প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬, রমাদান-শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
আল-হামদু লিল্লা-হি হামদান কাসীরান তাইয়িবান মুবা-রাকান ফীহি
অর্থঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর, অনেক অনেক প্রশংসা, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা।
কয়েকটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাগুলোর অত্যন্ত প্রশংসা করেন। (মুসলিম (৫ কিতাবুল মাসাজিদ, ২৭-বার মা উকালু বাইনা তাকবীরাতিল ইহরাম…) ১/৪১৯ (ভার ১/২১৯) ইবন মাজাহ, আস-সুনান ২/১২৪৯; নাসাঈ, কুবরা ৬/৯২, মুসনাদ আহমদ ৩/১৫৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/১২৫, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৪৫-৩৪৬, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১০৭) এছাড়া একাধিক সহীহ হাদীসে বর্ণিত, বান্দা যখন এ যিকির গুলো বলেন তখন আল্লাহও তার সাথে সাড়া দেন। কাজেই, মনোযোগ ও আদব-সহ আল্লাহর সাথে কথা বলার অনুভূতি নিয়ে যিকির করতে হবে। (হাইসামী, মাওয়াকিযুদ যামআন ৭/৩২৪-৩২৬)
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী ১০০ বার
আবু তালহা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি কেউ ১০০ বার সুবহা-নাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী বলে, তাহলে আল্লাহ তাঁর জন্য ১,২৪,০০০ সাওয়াব লিখবেন। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে তো আমাদের কেউই বিপদে পড়বে না (জাহান্নামে কাউকেই যেতে হবে না।) হ্যাঁ। তোমাদের অনেকেই এত বেশি সাওয়াব নিয়ে কিয়ামতের দিন হাজির হবে যে, পাহাড়ের উপরে দিলেও পাহাড় ভেঙ্গে যাবে, কিন্তু এরপর আল্লাহ তাঁকে যে নিয়ামত দিয়েছিলেন তা এসে সব সাওয়াব নিয়ে চলে যাবে। এরপর মহান প্রতিপালক রহমত নিয়ে এগিয়ে আসবেন। (মুসতাদরাক হাকিম ৪/২৭৯। পূর্ববর্তী সংস্করণে হাদীসটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছিলাম। কারণ হাকিম এবং যাহারী উভয়ে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। কিন্তু আলবানী বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যে, হাদীসটির সনদ দুর্বল। তবে এ অর্থে আরো একটি দুর্বল হাদীস বর্ণিত। (দেখুন: হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ১০/৯৮ ও ৭৭৭; আলবানী, যায়ীফুত তারগীব ১/২৩৬; যায়ীফাহ ৩/৪৭৫)
এ থেকে জানা যায় যে, যার উপর আল্লাহর নিয়ামত যত বেশি তার তত বেশি সাওয়াবের কাজ করা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদেরকে নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশের তাওফিক প্রদান করুন এবং সকল অবহেলা ও পাপ ক্ষমা করে দিন।
অন্য হাদীসে আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি কেউ দিনের মধ্যে ১০০ বার সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী বলে তাঁর সকল গোনাহ ক্ষমা করা হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়। (বুখারী (৮৩-কিতাবুদ দাআওয়াত, ৬৫-বার ফাদলিত তাসবীহ) ৫/২৩৫২ (ভারতীয়: ২/৯৪৮); মুসলিম (৪৮-কিতাবুয যিকির, ১০-বার ফাদলিত তাহলীল) ৪/২০৭১ (ভারতীয় ২/৩৪৪))
চার প্রকারের যিকির ১০০ বার করে
১০০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০০ বার আল-হামদু লিল্লাহ, ১০০ বার আল্লাহু আকবার ও ১০০ বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা। উম্মু হানী (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে গিয়েছি, আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন যা আমি বসে বসে পালন করতে পারব। তিনি বলেন: তুমি ১০০ বার সুবহা-নাল্লাহ বলবে, তাহলে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব তুমি পাবে। তুমি ১০০ বার আল-হামদু লিল্লাহ বলবে, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মুজাহিদ প্রেরণের সমপরিমাণ সাওয়াব তুমি পাবে। তুমি ১০০ বার আল্লাহু আকবার বলবে, তাহলে ১০০টি মাকবুল উট কুরবানির সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। তুমি ১০০ বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে, তাহলে তোমার সাওয়াবে আসমান ও জমিন পূর্ণ হয়ে যাবে [এবং তোমার কোনো পাপই বাকি থাকবে না; দ্বিতীয় বর্ণনায়]। যে ব্যক্তি তোমার এ যিকির গুলোর সমপরিমাণ যিকির করবে সে ছাড়া কেউই সে দিনে তোমার চেয়ে বেশি বা উত্তম আমল আল্লাহর দরবারে পাঠাতে পারবে না। হাদীসটি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে এবং সনদগুলো হাসান বা গ্রহণযোগ্য। (ইবন মাজাহ (৩৩-কিতাবুল আদাব, ৫৬-বার ফাদলিত তাসবীহ) ২/১২৫২ (ভারতীয় ২/২৭০); মুসনাদ আহমদ ৬/৩৪৪, নাসাঈ, আসসুনানুল কুবরা ৬/২১১, তাবারানী, আল-মুজামূল কাবীর ২৪/৪১০, মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৯৫, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯২)
আবু উমামা (রা) থেকে এ অর্থে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে ১০০ বার করে উক্ত যিকির গুলো আদায় করতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং অনুরূপ সাওয়াবের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। হাদীসটি হাসান। (তাবারানী, আল-মুজামূল কাবীর ৮/২৬৩, আত-তারগীব ২/৪১০, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯২)
