প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৬, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
সর্ববিষয়েই শুধু আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা রাখ,
অভিভাবক হিসেবে তিনিই তোমার জন্য যথেষ্ট।
(সূরা নিসা : আয়াত – ৮১)
৬
উম্মে আমারাহ বর্ণনা
নুসায়বাহ বিনতে খব (উম্মে আমারাহ) উহুদ দিনের ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন : আমি সকাল থেকে হাঁটদিলাম এবং দেখছিলাম লোকজন কী করে। আমার কাছে একটি পানির মশক ছিল যা পানি ভরা ছিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। নবী কয়েকজন সাহাবীদের সাথে অবস্থান করছিলেন। যখন যুদ্ধের ময়দান মুসলমানদের বিপক্ষে চলে গেল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো কাছে চলে আসলাম এবং যুদ্ধ শুরু করলাম। যতক্ষণ না আহত হই। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ছেড়ে মানুষজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। ইবনে কিয়ামাহ আসল, “আমাকে দেখাও কোথায় মুহাম্মদ যদি তাকে মারতে পারি তাহলে আমি বাঁচব না। আমি সে এবং মুসায়েব ইবনে উমায়ের সম্মুখপানে অসগ্রর হতে লাগলাম এবং সে আমার কাঁধে অনেক আঘাত করল কিন্তু আল্লাহর শত্রুদের দুস্তর বিশিষ্ট বর্ম ছিল।
ইনি উম্মে আমারা, যার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, উহুদের দিন আমি ডানে বামে লড়তে পারছিলাম না কিন্তু আমি তাকে আমার নিরাপত্তার জন্য লড়াই করতে দেখেলিাম।
গোলামের ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা, এটা নিঃশেষের কারণ এবং অপমানের ব্যাপারে সচেতন হও। কেননা, এটা যন্ত্রণার কারণ।
নয়-দশমাংশ ভালো মানসিকতা ভুলকে অতিক্রম করে
৭
অন্যের প্রতি দয়া, দুঃখ দুর্দশাকে দূর করে দেয়
নারীর সদয় হওয়ার প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক হাদীস রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের দানশীল হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন, তাদের সদয় হওয়ার জন্য প্রশংসা করেন, তাদের আনন্দচিত্তে মেহমানদারীর জন্য জোর দেন, বন্ধু এবং প্রিয়জনেদের প্রতি। ঈমানদারদের মা আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, তারা একটি ভেড়া জাবাই করল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী পড়ে রইল?
আয়েশা (রা.) বলেন, কাঁধ ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সবই পড়ে রইল কাঁধ ছাড়া।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহিনী নারীদের ব্যাপারে ব্যাখ্যা করেন, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য পুরস্কার থাকবে যারা সেই দিনের জন্য দুনিয়াতে কিছু ছেড়ে গেছে, তাদের খাদ্য এবং অন্যান্য জিনিসের মধ্যে কী রেখে গেছে যা তাদের শেষ বিচারের দিন উপকারে আসবে। এটা একটি জ্ঞানগর্ব উপায় যে, আমাদের দানশীল হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া, মহান গৌরবময় আল্লাহর কাছে শান্তি চাওয়া।
