প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬, জমা.আউ-জমা.সানী ১৪৩৭ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
ইসলাম অন্তর্নিহিত বিশ্বাস সহকারে যুগ যুগ ধরে মানুষের উপর কাজ করেছে। আল্লাহর মনোনীত নবী-রাসূলরা, মূসা হতে মুহাম্মদ (স) তা মানুষের নিকট পেশ করেছেন। মানুষের পরিচিত এটাই একমাত্র জীবন পদ্ধতি যার মধ্যে বিজ্ঞানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান রয়েছে। এটি বিশ্বাসের সাথে জ্ঞান ও মেধা দিয়ে অনুসরণ করলে তা মানুষের মধ্যে সৎ ও পবিত্র মানবীয় গুণাবলীর বিকাশ সাধনে অপূর্ব ভূমিকা রাখতে সক্ষম।- রাসেল
মুহাম্মদ আলেকজান্ডার রাসেল উইব প্রথম আমেরিকান মুসলিম সাংবাদিক। তিনি আমেরিকায় মুসলমান নামে একটি বই লিখেন। এ বিষয়ে এটাই প্রথম বই। তিনি ১৮৪৬ সালের ১৮ নভেম্বর নিউইয়র্ক ষ্টেটের হাডসন সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাডসন, ম্যাসাচুয়েটস এবং নিউইয়র্কে লেখাপড়া করেন। জীবনের শুরুতে সাহিত্যের প্রতি তার প্রবল ঝোঁক ছিল এবং তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ ও ছোট গল্পও রচনা করেন। পরবর্তীকালে সাংবদিকতায় তার আগ্রহ জন্মে। ২৭ বছর বয়সে ১৮৭৩ সালে তিনি তার নিজের পত্রিকা প্রকাশ করেন। কিন্তু তিন বছর পর তা বিক্রি করে দেন। তারপর তিনি অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এগুলোর মধ্যে ছিল, সেন্ট জোসেফ ডে জ্যাজেট দি সেন্ট লুইস মর্নিং জার্নাল দি পোস্ট ডেসপাচা এবং দি গ্লোব ডেমোক্র্যাট অব সেন্ট লুইস। রাসেল মিশোরী রিপাবলিকান এর নৈশকালীন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ চাকুরীতে থাকাকালে ১৮৮৭ সালে আলেকজান্ডার ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আমেরিকান কনসুল নিয্ক্তু হন। ১৮৭২ সালের দিক থেকে খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি তার আস্থা বা বিশ্বাসে ভাংগন ধরে। খ্রিস্টান ধর্মের বিকল্প হিসেবে তিনি প্রতীচ্যের ধর্ম ও দর্শনের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠেন। প্রথমেই তিনি বৌদ্ধ ধর্মের উপর পড়াশুনা শুরু করেন। এ অবস্থায় তিনি ছয় বছর কাটান। ম্যানিলায় থাকাকালে আলেকজান্ডার রাসেল উইব বিভিন্ন মুসলিম লেখকের বহু লেখার সংস্পর্শে আসেন। ইসলাম ও ইসলামী দর্শনের উপর লিখিত বিভিন্ন বিষয় তার মনোযোগ আকর্ষণ করে। পরিশেষে, আলকজান্ডার যা চাচ্ছিলেন তারই সন্ধান পেয়ে গেলেন। ১৮৮৮ সালে বিশ্বাস হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করেন আলেকজান্ডার উইব। তিনি তাঁর এ নতুন বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করেছেন এভাবে- ইসলাম অন্তর্নিহিত বিশ্বাস সহকারে যুগ যুগ ধরে মানুষের উপর কাজ করেছে। আল্লাহর মনোনীত নবী-রাসূলরা, মূসা হতে মুহাম্মদ (স) তা মানুষের নিকট পেশ করেছেন। মানুষের পরিচিত এটাই একমাত্র জীবন পদ্ধতি যার মধ্যে বিজ্ঞানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান রয়েছে। এটি বিশ্বাসের সাথে জ্ঞান ও মেধা দিয়ে অনুসরণ করলে তা মানুষের মধ্যে সৎ ও পবিত্র মানবীয় গুণাবলীর বিকাশ সাধনে অপূর্ব ভুমিকা রাখতে সক্ষম।
উইব ম্যানিলায় বাস করার সময় ভারতের মুম্বাই অঞ্চলের একজন ফার্সী ভদ্রলোকের সাথে পরিচিত হন। তার মাধ্যমে ভারতের খুবই প্রভাবশালী ইসলামী বুদ্ধিজীবি বদুরুদ্দীন আব্দুল্লাহ কোরোর সাথে উইবের যোগাযোগ ঘটে। তিনি পত্রের মাধ্যমে তারই এক অত্যন্ত সম্পদশালী বন্ধু হাজী আব্দুল্লাহ আরবের সাথে উইবের পরিচয় করিয়ে দেন। উইব দারুন খুশি হন এবং একসময় ম্যানিলা পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। তারপর আরবের বহু বন্ধু বান্ধবের সাথে উইবের পরিচয় ঘটে। তাদের সবারই অনুরোধ ছিল উইব যেন আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করেন এবং ইসলামের মিশনারী কার্যক্রম চালিয়ে যান। অবশেষে ১৮৯২ সালে উইব ভারত হয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান। সেখানে উইব ইসলামের প্রচার কাজ সংগঠিত করতে থাকেন। তিনি সেখানে Oriental Publishing Company নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। এখান থেকে বেশ কটি পুস্তক প্রকাশ করেন তিনি। যেমন The Moslem world, To spread the light of Islam in America, Islam in America ইত্যাদি।
১৮৯৩ সালে উইব শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্মীয় কংগ্রেসের এক অধিবেশনে যোগদান করেন। সেখানে তিনি দুটি বক্তৃতা প্রধান করেন। বক্তৃতার বিষয়গুলো ছিলো-
(১) (1) The Spirit of Islam.
(২) The Influence of Islam on Social Conditions
মুহাম্মদ আলেকজান্ডার উইব ইসলামের খেদমতে অনেক কাজ করেছেন। অবশেষে তিনি ১৯১৬ সালে ৭০ বছর বয়সে আমেরিকার নিউ জার্সির বান্দার ফোর্ডে মারা যান। তার চার বছর পর তার স্ত্রী ইলা, জি উইও মারা যান।
