প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬, মুহাররম-সফর ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
এরা যেসব ষড়যন্ত্র করে চলেছে তাতে তুমি মনোক্ষুন্ন হয়ো না। (সূরা আন-নাহল : আয়াত – ১২৭)
১
কে সবচাইতে প্রিয় ?
তুমি কী কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছো যে, তুমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কতটুকু ভালোবাসে? তুমি কি জানো ভালবাসার নিদর্শন কী? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভালবাসার নিদর্শন হলো, তিনি যা করেছেন তা শুদ্ধভাবে করা এবং যা করতে নিষেধ করেছে তা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। তুমি তোমার আবেগের দিকে তাকাও এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে কঠোর হও, প্রথমত আল্লাহকে ভালোবাসো। কাউকে ভালবাসার অর্থ হলো যাতে আল্লাহ তোমাকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে। জেনে রেখো, যদি তুমি বেহেশতের উচ্চ আসনে তোমার অবস্থান চাও তবে নবীজীকে ভালোবাসতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদীস যাকে যে ভালবাসে কিয়ামতের দিন তার সাথে উঠবে। কিন্তু ভালবাসার একজন মানুষ আর একজনকে ভালবাসার দাবি করে, যখন সে তার সব কাজের উল্টোটা করে এবং তার পথকে ঘৃণা করে?
সিরাতের বই পড়ে দেখ তাঁর জীবন কেমন ছিল। তুমি নিজেকে দেখ। তিনি কত মহান-মানসিকতার অধিকারী ছিলেন। তিনি কত মহান পথের কথা বলেছিলেন, কত প্রিয় তার দৃষ্টিভঙ্গি, কত পরিচ্ছন্ন তার মন-মানসিকতা আর কত আলোকিত এই পৃথিবী। তোমার মানসিকতাকে পরিবর্তন করে এই নারীদের মতো তৈরি কর।
নূহ এবং লূত (আ)-এর স্ত্রীরা তাদের স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাদের শিক্ষাকে বাদ দিয়ে, তাই তারা আল্লাহর কাছে মর্যাদাহীন হয়েছে। কিন্তু আসিয়া এবং মারাইয়াম (আ) বিশ্বাস করেছিল, তাই তারা সম্মানিত হয়েছিলেন।
আমি তার একান্ত কাছেই আছি; আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে ডাকে।
(সূরা আত-তাহরীম : আয়াত -১১)
২
সুখী-ধনী হওয়ায় এই সব দারিদ্র্যতা থাকে না
বানার্ড শো বলেন: আমি কখনই বলতে পারি না যে, সত্যিকার অর্থে আমি কখনো দারিদ্র্যতাকে পরীক্ষা করেছি। পূর্বে আমি কলমের মাধ্যমে উপার্জন করতে সক্ষম ছিলাম। আমি অনেক লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেছি, ব্রিটিশ মিউজিয়ামেরর পাবলিক লাইব্রেরি, টাফেলগার স্কয়ারের পার্শ্বে সেরা শিল্প প্রদর্শনী। টাকা দ্বারা আমি কী করতে পারতাম? সিগারেট পান করা? কিন্তু আমি ধূমপান করি না। শ্যাম্পেইন পান করা? কিন্তু আমি ড্রিংক করি না। হাল ফ্যাশনের নতুন জামা কাপড় ক্রয় করা? কিন্তু আমি যখন দ্রুত কোথাও নিমন্ত্রণে যাই যথাসম্ভব আমি এই সব জিনিস ত্যাগ করার চেষ্টা করি। ঘোড়া কেনা? কিন্তু এটা বিপদজনক। গাড়ি? কিন্তু এটা আমাকে বিরক্ত করে। এখন আমার এই সকল জিনিস কেনার যথেষ্ট টাকা আছে, কিন্তু আমি শুধুমাত্র তাই ক্রয় করি যা আমাকে গরিব থাকতে সাহায্য করে। একটি পড়ার বই, একটি রুচিশীল চিত্র, একটি সুন্দর লেখার চিন্তা। একদিকে আমার রুচিশলি বই পড়া এবং চিত্র দেখা ও গঠনমূলক চিন্তাশীল বই পড়ার অভ্যাস। অপরদিকে দরকার মননশীল চিন্তা চেতনার উন্মেষ ঘটনো।
তোমার ঘরকে বেহেশতের শান্তিতে পরিণত কর, কোনো কোলাহলপূর্ণ খেলার মাঠ নয়, নীরবতাই রহমত
হে মালিক! জান্নাতে তোমার পাশে
তুমি আমার জন্য একটি ঘর বানিয়ে দিয়ো।
(সূরা আত-তাহরীম : আয়াত : ১১)
৩
আল্লাহ কি অন্য কারো চাইতে প্রশংসার উপযুক্ত নয় ?