আয়েশা (রা.) বোন আসমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দাশীল হওয়ার জন্য উপদেশ দেন, তাহলে আল্লাহর তায়ালা তার দানের চেয়ে অনেক বেশি তাকে দান করবেন। আসমা (রা.) বলেন, তুমি যদি দানশীল না হও আল্লাহ তোমার সাথে থাকবেন না।
যতশীঘ্র সম্ভভ রাত শেষ হয়ে যাবে, ব্যথা শেষ হয়ে যাবে,
সংকট চলে যাবে এবং দুঃখ-দর্শশা দূর হয়ে যাবে।
রহমত লো নববধুর যার যৌতুক হলো কৃতজ্ঞতা
৮
তোমার ব্যর্থতাকে সফলতায় পরিণত কর
উপদেশমূলক কিছু জ্ঞানগর্ব কথা: যদি তুমি হোঁচট খাও এবং বিপদের বড় গর্তের মধ্যে পতিত হও তাহলেও হতাশ হয়ো না। তুমি আগের চেয়ে আরো শক্তিশালীরূপে আবির্ভাব হবে এবং সমস্ত ক্ষমতাধর আল্লাহ তায়ালা দানশীলদের সাথে আছেন।
তোমার সবচেয়ে নিকট এবং প্রিয় মানুষও যদি তোমাকে তীব্র আঘাত করে তবুও কষ্ট পেয়ো না। তুমি অন্য কাউকে খুঁজবে যে তোমাকে কষ্ট থেকে তীরে টেনে তুলবে, তোমার ক্ষত-বিক্ষত যন্ত্রণাদায়ক জীবনকে হাস্যোজ্জ্বল জীবনে ফিরিয়ে আনে।
প্রচণ্ড ধ্বংস এবং কষ্ট দেখে থমকে যেয়ো না, বিশেষ করে যদি তা গৃহহীন বাঁদর হয় এবং যাদের ওপর ভূত ভর করেছে; বরং পাখির গানের দিকে তাকাও যারা নতুন প্রভাত নিয়ে আসবে।
এমন কোনো পেপারের দিকে তাকিয়ো না যার রং পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং যার লেখা আবছা হয়ে গেছে, যার লাইনগুলো বেদনাদায়ক এবং একাকিত্বের মধ্যে ঘোরপাক খাচ্ছে অহরহ।
তুমি দেখবে এই লাইনগুলো যা তুমি লিখেছ, এই লাইনগুলো এবং এই পেপারটা সর্বশেষ পেপার নয় যা তুমি কখনো লিখবে। তোমার উচিত যে, এই লাইনগুলো পড়বে এবং যে এই লাইনগুলো বাতাসের মধ্যে তাদের দিকে নিক্ষেপ করেছে তাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা। সেইগুলো সম্পূর্ণ সুন্দর কথা নয় উক্তি নয়। তারা হলো অনুভূতি সম্পন্ন যাদের মনে এই কষ্টগুলো থাকে। তাদের ব্যর্থ স্বপ্ন এবং প্রচণ্ড কষ্টমণ্ডিত নাড়ির স্পন্দন তারা লেখার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। হরিণের মতো হয়ো না, যখন তার রক্ষক্ষরণ হয় তখন সে সবচাইতে সুন্দর গান যায়। এই পৃথিবীর কেউই তোমার এক ফোঁটা ঝরে যাওয়া রক্তকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না।
তিনি সেই আল্লাহ যিনি বাতাসে বীজ বপন করেন
এবং ঝড় আনয়ন করেন।
তারা যেন (সযত্নে) লুকিয়ে রাখা ডিমের মতো
উজ্জ্বল গৌর বর্ণ (সুন্দরী)
(সূরা আস-সফফাত : আয়াত-৪৯)
৯
মনোযোগিতা হলো পৌঢ়বুদ্ধি
একজন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান রাখেন, তিনি হলেন আল্লাহর নবী আইয়ুব (আ) যিনি তার সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা এবং হুকুমের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন। যিনি শারীরিক পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে আল্লাহ কর্তৃক পরীক্ষিত হয়েছিলেন। তার সম্পদ এবং সন্তান সবই চলে গিয়েছিল, তার সমগ্র দেহ পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছিল এমনকি একটু সুঁই পরিমাণ কিছুই ছিল না। শুধুমাত্র তার হৃদযন্ত্র ছাড়া। তার স্ত্রী ছাড়া তার আর কিছুই ছিল না তঁাঁর স্ত্রী তার প্রতি খুবই অনুগত ছিল। কেননা, তিনি আল্লাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বিশ্বাস রাখতেন। তিনি উপার্জনের