প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭, জমা.আউ-জমা.সানি ১৪৩৮ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
বিপদ, রোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়কঃ
বিপদে পড়ে নিজের মৃত্যু কামনা করা নিষেধ
আনাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমাদের কেউ যেন কোন কঠিন বিপদে পড়ে নিজের মৃত্যু কামনা না করে। যদি অগত্যা মৃত্যু কামনা করতেই হয় তা হলে সে যেন এভাবে বলেঃ হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন যতদিন পর্যন্ত আমার বেঁচে থাকাটা আমার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। অন্যথা আমাকে মৃত্যু দিন যদি আমার মৃত্যু বরণ করাটা আমার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। (বুখারী, হাদীস ৬৩৫১ মুসলিম, হাদীস ২৬৮০)
যে কোন কারণে নিজের মৃত্যু কামনা করা এ জন্যই নিষিদ্ধ যে, কারণ বেঁচে থাকলেই তো যে কেউ নিজের নেক আমল বাড়িয়ে নিতে পারবে অথবা নিজ কৃতকর্ম থেকে তাওবা করে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।
আবু ‘উবাউদ্ সা’দ বিন্ ‘উবাইদ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমাদের কেউ যেন কখনো নিজের মৃত্যু কামনা না করে। যদি সে নেককার হয়ে থাকে তা হলে সে নেক কাজে আরো অগ্রসর হবে। আর যদি সে বদ্কার হয়ে থাকে তা হলে সে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট নিজ কৃতকর্ম থেকে ক্ষমা চেয়ে নিবে। (বুখারী, হাদীস ৭২৩৫)
বিপদে পড়ে মানত করা নিষেধ
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা বিপদে পড়ে কোন কিছু মানত করো না। কারণ, মানত কারোর তাক্বদীর তথা ভাগ্যলিপি পরিবর্তন করতে পারে না। তবে সত্যি কথা হলো, একমাত্র মানতের মাধ্যমেই কৃপণের পকেট থেকে আল্লাহ্ তা‘আলার জন্য কিছু না কিছু বের হয়। (মুসলিম, হাদীস ১৬৪০ তিরমিযী, হাদীস ১৫৩৮)
মহামারী এলাকার থেকে বের হওয়া এবং সেখানে প্রবেশ করা নিষেধ
উসামাহ্ বিন্ যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : যখন তোমরা কোন এলাকায় মহামারীর কথা শুনবে তখন সেখানে আর প্রবেশ করবে না। আর যদি তোমরা নিজেই মহামারীর এলাকায় অবস্থান করে থাকো তা হলে সেখান থেকে আর বের হবে না। (বুখারী, হাদীস ৫৭২৮ মুসলিম, হাদীস ২২১৮)
মহামারীর এলাকায় ধৈর্য ও সাওয়াবের আশায় অবস্থান করলে একজন শহীদের সাওয়াব পাওয়া যায়। ‘আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন : মহামারী হচ্ছে এক ধরনের আযাব যা আল্লাহ্ তা‘আলা যার নিকট চান পাঠিয়ে থাকেন। আর তা মু‘মিনদের জন্য হবে রহ্মত স্বরূপ। কোন এলাকায় মহামারী দেখা দিলে কেউ যদি সেখানে ধৈর্য ধরে সাওয়াবের আশায় অবস্থান করে এ কথাটুকু মনে করে যে, যা আল্লাহ্ তা‘আলা তার ভাগ্যে লিখে রেখেছেন তাই ঘটবে তা হলে সে একজন শহীদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। (বুখারী, হাদীস ৩৪৭৪, ৫৭৩৪, ৬৬১৯)
বিষাক্ত, নাপাক, হারাম কিংবা ঘৃণ্য কোন বস্তুকে ওষুধ হিসেবে সেবন করা নিষেধ
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক ও ঘৃণ্য তথা বিষাক্ত ওষুধ সেবন করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৭০ ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৫২৩)
ও‘য়াইল বিন্ ‘হুজ্ব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা ত্বারিক বিন্ সুওয়াইদ (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে তা সেবন করতে নিষেধ করেন। এরপর আবারো তিনি এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে আবারো তা সেবন করতে নিষেধ করেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ্‘র নবী! এটা তো ওষুধ। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন ঃ না তা ওষুধ নয়। বরং তা রোগই বটে। (আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৭৩) উম্মু সালামাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : আল্লাহ্ তা‘আলা হারাম বস্তুর মধ্যে তোমাদের জন্য কোন চিকিৎসা রাখেননি। (বাইহাক্বী, হাদীস ১৯৪৬৩ ইবনু হিব্বান খন্ড ৪ হাদীস ১৩৯১)
কুলফন, লোহা পুড়িয়ে দাগ দেয়া নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : আমার উম্মাতের সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যারা অন্যকে ঝাড়ফুঁক করতে বলবে না, কোন বিশেষ কিছু দেখে উহাকে কুলক্ষণ ভাববে না। উপরন্তু তারা নিজ প্রভুর উপর সর্বদা ভরসা করবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য লোহা পুড়িয়ে নিজ শরীরের কোন জায়গায় দাগ দিবে না। (বুখারী, হাদীস ৬৪৭২, ৬৫৪১ মুসলিম, হাদীস ২১৮, ২২০)
ঔষধের জন্য ব্যাঙ হত্যা করা নিষেধ
আব্দুর রহমান বিন্ ‘উস্মান তাইমী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঔষধের ব্যাঙ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। (স‘হীহুল-জামি, হাদীস ৬৯৭১)
