প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬, জমা.আউ-জমা.সানী ১৪৩৭ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
প্রশ্ন-৩৯ : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের স্বাস্থ্যের জন্য কি দুয়া করতেন? সে দুয়ার ভাষা কী ছিলো ?
উত্তর : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য আল্লাহ্র দরবারে স্বাস্থ্য, সুস্থতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অসংখ্য দুয়া করেছেন। তন্মধ্যে তিনটি দুয়া এখানে উল্লেখ করছি। প্রথমটি হচ্ছে,
আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করছি। (মুসনাদে আহমাদ, আবূ দাঊদ ও নাসাঈ)
নাসাঈ শরীফে উদ্ধৃত হাদীসে আফওয়া শব্দটি নেই, যার অর্থ ক্ষমা।
দ্বিতীয় দুয়াটি হচ্ছে, হে আল্লাহ! আমি ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি। কেননা ঈমানের পর সুস্থতা থেকে উত্তম আর কোনো কিছু মানুষকে দেয়া হয়নি। (মুসনাদে আহ্মাদ)
তৃতীয়টি হচ্ছে, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে আরোগ্য দান করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন। (আবূ দাঊদ)
এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত একটি হাদীস আপনাদের সামনে আলোচনা করব। তিনি বলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য এভাবে দুয়া করতেন :
হে আল্লাহ! আমাকে শারীরিক সুস্থতা দান করুন, আমার দৃষ্টিশক্তির সুস্থতা দান করুন এবং আমার মৃত্যু পর্যন্ত তাকে (দেহকে) সুস্থ রাখুন। আল্লাহ ভিন্ন কোনো উপাস্য নেই। তিনি অতি সহনশীল ও দয়ালু। মহান আরশের মালিক আল্লাহ অতি পবিত্র। জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা। (আত-তিরমিযী)
হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, আল্লাহর কাছে তোমরা ক্ষমা ও সুস্থতা চাও। কারণ ঈমানের পর সুস্থতা ও ক্ষমা থেকে উত্তম কোনো কিছু কাউকে দেয়া হয়নি। (মুসনাদে আহমাদ)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য কখনো কোনোদিন দুআ করেননি। অথচ তাঁর সংসার তেমন সচ্ছলও ছিলোনা যা আমরা হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মারফত জানতে পারি। নিয়মিত তাঁর ঘরে উনুনও জ্বলত না।
একদা হযরত আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনার রাস্তায় হাঁটছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার নিকট যদি উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে তাহলে তিনদিনের বেশি তা কখনো রাখবোনা, তবে সামান্য কিছু ছাড়া যা দিয়ে আমি ঋণ পরিশোধ করবো। (সহীহ আল বুখারী)
প্রশ্ন-৪০ : ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা Personal Hygiene and Cleanliness সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আছে কী? কমিউনিটি হেলথ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিজ্ঞতা কী?
উত্তর : অবশ্যই আছে। প্রথমেই বর্ণনা করছি সেই প্রসিদ্ধ হাদীসটি যা আমাদের অধিকাংশ পাঠকই জেনে থাকবেন। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ মালিক আশআরী রাদিয়াল্লাহ আনহু। হাদীসটি হচ্ছে, পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ বা ঈমানের অর্ধেক। (সহীহ মুসলিম)Purity is part (or half) of the Faith (Sahih Muslim)114
বলা বাহুল্য, পবিত্রতা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অনেক ঊর্ধ্বে। কাজেই যার কাপড়, দেহ ও স্থান পবিত্র তার কাপড়, দেহ ও স্থান পরিচ্ছন্নও বটে। কিন্তু কাপড় পরিচ্ছন্ন হয়ে অপবিত্রও হতে পারে। বাহ্যিক পবিত্রতায় দেহ, পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ এবং স্থানের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেহের পবিত্রতায় মলমূত্র ত্যাগের পর শৌচকার্য সম্পন্নের পরই উযু-গোসল করতে হয়। নাপাক পানি দিয়ে কেউ কাপড় এবং স্থান পরিষ্কার করেনা। কাজেই পবিত্রতার পূর্ব শর্ত হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।
দ্বিতীয় হাদীসটি হচ্ছে, তোমরা যথাসম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকো। কারণ আল্লাহ তায়ালা ইসলামের ভিত্তি রেখেছেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর। জান্নাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউ প্রবেশ করবে না। (জামে সগীর ও আত-তাদভীন ফী আখবারে কাযভীন লির রাফিয়ী)
এ হাদীসে ব্যক্তির স্বাস্থ্যকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। উপরোক্ত হাদীস দুটোর বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কমিউনিটি হেল্থ বা Public Health তথা জনস্বাস্থ্য অটুট রাখার ওপর যথে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি অপবিত্রতা, অপরিচ্ছন্নতা, নোংরামী, পছন্দ করতেন না। সুতরাং আমাদের সকলকে সর্বদা পবিত্রতা অর্জন করতে হবে ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। বস্তুত পবিত্রতা অর্জন করাকে আল্লাহ্ তায়ালার ভালোবাসা লাভের উপায় বলে কুরআন মাজীদে উল্লেখিত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, আল্লাহ্ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা অতিমাত্রায় পবিত্র থাকে তাদেরকেও। (আল বাকারাহ ২:২২২)
প্রশ্ন-৪১ : সুন্দর গৃহস্থালীর কাজ Good housekeeping বর্তমানে অফিস-আদালত, বাসা-বাড়িসহ সর্বত্র Good Hygienic Practice (GHP) হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার এটি অন্যতম উপায়। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কী কী সুস্পষ্ট বক্তব্য আছে ?