জন্য মানুষের বাসায় দাসীর কাজ করতেন। তিনি আঠারো বছরের কাছাকাছি তাকে খাওয়ালেন এবং যত্নে নিলেন। সকাল এবং সন্ধ্যা এই দুই কাজের সময় ছাড়া তিনি কখনো তাকে ছেড়ে যেতেন না। কাজ শেষে তিনি তার কাছে ফিরে আসতেন। এই কঠিন প্রেমের কাহিনী দীর্ঘ দিন যাবত চলছিল যতদিন না আল্লাহ তায়ালা তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকালেন: তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং মহান ক্ষমতাধর, দয়ালু আল্লাহ তায়ালা স্মরণ করলেন
অর্থ : (স্মরণ কর) যখন আইয়ুব তার মালিককে ডেকে বলেছিল (হে আল্লাহ), আমাকে এক কঠিন অসুখে পেয়ে বসেছে, (আমায় তুমি) নিরাময় কর, কেননা, তুমিই হচ্ছো দয়ালুদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা আম্বিয়া: আয়াত-৮৩)
মহান দয়ালু, প্রশংসাময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রার্থনার উত্তর দিলেন। আল্লাহ তাকে নির্দেশ করলেন যে, দাঁড়িয়ে সোজা হও এবং মাটিতে পা দ্বারা আঘাত কর। তিনি তাই করলেন, আল্লাহ তায়ালা তার সামনে একটি ঝরণা প্রবাহিত করলেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাকে এতে গোসল করার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁর শরীরের সকল অসুস্থতা দূর হয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা অন্য জায়গায় আঘাত করার নির্দেশ দিলেন এবং সেখান থেকেও আঘাতের ফলে একটি ঝরণা প্রবাহিত হলো। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাকে এখান থেকে পানি পান করার নির্দেশ দিলেন এবং তার ভিতরের সকল অসুস্থতা দূর হয়ে গেলে এবং সে ভিতরে এবং বাহিরে পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠল।
এই সকল ছিল আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ধৈর্যের প্রতিফল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সে গ্রহণযোগ্য হলো।
মানুষ হয়তো পরিতাপের কথা বলে
কিন্তু সে কখনো নীরবে অনুতপ্ত হয়না
নারী হলো সুখের উৎস
১০
মনোযোগী হও, মনোযোগী হও
তোমার সব ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া উচিত, সন্তান লালনপালনের ব্যাপারে, ভালো কাজ করার ব্যাপারে, ভালো বই পড়ার ব্যাপারে, কুরআন পড়ার ব্যাপারে এবং সম্পূর্ণ বিনয় এবং মনোযোগ সহকারে নামায আদায়ের ব্যাপারে, পরিপূর্ণ মনোযোগের সাথে আল্লাহকে স্মরণ করা, দান করা, ঘর-দোর পরিষ্কার রাখা, বুক সেল্ফ সাজিয়ে রাখা। মনোযোগ সহকারে এই সকল কাজ করলে তা তোমার মনের দুঃখ-দুর্দশাকে দূর করে দিবে।
তুমি একজন ঈমানদার নারী এবং একজন বেঈমান নারীর দিকে তাকাও এবং তারা কীভাবে পৃথক, তাদের জীবনের প্রতি গভীর মানসিকতা, অবিশ্বাস এবং সোজা পথ থেকে বিচ্যুত থাকা সত্ত্বেও। ইসরাঈলের প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকাও গোলভা মেইর মৃত্যু, যিনি স্মৃতিকথা লিখেছিলেন, তিনি সেখানে আরবদের সাথে যুদ্ধে ইসরাঈল সেনাবাহিনীকে সুসংগঠিত করার যে তীব্র মানসিকতা তা উল্লেখ করেন। খুব কদাচিৎ তার গ্রুপের কিছু লোক তার সাথে থাকত না, যদিও সে কাফের এবং আল্লাহর শত্রু ছিল।
সুখ কোনো যাদু নয়,
যদি তাই হতো তাহলে তার কোনো মূল্য থাকত না।