কোন কুষ্ঠ রোগীর প্রতি গভীর দৃষ্টিতে তাকানো নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা কুষ্ঠ রোগীদের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করো না। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৩৬০৯)
কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে কোন কিছু খাওয়া-দাওয়ায় বাধ্য করা :
‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আ-মির জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের রুগ্নদেরকে কোন কিছু খাওয়া-দাওয়ায় বাধ্য করো না। কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলা নিশ্চয়ই তাদেরকে নিজেই খাওয়া-দাওয়া দিয়ে থাকেন। (তিরমিযী, হাদীস ২০৪০ ইব্নু মাজাহ, হাদীস ৩৫০৭)
বাচ্চাদের আলজিহ্বায় আঘাত করে তাদের গলা ব্যথার চিকিৎসা করাঃ
আনাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা নিজেদের বাচ্চাদের আলজিহ্বায় আঘাত করে তাদের গলা ব্যথার চিকিৎসা করো না। তবে তোমরা এ ব্যাপারে চন্দন কাঠই ব্যবহার করবে। (বুখারী, হাদীস ৫৬৯৬ মুসলিম, হাদীস ১৫৭৭)
যে কোন অনিষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য কোন পশুর গলায় তার কিংবা সুতা ঝুলানোঃ
আবু বশীর আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একদা কোন এক সফরে ছিলাম। হঠাৎ কোন এক রাত্রি বেলায় যখন সবাই ঘুমাতে যাচ্ছিলো এমতাবস্থায় তিনি জনৈক প্রতিনিধি পাঠিয়ে সবার মাঝে ঘোষণা দিলেন: কোন উটের গলায় যেন তার, সুতা কিংবা অন্য কিছু ঝুলিয়ে না রাখা হয়। কোন কিছু ঝুলানো থাকলে তা অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে। (বুখারী, হাদীস ৩০০৫ মুসলিম, হাদীস ২১১৫ আবু দাউদ, হাদীস ২৫৫২)
কোন রুগ্ন ব্যক্তির অন্য কোন সুস্থ ব্যক্তির নিকট বিনা প্রয়োজনে গমন করাঃ
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে (বিনা প্রয়োজনে) কোন সুস্থ ব্যক্তির নিকট নিয়ে যেও না। (বুখারী, হাদীস ৫৭৭১, ৫৭৭৪ মুসলিম, হাদীস ২২২১)
এ কথা নিশ্চিত যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে সংক্রামক রোগ বলতে কিছুই নেই। তবে কোন ব্যক্তির ঈমান নিতান্ত দুর্বল হওয়ার দরুন তার নিকট কোন অসুস্থ ব্যক্তি আসার পর সে যে কোনভাবেই অসুস্থ হয়ে পড়লে সে এ কথা স্বভাবতই মনে করতে পারে যে, উক্ত অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখার দরুনই সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে; অথচ তার অসুস্থতা একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার ইচ্ছায়ই হয়েছে। উক্ত অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখার দরুন নয়। তাই উক্ত ভুল চেতনা থেকে যে কোন দুর্বল মু‘মিন-মুসলমানকে রক্ষা করার জন্য
কোন রুগ্ন ব্যক্তি যেন কোন সুস্থ ব্যক্তির নিকট বিনা প্রয়োজনে না যায়ঃ
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছুই নেই। কুলক্ষণ বলতেই তা একান্ত অমূলক। হুতোম পেঁচা, সফর মাস, রাশি-নক্ষত্র অথবা পথ ভুলানো ভূত কারোর কোন ক্ষতি করতে পারে না। তখন এক গ্রাম্য ব্যক্তি বললো: হে আল্লাহ্‘র রাসূল! কখনো এমন হয় যে, মরুভূমির মধ্যে শায়িত কিছু উট। দেখতে যেমন হরিণ। অতঃপর দেখা যাচ্ছে, চর্ম রোগী একটি উট এসে এগুলোর সাথে মিশে গেলো। তাতে করে সবগুলো উট চর্ম রোগী হয়ে গেলো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: বলো তো: প্রথমটির চর্ম রোগ কোথা থেকে এসেছে? (বুখারী, হাদীস ৫৭০৭, ৫৭১৭, ৫৭৭০, ৫৭৭৩ মুসলিম, হাদীস ২২২০, ২২২২ আবু দাউদ, হাদীস ৩৯১১, ৩৯১২, ৩৯১৩, ৩৯১৩ ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৩৬০৫, ৩৬০৬ আহ্মাদ : ২/২৬৭, ৩৯৭ আব্দুর রায্যাক : ১০/৪০৪ ত্বাহাওয়ী/মুশকিলুল্ আসা-র হাদীস ২৮৯১)
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগুনে পোড়ানো কোন লোহা দিয়ে শরীরের যে কোন জায়গায় দাগ দেয়াঃ
আব্দুরাহ্ বিন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তিন জিনিসে চিকিৎসা রয়েছে: মধু পানে, শিঙা লাগানোয় তথা শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করায় এবং আগুনে পোড়ানো লোহা দিয়ে শরীরের কোন জায়গায় দাগ দেয়ায়। তবে আমি আমার উম্মতকে আগুনে পোড়ানো লোহা দিয়ে শরীরের কোন জায়গায় দাগ দিতে নিষেধ করছি। (বুখারী, হাদীস ৫৬৮০, ৫৬৮১)
‘ইমরান বিন্ ‘হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনে পোড়ানো লোহা দিয়ে শরীরের কোন জায়গায় দাগ দিতে নিষেধ করেছেন। এরপরও আমরা আগুনে পোড়ানো লোহা দিয়ে শরীরে দাগ দিয়েছি। তবে আমরা এতে কোন সফলতা পাইনি। কখনো সফলকাম হইনি। (আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৬৫)
