প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৮-৩৯ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
শরীয়তের বেশ কিছু বিধিবিধান মাপজোখের সাথে সম্পৃক্ত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎকালীন আরবে প্রচলিত ওজন ও পরিমাপের ভিত্তিতে যার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে
সা’, মুদ, উকিয়া, দিরহাম, দিনার, মিসকাল ইত্যাদি।
কোনো জিনিস ওজন করার পরিমাপক বাটখারা বা পাত্র বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন ধরনের দেখতে পাওয়া যায়। ভারতবর্ষে তোলা, ছাঁক, সের, রত্তি, আনা ইত্যাদি পরিমাপ বহু পূর্ব থেকে প্রচলিত রয়েছে। পরবর্তীতে এর সাথে যোগ হয়েছে গ্রাম ও কিলোগ্রামের ওজন । আমাদের দেশে বর্তমানে বস্তুভেদে উভয় ধরনের পরিমাপ ও পরিমাপের প্রচলন রয়েছে। যাকাত, ফিতরা বা মহরানার মতো ওজনের সাথে সম্প্রক্ত বিধান পালনের সময় হলে শরয়ী পরিমাপ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়ায় প্রচলিত ওজনের সাথে সমন্বয়করণ। বিভিন্ন মহল থেকে প্রকাশিত শরয়ী ওজনের হিসাবসমূহ একত্রিত করে মেলানো হলে তাতে কিছটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। তাই বিশুদ্ধ পরিমাপের নির্ভরযোগ্য মত কোনটি, তা জানা থাকা সকলের জন্য বিশেষ করে একজন তালিবুল ইলমের জন্য একান্ত জরুরি।
মূল সূত্র :
শরয়ী ওজনসমহকে দেশীয় ওজনে রূপান্তর করে হিসাবে করার জন্য মৌলিকভাবে যে সকল মূলনীতির সাহায্য নেওয়া হয় তা উপমহাদেশের প্রায় সকল উলামায়ে কেরামের নিকট স্বীকৃত। এমনকি আরব-আজমের সকল ফকীহগণও এ ব্যাপারে একমত। প্রসিদ্ধ ফিকাহ গ্রন্থ মাজমাউল আনহুর, আদ্দুররুল মুখতার, শামী, আলমগীরী, আল বাহরুর রায়েক, শরহে বেকায়া, জামেউর রুমুজ এবং কিতাবুল আমওয়াল ইত্যাদিতে এর সুস্পষ্ট বিবরণ বিদ্যামান। যেমন-
এক কিরাত = পাঁচ যব।
এক দিরহাম = সত্তর যব।
এক দিনার/মিসকাল = একশত যব।
এক যব = তিন চাল।
এক চাউল = দুই শর্ষে দানা।
এক সা’ (বাগদাদী) =আট রিতিল।
এক রিতিল= ১২৮৪৭ দিরহাম অথবা ৯০ দিনার।
এক সা’ (দিরহাম হিসেবে) = ১০২৮.৫৭ দিরহাম।
এক সা’ (দিনার/মিসকাল হিসেবে) =সাত শত বিশ দিনার/মিসকাল।
এ-সংক্রান্ত কয়েকটি গ্রহণযোগ্য ফিকাহর কিতাবের উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো-
দূররে মুখতার গ্রন্থে বলা হয়েছে, দিনার বিশ কিরাতে হয়। আর কিরাত হয় পাঁচ যবে। সুতরাং শরয়ী দিরহাম হবে সত্তর যাবে এবং মিসকাল/দিনার হবে একশত যবে। যবগুলো কেমন হবে এর ব্যাখ্যায় আল্লামা শামী (রহ.) বলেন, যব মাঝারি সাইজের খোাসাসহ এবং এর উভয় দিকের লেজের মতো অংশটি কর্তৃত হবে। (দূররে মুখতার, বাহুরুর রায়েক, শরহে বেকায়ম মাজমাউর রুমুয)
