প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৮ম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৮ হিজরী, মাঘ-ফাল্গুন ১৪২৩বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
১. وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
আর আমাদেরকে আমাদের হাজ্জের রীতি-নীতি শিখিয়ে দাও এবং আমাদেরকে ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু। (সূরা বাক্বারা : আয়াত ১২৮)
এ দু আটি হযরত ইবরাহীম ও হযরত ইসমাঈল (আ.) কাবা শরীফ নির্মাণের সময় তিলাওয়াত করেছিলেন।
২. سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِيْنَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلٰى الَّذِيْنَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلٰى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা! আর তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতীত কোনো কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। সে তা-ই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তা-ই তার ওপর আপতিত হয় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! আর আমাদের ওপর এমন দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছো। হে আমাদের পালনকর্তা! আর আমাদের দ্বারা এমন বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন করো। আমাদেরকে ক্ষমা করো এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের ওপর আমাদেরকে সাহায্য করো। (সূরা বাক্বারা: আয়াত ২৮৫, ২৮৬)
৩. رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِیْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلٰى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ এবং আমাদের কাজে আমাদের সীমালংঘন ক্ষমা করে দাও। আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখো এবং কাফির সম্প্রদায়ের ওপর আমাদেরকে সাহায্য করো। (সূরা আলি-ইমরান: আয়াত ১৪৭)
৪. رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيَا يُّنَادِیْ لِلْإِيْمَانِ أَنْ ا ٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَا ٰمَنَّا ۚ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহব্বানকারীকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করতে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আনয়ন করো; ফলে আমরা ঈমান আনয়ন করলাম। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের দোষত্রুটিসমূহ মোচন করে দাও এবং আমাদের মৃত্যু দাও নেক লোকদের সাথে। (সূরা আলি-ইমরান : আয়াত ১৯৩)
৫. رَبَّنَا إِنَّنَا ا ٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা অবশ্যই ঈমান আনয়ন করলাম। সুতরাং তুমি আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করো এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করো। (সূরা আলি-ইমরান : আয়াত ১৬)
৬. رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো । (সূরা আরাফ : আয়াত ২৩)
এ দু আ হযরত আদম (আ:) ও হযরত হাওয়া করেছিলেন-যখন তাদেরকে একটি নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার কারণে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিলো। উভয়ে নিজ অপরাধের জন্য অনেক বেশি অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়েছিলেন। কারণ, তারা যে ফল খেয়েছিলেন তা খেতে আল্লাহ তা য়ালা তাদেরকে নিষেধ করেছিলেন। উভয়ে ক্ষমা প্রার্থনা অব্যাহত রাখলেন। আল্লাহ তা য়ালা উপরোক্ত শব্দগুলো তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন। তারা তা দ্বারা দু আ করলেন। আল্লাহ তাদের দু আ কবুল করলেন।
৭. أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۖ وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِيْنَ
তুমি আমাদের কর্মবিধায়ক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করো, আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। আর তুমি শ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। (সূরা আরাফ : আয়াত ১৫৫)
৮. قَالَ رَبِّ إِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ فَاغْفِرْ لِیْ فَغَفَرَ لَهٗ ۚ إِنَّهٗ هُوْ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
হে আমার পালনকর্তা! আমি নিজের প্রতি অবিচার করেছি। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (সূরা কাসাস: আয়াত ১৬)
৯. وَقُل رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ
হে আমার পালনকর্তা! ক্ষমা করো এবং অনুগ্রহ করো। নিশ্চয়ই তুমি শ্রেষ্ঠ অনুগহশীল। (সূরা মু মিনুন: আয়াত ১১৮)
১০. يَغْفِرُ اللّٰهُ لَكُمْ ۖ وَهُوْ أَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ
আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় তিনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা ইউসুফ : আয়াত ১২)
এ দু আ হযরত ইউসুফ (আ.) তাঁর ভাইদের জন্য করেছিলেন।
১১. قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَلِأَخِیْ وَأَدْخِلْنَا فِیْ رَحْمَتِكَ ۖ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ
হে আমার পালনকর্তা। ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আমাদেরকে আপনার রহমাতের অন্তর্ভুক্ত করুন। নিশ্চয়ই আপনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা আ রাফ : আয়াত ১৫১)
এ দু আ হযরত মুসা (আ.) নিজের জন্য এবং তার ভাইয়ের জন্য করেছিলেন।
১২. رَّبِّ اغْفِرْ لِیْ وَلِوَالِدَیَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِیَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِيْنَ إِلَّا تَبَارًا
হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মু মিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করেছে তাদেরকে এবং মু মিন পুরুষ ও মু মিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন। আর অত্যাচারীদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। (সূরা নূহ : আয়াত ২৮)
এটা হযরত নূহ (আ.)-এর দু আ যা তিনি নিজের জন্য, নিজ পিতা-মাতার জন্য, মু মিন পুরুষ ও মু মিন নারীদের জন্য করেছিলেন। সাথে সাথে যালিমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য আল্লাহ তা য়ালার নিকট প্রার্থনা করেছিলেন।
১৩. رَّبَّنَا إِنِّیْ أَسْكَنتُ مِن ذُرِيَّتِیْ بِوَادٍ غَيْرِ ذِیْ زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيْقِيْمُوْا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِیْ إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُوْنَ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মু মিনদেরকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে। (সূরা ইবরাহীম : আয়াত ৩৭)
এটা হযরত ইবরাহীম (আ) এর দু আ। যা তিনি নিজের জন্য, নিজ পিতা-মাতার জন্য এবং মু মিনদের জন্য করেছিলেন।
১৪. رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَیْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِيْنَ تَابُوْا وَاتَّبَعُوْا سَبِيْلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيْمِ
হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার অনুগ্রহ ও জ্ঞান সবকিছুতেই পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তাওবা করে এবং আপনার পথে চলে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (সূরা মু মিন : আয়াত ৭)
১৫. رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এবং ঈমান আনয়নে অগ্রগামী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং মু’মিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ সৃষ্টি করবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়। (সূরা হাশর : আয়াত ১০)
১৬. رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَیْءٍ قَدِيْرٌ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পরিপূর্ণ করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। (সূরা তাহরীম : আয়াত ৮)
১৭. ইউনুস (আ)এর দু’আ : কুরআনে আল্লাহপাক জানিয়েছেন যে, নাবী হযরত ইউনুস (আ:) মাছের পেটের মধ্যে ভয়ঙ্করতম বিপদে পড়ে আল্লাহর কাছে সকাতরে প্রার্থনা করেছিলেন :
لَاإِلٰهَ إِلَّااَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّیْ كُنْتُ مِنَ الظّٰالِمِيْنَ ــ
আপনি ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, নিশ্চয়ই আমি অত্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত।
এই দু’আ দ্বারা যে মুসিলমই যেকোনো বিষয়ে দু’আ করবে, আল্লাহ অবশ্যই তার দু’আয় সাড়া প্রদান করবেন (দু’আ কবুল করবেন)। (সুনানুত তিরমিযী ৫/৫২৯, নং ৩৫০৫, মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৮৪-৬৮৫, মাজামাউয যাওয়াইদ ৭/৬৮)
