তাদরাক হাকিম হা/১৬)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে : আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিলো যে, সে আল্লাহর প্রতি আন্তরিক ও মুখলেস ছিল, যিনি অদ্বিতীয়, যার কোনো শরীক নেই, এবং সালাত ক্বায়িম করেছে, যাকাত দিয়েছে। সে তো এরূপ অবস্থায় বিদায় নিলো যে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই হলো আল্লাহর দ্বীন, যা নিয়ে রাসূলগণ আগমন করেছিলেন এবং তাদের রবের পক্ষ হতে প্রচার করেছেন। (মুস্তাদরাক হাকিম, হা/৩২৩৫)।
