প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৮-৩৯ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামায। ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা মুসলমানদের ঈমান ধ্বংসের প্রয়াসের পর সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে মুসলামানদের নামায কিভাবে নষ্ট করা যায়। সে কারণেই মূলত নামাযের বিভিন্ন মাসায়েল নিয়ে মুসলমানদের মাঝে মতপার্থক্য ও মতবিরোধ সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন গোষ্ঠীকে। কিবলা নামাযের রুকন। কিবলা ঠিক না হলে নামায হবে না। এটিই সর্বসম্মত মত। সম্প্রতি যানবাহনে নামায পড়লে কিবলা ঠিক করার প্রয়োজন নেই- এমন মন্তব্যও করতে দেখা যায় অনেককে অনেক সময় আপনি নিজেও বিব্রত বোধ করবেন, কোনো যানবাহনে উঠে নামায পড়ার জন্য যখন কিবলার কথা কাউকে জিজ্ঞেস করবেন তখন আপনার পাশের কোনো কোনো জেনারেল শিক্ষিত আপনাকে ফাতওয়া দেবে যে কেন হুজুর! গাড়িতে নামায পড়লে তো কিবলা ঠিক করতে হয় না!!!

এরূপ আশ্চর্য ও অত্যধিক আশ্চর্য ফাতওয়া গাড়ি ঘোড়া কিংবা অনেক জনপদে শুনতে পাওয়া যায় । এমন সময় এরূপ বিভিন্ন ফাতওয়ার সম্মুখীন হতে হয় যখন এতদ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যাবে-এমন পরিবেশ-পরিস্থিতি থাকে না। এমনকি তাদের বোঝানোর চেষ্টাও করা যায় না। এ ধরনের তৎক্ষণাৎ ফাতওয়া বা ইসলাসী বিধানাবলির অপব্যাখ্যাগুলো করে থাকে বিশেষ করে জেনারেল শিক্ষিতরা। অনেক সময় দেখা যায় তার মুখে দাড়িও নেই। কিন্ত এরূপ বিভ্রন্তিমূলক অনেক ধর্মীয় কথা সে অনায়াসেই শেয়ার করে চলছে। যাই হোক, এসব বিভিন্ন স্যাটেলাইট মিড়িয়া, টিভি, ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরই বরকত। যারা এরূপ মিডিয়াকেই ইসলামের মূল ধারক-বাহক বা দ্বীন শিক্ষা করার আসল মাধ্যম মনে করে তাদের এ ধরনের ভুল ও ভ্রান্ত ব্যাখ্যা গ্রহণ ও গোমরাহীর পথে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

কিবলা সম্পর্কে এই যে সমস্ত ফাতওয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে তারা কি জানে নামাযে কিবলার গুরুত্ব কতটুকু? তারা কি জানে কিবলার ব্যতিক্রম হলে নামাযই হবে না? হয়তো অজ্ঞতার কারণেই তারা এরূপ বলে থাকে। কিংবা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নই এদের উদ্দেশ্য।
আমরা এখানে কিবলা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে বিশদভাবে আলোচনা পেশ করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
নামাযে কিবলার বিধান
নামাযে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো সর্বসম্মতিক্রমে ফরয। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

“নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব অবশ্যই আমি আপনাকে সে কিবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব, যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি সমজিদুল হারামের দিকে মুখ করুন এবং যেখানে থাকেন সে (মসজিদুল হারামের) দিকে মুখ করুন। (সূরা বাকারা আয়াত-১৪৪)
আলোচ্য আয়াতে কিবলা পরিবর্তন এবং মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করে নামায আদায় করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত বারা ইবনে আযেব (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন,

“রাসূল (সা) বায়তুল মুকাদ্দিসের দিকে (মুখ করে) ১৬ বা ১৭ মাস নামায আদায় করেন। কিন্তু তিনি কা’বার দিকে মুখ করে নামায পড়তে পছন্দ করতেন। তখন আল্লাহ তা’আলা

আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। অতঃপর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নামাযের মধ্যে) কা’বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন।” (বুখারী শরীফ, হা. ৪০০)
হাদীস শরীফে আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত-

“রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াও। অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বলো।” (বুখারী শরীফ, হা. ৩৯৯)
অন্য হাদীসে এসেছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন,

“রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা শরীফে প্রবেশ করে চতুর্দিকে মুখ করে দু’আ করেন। অতঃপর বের হয়ে কা’বার দিকে মুখ করে দুই রাক’আত নামায পড়লেন এবং বলেন, এটাই (কা’বা শরীফ মুসলমানের) কিবলা। (বুখারী শরীফ, হা. ৩৯৮)
উল্লিখিত আয়াত ও হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হলো, নামাযে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ফরয।
তবে এখানে উল্লেখ্য বিষয় হলো, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো দাব্বা বা বাহনজন্তুও ওপর বাহনের চলন্ত দিকে মুখ করে নামায পাড়েছেন। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আমের ইবনে রবিয়াহ (রা.) বলেন,

“আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বীয় বাহনজন্তু যেদিকে যায় সেদিকে মুখ করে নামায পড়তে দেখেছি।” (বুখারী শরীফ, হা ১০৯৩)
তৎকালীন যুগে দাব্বা বা বাহনজন্তু বলতে উট, ঘোড়া ও গাধাকে বোঝানো হতো। কিন্তু বর্তমান যুগে বাহন মাধ্যম হলো বিমান, ট্রেন, নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার, গাড়ি ইত্যাদি।
হযরত আমের (রা.)- এর উল্লিখিত হাদীসের আলোকে এখানে দুটি মাস’আলা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।
এক রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাব্বা বা বাহনজন্তুর ওপর কোনো ধরনের নামায আদায় করেছেন? ফরয নাকি নফল? দুই. বর্তমান যুগে আধুনিক যানবাহন বিমান, ট্রেন, স্টিমার, গাড়ি ইত্যাদিতে নামায আদায়ে কিবলার বিধান কী?
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাব্বা বা বাহনজন্তুর ওপর কোনো ধরনের নামায আদায় করেছেন। এতদসংক্রান্ত হাদীসগুলো একত্র করলে দেখা যায়, সেটি ছিল নফল নামায। হাদীস শরীফে এসেছে হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন,

“আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আনমার যুদ্ধে স্বীয় বাহনজন্তুও ওপর পূর্ব দিকে মুখ করে নফল নামায আদায়ের করতে দেখেছি।” (বখারী শরীফ, হা. ৪১৪০, মুসলিম শরীফ, হা. ৫৪০) অন্য হাদীসে এসেছে,

“রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-আরোহী অবস্থায় কিবলা ব্যতীত অন্যদিকেও মুখ করে নফল নামায আদায় করতেন।” (বুখারী শরীফ, হা. ১০৯৪)
ইমান বুখারী (রহ.) ২৫৬ হি. হাদীসটি

“দাব্বার ওপর নফল নামায অধ্যায়” শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন।
অন্য হাদীসে এসেছে সাহাবী জাবের (রা.) বলেন,

“রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক প্রয়োজনে পাঠালেন। অতঃপর আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে স্বীয় বাহনজন্তুর ওপর পূর্ব দিকে মুখ করে নামায অবস্থায় পেলাম ।” (তিরমিযী শরীফ, হা. ৩৫১)
ইমাম তিরমিযী (রহ.) ২৭৯ হি. হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন,

“সমস্ত আলেম দাব্বা বা বাহনের ওপর নামায আদায় করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আমার জানা মতে, বাহনজন্তুর ওপর কিবলামুখী হয়ে বা অন্যমুখী হয়ে কোনো ব্যক্তির নফল নামায পড়ার বৈধতার ব্যাপারে তাদের মাঝে কোনো মতানৈক্য নেই।” (তিরমিযী শরীফ ১/৮১)
এসব হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো সময় দাব্বার ওপর কিবলামুখী না হয়ে নফল নামায আদায় করেছেন। ফরয নামায দাব্বা থেকে নেমে কিবলামুখী হয়ে আদায় করতেন।
হাদীস শরীফে এসেছে হযরত জাবের (রা.) বলেন,

“রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনজন্তুর চলন্ত দিকে মুখ করে নফল নামায পড়তেন। আর যখন ফরয নামায আদায়ের ইচ্ছা করতেন তখন দাব্বা থেকে নেমে কিবলামুখী হয়ে আদায় করতেন।” (বুখারী শরীফ. হা.১৫১৩)
আল্লামা আইনী (রহ.) বলেন,

“উল্লিখিত হাদীসে ফরয নামাযে সর্বসম্মতিক্রমে কিবলা ছেড়ে না দেওয়া বোঝায়। তাবে প্রচণ্ড ভয়-ভীতির ক্ষেত্রে কিছুটা অবকাশ আছে। (উমদাতুল কারী ৪/১৩৪)
অন্য হাদীসে এসেছে হযরত আমের ইবনে বরিয়াহ (র.) বলেন,

“আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বহনজন্তুর ওপর চলন্ত দিকে মুখ করে মাথা দ্বারা ইশারা করে নফল নামায পড়তে দেখেছি। কিন্তু ফরয নামাযের ক্ষেত্রে তিনি এমনটি কখনও করতেন না।” (বুখারী শরীফ, হা ১০৯৭)
উল্লিখিত হাদীসসমূহের আলোকে ফকীহগণ বলেন, বাহনজন্তুর ওপর কেবলমাত্র নফল নামাযের ক্ষেত্রে তার চলন্ত দিকে মুখ করে নামায আদায় করার অবকাশ আছে।
যেমন খুলাসাতুল ফাতওয়ায় আছে,

“আর যে ব্যক্তি নিজ শহরের বাইরে কোনো প্রয়োজনে বের হয়েছে-চাই সে মুসাফির হোক বা মুকিম যেদিকেই তার মুখ থাকুক না কেন, দাব্বার ওপর নামায পড়তে কোনো অসুবিধা নেই। সে দাব্বা থেকে নামতে সক্ষম হোক বা অক্ষম। আর এই বিধানটি কেবলমাত্র নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। (১/১৯৩) শরয়ী ওজরের কারণে বাহনজন্তুর ওপর ফরয নামায আদায় করা বৈধ আছে, খুলাসাতুল ফাতওয়ায় আছে,

“শরয়ী ওজরের কারণে বাহনজন্তুর ওপর ফরয নামায আদায় করা বৈধ। আর প্রবল বৃষ্টি, চোরের ভয়-ভীতি ও অসুস্থতা ইত্যাদি শরয়ী ওজরের অন্তর্ভুক্ত।” (১/১৯৩)
এ ক্ষেত্রেও কিবলামুখী হওয়া জরুরি। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) (১৮৯ হি.) বলেন,

“যদি কোনো মুসাফির প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাহনজন্তু থেকে নেমে নামায আদায়ের জন্য কোনো শুকনা জায়গা না পায়, তাহলে সে বাহনজন্তুর ওপর অবস্থান করে কিবলামুখী হয়ে ইশারা করে নামায পড়বে।” (খুলাসাতুল ফাতওয়া ১/১৯৩)
বর্তমান যুগে আধুনিক যানবাহন বিমান, ট্রেন, স্টিমার, গাড়ি ইত্যাদিতে নামায আদায় ও কিবলার বিধান:
এখানে প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে বর্তমান যুগে আধুনিক যানবাহন বিমান, ট্রেন, স্টিমার, গাড়ি ইত্যাদিতে নামায আদায় করা বৈধ কি না এবং এ ক্ষেত্রে কিবলার বিধান কী?
উপরোল্লিখিত আলোচনা দ্বারা বোঝা গেল, বাহনজন্তু ও জমিনের ওপর নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। অতএব আগে জানতে হবে যানবাহনের মধ্যে কোনটি দাব্বা বা বাহনজন্তুর হুকুমে আর কোনটি জমিনের হুকুমে?
আল্লামা ইউসুফ বিন্নরী ১৩৯৭ হি. (রহ.) বলেন,

“ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, সিজদা জায়েয হওয়ার জন্য জমিন শর্ত। অথবা এমন জন্তু, যা জমিনের সাথে লেগে থাকে। যার স্থিতিশীল আয়তন ও পুরুত্ব রয়েছে। (মা’আরেফুসসুনান ৩/৩৯৮)
এই দৃষ্টিকোণ থেকে আলেমগণ বলেন, যে সকল যানবাহন জমি বা জমির সাথে সম্পৃক্ত বস্তুর সাথে চলন্ত অবস্থায় লেগে থাকে জমির হুকুমে। আর যে সকল বাহন জমি বা জমির সাথে সম্পৃক্ত বস্তুর সাথে চলন্ত অবস্থায় লেগে থাকে না তা দাব্বা বা বাহনজন্তুর হুকুমে । অতঃপর বিমান যেহেতু উড্ডীন অবস্থায় জমির সাথে লেগে থাকে না তাই দাব্বা বা বাহনজন্তুর হুকুমে। সুতরাং বিমানে নামায আদায়ের বিধান বাহনজন্তুর ওপর নামায আদায়ের বিধানের মতো। মা’আরেফুস সুনানে আছে, “আর বিমান আকাশে উড্ডীন অথবা মহাশূন্যে অবস্থানকালে কিবলামুখী হয়ে রুকু- সিজদা সহকারে দাঁড়াতে সক্ষম হলে দাঁড়ায়ে নামায আদায় করতে হবে। যদি বিমান জমিতে অবতরণের পূর্বে নামাযের সময় শেষ হওয়ার আশষ্কা থাকা। অন্যথায় অবতরণ পর্যন্ত নামাযকে বিলম্ব করতে হবে।” (মা’আরেফুস সুনান: ৩/৩৯৪)
ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমার, গাড়ি ইত্যাদিতে নামায আদায় ও কিবলার বিধান:
ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমার, গাড়ি ইত্যাদি যানবাহন জমির হুকুমে। কারণ এগুলো জমি বা জমির সাথে সস্পৃক্ত বস্তুর সাথে চলন্ত অবস্থায় সর্বদা লেগে থাকে। তাই এই সকল যানবাহনে নামায আদায়ের বিধান জমিতে নামায আদায়ের বিধানের মতো। আর জমিতে নামায আদয়ের জন্য কিবলা ফরয, যা প্রবন্ধের শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে।
খুলাসাতুল ফাতওয়ায় আছে,

“যে ব্যক্তি নৌকায় নফল বা ফরয নামায আদায় করতে চায়, তার জন্য কিবলামুখী হওয়া জরুরি। কিবলা ব্যতীত অন্যদিকে মুখ করে নামায আদায় বৈধ হবে না ।” (খুলাসাতুল ফাতওয়া : ১/৬৯)
মা’আরেফুস সুনানে আছে,

“চলন্ত ট্রেনে নামায আদায় করা চলন্ত নৌকায় নামায আদায়ের মতো। আর “হিদায়া” গ্রন্থকারের মতে নয়। সুতরাং (চলন্ত ট্রেনে) কিবলামুখী হয়ে রুকু, সিজদাসহ দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে হবে।”

“আর চলন্ত বাস, গাড়ি সর্বক্ষেত্রে চলন্ত ট্রেনের হুকুমে, অর্থাৎ চলন্ত ট্রেনে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে কিবলামুখী হওয়া জরুরি।” (মা’আরেফুস সুনান : ৩/৩৯৪)
মোটকথা : বাস, ট্রেন, নৌযান, বিমান ইত্যাদিতে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে কিবলামুখী হওয়া ফরয। কিবলামুখী হওয়া ছাড়া নামায আদায় করলে নামায হবে না।
প্রবন্ধের প্রারম্বে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ভাবে মুসলমানদের ঈমান ও ইবাদত নষ্ট করার একটা গভীর যড়যন্ত্র আরম্ভ হয়েছে। ট্রেন, গাড়ি ইত্যাদিতে বিভিন্ন জেনারেল শিক্ষিতদের কিবলা ইত্যাদি নিয়ে এরূপ উল্টোপাল্টা ফাতওয়া প্রদান ও ইসলামের বিভিন্ন অপব্যাখ্যা করে মুসলমানদের গোমরাহ করা চরম অজ্ঞতা বা উক্ত ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন ছাড়া কিছু নয়। তাই ধর্মীয় বিষয়ে আমাদের কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন॥