প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৮ম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৮ হিজরী, মাঘ-ফাল্গুন ১৪২৩বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
ইনশাআল্লাহ্ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বুধবার হতে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ফুরফুরা দরবারের পাকশী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব। ১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ফজর বাদ আখেরী বয়ান ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহ্ফিল শেষ হবে ইনশা-আল্লাহ।
হযরত গদ্দীনশীন পীর সাহেব হুজুরের পক্ষ থেকে জমিয়তুল মুসলিমীন হিযবুল্লাহর সকল পর্যায়ের মুবাল্লিগ ও হিলফুল ফুযুলের সদস্য ভাইদেরকে এখন থেকেই মাহফিলের জন্য সর্বাত্মক দাওয়াত ও প্রচার কার্য পরিচালনা এবং প্রথম দিন হতেই যাতে সবাই মাহফিলে হাজির হতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি। পোস্টার, হ্যান্ডবিল, মাইকিং, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ইত্যাদি যে যেভাবে পারি প্রচার করতে থাকি। আমার দাওয়াতে একটা লোকও যদি মাহফিলে হাজির হয়, আল্লাহ হেদায়েত করেন, কিছু নেক আমল করে, পাপ কাজ পরিত্যাগ করে, তবে তাতে আমি অফুরন্ত সাওয়াব লাভ করবো এবং তা আমার জন্য নাজাতের একটা ওসিলা হয়ে যেতে পারে ইনশা-আল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে নির্দিষ্ট সময়ে মাহ্ফিলে উপস্থিত হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবী ও নেয়ামত অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
কাউকে তুচ্ছজ্ঞান, অবজ্ঞা, উপহাস বা ঠাট্টা-বিদ্রপ না করা
১. কেউ কাউকে তুচ্ছজ্ঞান, অবজ্ঞা, উপহাস বা ঠাট্টা-বিদ্রপ করা কঠিন কবীরা গুনাহ ও সুন্দর আচরণের পরিপন্থি। মহান রাব্বুল আলামীন কুরআন শরীফে ইরশাদ করেছেন :
হে ঈমানদারগণ! কোনো জনগোষ্ঠী (পুরুষ) অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে (পুরুষকে) যেন তুচ্ছজ্ঞান (অবজ্ঞা) না করে। হতে পারে যে, তারা এদের চেয়ে উত্তম। আর আপন মুমিন ভাইয়ের উপর দোষারোপ করো না। আর একজন অপরজনকে খারাপ নামে (মন্দ উপনামে) ডেকো না। ঈমান গ্রহণের পর ফাসেকী কাজে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত মন্দ কথা। যে সব ব্যক্তি এরূপ আচরণ হতে তাওবা করে বিরত না থাকবে, তারাই জালেম হিসেবে গণ্য হবে। (সূরা হুজুরাত : ১১ আয়াত)
২. হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট, সে তার মুসলিম ভ্রাতাকে অবজ্ঞার চোখে দেখবে। (মুসলিম)
৩. এস্তেহজা অর্থ কাউকে হেয় ও অপমান করার জন্যে তার কোনো দোষ এমনভাবে উল্লেখ করা, যাতে শ্রোতারা হাসতে থাকে। এই এস্তেহজা বা ঠাট্টা-বিদ্রƒপ কয়েক উপায়ে হতে পারে : (ক) কারও চলা-ফেরা, উঠা-বসা, হাসা, কথা বলা ইত্যাদি ব্যঙ্গচ্ছলে নকল করা অথবা কারও হাত-পা, শরীর বা চেহারা-আকৃতি ইত্যাদি হেয় করার উদ্দেশ্যে নকল করা। (খ) কারও কথা বা কাজের কথা বলে হাসা-হাসি করা। ৩. চোখ কিংবা হাত-পায়ের ইঙ্গিতে কারও দোষ প্রকাশ করা। এসব অহেতুক ও বেহুদা গুনাহ আজকাল মুসলিমদের মধ্যে প্লেগ-মহামারীর ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ লোকদের থেকে নিয়ে শীর্ষস্থানীয় লোকেরা পর্যন্ত এ ব্যাধিতে আক্রান্ত রয়েছে। অথচ আল কুরআনুল কারীমের উপরোক্ত আয়াতে বিষয়টির নিষিদ্ধতা (হারাম হওয়ার হুকুম) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর কুরআন পাকের অন্য এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : তারা বলবে) হায় আফসোস! একি আশ্চর্য আমলনামা! ছোট-বড় কোন পাপই লিপিবদ্ধ না করে ছাড়ে নাই। (সূরা আল কাহাফ, ১৮ : ৪৯)
৪. হযরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন, একদা আমি কারও বিষয়ে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নকল করে দেখিয়েছিলাম। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এরূপ করতে নিষেধ করেছেন এবং) বলেছেন, এই রূপে নকল করে দেখানোর বিনিময়ে যদি আমাকে বৃহত্তম কোনো সম্পদও দেয়া হয়, তবু আমি তা গ্রহণ করবো না। (আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ) এ হাদীস এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এটি এমন নিরর্থক ও বে-লজ্জত গুনাহ যে, এতে কোনোই ফায়দা নিহিত নাই। আর যদি এতে কোনরূপ ফায়দা থেকেও থাকে, তবুও এর ধারে-কাছেও যাওয়া উচিত নয়।
৫. হযরত হাসান (রা.) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যারা লোকদেরকে উপহাস করে, আখিরাতে জান্নাতের একটি দরজা খুলে তাদেরকে সেদিকে ডাকা হবে। যখন উপহাসকারী ব্যক্তি ঊর্ধ্বশ্বাসে দ্রুত সে পর্যন্ত পৌঁছবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। অতঃপর আরেকটি দরজা খুলে তাকে ডাকা হবে। সেখানে পৌঁছলে এটিও বন্ধ করে দেয়া হবে। এভাবে একের পর এক দরজা খোলা হবে এবং বন্ধ হয়ে যাবে। অবশেষে উপহাসকারী ব্যক্তি (জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে) নিরাশ হয়ে যাবে; সুতরাং পুনরায় তাকে সেদিকে ডাকা হলেও আর যাবে না। (বায়হাকী শরীফ)
৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যাম্য়া (রা) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কেউ যেন অন্যের এমন জিনিসের উপর হাসাহাসি না করে যা স্বয়ং তার থেকেও হয়ে থাকে। (অর্থাৎ অপরের বায়ু নির্গত হওয়া নিয়ে কেউ যেন হাসাহাসি না করে)
