প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৭ম সংখ্যা, জানুয়ারী ২০১৭, রবি আউঃ-রবি সানী ১৪৩৮ হিজরী, পৌষ-মাঘ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
যখন আমি বনি ইসরাইলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন ও দরিদ্রদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে এবং মানুষের সাথে সদালাপ করবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ব্যতীত তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই তো অগ্রাহ্যকারী। (সূরা বাকারাহ, আয়াত-৮৩)
পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে কোন পুণ্য নেই কিন্তু পুণ্য আছে কেউ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, সমস্ত কিতাব ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনলে এবং আল্লাহ প্রেমে, আত্মীয়-স্বজন , পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, পর্যটক, সাহায্যপ্রার্থীগণ ও দাস-মুক্তির জন্য অর্থ-সম্পদ দান করলে, সালাত কায়েম করলে, যাকাত প্রদান করলে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূর্ণ করলে, অর্থসংকটে দুঃখক্লেশে ও সংগ্রাম সংকটে ধৈর্য ধারণ করলে। (বাকারা, আয়াত-১৭৭)
যে দানের পর কষ্ট-ক্লেশ দেওয়া হয়, তা অপেক্ষা ভাল কথা ও ক্ষমা প্রদর্শন উত্তম। আল্লাহ অভাব মুক্ত পরম সহনশীল। (বাকারাহ, আয়াত-২৬৩)
তাফসীর
৬৮। শিক্ষা ও প্রচার ক্ষেত্রে কাফেরের সাথেও অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করা বৈধ নয়
৮৩ নং আয়াতে বলে এমন কথাকে বুঝানো হয়েছে, যা সৌন্দর্যম-িত। এর অর্থ এই যে, যখন মানুষের সাথে কথা বলবে নম্রভাবে হাসিমুখে ও খোলা মনে বলবে-যার সাথে কথা বলবে, সে সৎ হোক বা অসৎ, সুন্নী হোক বা বেদআতী। তবে ধর্মের ব্যাপারে শৈথিল্য অথবা কারও মনোরঞ্জনের জন্য সত্য গোপন করবে না। কারণ, আল্লাহ তায়ালা যখন মুসা ও হারুন (আ.) কে নবুওয়ত দান করে ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছিলেন, তখন এ নির্দেশ দিয়েছিলেন অর্থাৎ তোমরা উভয়েই ফেরাউনকে নরম কথা বলবে। আজ যারা অন্যের সাথে কথা বলে, তারা হযরত মুসা (আ.) এর চাইতে উত্তম নয় এবং যার সাথে কথা বলে, সেও ফেরাউন অপেক্ষা বেশি মন্দ ও পাপিষ্ঠ নয়।
আল্লাহর রহমতে আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। (আল ইমরান, আয়াত-১৫৯)
তাফসীর
আপনি তাদের পদস্খলন ও ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং ভবিষ্যতে তাদের সাথে সদ্বব্যবহার করতে থাকুন। শব্দটি বাড়িয়ে বুঝানো হয়েছে যে, এসব গুণ-বৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণভাবে আপনার মধ্যে থাকা আমারই রহমতের ফলশ্রুতি, কারো ব্যক্তিগত পরাকাষ্ঠা নয়। তদুপরি হযরত শব্দটিকে সাধারণভাবে ব্যবহার করে রহমতের মহত্ত্ব ও ব্যাপকতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এতে কথাও স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, এ রহমত শুধু সাহাবায়ে কেরামের জন্যই নয়, বরং স্বয়ং রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্যও রয়েছে। সে কারণেই আপনাকে গুণ-বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণতা দান করা হয়েছে।
অতঃপর অপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পরবর্তী বাক্যগুলোর দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই কোমলতা, সদ্ব্যবহার, ক্ষমা প্রদর্শন এবং দয়া ও করুণা করার গুণ যদি আপনার মধ্যে না থাকত, তবে মানুষের সংশোধনের যে দায়িত্ব আপনার উপর সমর্পণ করা হয়েছে। তা যথা উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হতো না। মানুষ আপনার মাধ্যমে আত্ম-সংশোধন ও চারিত্রিক সংস্কার সাধনের উপকারিতা লাভ করার পরিবর্তে আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেতো।
এ সমস্ত বিষয়ের দ্বারা দীক্ষাদান, সংস্কারসাধন এবং ধর্ম প্রচারের রীতি-পদ্ধতি সম্পর্কে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা গেল। যে ব্যক্তি দীক্ষাদান, সমাজ-সংস্কার ও ধর্ম প্রচারের কাজে আত্ম-নিয়োগ করার সংকল্প করবে, তার পক্ষে উল্লেখিত গুণ ও বৈশিষ্ট্য নিজের মধ্যে সৃষ্টি করা অপরিহার্য। এ ব্যাপারে যখন আল্লাহ তাআলার প্রিয়তম রসূলের কঠোরতা সহ্য করা হয়নি, তখন কোন প্রকার কঠোরতা বা চারিত্রিক অনমনীয়তার মাধ্যমে মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারবে এমন সাধ্য কার হতে পারে।
