প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৬, জমা.সানী-রজব ১৪৩৭ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُون
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ ۖ
فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ

অর্থ : হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু- সামগ্রী আহার করো, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুজি হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় করো আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী করো। তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং সেসব জীবজন্তু, যা আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোনো গুনাহ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৭২-১৭৩)

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

(উপরের আয়াতে পবিত্র বস্তু-সামগ্রী খাওয়ার ব্যাপারে মুশরিকদের ভুল ধারণা বাতলে দিয়ে তাদের সংশোধন করা উদ্দেশ্য ছিল। পরবর্তীতে ঈমানদারদের সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা সে ভুল ধারণার ক্ষেত্রে মুশরিকদের মতোই আচরণ আরম্ভ না করে। প্রসঙ্গক্রমে ঈমানদারদের প্রতি স্বীয় নেয়ামতের উল্লেখ করে তাদেরকে শুকরিয়া আদায় করার শিক্ষাও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে : হে ঈমানদারগণ! (আমার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি এ অনুমতি রয়েছে যে, (শরীয়াতের দৃষ্টিতে) যেসব পবিত্র বস্তু-সামগ্রী আমি তোমাদেরকে দান করছি সেগুলোর মধ্যে থেকে তোমরা (যা খুশি)আহার করো, (ভোগ করো) এবং (এ অনুমমতির সাথে সাথে এ নির্দেশও বলবৎ রয়েছে যে, মুখ, হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকলাপ এবং এ সমস্ত নেয়ামত যে একান্তই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত, সে বিষয়ে অন্তরে বিশ্বাস রাখার মাধ্যমে) আল্লাহ তাআয়ালা শুকরিয়া আদায় করা, যদি তোমার বাস্তবিকপক্ষেই তাঁর দাসত্বের সাথে যুক্ত থেকে থাকো। (বস্তুত, এ সম্পর্ক একান্তই স্বীকৃত- প্রকাশ্য। সুতরাং শুকরিয়া আদায় করাও যে ওয়াজিব তা-ও সুপ্রমাণিত)

যোগসূত্র :

উপরের আলোচনায় বলা হচ্ছিল যে, হালাল বা বৈধ বস্তু-সামগ্রি হারাম বা অবৈধ সাব্যস্ত করে না। তারপর বলা হচ্ছে যে, মুশরিকদের মতো তোমরাও হারামকে হালাল মনে করো না। এখানে মৃত বা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোও নামে জবাই করা জীবজন্তু-যা মুশরিকরা খেত- তা থেকে বারণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এ কথাও বলে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহর নিকট অমুক অমুক জীব হারাম। এগুলো ছাড়া অন্যান্য জীবজন্তুকে নিজের পক্ষ থেকে হারাম সাব্যস্ত করা ভুল। এতে পূববর্তী বিষয়েরও সমর্থন হয়ে গেল।

(অতঃপর বলা হচ্ছে), আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য শুধু হারাম করেছেন মৃত জীব, (যা জবাই করা ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও জবাই করা ছাড়া মরে যায়)। আর রক্ত (যা প্রবাহিত হয়) এবং শূকরের মাংস (তেমনি তার অন্যান্য অংশগুলোও) আর এমন সব জীবজন্তু যা (নৈকট্য লাভের মানসে) আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও নামে উৎসর্গ করা হয়। (এ সমস্ত হারাম করেছেন, কিন্তু সেসব বস্তু হারাম করেননি, যা তোমরা নিজেদের পক্ষ থেকেই হারাম করে নিচ্ছ। যেমন উপরে উল্লেখ করা হয়েছে)। তবে অবশ্য (এতে এতটুকু অবকাশ রয়েছে যে,) যে লোক (ক্ষুধার জ্বালায়) অনন্যোপায় হয়ে পড়ে( তার জন্য তা খাওয়ায়) কোনো পাপ নেই। অবশ্য শর্ত হলো, খেতে গিয়ে সে যেন স্বাদ গ্রহণে আগ্রহী না হয় (প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেতে গিয়ে) যেন সীমালঙ্ঘন না করে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু (তিনি এমন চরম সময়ে রহম করে গুনাহের বস্তু থেকেও গুনাহ রহিত করে দিয়েছেন।)

