প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৮ম সংখ্যা,ফেব্রুয়ারী ২০১৬,রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৭ হিজরী,মাঘ-ফাল্গুন ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
অর্থ : হে মুমিনগণ! তোমরা রায়িনা বলো না, উনযুরনা বলো এবং শুনতে থাকো আর কাফিরদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (সূরা বাকারাহ, আয়াত : ১০৪)
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
কোনো কোনো ইহুদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে তাঁকে রায়িনা বলে সম্বোধন করত। হিব্র” ভাষায় এটি একটি বদদুআ। তারা এ নিয়তেই তা বলত। কিন্তু আরবী ভাষায় এর অর্থ হচ্ছে আমাদের প্রতি লক্ষ করুন। ফলে আরবীভাষীরা তাদের এই দুরভিসন্ধি বুঝতে পারত না। ভালো অর্থের প্রতি লক্ষ করে কোনো কোনো মুসলমানও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই শব্দে সম্বোধন করতেন। এতে দুষ্টরা আরও আশকারা পেত। তারা পরস্পর বসে হাসাহাসি করত আর বলত, একদিন আমরা গোপনেই তাকে শব্দ বলতাম। এখন এতে মুসলমানদেরও শরীক হওয়ার কারণে প্রকাশ্যে মব্দ বলার সুযোগ এসেছে। তাদের এই সুযোগ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেন, হে মুমিনগণ! তোমরা রায়িনা (শব্দটি) বলো না, (এর পরিবর্তে) উনযুরনা বলবে। (কেননা, আরবী ভাষায় রায়িনা বললে ইহুদীরা দুষ্টুমির সুযোগ পায়। তাই একে বর্জন করে (এবং স্মরণ করো)। আর এ নির্দেশটি (ভালোরূপে) শুনে নাও (এবং স্মরণ রাখো)। কাফিরদের জন্য তো বেদনাদায়ক শাস্তি রয়েছেই। (কারণ, ওরা ধূর্ততা-সহকারে পয়গম্বরের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে)।
কোনো বৈধ কাজ কখন অবৈধ হয়?
আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, আপনার কোনো জায়েয কাজ থেকে যদি অন্যরা নাজায়েয কাজের আশকারা পায়, তবে সে জায়েয কাজটিও আপনার জন্য জায়েয থাকবে না। উদাহরণ: কোনো আলিমের কোনো কাজ দেখে যদি সাধারণ লোকেরা বিভ্রান্ত হয় এবং নাজায়েয কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে আলেমের জন্য সে জায়েয কাজটিও নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। তবে শর্ত এই যে, সংশ্লিষ্ট কাজটি শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় ও শরীয়তের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত না হতে হবে। কুরআন ও হাদীসে এর ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর একটি প্রমাণ ঐ হাদীস, যা-তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : জাহেলিয়াতের যুগে কোরাইশরা যখন কাবাগৃহ পুননির্মাণ করে, তখন এতে কয়েকটি কাজই এমন করা হয়েছে, যা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-রচিত ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। আমার মন চায়, একে ভেঙ্গে আবার ইবরাহীমী ভিত্তির অনুরূপ করে দেই। কিন্তু কাবাগৃহ ভেঙ্গে দিলে অজ্ঞ জনগণের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমি স্বীয় আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করছি না। এ বিধানটি সমস্ত ফেকাহবিদের কাছেই গ্রহণীয়। তবে হাম্বলী মাযহাবের আলিমগণ এ ব্যাপারে অধিক সাবধানতা অবলম্বনের পক্ষপাতী। (তাফসীরে কুরতুবী) (সূত্র : তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃা : ২৮০ – ২৮১)