সবশেষে বলা হয়েছে শাবির হুম ফিল আমরে অর্থাৎ ইতিপূর্বে যেমন কাজে-কর্মে এবং কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে তাদের সাথে পরামর্শ করতেন, তেমনিভাবে এখনও তাদের সাথে পরামর্শ করুন, যাতে তাদের মনে প্রশান্তি আসতে পারে। এতে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে যে, কল্যাণ কামনার যে অনুরাগ তাদের অন্তরে বিদ্যমান, তা তাদেরকে পরামর্শের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রকাশ করবেন।
এই সমুদয় আয়াতে সমাজ সংস্কারক ও ধর্ম প্রচারকদের জন্য কয়েকটি বিষয়কে অপরিহার্য বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
প্রথমতঃ আচার-ব্যবহার ও কথা-বার্তায় রূঢ়তা ও কর্কশতা পরিহার করা।
দ্বিতীয়তঃ সাধারণ লোকদের দ্বারা কোন ভুলভ্রান্তি হয়ে গেলে কিংবা কষ্টদায়ক কোন বিষয় সংঘটিত হলে সেজন্য প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ক্ষমা প্রদর্শন করা এবং সদয় ব্যবহার করা।
তৃতীয়তঃ তাদের পদস্খলন ও ভুলভ্রান্তির কারণে তাদের কল্যাণ কামনা থেকে বিরত না থাকা। তাদের জন্য দোআ-প্রার্থনা করতে থাকা এবং বাহ্যিক আচার-আচরণে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার পরিহার না করা। উল্লেখিত আয়াতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রথমে তো সাহাবীদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং অতঃপর আচরণ পদ্ধতি সম্পর্কে হেদায়েত দেয়া হয়েছে। পরামর্শ গ্রহণ সম্পর্কে কুরআন-কারীম দুজায়গায় সরাসরি নির্দেশ দান করেছে। একটি হলো এই আয়াতে এবং দ্বিতীয়টি হলো সূরা-শূরার সে আয়াতে যাতে সত্যিকার মুসলমানদের গুণবৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে একটি গুণ এই বলা হয়েছে যে, ওয়া-আমরুহম শুরা বাইনাহুম অর্থাৎ (যারা সত্যিকার মুসলমান) তাদের প্রতিটি কাজ হবে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে।
হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতি পালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন ও যিনি তা হতে তার সংগিনী সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দুইজন হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন; এবং আল্লাহকে ভয় করে যার নামে তোমরা এক অপরের নিকট যাঞ্চা কর, এবং সতর্ক থাক আত্মীয়তার-বন্ধন সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (নিসা, আয়াত-০১)
তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে ও কোন কিছুকে তার শরীক করবে না; এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশি, সংগী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক আত্ম-গরীবকে। (নিসা, আয়াত-৩৬)
তাফসীরঃ
৬৯। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক
আলোচ্য সূরার সূচনাতেই আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক কথাটি অত্যন্ত ব্যাপক। এর দ্বারা সব রকম আত্মীয়কে বোঝানো হয়েছে। কালামেপাকে আরহাম শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলতঃ একটি বহুবচনবোধক শব্দ। এর একবচন হচ্ছে রেহম। আর রেহম অর্থ জরায়ু বা গর্ভাশয়। অর্থাৎ জন্মের প্রাক্কালে মায়ের উদরে যে স্থানে সন্তান অবস্থান করে। জন্মসূত্রেই মূলতঃ মানুষ পারস্পরিক সম্পর্কের বুনিয়াদকে ইসলামী পরিভাষায় সেলায়ে-রেহমী (আত্মীয়তার সম্পর্ক) বলা হয়। আর এতে কোন রকম ব্যত্যয় সৃষ্টি হলে তাকে বলা হয় কত্বয়ে-রেহমী (রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন)।
৭০। হাদীস শরীফে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি তার রিযিকের প্রাচুর্য এবং দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশা করে, তার উচিত আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। (মিশকাত শরীফ-৪১৯ পৃষ্ঠা)