বিস্তারিত জ্ঞাতব্য বিষয়
হালাল খাদ্যের কল্যাণ ও হারাম খাদ্যের অকল্যাণ

আলোচ্য আয়াতে যেমন হারাম খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে হালাল ও পবিত্র বস্তু খেতে এবং তা খেয়ে শুকরিয়া আদায় করতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। কারণ, হারাম খেলে যেমন মন্দ অভ্যাস ও অসচ্চরিত্র সৃষ্টি হয়, ইবাদতের আগ্রহ স্তিমিত হয়ে আসে এবং দুআ কবুল হয় না; তেমনি হালাল খাওয়ায় অন্তরে একপ্রকার নূর সৃষ্টি হয়। তদ্বারা অন্যায়-অসচ্চরিত্রের প্রতি ঘৃণাবোধ এবং ন্যায়-সচ্চরিত্রের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়, ইবাদত- বন্দেগীর প্রতি অধিকতর মনোযোগ আসে, পাপের কাজে মনে ভয় আসে এবং দুআ কবুল হয়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত নবী-রাসূলগণের প্রতি হেদায়েত করেছেন,

يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا

হে আমার রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করো এবং নেক আমল করো।

এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নেক আমলের ব্যাপারে হালাল খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুরূপ, হালাল খাদ্য গ্রহণ দুআ কবুল হওয়ার আশা এবং হারাম খাদ্যের প্রতিক্রিয়ায় তা কুবল না হওয়ার আশঙ্কাই থাকে বেশি। রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন: বহু লোক দীর্ঘ সফর করে আসে এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দু- হাত তুলে আল্লাহর দরবারের বলতে থাকে, ইয়া পরওয়ারদিগার! ইয়া রব!! কিন্তু যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহার সামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছেদ হারাম পয়সায় সংগৃহীত, এমতাবস্থায় তার দুআ কী করে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে-কাসীর-এর সূত্রে)
বাক্যের মধ্যে শব্দটি বাক্যের অর্থ সীমিতকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং আয়াতের অর্থ দাঁড়ায় যে, আল্লাহ তাআলা শুধু সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রী হারাম করেছেন, যেগুলো পরে উল্লেখ হচ্ছে, এমনি পরবর্তী অন্য এক আয়াতে বিষয়টি আরও একটু ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যথা অর্থাৎ হুযুর সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে-আপনি ঘোষণা করে দিন, ইতপূর্বে আমি ওহী মারফত যেসব বস্তু হারাম করেছি, আহার্য গ্রহণকারীদের জন্য সেগুলো ছাড়া অন্য কোন্ কিছুই হারাম নয়। (সূরা আনআম, আয়াত :১৪৫)

একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর

এ দুটি আয়াতের মর্ম অনুযায়ী প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, খোদ কুরআনেরই অন্যান্য আয়াত এবং বিভিন্ন হাদীসে অন্যান্য যেসব বস্তু হারাম হওয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, এ দু-আয়াতের দ্বারা কি সেসব বস্তু হারাম হওয়া রহিত করা হয়েছে?

উত্তর এই যে, প্রথম আয়াতে হালাল-হারামের সামগ্রিক নির্দেশ আসেনি কিংবা সম্পূরক আয়াতেও এমন কথা বলা হয়নি যে, পূর্ববর্তী আয়াতে যেসব বস্তুর নামোল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো ছাড়া অন্য কোনো কিছুই হারাম নয়। বরং প্রথম আয়াতে জোর দিয়ে শুধু একথাই বলা হয়েছে, যে বস্তু-সামগ্রীর নাম এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে, এগুলো সম্পূর্ণ হারাম। কেননা, মুশরিকরা এমন কিছু বস্তুর হালাল মনে করত, যেগুলো আল্লাহর বিধানে হারাম। পক্ষান্তরে নিজেদের পূর্বসংস্কার এবং অভ্যাসের দরুন এমন কিছু বস্তুকে হারাম বলে গন্য করত, যেগুলো আল্লাহর বিধানে হালাল। তাই আল্লাহ তাআলা বিশেষ কতগুলো বস্তুর নাম উল্লেখ করে জোর দিয়ে দিচ্ছেন যে, এসব বস্তু সম্পর্কে তোমাদের ধারণা যা-ই থাকুক না কেন, এগুলো নিশ্চিতরূপেই হারাম। এ ছাড়া, যেহেতু হারাম বস্তু আল্লাহ তাআলাই ওহীর মাধ্যমে চিহ্নিত করে দিয়েছেন, সেহেতু তোমাদের ধারণা কিংবা সংস্কারের কারণে অন্য কোনো কিছু হারাম হবে না।

আলোচ্য আয়াতে যে বস্তু-সামগ্রীকে হারাম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর সংখ্যা চার। যথা:-
১. মৃত পশু,
২. রক্ত,
৩. শুকরের মাংস এবং
৪. যেসব জানোয়ার আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর নাম উৎসর্গ করা হয়। উপরোক্ত চিহ্নিত চারটি বস্তুর সাথে স্বয়ং কুরআনেই অন্য আয়াতের এবং হাদীস শরীফে আরও কতিপয় বস্তুর উল্লেখ এসেছে। সুতরাং সেসব নির্দেশ একত্র করে চিহ্নিত হারাম বস্তুগুলো সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।