এটা অসম্ভব যে সামাজিক পদ-মর্যাদা একই রকম থাকে
সকল দয়ার অধিকারী আল্লাহর প্রশংসা কর। সুখ এবং স্নায়ুকে শাস্ত রাখার সবচেয়ে অধিকারী আল্লাহর প্রশংসা কর। সুখ এবং স্নায়ুকে শান্ত রাখার সবচেয়ে সহজ নির্দেশা। কেননা, যখন তুমি আল্লাহর প্রশংসা কর । তুমি আল্লাহর দয়ার কথা স্মরণ কর যেই রহমত আল্লাহ তাআলা তোমর ওপর দান করেছেন। তুমি আল্লাহর রমহতকে গ্রহণ কর যা তুমি প্রতিনিয়ত উপভোগ করছো। অন্যতম একজন সঠিক সালাফ বলতেন, যদি তুমি আল্লাহর দয়া জানতে চাও যে, আল্লাহ তোমার ওপর রহমত নাযিল করেছেন, তোমার চোখ বন্ধ করে, খেয়াল কর কিভাবে আল্লাহ তায়ালা তোমার ওপর রহমত নাযিল করেছেন, কর্ণ, দৃষ্টি, ঋতু, ধর্মীয় ওয়াদা, সন্তান, সরবরাহ, ভালো জীবন। কিছু সংখ্যক নারী, আল্লাহর রহমতকে যতটুকু উপভোগ করেছে তার অল্প চিন্তা করে, কিন্তু সে যদি তাদের দিকে তাকায় যারা গরিব, হতাশাগ্রস্ত, অসুস্থ, উদ্বাস্তূ অথবা ক্ষতি-বিক্ষত, জড়াজীর্ণ, তাহলে তারা আল্লাহর প্রশংসা করতো যতটুকু তাদের আছে, এমনকি যদি সে ছাগলের চামড়া নির্মিত তাবুতে বসবাস করে অথবা কুঁড়ে ঘরে অথবা মরুভূমিতে গাছের ছায়ায়। মহান আল্লাহর প্রশংসা কর, এই সকল রহমতের জন্য এবং আপনার সাথে সেই সকল লোকদের তুলনা করুন যারা শারীরিক অথবা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে, অথবা যারা শুনতে পায় না, অথবা যাদের সন্তান হারিয়ে গেছে, এই রকম নারী পৃথিবীতে অনেক রয়েছে।
অমায়িক এবং সদয় কথা তাদের জন্য যারা তাদের সন্তান হারিয়েছে
এবং বদান্যতা দ্বারা গরিবের চোখের পানি মুছে দিয়েছেন
এটা অসম্ভব যে সামাজিক পদ-মর্যাদা একই রকম থাকে।
৪
একজন সুখী নারী তার আশ-পাশের মানুষকেও সুখী করে।
অরজিন সুয়েট বলেন : ইমপ্রেস জোসফিনকে বিয়ে করে নেপোলিয়ান খুবই ভাগ্যতী ছিলেন এবং তাকে বিয়ে করতে গিয়ে নেপোলিয়ানকে অনেক উচ্চ হাইকমান্ড এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে হয়েছিল। তার ভদ্রতা এবং অমায়িক ব্যক্তিত্ব হাজার হাজার মানুষের নৈতিকতা এং সমর্থনের চেয়ে বেশি কার্যকরী ছিল। তিনি তাঁর আশে-পাশে সুখ ছড়িয়ে দিতেন এবং সরাসরি নির্দেশ দিতেন না, এমনকি তার চাকরকেও না। ইমপ্রেস জেসফিন তার এক বন্ধুকে পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন : আমি যা বলতে পারি তার কোনো প্রেক্ষাপট নেই, আমি চাই, কথাটি না বলেই, আমি চাই সবাই আমাকে সুখী করুক। এটা একটা ইংলিশ কবিতার মতো যা তার জন্য বলা হয়ে থাকে।
তিনি শুভ্র সকালে পথ অতিক্রম করেন এবং সারাদিন সকালের শুভ্রতা ছড়িয়ে বেড়ান।
