প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৮ম সংখ্যা,ফেব্রুয়ারী ২০১৬,রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৭ হিজরী,মাঘ-ফাল্গুন ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
১. জান্নাত লাভের পথ মোটেই সহজ নয়। বরং সে পথ বড় বন্দুর বড় কষ্টের। জান্নাত লাভের আমলসমূহ বড় কঠিন। জান্নাত মানুষের মন তিক্তকারী আমল দ্বারা আবৃত রয়েছে। জান্নাত পেতে হলে কঠোর সাধনার প্রয়োজন। আনাস বিন মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহু সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নাত কষ্টকর আমল সমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে আর জাহান্নাম মনের কামনা দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাত নায়িমিহা)
সুতরাং জান্নাত পেতে হলে মনোলোভা জিনিস থেকে মনকে বিরত রাখতে হবে, লোভনীয় কামনা-বাসনা থেকে মনকে বঞ্চিত করতে হবে। খেয়াল-খুশী মতে চলা হতে বিরত থাকতে হবে। মন যা চায়, তাই করা হতে দূরে থাকতে হবে। আর তাতে কষ্ট হবে, ফলে ধৈর্য ধরতে হবে। যে কাজে মন আনন্দ পাবে, সাধারণত সে কাজ হলো জাহান্নামের। আর যে কাজে কষ্ট আছে, সে কাজ সাধারণত জান্নাতের।
২. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন জিব্রাঈলকে জান্নাতের দিকে পাঠিয়ে বললেন, যাও, জান্নাত এবং তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত সামগ্রী দর্শন করো। সুতরাং তিনি গেলেন এবং দর্শন করে ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের কসম! যে কেউ এর কথা শুনবে, সে এতে প্রবেশ করতে চাইবে। অতঃপর আল্লাহ জান্নাতকে কষ্টসাধ্য কর্মসমূহ দিয়ে ঘিরে দিতে আদেশ করলেন। তারপর আবার তাঁকে বললেন, যাও, জান্নাত এবং তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত সামগ্রী দর্শন করো। সুতরাং তিনি গেলেন এবং দর্শন করে ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের কসম! আমার আশঙ্কা হয় যে, কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
অতঃপর আল্লাহ তাঁকে জাহান্নামের দিকে পাঠিয়ে বললেন, যাও জাহান্নাম এবং তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত সামগ্রী দর্শন করো। সুতরাং তিনি গেলেন এবং দেখলেন, তার আগুনের এক অংশ অপর অংশের উপর চেপে রয়েছে। অতঃপর তিনি ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের কসম! যে কেউ এর কথা শুনবে, সে এতে প্রবেশ করতে চাইবে না। তারপর জাহান্নামকে মনোলোভা জিনিসসমূহ দিয়ে ঘিরে দিতে আদেশ করলেন এবং পুনরায় তাঁকে বললেন, যাও, জাহান্নাম এবং তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত সামগ্রী দর্শন করো। সুতরাং তিনি গেলেন এবং দর্শন করে ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের কসম! আমার আশষ্কা হয় যে, কেউ পরিত্রাণ পাবে না, সবাই তাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, সহীহ তারগীব ৩৬৬৯নং)
৩. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি গভীর রাত্রিকে ভয় করে, সে যেন সন্ধ্যা রাত্রেই সফর শুরু করে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যারাত্রে চলতে শুরু করে, সে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যায়। সাবধান! আল্লাহর পণ্য বড় মূল্যবান। শোনো! আল্লাহর পণ্য হল জান্নাত। (তিরমিযী, হাসান)
বলাই বাহুল্য যে, জান্নাত ও তার সুখ-সামগ্রী যেমন অমূল্য, তেমনি জান্নাতী সুন্দরী সুনয়না হুরীদের মোহরও অনেক বেশি। সুতরাং যে এমন সুখ চায় এবং এমন স্ত্রী চায়, সে কি প্রস্তুতি না নিয়ে বসে থাকতে পারে?
৪. আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমি জাহান্নাম থেকে পলায়নকারী ব্যক্তিকে কখনও ঘুমাতে দেখি নি। আর জান্নাত অন্বেষণকারীকেও কখনও ঘুমাতে দেখিনি। (তিরমিযী, আবওয়াব সিফাতুন নার, বাব ইন্না লিল্লারি নফসাইন,২/২০৯৭)
৫. আবু মালিক আশআরী (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: পৃথিবীর মিষ্টতা পরকালের তিক্ততা। পৃথিবীর তিক্ততা, পরকালের মিষ্টতা। (আহমাদ ও হাকেম, সহীহ জামে আস সাগীর, আলবানী, ৩য় খণ্ড, হা/৩১৫০)
৬. আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: পৃথিবী মুমিনের জন্য বন্দিখানার ন্যায় আর কাফিরের জন্য জান্নাতের ন্যায়। (মুসলিম, কিতাবুয যুহদ)
জান্নাত লাভ করা মহা সফলতা
জান্নাতে স্থান লাভ করা এমন সৌভাগ্যের ব্যাপার, যার পর কোনো সৌভাগ্য নেই। মহান আল্লাহর ভাষায় সেটাই মহা সফলতা। তিনি বলেন :
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوْفَّوْنَ أُجُوْرَكُمْ يَوْمَ الْقِيْامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ –
জীব মাত্রই মৃতু্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামাতের দিনই তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় প্রদান করা হবে। সুতরাং যাকে আগুন (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে এবং (যে) জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই হবে সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। (সূরা আলি ইমরান: আয়াত ১৮৫)
