প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৮ম সংখ্যা,ফেব্রুয়ারী ২০১৬,রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৭ হিজরী,মাঘ-ফাল্গুন ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

ইনশাআল্লাহ্ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বুধবার হতে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ফুরফুরা দরবারের পাকশী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব। ২০ শে ফেব্রুয়ারি শনিবার ফজর বাদ আখেরী বয়ান ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহ্ফিল শেষ হবে ইনশা-আল্লাহ।
হযরত গদ্দীনশীন পীর সাহেব হুজুরের পক্ষ থেকে জমিয়তুল মুসলিমীন হিযবুল্লাহর সকল পর্যায়ের মুবাল্লিগ ও হিলফুল ফুযুলের সদস্য ভাইদেরকে এখন থেকেই মাহফিলের জন্য সর্বাত্মক দাওয়াত ও প্রচার কার্য পরিচালনা এবং প্রথম দিন হতেই যাতে সবাই মাহফিলে হাজির হতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি। পোস্টার, হ্যান্ডবিল, মাইকিং, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ইত্যাদি যে যেভাবে পারি প্রচার করতে থাকি। আমার দাওয়াতে একটা লোকও যদি মাহফিলে হাজির হয়, আল্লাহ হেদায়েত করেন, কিছু নেক আমল করে, পাপ কাজ পরিত্যাগ করে, তবে তাতে আমি অফুরন্ত সাওয়াব লাভ করবো এবং তা আমার জন্য নাজাতের একটা ওসিলা হয়ে যেতে পারে ইনশা-আল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে নির্দিষ্ট সময়ে মাহ্ফিলে উপস্থিত হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবী ও নেয়ামত অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

মানবসেবামূলক কাজে রয়েছে অল্পনীয় সাওয়াব ও মর্যাদা

আল্লাহ্র রহমত, বরকত ও সাওয়াব অর্জনের সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ আল্লাহ্র সৃষ্টির প্রতি, বিশেষত মানুষের প্রতি বল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সকল জাগতিক প্রয়োজনে সাহায্য করা, সমাজের কিছু মানুষের মধ্যে পরস্পরে গোলমাল বা অশান্তি হলে শান্তি প্রতিার চেষ্টা করা, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, সেবা করা, বিপদে পড়লে উদ্ধার, মাযলূম হলে সাহায্য করা, মৃত্যুবরণ করলে কাফন-দাফনে শরীক হওয়া ইত্যাদি সকল প্রকার মানব সেবামূলক কাজের জন্য অকল্পনীয় সাওয়াব ও মর্যাদার কথা অগণিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দু জন মানুষের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে ন্যায়-সম্প্রীতি প্রতিা করা দান বলে গণ্য, কোনো মানুষকে তার বাহন নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করতে সাহায্য করা দান বলে গণ্য, কারো বাহনে তার জিনিসপত্র তুলে দেওয়া দান বলে গণ্য, সুন্দর আনন্দদায়ক কথা দান বলে গণ্য, মসজিদে গমনের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ দান বলে গণ্য এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক দ্রব্য সরিয়ে দেওয়া দান বলে গণ্য। (বুখারী, আস-সহীহ ২/৯৬৪, ৩/১০৯০)

শুধু ব্যক্তি মানুষের নয়, জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কলাণকর কার্য করাও অত্যন্ত বড় ইবাদত। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক দ্রব্য সরিয়ে দেওয়া ঈমানের অংশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম : একব্যক্তি রাস্তায় চলতে চলতে একটি কাটাওয়ালা ডাল দেখতে পায়, সে ডালটি সরিয়ে দেয়। আল্লাহ্ তার এ কাজ কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। (বুখারী, আস-সহীহ ১/২৩৩, ২/৮৭৪; মুসলিম, আস-সহীহ ৩/১৫২১, ৪/২০২১)

শুধু মানুষ নয়, যে কোনো প্রাণীর সেবাও বড় ইবাদত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : এক ব্যক্তি বিজন পথে চলতে চলতে পিপাসার্ত হলে একটি কূপে নেমে পানি পান করে। কূপ থেকে বেরিয়ে সে দেখে যে, একটি কুকুর পিপাসার্ত হয়ে হাঁপাচ্ছে এবং মাটি চাটছে। লোকটি বলে, আমার যেমন কষ্ট হচ্ছিল এ কুকুরটিরও তেমন কষ্ট হচ্ছে। তখন সে কূপের মধ্যে নেমে নিজের চামড়ার মোজাটি পানিপূর্ণ করে মুখে কামড়ে ধরে দুহাত দিয়ে কূপ থেকে উঠে আসে এবং কুকুরটিকে পানি খাওয়া। আল্লাহ্ এতে খুশি হয়ে তার এ কর্ম কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, জীব-জানোয়ারের সেবাতেও কি আমরা সাওয়াব পাব? তিনি বলেন, যে কোনো প্রাণের সেবাতেই সাওয়াব পাবে। (বুখারী, আস-সহীহ ২/৮৩৩, ৮৭০, ৫/২২৩৮; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৬১)

কারো উপকার করতে না পারলে ক্ষতি থেকে বিরত থাকাও সাওয়াবের কাজ। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত দোষ ত্রুটি গোপন করা। মানুষের গোপন দোষ জানার চেষ্টা করা হারাম। কোনো দোষ ত্রুটি জানতে পারলে তা তার অনুপস্থিতিতে অন্যকে বলা গীবত ও হারাম। আর এরূপ দোষ গোপন রাখা অত্যন্ত বড় সাওয়াবের কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ্ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। (বুখারী, আস-সহীহ ২/৮৬২; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৯৯৬, ২০৭৪)