প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৭ম সংখ্যা, জানুয়ারী ২০১৭, রবি আউঃ-রবি সানী ১৪৩৮ হিজরী, পৌষ-মাঘ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

পবিত্র কোরআন মজিদে সূরা যখরুফ ৩৬নং আয়াতে আছে

وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ

অর্থ :এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর জেকের হইতে বিরত থাকে, তাহার উপর আমি শয়তানকে প্রভাবান্বিত করিয়া দেয়। সুতরাং সে তাহার সঙ্গী হয়।

উক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রূহুল বয়ানে আছে

যে ব্যক্তি পৃথিবীর সুখ সম্পদ এবং অস্থায়ী পার্থিব লোভ-লালসায় নিমগ্ন হইয়া কুরআন শরীফ বা আল্লাহ তায়ালার স্মরণ হইতে ফিরিয়া থাকে, তাহার উপর আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে বিজয়ী করিয়া দেন।
হামেশা জেকের করিলে শয়তান জয়ী হইতে পারে না
তাফসীরে রূহুল বয়ানে ৩য় খন্ডে আরো আছে

উল্লিখিত আয়াত দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, যে ব্যক্তি সব সময় আল্লাহর স্মরণে নিযুক্ত থাকে শয়তান কখনও তাহার নিকটবর্তী হইতে পারে না। তাফসীরকারগণ বলিয়াছেন যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভুলিয়া যায় এবং মোরাকাবা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ পাক সম্পর্কে লজ্জাবোধ করেনা, আর নফসের অবৈধ কোন চাহিদা পূরণে উদ্যোগী হয়, তাহার উপর আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে জয়ী করিয়া দিবেন। শয়তান প্রত্যেক মুহূর্তে তাহাকে পাপের দিকে ধাবিত করিবে এবং জ্ঞান, বিদ্যা ও কথাবার্তার উপর তাহাকে প্রভুত্ব প্রদান করিবেন।
অতএব, উল্লিখিত ফতোয়া, প্রসিদ্ধ ফকিহগণের রেওয়ায়েত, হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাদীস এবং কুরআন মজীদের পবিত্র আয়াত বা ফরজে ইলমে তাসাউফ আবশ্যক পরিমাণ শিক্ষা করা অপরিহার্য কর্তব্য বা ফরজে আইন। আর উক্ত তাসাউফ কামেল পীরে মুর্শিদের সোহবত ও খেদমত ব্যতীত যথার্থরূপে শিক্ষা করা সম্ভব নয়। অত্র ফতোয়ায় আমরা কিতাব দৃষ্টে উহাও লিপিবদ্ধ করিয়া দিয়াছি। সুতরাং মারেফাত শিখিতে যে কামেল পীর ও মুর্শিদের খেদমত করা এবং তাঁহাদের তা’লীম তাওয়াজ্জুহ গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক, এই কথা কোন ক্রমেই অস্বীকার করা যায় না।