উত্তর : জ্বী হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। In fact দেহ ও মনের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা কুরআনের সূরা মায়িদার ৬ নম্বর আয়াতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ্ বলেন, হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য তৈরি হও, তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত দুটি কনুই পর্যন্ত ধূয়ে ফেলো, মাথার ওপর হাত বুলাও এবং পা দুটি গ্রন্থি পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো। যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তাহলে গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাও। যদি তোমরা রোগগ্রস্থ হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও। তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মাসেহ করে নাও। আল্লাহ তোমাদের জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না; বরং তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। (মায়িদাহ ৫:৬)
হাদীস শরীফেও এ বিষয়ে বর্ণনা এসেছে। রিওয়ায়াতটি মুসনাদে আল-বাযযার হাদীস গ্রন্থে উদ্ধৃত আছে। উল্লেখযোগ্য বক্তব্য হলো, হযরত সালেহ ইবনে আবূ হাসসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে বলতে শুনেছি যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র, তাই তিনি পবিত্রতা ভালোবাসেন। তিনি পরিচ্ছন্ন, অতএব তিনি পরিচ্ছন্নতাকে পছন্দ করেন। তিনি দয়াময় ও দানশীল, তাই দানশীলতা ও বদান্যতা পছন্দ করেন। সুতরাং তোমরা বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখো। কিন্তু ইয়াহূদীদের অনুসরণ করো না। (আত-তিরমিযী)
যেহেতু ইয়াহূদীরা তাদের বাড়িঘর ও আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরত্ব আরোপ করে না, তাই তাদের অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৭/২১৯)
রিওয়ায়াতটি মুসনাদে আল-বাযযার হাদীস গ্রন্থেও উদ্ধৃত রয়েছে। এই হাদীসের শিক্ষণীয় দিক হচ্ছে, আমাদেরকে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, কোর্ট-কাচারি, হার্ট-বাজার, বাড়ির উঠান এবং আঙ্গিনা ইত্যাদি সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে হবে। তাহলে আমরা অনেক অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে থাকতে পারবো। তাছাড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল ময়লা-আবর্জনা সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিতে এবং পরিবেশ দূষণ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রশ্ন – ৪২ : ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মানুষের স্বভাবজাত কতিপয় কাজ আছে, যা প্রত্যেক মানুষই প্রাকৃতিক প্রয়োজনে সম্পন্ন করে থাকে। ইদানিং এসব কাজকে Community Health কার্যক্রমের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কারণ এগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মূল বিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমার প্রশ্ন, রোগ প্রতিরোধ ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো নির্দেশনা আছে কি ?
