প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬, জমা.আউ-জমা.সানী ১৪৩৭ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
কুরআন নিয়ে পরস্পর ঝগড়া করা নিষেধ
আবু সাঈদ্ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন মাজীদ নিয়ে কারোর সাথে যে কোনোভাবে ঝগড়ায় লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন। (স্বাহীহুল-জামি, হাদীস ৬৮৭৩)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ আমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা কুরআন নিয়ে পরস্পর ঝগড়া করো না। কারণ, কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা নিশ্চয়ই কুফরি। (ত্বায়ালিসী, হাদীস ২২৮৬ বায়হাক্বী/শুআবুল্-ঈমান, হাদীস ২২৫৭)
তিন দিনের কমে কুরআন মাজীদ খতম করা নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : অর্থাৎ সে ব্যক্তি কুরআন মাজীদ থেকে সত্যিকার কোন বুঝই ধারণ করতে পারে না যে তিন দিনের কমে কুরআন মাজীদ খতম করে। (আবু দাউদ, হাদীস ১৩৯৪)
যে বৈঠকে কুরআন, সুন্নাহ্ তথা শরীয়তকে অস্বীকার কিংবা তা নিয়ে ঠাট্টা করা হয় এমন বৈঠকে বসা নিষেধ
আল্লাহ্ তাআলা বলেন : নিশ্চয়ই তিনি নিজ কিতাবে তোমাদের উপর এ নির্দেশ নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা কোথাও আল্লাহ্ তাআলার আয়াতসমূহের প্রতি অবিশ্বাস কিংবা উপহাস শুনতে পাও তোমরা সেখানে তাদের সাথে বসো না যতক্ষণ না তারা এ কথা ছাড়া অন্য কথা আলোচনা করে। অন্যথা তোমরাও তাদের মতো বলে গণ্য হবে। আর আল্লাহ্ তাআলা কাফির ও মুনাফিকদের সকলকেই জাহান্নামে একত্রিত করবেন। (নিসা : ১০৪)
কুরআন ও হাদীসের বিপরীতে কারোর কোন কথা, মত কিংবা যুক্তি উপস্থাপন করা নিষেধ
আল্লাহ্ তাআলা বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তাআলা ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে কখনো অগ্রসর হইয়ো না। বরং তোমরা একমাত্র আল্লাহ্ তাআলাকেই ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা সর্বশ্রোতা সবজান্তা। (হুজরাত : ১)
ইসলাম বিরোধী কোনো ব্যাপারে সলাপরামর্শ করা নিষেধ
আল্লাহ্ তাআলা বলেন : হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোন সলা-পরামর্শ করো তখন তা যেন কোন পাপাচার, অত্যাচার ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে না হয়। বরং তা যেন কোন নেক কাজ সম্পাদন ও আল্লাহ্ভীরুতা অর্জনের সলা-পরামর্শ হয়। আর তোমরা আল্লাহ্ তাআলাকে ভয় করো যাঁর নিকট একদা তোমাদের সকলকেই সমবেত হতে হবে। (মুজাদালাহ্ :৯)
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: হে মানুষ সকল! তোমরা ধর্মীয় ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না। কারণ, তোমাদের পূর্বেকার সকল উম্মাত শুধু এ কারণেই ধবংস হয়ে গিয়েছে। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৩০৮৫ ইব্নু হিব্বান, হাদীস ১০১১)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্উদ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : সীমালঙ্ঘনকারীরা ধবংস হোক! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্যটি তিন বার উচ্চারণ করেন। (মুসলিম, হাদীস ২৬৭০ আবু দাউদ, হাদীস ৩৬০৮)
শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করা নিষেধ
আল্লাহ্ তাআলা বলেন: হে মানুষ সকল! তোমরা জমিনের সকল হালাল ও পবিত্র বস্তু থেকে যা পারো খাও। তবে কখনো শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কারণ, সে নিশ্চয়ই তোমাদের প্রকাশ্য শত্র। (বাক্বারাহ্ : ১৬৮)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস মানার ব্যাপারে কোনো ধরনের অনীহা দেখানো নিষেধ
আবু রাফি (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমাদের কাউকে যেন এমন অবস্থায় পাওয়া না যায় যে, সে সোফার উপর হেলান দিয়ে বসে আছে। এমতাবস্থায় তার নিকট আমার কোন আদেশ-নিষেধ এসে গেলো। আর সে বললো: এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমি যা কুরআনে পাবো তাই মানবো এবং আমার জন্য তাই একান্ত যথেষ্ট। আমার হাদীসের কোন প্রয়োজন নেই। (আবু দাউদ, হাদীস ৪৬০৫ ইবনু মাজাহু, হাদীস ১৩)
মিক্বদাম বিন্ মাদীকারিব্ কিন্দী (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : অচিরেই জনৈক ব্যক্তি সোফার উপর হেলান দিয়ে বসে থাকবে। এমতাবস্থায় আমার কোন হাদীস তার নিকট আসলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে ফায়সালাকারী একমাত্র কুরআন। তাতে আমরা যা হালাল পাবো তাই একমাত্র হালাল মনে করবো এবং তাতে আমরা যা হারাম পাবো তাই একমাত্র হারাম মনে করবো; অথচ আল্লাহ্ তাআলার রাসূল যা হারাম করেছেন তা সরাসরি আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে হারাম করার মতোই। (ইব্নু মাজাহ্, হাদীস ১২)
