প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১১ম সংখ্যা, মে ২০১৬, রজব-শাবান ১৪৩৭ হিজরী, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, নূহ (আ) মৃত্যুর পূর্বে তাঁর পুত্রকে যে ওসীয়ত করেন তাতে তিনি বলেন, আমি তোমাকে দুটি কাজের নির্দেশ দিচ্ছি এবং দুটি কাজ থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু-এর আদেশ প্রদান করছি। কারণ সাত আসমান ও জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয় এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু অন্য পাল্লায় রাখা হয় তাহলে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ভারী হবে… এবং আমি তোমাকে সুবহা-নাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী-এর নির্দেশ দিচ্ছি (অর্থাৎ, এ দুটি যিকির বেশি বেশি আদায় করতে নির্দেশ প্রদান করছে।) এ যিকির সকল সৃষ্টির দুআ ও সালাত এবং এর ওসীলাতেই সকল সৃষ্টি রিযিক প্রাপ্ত হয়। আর আমি তোমাকে শিরক ও অহংকার থেকে নিষেধ করছি। (মুসনাদ আহমদ ২/১৬৯, নং ৬৫৮৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪.২১৯-২২০। হাদীসটির সনদ হাসান।)

বিশেষ তাসবীহ-তাহমীদের ফযীলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুটি বাক্য জিহবায় উচ্চারণের জন্য খুবই হালকা, আর কিয়ামতের দিন কর্ম পরিমাপের পাল্লায় খুবই ভারী এবং আল্লাহর নিকট প্রিয় : সুবহা-নাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযীম। (বুখারী (১০০ কিতাবুত তাওহীদ, ৫৮-বার কাওলিল্লাহি ওয়া নাদাউ…) ৬/২৭৪৯ (ভারতীয় ২/১১২৯; মুসলিম (৪৮-কিতাবুয যিকির ১০-বার ফাদলিত তাহলীল) ৪/২০৭২ (ভারতীয় ২/৩৪৪))

ব্যাপক অর্থের বিশেষ যিকির

(১) আল-হামদু লিল্লা-হি আদাদা মা-আহসা কিতাবুহু, (২) ওয়া আল-হামদু লিল্লা-হি মিলআ মা-আহসা কিতাবুহু, (৩) ওয়া আল-হামদু লিল্লা-হি আদাদা মা-আহসা খালকুহু, (৪) ওয়া আল-হামদু লিল্লাহি মিলআ মা-ফী খালকিহী, (৫) ওয়া আল-হামদু লিল্লা-হি মিলআ সামাওয়া-তিহী ওয়া র্আদিহী, (৬) ওয়া আল-হামদু লিল্লা-হি আদাদা কুল্লি শাইয়িন, (৭) ওয়ালহামদু লিল্লা-হি আলা-কুল্লি শাইয়িন।

অর্থ : (১) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাঁর কিতাব যা গণনা করেছে সে পরিমাণ, (২) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাঁর কিতাব যা গণনা করেছে তা সব পূর্ণ করে, (৩) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাঁর সৃষ্টি যা গণনা করে সে পরিমাণ, (৪) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু আছে তা পূর্ণ করে, (৫) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাঁর আসমান ও জমিন পূর্ণ করে, (৬) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর. সকল কিছুর সংখ্যার সমপরিমাণ, (৭) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, সব কিছুর উপর।

আবু উমামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখেন যে আমি আমার ঠোঁট নাড়াচ্ছি। তিনি আমাকে বলেন: হে আবু উমামাহ, তুমি কী বলে তোমার ঠোঁট নাড়াচ্ছ। আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ আমি আল্লাহর যিকির করছি। তিনি বললেন: আমি কি তোমার রাতদিন যিকির চেয়েও উত্তম (যিকির) তোমাকে শিখিয়ে দেব ? আমি বললাম : হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন: তুমি বলবে… (উপরের যিকিরগুলো তিনি শিখিয়ে দিলেন)। এরপর বললেন : উপরে যেভাবে (আল-হামদু লিল্লাহ) বলেছ ঠিক অনুরূপভাবে অনুরূপভাষায় তাসবীহ সুবহা-নাল্লাহ বলবে এবং অনুরূপভাবে তাকবীর স্থলে সুবহা-নাল্লাহ দ্বারা ও আল্লাহু আকবার দ্বারা ৭ বার করে বলতে হবে। হাদীসটি হাসান। (মুসনাদ আহমদ ৫/২৪৯, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯৩, মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৪২৬-৪২৭)