প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৭ম সংখ্যা, জানুয়ারী ২০১৬, রবি আউঃ-রবি সানি ১৪৩৭ হিজরী, পৌষ-মাঘ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

মুমিনের উচিত আযানের আগেই ওযু করে মসজিদে যেয়ে নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এরূপ অপেক্ষা আল্লাহ্র নিকট অন্যতম জিহাদ ও অত্যন্ত বড় নেককর্ম। জামাআতে গমন করার সময় তাড়াহুড়ো না করা, ধীরে-সুস্থে যাওয়া, দৃষ্টিকে নামিয়ে রাখা, কণ্ঠকে নীচু রাখা এবং এদিক সেদিক অধিক তাকানো বর্জন করা কর্তব্য। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, সালাতের ইকামত হওয়ার পরেও যদি তোমরা মসজিদে যাও তাহলে মানসিক অস্থিরতা বা দৌড়াদৌড়ি করে মসজিদে যাবে না। শান্তভাবে ও ধীরে ধীরে যাবে। যতটুকু সালাত ইমামের সাথে পাবে তা আদায় করবে, বাকিটা পরে নিজে আদায় করবে। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, ঘর থেকে সালাতের জন্য বাহির হওয়ার সময় থেকেই মুসল্লী সালাতের মধ্যেই থাকেন এবং আল্লাহর কাছে তিনি সালাতরত বলে গণ্য হন। যদি কেউ মসজিদে যেয়ে দেখেন যে পুরো জামাআত শেষ হয়ে গিয়েছে তাহলেও তিনি জামাআতের সাওয়াব পাবেন। মসজিদে প্রবেশ করার পর আগের কাতারে জায়গা থাকা সত্ত্বেও পিছনের কাতারে দাঁড়ানো কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ও গোনাহের কাজ। যথাসম্ভব ধীর স্থিরভাবে আগের কাতারে দাঁড়াতে হবে। এতে ইমাম এক রাকআত শেষ করে ফেললে কোনো ক্ষতি নেই। আমরা মসজিদে রাকআত গণনা করতে যাই না, সাওয়াব অর্জন করতে যাই। তাড়াহুড়ো করলে, পিছনের কাতারে দাঁড়ালে গোনাহ হবে। আর শান্তভাবে আগের কাতারে দাঁড়ালে সাওয়াব বেশি হবে।

প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের জন্য রয়েছে বিশেষ সাওয়াব ও মর্যাদা। ইরবাদ (রা:) বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম কাতারের জন্য তিনবার করে ক্ষমতা প্রার্থনা করতেন এবং দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার। (ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ১/৩১৮; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৩৩৪, ৩৩৭; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১৪/১১৮। হাদীসটি সহীহ) অন্য হাদীসে আবূ উমামা (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : প্রথম কাতারের জন্য আল্লাহ্ রহমত প্রদান করেন এবং ফিরিশতাগণ দোয়া করেন।(নাসাঈ, আস-সুনান ২/১৩; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ১/৩১৮; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/১১৮/। হাদীসটি সহীহ) সামনের কাতারে স্থান রেখে পিছনের কাতারে দাঁড়ালে মুসল্লীকে শাস্তি পেতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : কিছু মানুষ নিয়মিত কাতারে পিছিয়ে পড়তে থাকবে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তাদেরকে জাহান্নামের মধ্যে পিছিয়ে দিবেন। (আবূ দাউদ, আস-সুনান ১/১৮১; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/১২৩) জামাতে সালাতের কাতার সোজা করা, কাতারের মাঝে ফাঁক পূরণ করা, গায়ে গা লাগিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমরা তোমাদের কাতারগুলি সোজা কর, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও, তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও, ইমামকে মধ্যস্থানে রেখে কাতার দাও এবং কাতারের মাঝে ফাঁক পূরণ কর। কারণ শয়তান মেশ শাবকের ন্যায় তোমাদের মধ্যে প্রবেশ করে। যে ব্যক্তি কাতার মিলিয়ে দেবে বা সংযুক্ত করবে আল্লাহ্ তাকে মিলিয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার বিচ্ছিন্ন করবে বা ভাঙ্গবে আল্লাহ্ তাকে ভাঙ্গবেন। (আবূ দাউদ, আস-সুনান ১/১৮১; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/১২৩)

আনাস (রা:) বলেন, সালাতের ইকামত হয়ে যাওয়ার পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে বলেন,তোমরা তোমাদের কাতারগুলি সোজা কর, কারণ আমি আমার পিছন দিকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই। তখন আমরা একে অপরের কাঁধের সাথে কাঁধ, পায়ের সাথে পা, হাঁটুর সাথে হাঁটু ও টাখনুর সাথে টাখনু লাগিয়ে দাঁড়াতাম। (বুখারী, আস-সহীহ ১/২৫৪; আবূ দাউদ, আস-সুনান ১.১৭৮) আল্লাহর কসম, তোমরা কাতারগুলি সোজা কর। নইলে আল্লাহ্ তোমাদের অন্তরের মধ্যে বৈপরীত্য ও বিরোধ সৃষ্টি করে দিবেন। (আবূ দাউদ, আস-সুনান ১/১৭৮, সহীহুত তারগীব ১/১২৩। হাদীসটি সহীহ)

পাকশী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াবের দাওয়াত ও প্রচার কার্যে এখন থেকেই সচেষ্ট হই

ইনশাআল্লাহ্ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বুধবার হতে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ফুরফুরা দরবারের পাকশী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব। ২০ শে ফেব্রুয়ারি ফজর বাদ আখেরী বয়ান ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহ্ফিল শেষ হবে ইনশা-আল্লাহ।

হযরত গদ্দীনশীন পীর সাহেব হুজুরের পক্ষ থেকে জমিয়তুল মুসলিমীন হিযবুল্লাহর সকল পর্যায়ের মুবাল্লিগ ও হিলফুল ফুযুলের সদস্য ভাইদেরকে এখন থেকেই মাহফিলের জন্য সর্বাত্মক দাওয়াত ও প্রচার কার্য পরিচালনা এবং প্রথম দিন হতেই যাতে সবাই মাহফিলে হাজির হতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি। পোস্টার, হ্যান্ডবিল, মাইকিং, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ইত্যাদি যে যেভাবে পারি প্রচার করতে থাকি। আমার দাওয়াতে একটা লোকও যদি মাহফিলে হাজির হয়, আল্লাহ হেদায়েত করেন, কিছু নেক আমল করে, পাপ কাজ পরিত্যাগ করে, তবে তাতে আমি অফুরন্ত সাওয়াব লাভ করবো এবং তা আমার জন্য নাজাতের একটা ওসিলা হয়ে যেতে পারে ইনশা-আল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে নির্দিষ্ট সময়ে মাহ্ফিলে উপস্থিত হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবী ও নেয়ামত অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমীন।