প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬, জমা.আউ-জমা.সানী ১৪৩৭ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
১. জান্নাত লাভ করবেন সেই মুমিনগণ, যারা কোনোদিন কোনো কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করেন নি। অর্থাৎ, র্শিক করেন নি। অথবা র্শিক করার পর তাওবা না করে র্শিক নিয়ে মারা যান নি।
পক্ষান্তরে যারা র্শিক করে, র্শিক নিয়ে মারা যায়, কুফরী করে, ঈমানের কোনো বিষয়কে অস্বীকার বা মিথ্যাজ্ঞান করে, তাদের জন্য জান্নাত হারাম। কুরআন-কারীমে যেখানেই জান্নাতের হকদারদের কথা বলা হয়েছে, সেখানেই কারণ স্বরূপ ঈমান ও নেক আমলকে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সেই নেক আমলের বিস্তারিত বিবরণও এসেছে।
২. আল্লাহপাক বলেছেন :
وَبَشِّرِ الَّذِينَ ا ٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوا هٰذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا بِهٖ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
যারা ঈমান আনে (বিশ্বাস করে) ও সৎকর্ম করে তাদের শুভ সংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত; যার তলদেশে নদী প্রবাহিত. যখনই তাদের ফলমূল খেতে দেওয়া হবে, তখনই তারা বলবে, আমাদেরকে (পৃথিবীতে অথবা জান্নাতে) পূর্বে জীবিকারূপে যা দেওয়া হত, এ তো তাই। তাদেরকে পরস্পর একই সদৃশ ফল দান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সহধর্মিণীগণ রয়েছে, অধিকন্তু তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। (সূরা বাকারা: আয়াত ২৫)
৩. وَبَشِّرِ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوْا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوْا هٰذَا الَّذِيْ رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوْا بِهِ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيْهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে, তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো; যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী আছে এবং তাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ঘন ছায়ায় স্থান দান করবো। (সূরা আন নিসা: আয়াত ৫৭)
৪. وَالَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِیْ مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا أَبَدًا ۖ وَعْدَ اللهِ حَقًّا ۚ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللهِ قِيْلًا
যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশাধিকার দান করবো; যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর কে আছে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী? (সূরা আন নিসা: আয়াত ১২২)
৫. وَالَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ أُوْلٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে (মুমিন হয়েছে) এবং সৎকাজ করেছে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (সূরা আল বাকারা : আয়াত ৮২)
৬. إِنَّ الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوْا إِلٰى رَبِّهِمْ أُوْلٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকার্যাবলি সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের প্রতিপালকের কাছে বিনত হয়েছে, তারাই হবে জান্নাতবাসী; তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে। (সূরা হুদ: আয়াত ২৩)
৭. وَعَدَ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِیْ مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِیْ جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللهِ أَكْبَرُ ۚ ذٰلِكَ هُوْ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে এমন উদ্যানসমূহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, সেগুলোর নিম্নদেশে বইতে থাকবে নদীমালা, সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে। আরও (প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) চিরস্থায়ী উদ্যানসমূহে (জান্নাতে আদ্নে) পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর সস্তুষ্টি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় (নিয়ামত)। এটাই হচ্ছে অতি বড় সফলতা। (সূরা আত্ তাওবা: আয়াত ৭২)
৮. إِنَّ الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيْهِمْ رَبُّهُم بِإِيْمَانِهِمْ ۖ تَجْرِيْ مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِيْ جَنَّاتِ النَّعِيْمِ
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের বিশ্বাসের কারণে তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন, শান্তির উদ্যানসমূহে তাদের (বাসস্থানের ) তলদেশে দিয়ে নদীমালা প্রবাহিত থাকবে। (সূরা ইউনুস: আয়াত ৯)
৯. إِنَّ الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيْعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا أُوْلٰئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيْهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍ وَيَلْبَسُوْنَ ثِيْابًا خُضْرًا مِّن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُّتَّكِئِيْنَ فِيْهَا عَلٰى الْأَرَائِكِ ۚ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا
যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে, আমি তাদেরকে পুরস্কৃত করি। যে নেক আমল করে, আমি তার কর্মফল নষ্ট করি না। তাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত; যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেথায় তাদেরকে স্বর্ণ- কঙ্কণে অলঙ্কৃত করা হবে, তারা পরিধান করবে সূক্ষè ও স্থুল রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর সে পুরস্কার ও কত উত্তম সে আশ্রয়স্থল। (সূরা আল কাহ্ফ: আয়াত ৩০-৩১)
১০. وَمَن يَأْتِهٖ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُوْلٰئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلٰى جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا ۚ وَذٰلِكَ جَزَاءُ مَن تَزَكّٰى
আর যারা তাঁর নিকট ঈমানদার হয়ে ও সৎকর্ম করে উপস্থিত হবে, তাদের জন্য আছে সমুচ্চ মর্যাদাসমূহ। স্থায়ী জান্নাত যার নিচে নদীমালা প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আর এই পুরষ্কার তাদেরই যারা পবিত্র। (সূরা ত্বাহা: আয়াত ৭৫-৭৬)
১১.মহান আল্লাহ বলেছেন:
إِنَّ الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا خَالِدِيْنَ فِيْهَا لَا يَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا
নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্য আছে ফিরদাউসের উদ্যান। সেথায় তারা স্থায়ী হবে; এর পরিবর্তে তারা অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হওয়া কামনা করবে না। (সূরা কাহফ: আয়াত ১০৭-১০৮)
১২. إِنَّ الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيْمِ
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য আছে সুখের উদ্যানরাজি। (সূরা লুকমান: আয়াত ৮)
১৩. মহান আল্লাহ বলেন,
أَمَّا الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ جَنَّاتُ الْمَأْوٰى نُزُلًا بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
যারা বিশ্বাস ক’রে সৎকাজ করে তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তাদের আপ্যায়নের জন্য জান্নাত হবে তাদের বাসস্থান। (সূরা সিজদা: আয়াত ১৯)
১৪. وَمَا أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُم بِالَّتِيْ تُقَرِّبُكُمْ عِندَنَا زُلْفَىٰ إِلَّا مَنْ ا ٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلٰئِكَ لَهُمْ جَزَاءُ الضِّعْفِ بِمَا عَمِلُوْا وَهُمْ فِيْ الْغُرُفَاتِ ا ٰمِنُوْنَ
তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আমার নৈকট্য লাভের সহায়ক হবে না। তবে (নৈকট্য লাভ করবে) তারাই যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে এবং তারা তাদের কাজের জন্য পাবে বহুগুণ পুরষ্কার। আর তারা কক্ষসমূহে নিরাপদে বসবাস করবে। (সূরা সাবা : আয়াত ৩৭)
বলে রাখা ভালো যে, আমল নেক, কর্ম সৎ বা কাজ ভালো তখন হয়, যখন সে কাজে আল্লাহ খুশী হন, তা বিশুদ্ধভাবে আল্লাহরই জন্য এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকা অনুযায়ী করা হয়। এই তিনটের মধ্যে যেকোনো একটি কোনো কাজে না পাওয়া গেলে সে কাজ ভালো কাজ নয়।