এ হাদীসে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রাখার দুুটি উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রথমতঃ আত্মীয়-স্বজনের সাথে সু-সম্পর্ক রাখলে পরকালে তো কল্যাণ লাভ হবেই, ইহকালেও সম্পদের প্রাচুর্য এবং আল্লাহর রসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পক্ষ থেকে দীর্ঘ জীবন লাভের আশ্বাস সম্পর্কিত সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মদীনায় আগমনের প্রায় সাথে সাথেই আমিও তার দরবারে গিয়ে হাজির হলাম। সর্বপ্রথম আমার কানে তার যে কথাটি প্রবেশ করল, তা হলো এইঃ
হে লোক সকল! তোমরা পরস্পর পরস্পরকে বেশি বেশি সালাম দাও। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানুষকে খাদ্য দান কর। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোল এবং এমন সময়ে নামাযে মনোনিবেশ কর, যখন সাধারণ লোকেরা নিদ্রামগ্ন থাকে। স্মরণ রেখো, এ কথাগুলো পালন করলে তোমরা পরম সুখ ও শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (মিশকাত পুঃ ১০৮)
অন্য এক হাদীসে আছেঃ উম্মুল-মুমিনীন হযরত মায়মুনাহ (রা.) তার এক বাঁদীকে মুক্ত করে দিলেন। অতঃপর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যখন এ খবর পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন, তুমি যদি বাঁদীটি তোমার মামাকে দিয়ে দিতে, তাহলে অধিক পুণ্য লাভ করতে পারবে। (মিশকাত-পৃঃ ১৭১)
ইসলাম দাস-দাসীদের আযাদ করে দেয়ার ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ দিয়েছে এবং একে অতীব পুণ্যের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রাখাতে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেনঃ
কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করলে সদকার সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু কোন নিকটাত্মীয়কে সাহায্য করলে একই সঙ্গে সদকা এবং আত্মীয়তার হক আদায়ের দ্বৈত পুণ্য লাভ করা যায়। (মিশকাত-পৃ. ১৭১)
আপনি বলুনঃ এস, আমি তোদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য হারাম করেছেন। তা এই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো, স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের কারণে হত্যা করো না-আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই-নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না, কিন্তু ন্যায়সঙ্গত ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ। (আনআম, আয়াত-১৫১)
এবং আল্লাহ যে-সম্পর্ক অক্ষুণ রাখতে আদেশ করেছেন যারা তা অক্ষুণ রাখে (আত্মীয়তার সম্পর্ক বা ইমানের সাথে আমলের সম্পর্ক), ভয় করে তাদের প্রতিপালককে এবং ভয় করে কঠোর হিসাব-নিকাশকে এবং যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্যধারণ করে নামায প্রতিষ্ঠা করে, আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি গোপনে ও প্রকাশ্যে তা থেকে ব্যয় করে এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্য রয়েছে পরকালের গৃহ। (রাদ, আয়াত-২১, ২২)
তাফসীরঃ
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যেসব সম্পর্ক বজায় রাখতে আদেশ করেছেন, তারা সেগুলো বজায় রাখে। এ বাক্যটির প্রচলিত তাফসীর এই যে, আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার যেসব সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং তদনুযায়ী কাজ করতে আদেশ করেছেন, তারা সেসব সম্পর্ক বজায় রাখে। কোন কোন তফসীরবিদ বলেন এর অর্থ এই যে, তারা ঈমানের সাথে সৎকর্মকে অথবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসের সাথে পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের প্রতি এবং তাদের গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাসকে যুক্ত করে।
তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতেও পিমামাতার প্রতি সদ্ব্রবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে উফ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিওনা; তাদের সাথে বলো সম্মানসূচক নম্র কথা। মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করো এবং বলো, হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছেন। (বনী ইসরাঈল, আয়াত-২৩, ২৪)