উত্তর : ধন্যবাদ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি কাজ বা অভ্যাসকে যথাযথ সুন্দরভাবে সমাধা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলোকে আমরা স্বভাবজাত কাজ বা nature acts বলতে পারি। কারণ এসব কাজ প্রত্যেক মানুষই স্বাভাবিকভাবে যার যার প্রয়োজনে এবং biological need অনুযায়ী সম্পন্ন করে থাকে। এগুলো প্রত্যেক মানুষ তথা মুসলমানদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ও রোগ-ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকার জন্যই প্রয়োজন। That is, these are preventive aspects of our health এসব কাজের medical benefits প্রচুর।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মানুষের স্বভাব বা ফিতরাত মোট পাঁচটি। অর্থাৎ পাঁচটি মৌলিক বিষয় বা কাজ মানুষের স্বভাব জাতের অন্তর্ভূক্ত- ১. খৎনা করা, ২. নখ কাটা (বা পরিষ্কার রাখা), ৩. নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, ৪. বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং ৫. গোঁফ ছাঁটা। (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম, আত-তিরমিযী ও আন-নাসাঈ)
এসব কাজের প্রত্যেকটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে অনেক সময় প্রয়োজন। তাই অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করছি।
প্রথমত : খৎনার কথা বলি। এটি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামসহ সকল নবীরও সুন্নাত। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম আশি বছর বয়সে কাদুল নামক স্থানে কুঠার জাতীয় অস্ত্র দ্বারা নিজের খৎনা করিয়েছিলেন। (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম)
Circumcision বা খৎনা করানোকে আমরা এ দেশে মুসলমানী করানো বলে থাকি। বর্তমানে অধিকাংশ চিকিৎসক এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন যে খৎনা করানো হলে প্রস্রাব্ সংক্রান্ত কতিপয় রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। খৎনা দ্বারা বিভিন্ন রোগ থেকে আপনা-আপনি নিরাপদ থাকা যায়। অন্যদিকে যারা খৎনা করেনা, তাদের নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। Today many scientists admit that loose fold of the skin at the end of male sex organ is exposed and susceptible to infection and even to cancer
দ্বিতীয়ত : নাভির নিম্নাংশের চুল যদিও দৃষ্টিগোচর হয় না কিন্তু এগুলো পরিষ্কার না করার কারণে মানুষের স্বভাবের মধ্যে বিষন্নতা দেখা দেয়। অর্থাৎ এর দ্বারা মনের ভেতর মালিন্য ও অপবিত্রতা বৃদ্ধি পায় এবং চর্মরোগের সৃষ্টি হতে পারে। Peri-anal abscess, ischeo-rectal abscess and pilonidal sinus ছাড়াও cervical cancer, cancer of the penis, belanitis, UTI ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে পারে। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, সব ধরনের চুলেই ময়লা বা দূষিত পদার্থ অতি সহজেই জমা হয়ে থাকে।
তৃতীয়ত : আঙ্গুলের নখ কাটা শুধু হাতের পরিচ্ছন্নতা ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্যই জরুরী নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। যদি নখ নিয়মিত কাটা না হয় তাহলে ময়লা ও আবর্জনা নখের নিচে জমা হতে থাকবে। ফলে ঐসব ময়লা বা দূষিত পদার্থ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের সময় হাতের মাধ্যমে (oro-faecal route) পেটে প্রবেশ করবে যা স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আপত্তিকর।
চতুর্থত : বগলের লোম যদি নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয় তাহলে চরম দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ফলে তা আশেপাশের লোকদের কষ্টের কারণ হয়। যাদের শরীরে দুর্গন্ধ থাকে তাদের আপনজনেরাও তাদের সাথে মিশতে চায়না।
পঞ্চমত : গোঁফ ছেঁটে ফেলা বা তা সর্বদা ছোট রাখা স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে উত্তম কাজ। কেননা গোঁফ যদি ছোট রাখা না হয় অথবা কামিয়ে ফেলা না হয় তাহলে গোঁফে যে ময়লা জমে থাকে, তা পানীয় বস্তুর সাথে মিশে কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে। অর্থাৎ চা, কফি, পানি বা দুধ আপনি যা-ই পান করুন না কেনো, উক্ত ময়লা ও দূষিত পদার্থ পানীয়ের সাথে মিশে পেটে প্রবেশ করবে। তা বাধা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাপে যখন চুমুক দিবেন লম্বা গোঁফ কোথায় যাবে? নিশ্চয়ই কাপের ভেতরে যাবে। সুতরাং from religious, medical or hygienic points of view উপরোক্ত পাঁচটি natural acts বা স্বভাবসূলভ কাজ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত পালন করা অত্যাবশ্যাক। এটি আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যই জরুরী। অধিকন্তু এসব কাজ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অন্তর্ভূক্ত এবং এগুলোকে মানব সমাজের মূল বলা হয়েছে। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসবের উপর আমল করার তাগিদ দিয়েছেন।