৭০/১০০ যাবের ওজন :
মূলত দিরহাম এবং দিনার/মিসকালের ওজনের ভিত্তিতেই যাকাত-ফিতরা ইত্যাদির হুকুম নির্ণয় করা হয়। এক সা’ অথবা অর্ধ সা’-এর হিসাবও এই দিরহাম ও দিনারনির্ভর। তাই দিরহাম ও দিনারের সঠিক ওজন প্রচলিত মাপে বের করতে পারলে যাকাত-ফিতরার পরিমাপ নির্ধারণ সহজ হয়। আমরা পূর্বে জানতে পেরেছি যে নির্ভরযোগ্য মতে এ দিরহাম = সত্তর যব আর এক দিনার = একশত যবের ওজন জানতে পারলেই দিরহাম ও দিনারের ওজন জানা যাবে।
এ ক্ষেত্রে উপমহাদেশের শীর্ষ আলেম হযরত মাওলানা মুফতী শফী সাহেব (রহ.)-এর গবেষণা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। তার গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকলে ফাতওয়া প্রদান করে থাকে। যবের ওজন ঠিক করতে গিয়ে তিনি ফুকাহায়ে কেরামের শর্তানুযায়ী মাঝারি ধরনের লেজ কাটা ৭০ টি এবং ১০০টি যব খোসাসহ মেপে দেখেছেন। এই মাপজোখ করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। সব ধরণের সতর্কতা অবলম্বনপূর্বক তিনি এই গবেষণা চালিয়েছেন। বিভিন্ন স্বর্ণকারের দারস্থ হয়ে বারবার ওজন করেছেন। মাশা, তোলা এবং আনা হিসাবে ওজন করেছেন। আবার স্বর্ণকারদের কাছে প্রচলিত রত্তি দিয়ে তুলনা করে দেখার জন্য মাঝারি সাইজের লাল কুঁচের দানা দিয়ে মেপে দেখেছেন। সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করে তিনি এ বিষয়ে একটি সিদ্বান্তে পৌঁছেন । পরবর্তীতে যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাঁর এই গবেষণা অনুযায়ী এক দিরহাম তথা সত্তর যবের প্রচলিত ওজন দাঁড়ায় তিন মাশা এক রত্তি/২৫ রত্তি। আর এক দিনার /মিসকাল তথা একশত যবের ওজন দাঁড়ায় সাড়ে চার মাশা/ ৩৬ রত্তি তাঁর এ গবেষণা ইতিপূর্বে ভারতবর্ষের বড় বড় উলামা কর্তৃক পরিচালিত গবেষণার সাথে হুবহু মিলে যায়। শুধুমাত্র দিরহামের বেলায় এক রত্তির এক-পঞ্চশাংশ কম দেখা দেয়, যা অতীতের সকল তাহকীক অনুযায়ী ২৫.২ রত্তি হয়। সার কথা হচ্ছে, হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞ আলেম-উলামা কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে,
সত্তর যব = ২৫.২ রত্তি
একশত যব = ৩৬ রত্তি।
তোলা মাশা রত্তি
ভরি আনা রত্তি :
জেনে রাখা ভালো ৯৬ রত্তিতে এক তোলা বা এক ভরি হয়ে থাকে।
১ তোলা =১২ মাশা
১ মাশা = ৮ রত্তি
১ রত্তি= ৮ চাউল/২.৮ যব
১ চাউল= ২শর্ষে দানা
