প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬, মুহাররম-সফর ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের সঠিক সংজ্ঞা কি-এ বিষয়ে বিশ্বে প্রচলিত বিভিন্ন ভাষায় যে সমস্ত অভিধান রয়েছে তন্মধ্যে আরবী অভিধানে মানুষের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে জীবজগতে প্রকৃতিগত ভাবে যার মধ্যে উনসিয়্যাত বা মায়া-মমত্ববোধ বিদ্যমান তাকেই মানুষ বলে। সৃষ্টি জগতে যত প্রকার প্রাণি আছে তাদের মধ্যে মানুষ সবার শ্রেষ্ঠ এবং মানুষের মানমর্যাদাও সবার ঊর্ধ্বে।
মানুষ মর্যাদাশীল হওয়ার ব্যাপারে তার মধ্যে যে সমস্ত গুণাবলীর প্রয়োজন তন্মধ্যে প্রীতি ও সদ্ভাবের বন্ধনে সামাজিক রীতি-নীতির আওতাধীন সমাজ বেঁধে একতা ও মিলনের মাধ্যমে বসবাস করা অপরিহার্য। মানবতার খাতিরে পশু-পক্ষী, কীট-পতঙ্গের প্রতি স্বাভাবিক দয়া বিশেষভাবে মানবসমাজে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা, অঞ্চল, ধনী, দরিদ্র, রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান সৃষ্টিতে ন্যায়নীতিভিত্তিক দয়া ও সাহায্য-সহানুভূতির মাধ্যমে যথোচিত মায়া মমতা প্রদর্শন প্রতিটি মানুষের জন্য মানবতা সুলভ দায়িত্ব ও অবশ্য কর্তব্য।
মানুষের জ্ঞান বিকাশ ও ক্রমোন্নতির যাত্রাপথে তাকে স্বীয় সামাজিক জীবনের সুখ-দুঃখ, যাতনা-ক্ষমা, ভাল-মন্দ, দোষ-গুণ, লাভ-ক্ষতি, উন্নতি-অবনতি, লজ্জা-শরম, শান্তি-অগ্রগতি, আদব-ভক্তি, সৌজন্য-শিষ্টাচার এই সমস্তের মূল্যায়ন করতঃ তদানুযায়ী গুণা-আহরণের দ্বারাই মানুষের গৌরব লাভ হয়। বস্তুতঃ এই গুণ গৌরব লাভের মূল হল মানব সমাজের মধ্যে ছোট-বড়, স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা, ছাত্র-শিক্ষক, পীর-মুরীদ, শাসক-শাসিত প্রভৃতি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে একে অন্যের যথাযোগ্য দয়া-মায়া ও আদাব-তাজীম প্রদর্শন, পারস্পরিক দাবী-দাওয়া এবং সঠিক আজাদীর মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রদানের ভিত্তিতেই মানুষের মানবতা প্রকাশ পায়। কারণ, যেখানেই আছে আজাদী ও স্বাধীনতা, সেখানেই আছে মানবতা আর যেখানেই আছে মানবতা সেখানেই রয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা। পক্ষান্তরে যেখানে দয়া-দরদ ও মানবতা নাই, স্বাধীনতা সেখানে বিপন্ন।
বস্তুতঃ সভ্য জগতে উন্নতির মূল উৎস ও চাবিকাঠি মানবতা। কেননা, মানবতাবিহীন মানুষের জীবন অসার। এ দুনিয়াতে মানব সমাজে বসবাস করার তার কোনই সার্থকতা নাই। মানবতাহীন মানুষ মানব সমাজের কলংক বলেই ইতর-পশুর তুল্য নিকৃষ্ট।
