প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৬, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৭-৩৮ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সারা বিশ্বের নবী ও শেষ নবী করে সৃষ্টি করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ওহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর পথে বড়ই বিপদগ্রস্ত হতে হয়েছিল। ৭০ জন বিশি সাহাবীকে শহীদ হতে হয়েছিল। এ সময় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবাগণের মুখ দিয়ে বেড়িয়ে পড়েছিল:

مَتٰى نَصْرُ اللهِ আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে ? এ ধরনের চরম হয়রানির মধ্য দিয়েও অগ্রসর হতে হয়েছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এবং সাহাবীগণকে। খোদার দ্বীন কিভাবে প্রতিতি হবে, এ দায়িত্বপালনে শেষ পর্যন্ত কতটুকু কামিয়াবি হবে, মুসলমানদের মনে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন। আল্লাহতা’য়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহীর মাধমে ভবিষ্যত কামিয়াবির সুসংবাদ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ পর্যায়ে এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নে দেখলেন, তাঁর হাতে জমিনের চাবি দেয়া হয়েছে। তিনি এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিলেন, তাঁর জামানার পরেও মুসলমানরা ধীরে ধীরে কামিয়াবির পথে অগ্রসর হতে থাকবে। বহু দেশ মুসলিম সাম্রাজ্যের অধিকারে আসবে। এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খোদায়ী পথে কামিয়াব হবেন। দ্বীন প্রচারে তাঁর উদ্দেশ্য সফল হবে। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রচারিত আল্লাহর দ্বীন সফলতা অর্জন করেছে। স্বপ্ন বিশারদ ইমামদের মতে, স্বপ্নে হাতে চাবি আসতে দেখার অর্থ হল, মহৎ উদ্দেশ্যের সফলতা। এ অর্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবশ্যই সফলকাম হয়েছেন। কিন্তু এক দল লোক এ স্বপ্নকে পুঁজি করে তাদের ভ্রান্ত ধারণা, আকীদা ও বিশ্বাসের প্রচার প্রচারণায় এমন অহেতুক মন্তব্য করে থাকে, যাতে তারা বুঝাতে চায় আল্লাহর কোনো কাজ নেই। বরং সৃষ্টি জগতের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণভার তিনি নবী ও ওলীগণের হাতে তুলে দিয়ে নিজে অবসর গ্রহণ করেছেন! (নাউযুবিল্লাহ) এ ধরণের ভ্রান্ত প্রচার-প্রচারণা কুরআন মাজিদের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণায় মাকড়সার জালের ন্যায় বিলুপ্ত হতে বাধ্য।
আল্লাহ বলেন:

وَ اِنْ مِّنْ شَىْءٍ اِلَّا عِنْدَنَا خَزَآئِنُهٗؗ وَ مَا نُنَزِّلُهٗۤ اِلَّا بِقَدَرٍ مَّعْلُوْمٍ
সৃষ্টি জগতে যত বস্তুই বিদ্যমান রয়েছে, তার প্রত্যেকটির মূল ভাণ্ডার কেন্দ্রসমূহ আমার হাতে নিয়ন্ত্রিত। আমি এক নির্দিষ্ট পরমাণেই তা নাযিল করে থাকি। (সূরা আল-হিজর : ২১)

বর্তমান ও অতীতকে সামনে রেখে চিন্তাভাবনা করে দেখতে গেলে সম্পূর্ণ সত্য বুঝে নিতে কারো পক্ষেই অসম্ভব হওয়ার কথা নয়। আজ থেকে ত্রিশ বছর পূর্বে যত মানুষের বসবাস ছিল তারা তাদের পরিমাণ মতই রিজিক পেয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ত্রিশ বছর পূর্বেকার তুলনায় জনসংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে; কিন্তু দেখা যায়, সংখ্যা অনুপাতে রিজিকও বেড়েছে। এ সুকৌশল নিয়ন্ত্রণ যে একমাত্র আল্লাহর হাতে, এতে সন্দেহ পোষন করতে পারে কেবল নির্বোধ লোকরাই।
সৃষ্টি জগতের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ অন্য কারো হাতে নেই। এ বিষয়ে আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলে দিলেন

قُلْ لَّاۤ اَقُوْلُ لَكُمْ عِنْدِىْ خَزَآئِنُ اللهِ وَ لَا اَعْلَمُ الْغَيْبَ
হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আপনি বলুন, আমি তোমাদের বলছি না যে, আল্লাহর নিয়ামতের ভান্ডারসমূহের মালিকানা আমার হাতে রয়েছে। (তোমরা জেনে রাখবে) আমি গায়েব জানিনা।
(সূরা আল আনআম : ৫০)

এখানে আল্লাহর ভাণ্ডারগুলো বলতে কি বুঝানো হয়েছে, প্রথমে সেটাই বুঝতে হবে। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, আসমান-জমীন, আলো-বাতাস, আগুন পানি, সুখ-শান্তি, মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শক্তি-সামর্থ্য, মান-সম্মান, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ইত্যাদি, এক কথায় মানুষের বেঁচে থাকতে ও জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু প্রয়োজন এর সবকিছুই সৃষ্টি করেন একমাত্র আল্লাহ। কোনটি কখন সৃষ্টি করবেন, কি পরিমাণ করবেন, এর সবকিছুই আল্লাহর ফয়সালা দ্বারাই নির্ধারিত হয়। এভাবে প্রত্যেকটি বস্তু সৃষ্টি ও পরিমাণ নির্ধারণ আল্লাহর ইচ্ছারই অধীন। তাই আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতায় এর সবকিছু অস্তিত্ব লাভ করে বলেই এ সব কিছুকে আল্লাহর ভান্ডার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মৌলিকত্ব ও উৎসমূলে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো হস্তক্ষেপ অসম্ভব। এখানে কারো অংশীদারিত্বের প্রশ্নই আসতে পারে না। এ ক্ষমতা হলো আল্লাহর বিশেষ ক্ষমতা। আল্লাহর এই ক্ষমতায় অন্য কারো হাত নেই। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরও ছিল না।