আবার:
১ভরি =১৬ আনা
১আনা = ৬ রত্তি
১ রত্তি =৮ চাউল/২.৮ যব
১ চাউল = ২ শর্ষে দানা
ইংরেজি পরিমাপে :
১ তোলা = ১১ গ্রাম ৬৬৪ মিঃ গ্রাঃ
১ মাশা = ৯৭২ মিঃ গ্রাঃ
১ আনা = ৭২৯ মিঃ গ্রাঃ
১ রত্তি = ১২১.৫০ মিঃ গ্রাঃ
১ চাউল =১৫.১৮ মিঃ গ্রাঃ
১ যব =৪৩ মিঃ গ্রাঃ ৭৪ মেঃ মিঃ গ্রাঃ
দিরহাম :
হযরত মাওলানা মুফতী শফী (রহ.) দিরহামের পরিমাপ নিয়ে যে দীর্ঘ আলোচনা পেশ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো এক দিরহাম =৭০ যব। হাতে-কলমে ওজন করে তিনি দেখেছেন ৭০ যব = ৩ মাশা ১.২ রত্তি। ইংরেজি হিসেবে ১ মাশা = ৯৭২ মিঃ গ্রাঃ ৩ মাশা = ২৯১৬ মিঃ গ্রাঃ আর ১.২ রত্তি =১৪৫.৮ মিঃ গ্রাঃ + ২৯১৬ মিঃ গ্রাঃ = ৩০৬১.৮ মিঃ গ্রাঃ তথা ৩ গ্রাম ৬১ মিঃ গ্রাঃ ৮ মেঃ মিঃ গ্রাঃ।
সেরের হিসাবে এক দিরহাম = ৩ মাশা ১.২ রত্তি বা ২৫.২ রত্তি।
কেজির হিসাবে ৩ গ্রাম ৬১ মিঃ গ্রাঃ ৬ মেঃ মিঃ গ্রাঃ
দিনার/মিসকাল :
অনুরূপ হযরতের তাহকীক অনুযায়ী এক দিনার = ১০০ যব যার প্রচলিত ওজন ৪ মাশা ৪ রত্তি। এক মাশা =৯৭২ মিঃ গ্রাঃ ৪ মাশা= ৩৮৮৮ মিঃ গ্রাঃ + অর্থ মাশা + ৪৮৬ মিঃ গ্রাঃ ৪৩৭৪ মিঃ গ্রাঃ।
সেরের হিসেবে ১ দিনার = দিনার + ৪ মাশা ৪ রত্তি কেজির হিসাবে ৪গ্রাম ৩৭৪ মিঃগ্রাঃ।
বিঃ দ্রঃ দিরহাম ও দিনারের উল্লিখিত ওজনের ভিত্তিতে শরীয়তের সকল ওজনের হিসাব করা হবে।
এক সা’ :
দিরহামের ওজনে:
এক সা’ = ৮ রিতিল। নির্ভরযোগ্য মতানুসারে ১ রিতিল =১২৮ ৪৭ দিরহাম। অতএব ৮ রিতিলে হবে ১২৮ ৪৭ ৮ = ১০২৮.৫৭ দিরহাম । এক দিরহাম = ৩ গ্রাম ৬১ মিঃ গ্রাঃ ৮ মেঃ মিঃ গ্রাঃ ১০২৮.৫৭ = ৩.১৪৯.২৮০ তথা কেজি ১৪৯ গ্রাম, ২৮০ মিঃ গ্রাঃ।
দিনার বা মিসকালের হিসাবে :
এক সা’ +ঘ ৮ রিতিল। ১ রিতিল = ৯০ মিসকাল ৮ = ৭২০ = ৩.১৪৯.২৮০ তথ্য ৩ কেজি ১৪৯ গ্রাম ২৮০ মিঃ গ্রাঃ।
আবার ১ মিসকাল = সাড়ে চার মাশা ৭২০ মিসকাল = ৩২৪০ মাশা ১২ মাশা (১ তোলা) = ২৭০ তোলা।
এক সা’ = ৩ সের ৬ ছটাক = ৩ কেজি ১৪৯ গ্রাম ৩ ছাটক = ১.৫ সেব ৩ ছটাক = ১.৫ কেজি ৭৪ গ্রাম ৬৪০ মিঃ গ্রাঃ
বিঃ দ্রঃ ১ সের = ৮০ তোলা, ১ ছটাক =৫ তোলা এবং ১ তোলা =১২ মাশা।
স্বর্ণের যাকাত :
স্বর্ণের যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে শরীয়তে যে নিসাব ধার্য করা হয়েছে তা হচ্ছে ২০ মিসকাল। সেরের হিসাবে ১ মিসকাল = ৪.৫ মাশা ২০ = ৯০ মাশা ১২ (১ তোলা) = ৭.৫ তোলা। কেজির হিসাবে ১ মিসকাল = ৪.৩৭৪ গ্রাম ২০ = ৮৭.৪৮০ (সাতাশি গ্রাম চার শত আশি মিঃ গ্রাঃ)
বিশ মিসকাল/ দিনার = ৭.৫ তোল/ভরি = ৮৭.৪৮০ গ্রাম স্বর্ণ
রুপার যাকাত :