মৃতপ্রাণীর বিধান

মৃত : এর অর্থ যেসব প্রাণী হালাল করার জন্য শরীয়াতের বিধান অনুযায়ী যবেহ করা জরুরী, সেসব প্রাণী যদি যবেহ ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে, যেমনÑ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে, অসুস্থ হয়ে কিংবা দমবদ্ধ হয়ে মারা যায়, তবে সেগুলোকে মৃত বলে গণ্য করা হবে এবং সেগুলোর গোশত খাওয়া হারাম হবে। তবে কুরআন শরীফে অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে,

حِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ
তোমাদের জন্য সামুদ্রিক শিকার হালাল করা হলো। (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৯৬)

এ আয়াতের মর্মানুযায়ী সামুদ্রিক জীবজন্তুর বেলায় যবেহ করার শর্ত আরোপিত হয়নি। ফলে এগুলো যবেহ ছাড়াই খাওয়া হালাল। অনুরূপ এক হাদীসে মাছ এবং টিড্ডি নামক পতঙ্গকে মৃত প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দুটির মৃতকে হালাল করা হয়েছ। রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন: আমাদের জন্য দুটি মৃত হালাল করা হয়েছে,মাছ এবং টিড্ডি। অনুরূপ দুপ্রকার রক্ত ও হালঅর করা হয়েছে। যথা: যকৃৎ ও কলিজা। (ইবনে-কাসীর, আহমদ, ইবনে- মাজাহ, দার-কুতনী)

সুতরাং বোঝা গেল, জীবজন্তুর মধ্যে মাছ এবং টিড্ডি নামক পতঙ্গ মৃতের পর্যায়ভুক্ত হবে না, এ দুটি যবেহ না করেও খাওয়া হালাল হবে। এগুলো ধরা পড়ে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কিংবা স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ যে কোনো অবস্থাতেই মরুক না কেন, তাতে কিছু যায়-আসে না। তবে মাছ পানিতে মরে যদি পঁচে যায় এবং পানির উপরে ভেসে ওঠে, তবে তা খাওয়া যাবে না। (জাস সাস)

এ আয়াতের মর্মানুযায়ী সামুদ্রিক জীবজন্তুর বেলায় যবেহ করার শর্ত আরোপিত হয়নি। ফলে এগুলো যবেহ ছাড়াই খাওয়া হালাল। অনুরূপ এক হাদীসে মাছ এবং টিড্ডি নামক পতঙ্গকে মৃত প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দুটির মৃতকে হালাল করা হয়েছ। রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন: আমাদের জন্য দুটি মৃত হালাল করা হয়েছে,মাছ এবং টিড্ডি। অনুরূপ দুপ্রকার রক্ত ও হালঅর করা হয়েছে। যথা: যকৃৎ ও কলিজা। (ইবনে-কাসীর, আহমদ, ইবনে- মাজাহ, দার-কুতনী)

সুতরাং বোঝা গেল, জীবজন্তুর মধ্যে মাছ এবং টিড্ডি নামক পতঙ্গ মৃতের পর্যায়ভুক্ত হবে না, এ দুটি যবেহ না করেও খাওয়া হালাল হবে। এগুলো ধরা পড়ে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কিংবা স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ যে কোনো অবস্থাতেই মরুক না কেন, তাতে কিছু যায়-আসে না। তবে মাছ পানিতে মরে যদি পঁচে যায় এবং পানির উপরে ভেসে ওঠে, তবে তা খাওয়া যাবে না। (জাস সাস) অধরা শিকারের বিধান

অনুরূপ যেসব বন্য জীবযন্তু ধরে যবেহ করা সম্ভব নয়, সেগুলোকে বিসমিল্লাহ বলে তীর কিংবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে যদি মারা হয়, তবে সেগুলোও হালাল হবে। তবে এমতাবস্থায়ও শুধু আঘাত দিয়ে মারলে চলবে না, কোনো ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে আঘাত করা শর্ত।
বন্দুকের গুলিতে শিকার করা পশুর বিধান

মাসাআলা : বন্দুকের গুলিতে আহত কোনো জন্তু যদি যবেহ করার আগেই মারা যায়, তবে সেগুলো লাঠি বা পাথরের আঘাত মরে যাওয়া জন্তুর পর্যায়ভুক্ত বিবেচিত হবে। কুরআনের অন্য এক আয়াতে যাকে (মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত) বলা হয়েছে। অর্থাৎ খাওয়া হালাল হবে না। মৃত্যুর আগেই যদি যবেহ করা হয়, তবে তা হালাল হবে।