এটা সত্য, আমার বন্ধু, দয়া আমাদের মাঝে সুখকে ছড়িয়ে দেয় এবং আমাদের আশে পাশে যেই লোকেরা আছে তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়, এমনকি নিষ্প্রাণ জিনিসের মধ্যেও ছড়ায়। দয়া এমনি এক স্বতন্ত্র সৌন্দর্য যার কোনো সীমানা নেই, শেষ নেই। মানব জাতির মধ্যে নারী হলো এমনই সৌন্দর্য এবং নারীরা এই সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি করতে পারে।
সে কি সুখী যে তার সৌন্দর্য মানুষের কাছে দেখায় এবং তারা কী সুখি যারা তাদের আনন্দ স্ত্রীদেরকে দেখায় ?
সুখের সময় আল্লাহকে স্মরণ কর,
আল্লাহ তোমার দুঃখের সময় সাহায্য করবেন।
৫
সন্তুষ্ট হও, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে সবই
আল্লাহর ইচ্ছায় এবং তাঁর হুকুমে ঘটে
একটি জিনিস যা ডেল কার্নেগী ঐশী বিশ্বাস এবং আদেশের পরিবর্তে উল্লেখ করেন যে, মানুষ আশা করে যে, দুর্যোগ-দুর্দশা কাউকে আঘাত করে তাকে নিঃস্ব করে দেয় এবং সে এই দুর্যোগের ব্যাপারে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া করে না। মহিশ এবং বৃক্ষকা-ের মতো। সে হয়তো কারণ দেখাতে পারে, কেননা, সে কোনো প্রতিশোধক বের করতে পারে নি। আমরা মুসলিমরাও সেই দলের অন্তর্ভুক্ত। তার কথা শোন যখন সে বলে-
একবার আমি কিছু অপরিহার্য ব্যাপারের সম্মুখীন হয়েছিলাম যা গ্রহণ করতে অপারগ ছিলাম। আমি উদ্দেশ্যহীন হয়ে গেলাম, দিশেহারা হয়ে রাগান্বিত হয়ে গেলাম এবং রাতের ঘুমকে জাহান্নামের অনিদ্রায় পরিণত করে ফেললাম। এক বছর মানসিক চিকিৎসার পর, আমি অপরিহার্য ব্যাপারটি গ্রহন করলাম। আমি প্রথম ধাপেই জানতে পারলাম এটাকে পরিবর্তন করার কোনো পথ নেই এবং এটা আরো বেশি ঠিক হবে যদি কবি ওয়ালট হুইটম্যান নির্দেশনা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী :
এটা কতইনা উত্তম যে, অন্ধকার, ঝড়, ক্ষুধা, দুর্যোগ, অপবাদ এবং গালির সম্মুখীন হওয়া যা পশু-পাখি এবং গাছপালা করে।
আমার জীবনের ১২ বছর আমি খামারে কাটিয়েছি, আমি কখনো জমির ঘাস পুড়ে যাওয়ায় কোনো গরুকে উদ্বিগ্ন হতে দেখেনি, অথবা বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে গেলে, অথবা তার সঙ্গী মহিষ অন্য কারো সাথে থাকে। পশু পাখিরা সর্বদাই অন্ধকার ঝড়ের মুখোমুখি হয় এবং দুর্যোগের মুহূর্তে শান্তি ও নীরব থাকে; এটা খুবই বিরল যে, জীবজন্তু
মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে অথবা পেটের অসুখে আক্রান্ত হয়েছে।
মনে রেখো সফলতা, আনন্দ পেতে চাও, তাহলে দুঃখ-দূর্দশা এবং অন্যান্য কষ্টকর জিনিস ভুলে যাও।