রুপার শরীয়ত কর্তৃক ধার্য নিসাব হচ্ছে দুই শত দিরহাম। ১ দিরহাম = ৩ মাশ ১.২ রত্তি তথা ২৫.৩ রত্তি ২০০ =৫০৪০ রত্তি ৯৬ রত্তি (১ তোল) =৫২. ৫ তোলা। আবার ১ দিরহাম =৩.০৬১ গ্রাম ২০০ = ৬১২.৩৬০ (ছয়শত বারো গ্রাম তিনশত ষাট মিঃ গ্রাঃ)
২০০ দিরহাম = ৫২.২ তোলা/ভরি = ৬১২.৩৬০ গ্রাম রুপা।
ফিতরার নিসাব :
আমাদের দেশের বাজারে ফিতরার সর্বনি¤œ নিসাব গমের হিসেবে অর্থ সা’ গম বা আটা। এক সা’ = ৩ সের ৬ ছটাক ২ = ১.৫ সের ৩ ছটাক। আবার এক সা’ গম = ৩ কেজি ১৪৯ গ্রাম ২৮০ মিঃ গ্রাঃ ২ =১.৫ কেজি ৭৪ গ্রাম ৬৪০ মিঃ গ্রাঃ।
অর্ধ সা’ গম = ১.৫ সের ৩ ছটাক = ১.৫ কেজি ৭৪ গ্রাম ৬৪০ মিঃ গ্রাঃ
নামায /রোযার ফিদিয়া :
মৃত ব্যক্তির ছুটে যাওয়া নামাযের ফিদিয়া হচ্ছে বিতিরসহ প্রতি ওয়াক্ত নামাযের জন্য এক ফিতরা পরিমাণ সদকা করা। অনুরূপ রোযার বেলায়ও প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক ফিতরা পরিমাণ সদকা করা। ফিতরার পরিমাণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিদিয়া :
অর্ধ সা’গম = ১.৫ সের ৩ ছটাক = ১.৫ কেজি ৭৪ গ্রাম ৬৪০ মিঃ গ্রাঃ
কসমের কাফ্্ফারা :
কোনো ব্যক্তি যদি শরয়ী পদ্ধতিতে কসম করে তা ভেঙে ফেলে তবে তার জন্য রয়েছে কাফ্্ফারার বিধান। কাফ্্ফারা আদায়ের একটি পদ্ধতি হচ্ছে দশ জন মিসকিনের জন্য প্রতি এক ফিতরা পরিমাণ দান করা। গমের হিসেবে ধরা হলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫৭৪.৬৪০ গ্রাম ১০ = ১৫.৭৪৬.৪০০(পনের কেজি সাত শত ছেচল্লিশ গ্রাম চার শত মিঃ গ্রাঃ)অথবা ১.৫ সের ৩ ছাটাক ১০ = ১৬ সের ১৪ ছটাক। সকল প্রকার কসমের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য।
কসমের কাফ্্ফারা :
অর্ধ সা’ গম ১০ = ১৬ সের ১৪ ছটাক = ১৫ কেজি ৭৪৬ গ্রাঃ ৪০০ মিঃ গ্রাঃ
সর্বনি¤œ মহরানা :
হানাফি মাযহাব মতে, মহরের সর্বনি¤œ পরিমাণ হচ্ছে দশ দিরহাম। ১ দিরহাম = ২৫.২ রত্তি ১০ = ২৫২ রত্তি ৯৬ রত্তি (১ তোলা) = ২.৬২৫ (২ তোলা ৬০ রত্তি) প্রায় তিন ভরি। আবার ১ দিরহাম = ৩.০৬১৮ গ্রাম ১০ = ৩০.৬১৮গ্রাম। মাশার হিসেবে দাঁড়ায় ৩১.৫ মাশা।
সর্বনি¤œ মহর :
১০ দিরহাম = ২. ৬২৫ তোলা/ভারি = ৩০.৬১৮ গ্রাম রুপা।
মহরে ফাতেমী :
অধিকাংশ হাদীসের বিবরণ মতে, মহরে ফাতেমীর পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ শত দিরহাম। ১ দিরহাম = ২৫.২ রত্তি ৫০০ = ১২, ৬০০ রত্তি ৯৬ রত্তি (এক তোলা) =১৩১.২৫ তোলা/ ভরি রুপা। তবে সতর্কতামূলক ১৫০ তোলা রুপাআদায়ের কথা বলা হয়ে থাকে। অন্য হিসাবে ১ দিরহাম = ৩. ০৬১৮ গ্রাম ৫০০ = ১৫৩০.৯ গ্রাম দেড় কেজি ত্রিশ গ্রাম নয় শত মিঃ গ্রাঃ রুপা।)