আল্লাহ্ তাআলা বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন তা থেকে তোমরা বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহ্ তাআলাকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা কঠিন শাস্তিদাতা। (হাশর : ৭)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের জীবন থেকেও বেশি না ভালোবাসা নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন্ হিশাম (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমরা একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তখন তাঁর হাতে ছিলো উমর (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) এর হাত। আর তখনই উমর (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন: হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার নিকট দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তবে আমার জীবনের চেয়ে নয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তুমি পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তোমার নিকট তোমার জীবন চেয়েও অধিক প্রিয় না হই। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) কিছুক্ষণ বুঝে শুনে বললেনঃ আল্লাহর কসম! এখন আপনি আমার নিকট আমার জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ এখন তুমি পরিপূর্ণ ইমানদার হতে পারলে হে উমর! (বুখারী, হাদীস ৬৬৩২)
তেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ মাতা-পিতা, ছেলে-সন্তান এমনকি সকল মানুষ থেকেও বেশি ভালোবাসতে হবে। তা না হলে পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া যাবে না।
আবু হুরাইরাহ্ ও আনাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার নিজ মাতা-পিতা, ছেলে-সন্তান ও সকল মানুষ চেয়েও অধিক প্রিয় হই। (বুখারী, হাদীস ১৪, ১৫)
কুরআন ও সুন্নাহ্ প্রদর্শিত সঠিত পথ ছেড়ে অন্য যে কোন পথের অনুসরণ করা নিষেধ
আল্লাহ্ তাআলা বলেন : আর নিশ্চয়ই এ পথই আমার সরল ও সঠিক পথ। সুতরাং তোমরা এ পথেরই অনুসরণ করবে। এ ছাড়া অন্য কোন পথের অনুসরণ করো না। তা না করলে তোমরা একদা তাঁর সঠিক পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আল্লাহ্ তাআলা তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সর্বদা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারো। (আন্আম : ১৫৩)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করা নিষেধ
উমর (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করোনা। যেমনিভাবে বাড়াবাড়ি করেছে খ্রিষ্টানরা ঈসা বিন্ র্মায়াম এর ব্যাপারে। আমি কেবল আল্লাহ্ তাআলার বান্দাহ্। সুতরাং তোমরা আমার ব্যাপারে বলবে: তিনি আল্লাহ্ তাআলার বান্দাহ্ এবং তদীয় রাসূল। (বুখারী, হাদীস ৩৪৪৫, ৬৮৩০)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ শিখ্খীর (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি বনু আমির গোত্রের এক প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। অতঃপর আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্বোধন করে বললাম: আপনি আমাদের সাইয়েদ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সাইয়েদ হচ্ছেন আল্লাহ্ তায়ালা। আমি নই। তখন আমরা বললাম : আপনি আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও প্রতিপত্তিশীল! তখন তিনি বললেন: তোমরা এমন কিছু বলতে পারো। তবে এ কথা সর্বদা মনে রাখবে যে, শয়তান যেন কখনো তোমাদেরকে নিজ কাজের জন্য প্রতিনিধি বানিয়ে না নেয়। (আবু দাউদ, হাদী ৪৮০৬)
আনাস্ (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: তাআলাকে ভয় করো। এ কথা সর্বদা মনে রাখবে যে, শয়তান যেন কখনো তোমাদেরকে নিজ ইচ্ছা মতো চালাতে না পারে। আমি হচ্ছি আব্দুল্লাহর ছেলে মুহাম্মাদ। আমি হচ্ছি আল্লাহ্ তাআলার বান্দাহ্ এবং তদীয় রাসূল। আল্লাহর কসম! আমি এ কথা পছন্দ করি না যে, তোমরা আমাকে আমার সেই অবস্থান থেকে আরো উপরে উঠিয়ে দিবে যে অবস্থানে মূলতঃ আল্লাহ্ তাআলা আমাকে রেখেছেন। (আহ্মাদ্ ৩/১৫৩, ২৪১)
শরীয়ত বাস্তবায়নে কঠোরতা অবলম্বন নিষেধ
আবু মূসা (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাকে ও মুআয (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) কে ইয়েমেনের দিকে পাঠিয়ে বলেন : তোমরা মানুষের মাঝে শরীয়ত বাস্তবায়নে সহজতা অবলম্বন করবে; কঠোরতা নয়। পাপীদেরকে ভয় মিশ্রিত আশার বাণী শুনাবে; নিরাশার বাণী নয়। একে অপরকে মেনে চলবে ; দ্বন্দ্ব করবে না। (বুখারী, হাদীস ৩০৩৮ মুসলিম, হাদীস ১৭৩৩)
আব্দুল্লাহ বিন্ মাস্উদ্ (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আন্হু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: ধবংস হোক কট্টরপন্থীরা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত কথাটি তিন বার বলেছেন। (মুসলিম, হাদীস ২৬৭০)
