প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭, জমা.আউ-জমা.সানি ১৪৩৮ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

১. হে নবী! এই মুনাফিকরা যখন তোমার নিকট আসে তখন তাহারা বলে- ‘আমরা সাক্ষ্য দিতেছি, আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল। হ্যাঁ, আল্লাহ জানেন যে, তুমি অবশ্যই তাঁহার রসূল। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিতেছেন, ‘এই মুনাফিকরা চরমভাবে মিথ্যাবাদী১।

২. তাহারা নিজেদের শপথসমূহকে ঢাল বানাইয়া লইয়াছে। আর এইভাবে তাহারা আল্লাহর পথ হইতে নিজেরা বিরত থাকে ও অন্যান্যদিগকে বিরত রাখে। ইহারা যাহা করিতেছে, তাহা কতই নিকৃষ্ট ধরনের তৎপরতা।

৩. এইসব কিছু শুধু এই কারণে যে, এই লোকেরা ঈমান আনিয়া পরে আবার কুফরী গ্রহণ করিয়াছে। এই জন্য তাহাদের দিলের ওপর মোহর লাগাইয়া দেওয়া হইয়াছে।এখন তাহারা কিছুই বুঝে না২।

৪. ইহাদের প্রতি তাকাইলে ইহাদের অবয়ব তোমাদের খুবই আকর্ষণীয় মনে হইবে। আর ইহারা কথা বলিলে তাহাদের কথা শুনিতে মগ্ন হইয়া যাইবে। কিন্তু আসলে ইহারা খোদাইকৃত কাষ্ঠ খণ্ডমাত্র, যাহা প্রাচীরের সহিত জুড়িয়া দেওয়া হইয়াছে৩। প্রত্যেকটি জোর আওয়াজকে ইহারা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। ইহারা পাকা শত্রু। ইহাদের হইতে সতর্ক হইয়া থাক। ইহাদের ওপর খোদার মা’র। ইহাদিগকে কোন্ উল্টা দিকে লইয়া যাওয়া হইতেছে৪?

১)অর্থাৎ যে কথা তারা নিজেদের যবানে বলবে, তাতো নিজ স্থানে সত্য, কিন্তু তারা মুখে যা প্রকাশ করছে যেহেতু তাদের বিশ্বাস তা নয়, সে জন্যে তারা তোমার রসূল হওয়া সম্পর্কে যে সাক্ষ্য দান করছে তাদের সে উক্তিতে তারা মিথ্যুক।

২)এই আয়াতে ‘ঈমান’ আনার অর্থ- ঈমানের একবার করে মুসলমানদের দলভুক্ত হওয়া। আর ‘কুফর’ করার অর্থ হচ্ছে- অন্তরে ঈমান না আনা ও নিজেদের বাহ্যিক একবার ও ঈমানের পূর্বে যে কুফরীর উপর তারা প্রতিষ্ঠিত ছিল তার উপর কায়েম থাকা। আল্লাহর পক্ষ থেকে কারুর অন্তরে মোহর করে দেয়ার অর্থ যে সমস্ত আয়াতে সম্পূর্ণ পরিষ্কাররূপে ব্যক্ত করা হয়েছে এ আয়াতটি তার মধ্যে অন্যতম। এ মুনাফিকদের এরূপ অবস্থা এ কারণে হয়নি যে, আল্লাহ তা’য়ালা তাদের অন্তরসমূহে মোহর মেরে দিয়েছিলেন সেজন্যে ঈমান তাদের মধ্যে প্রবেশ করতেই পারেনি। ফলে তারা বাধ্য হয়ে মুনাফিক থেকে গিয়েছিল। বরং আল্লাহ তা’য়ালা তাদের অন্তরসমূহের উপর সেই সময় এ মোহর মেরে দিয়েছিলেন যখন তারা ঈমানের প্রকাশ্য স্বীকৃতি দান করা সত্ত্বেও কুফরীর উপর কায়েম থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের কাছ থেকে অকপট শুদ্ধ ঈমানের সুযোগ ছিনিয়ে নিয়ে তাদের অবলম্বিত মুনাফিকির (কপটতার) সুযোগ তাদেরকে দান করা হলো।

৩)অর্থাৎ এরা যারা দেওয়ালে ঠেস লাগিয়ে বসে এরা মানুষ নয়, বরং কাঠের পুতুল। এদের কাঠের সঙ্গে তুলনা করে একথা বুঝানো হয়েছে যে, এরা চরিত্র ও নৈতিকতার দিক দিয়ে যা মানুষের সার-বস্তু-একেবারে শূন্যগর্ভ। আবার দেওয়াল সংলগ্ন খোদাই করা কাষ্ঠ-খণ্ডের সঙ্গে তাদের তুলনা করে এ কথাও বোঝানো হয়েছে যে এরা সম্পূর্ণ অকর্মণ্য। কেননা কাঠ তখনই কাজে লাগে যখন তা কোন ছাদ বা দরজা বা কোন ফার্নিচারে ব্যবহৃত হয়। দেওয়ালে সজ্জিত খোদাই করা কাষ্ঠ-খণ্ড কোন কাজেরই নয়।

৪)তাদের ঈমান থেকে কপটতার দিকে বিপরীতগামী করায় কে সে কথা বলা হয়নি। পরিষ্কাররূপে ্ কথা না বলার স্বতঃই এ মর্ম বুঝা যায় যে, তাদের এই উল্টা চালের প্ররোচনা কোনো একটি মাত্র জিনিস নয়, বরং এর মধ্যে বহু রকমের প্ররোচনাদানকারী আছে। শয়তান আছে, খারাপ বন্ধু আছে; তাদের নিজেদের প্রবৃত্তির বাসনা-কামনা আছে। কারুর স্ত্রী প্ররোচনাকারী, কারুর সন্তান তার প্ররোচক, কারুর দুষ্ট আত্মীয় কুটুমরা তার প্ররোচনাদাতা এবং কারুর অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ ও অহংকারই তাকে সেই পথে পরিচালিত করেছে।