৫০০ দিরহাম = ১৩১.২৫ তোলা/ভরি =১.৫ কেজি ৩০ গ্রাম ৯০০ মিঃ গ্রাঃ। সতর্কতামূলক ১৫০ তোলা রুপা।
রুপার আংটি :
এক ব্যক্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাজির হলো। তার আঙুলে পিতলের আংটি ছিল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কী ব্যাপার! তোমার কাছ থেকে মূর্তির দুর্গন্ধ পাচ্ছি। লোকটি তার আংটি ছুড়ে ফেলে দিল। পরবর্তীতে সে লোহার আংটি পরে এল। এবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কী হলো তোমার কাছে জাহান্নামীদের অলংকার দেখতে পাচ্ছি। সে আংটিটি ছুড়ে ফেলে দিল। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল ! আমি কোন ধাতু দিয়ে আংটি বানাব? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রুপা দিয়ে বানাও তবে তা যেন পূর্ণ এক মিসকাল না হয়। (আবু দাউদ) পুরুষদের জন্য এক মিসকালের কম রুপার আংটি ব্যবহার করার অনুমতি আছে। ১ মিসকাল/ দিনার = ১০০ যব = ৩৬ রত্তি।
অনুর্ধ্ব ১ মিসকাল = ৩৬ রত্তি = ৪.৫ মাশা = ৪.৩৭৪ গ্রাম।
সফরের দূরত্ব :
শরীয়তের দৃষ্টিতে মুসাফিরের বিধিবিধান আরোপের জন্য যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রমের নিয়্যাতে সফর করা শর্ত তা হচ্ছে তিন ‘মারহালা’।
১। এক মারহালা = ১৬ মাইল (ইংরেজি)। ১৬৩=৪৮ মাইল (ইংরেজি)
১ মাইল= ১ কি.মি. ৪৮ মাইল= ৭৭ কি.মি. ২৪৮মি. ৫১ সে.মি. ২ মি. মি.।
বড় মসজিদ :
শরীয়তে ‘বড় মসজিদ’ সংক্রান্ত কিছু বিধিবিধান রয়েছে। যেমন কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা ইত্যাদি। বড় মসজিদের পরিমাণ হচ্ছে ৪০৪০ = ১৬০০ বর্গ হাত।
এক হাত = ১৮ ইঞ্চি ৪০-৭২ ইঞ্চি ১২ইঞ্চি= ৬০ ফুট ৬০ ফুট = ৩৬০০ বর্গফুট।
বড় মসজিদ =
১৬০০ বর্গহাত=৩৬০০ বর্গফুট ।
বড় হাউজ :
শরীয়ত কর্তৃক প্রণীত পবিত্রতার বিভিন্ন মাসআলা বড় হাউজের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন কম পানি বেশি পানির মাসাআলা। শরীয়তের দৃষ্টিতে বড় হাউজের পরিমাপ হচ্ছে –
১০ ১০ =১০০ বর্গহাত।
১হাত = ১৮ ইঞ্চি ১০ =১৮০ ইঞ্চি ১২ ইঞ্চি=১৫ ফুট। ১৫১৫ = ২২৫ বর্গফুট।
বড় হাউজ =
১০০ বর্গহাত = ২২৫ বর্গফুট।
পাগড়ীর পরিমান :
পাগড়ীর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সম্পর্কে শরীয়তের কিছু দিকনিদের্শনা রয়েছে। দৈর্ঘ্যরে ব্যাপারে চারটি মত পাওয়া যায়।
৩ হাত = ৫৪ ইঞ্চি = ১.৫ গজ
৬ হাত = ১০৮ ইঞ্চি = ৩ গজ
৭ হাত = ১২৬ ইঞ্চি = ৩.৫ গজ
১২ হাত = ২১৬ ইঞ্চি = ৬ গজ
প্রস্থ : ১ হাত = ১৮ ইঞ্চি = ০.৫ গজ
