প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭, জমা.আউ-জমা.সানি ১৪৩৮ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ ۚ وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ ۖ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।
অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।
যদি খাতক অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি কর।
ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।
(সুরা বাকারা, আয়াত :২৭৮-২৮১)
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যেমন বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাকো। (কেননা, আল্লাহর আনুগত্য করাই ঈমানের দাবি) অতঃপর যদি তোমরা একে কার্যে পরিনত না করো, তবে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষে থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও(অর্থাৎ তোমাদের বিরুদ্ধে এ কারণে জেহাদ ঘোষণা করা হবে) এবং যদি তোমরা তাওবা করে নাও, তবে তোমাদের মূলধন ফেরত পেয়ে যাবে। (এ আইনের পর) তোমরাও কারও প্রতি অত্যাচার করতে পারবে না, (যে মূলধনের চেয়ে অধিক নিয়ে নেবে।) তোমাদের প্রতিও অত্যাচার করা হবে না। (এবং যদি (ঋণগ্রহীতা) অভাবগ্রস্ত হয় (এবং এ কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে না পারে,) তবে (তাকে) সময় দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে, সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত। (অর্থাৎ যখন সে পরিশোধ করতে সক্ষম হবে, সে সময় পর্যন্ত) এবং (সম্পূর্ণভাবে) ক্ষমা করে দেওয়াই তোমাদের জন্য আরও উত্তম, যদি তোমরা (এ সওয়াব বিনিময় সম্পর্কে) অবগত হও।
(হে মুসলমানগণ) ঐ দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমরা আল্লাহর কাছে হাজিরার জন্য প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকই তার কৃতকর্ম (অর্থাৎ কৃতকর্মের ফল) পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনোরূপ অবিচার করা হবে না। (অতএব হাজিরার জন্য তোমরা স্বীয় কার্যকলাপ ঠিক রাখো এবং কোনো বিরুদ্বাচরন করো না)।
সুদসংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা
আলোচ্য আয়াতসমূহে ‘রিবা’ অর্থাৎ সুদের অবৈধতা ও তার বিধি-বিধান সম্পর্কিত বর্ণনা শুরু হয়েছে। এ প্রশ্নটি কয়েক দিক দিয়েই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সুদের কারণে কুরআন ও সুন্নাহয় কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে সুদ বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ পরিণত হয়েছে। সুদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করার পথে যেসব অসুবিধা ও জটিলতা বিদ্যমান, সেগুলোর তালিকা সুদীর্ঘ। তাই বিষয়টি কয়েক দিক দিয়েই আলোচনাসাপেক্ষ।
প্রথমে এ ব্যাপারে কুরআনী আয়াতের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা ও সহীহ হাদীস সমূহের বক্তব্য সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করে নিতে হবে:
* কুরআন ও হাদীসের পরিভাষায় সুদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা।
* এবং দেখতে হবে সুদ কোন কোন ব্যবসায়-বাণিজ্যে পরিব্যাপ্ত।
* এর অবৈধতা কোন রহস্য ও উপযোগিতার উপর ভিত্তিশীল।
* এবং এতে কী ধরনের অনিষ্ট বিদ্যমান?
সুদের দ্বিতীয় দিক হচ্ছে যৌক্তিক ও অর্থনৈতিক। অর্থাৎ বাস্তবিকই কি সুদ বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতির নিশ্চয়তা দিতে পেরেছে? একে উপেক্ষা করলে এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসাবে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও সাধারণ অর্থনীতির প্রাচীর কি ধসে যাবে, না গোটা ব্যাপারটাই শুধু আল্লাহ ও পরকালে অবিশ্বাসী মস্তিষ্কসমূহের উদ্ভট ফসল? নতুবা সুদ ছাড়াও সকল অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে পারে। শুধু সমস্যার সমাধানই নয়; বরং বিশ্বের অর্থনৈতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুদ বর্জনের উপরই নির্ভরশীল, সুদই বিশ্বের অর্থনৈতিক অশান্তি ও অস্থিরতার মূল ও প্রধান কারণ।
দ্বিতীয়ত, এই আলোচনাটি একটি অর্থনৈতিক বিষয়। এর আওতায় অনেকগুলো মৌলিক ও আনুষঙ্গিক সুদীর্ঘ আলোচনা রয়েছে। কুরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে এসব আলোচনাও কম দীর্ঘ নয়।
সুদখোরের করুণ পরিণতি
আলোচ্য আয়াতসমূহে সুদের অবৈধতা ও বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। প্রথম আয়াতের প্রথম বাক্যে সুদখোরদের মন্দ পরিণতি এবং হাশরের ময়দানে তাদের লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা সুদ খায়, তারা দণ্ডায়মান হয় না; কিন্তু সেই ব্যক্তির মতো, যাকে কোনো শয়তান-জ্বিন আছর করে উন্মাদ ও দিশেহারা করে দেয়। হাদীসে বলা হয়েছে : দণ্ডায়মান হওয়ার অর্থ হাশরের ময়দানে কবর থেকে ওঠা। সুদখোর যখন কবর থেকে উঠবে, তখন ঐ পাগল বা উন্মাদের মতো উঠবে, যাকে কোনো শয়তান-জ্বিন দিশেহারা করে দেয়।
এ বাক্য থেকে জানা গেল যে, জ্বিন ও শয়তানের আছরের ফলে মানুষ অজ্ঞান কিংবা উন্মাদ হতে পারে। অভিজ্ঞ লোকদের উপর্যুপরি অভিজ্ঞতাও এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম জাওযী (রহ.) লিখেছেন : চিকিৎসাবিদ ও দার্শনিকগণও স্বীকার করেন যে, মৃগীরোগ, মুর্ছারোগ কিংবা পাগলামি বিভিন্ন কারনে হতে পারে। মাঝে মাঝে জ্বিন ও শয়তানের আছরও এর কারণ হয়ে থাকে। যারা বিষয়টি অস্বীকার করে, তাদের কাছে বাহ্যিক অসম্ভাব্যতা ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ বর্তমান নেই।
আয়াতে দ্বিতীয় প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই যে, সুদখোররা হাশরে উন্মাদ অবস্থায় উত্থিত হবে, কুরআন পাক সোজাসুজি একথা বলেনি, বরং পাগলামি ও অজ্ঞানতার বিশেষ একটি প্রকার উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ শয়তান আছর করে দিশেহারা করে দিলে যেভাবে উঠে, সেভাবে উঠবে। এতে সম্ভবত ইঙ্গিত রয়েছে যে, অজ্ঞান ও পাগল ব্যক্তি মাঝে মাঝে যেমন চুপচাপ পড়ে থাকে তাদের অবস্থা তেমন হবে না, তারা শয়তান কর্তৃক মাতাল করা লোকদের মতো প্রলাপোক্তি ও অন্যান্য পাগলসুলভ কাণ্ড-কীর্তি দ্বারা পরিচিত হবে।
সম্ভবত এদিকেই ইঙ্গিত থাকতে পারে যে,ে রাগবশত অজ্ঞান কিংবা পাগল হওয়ার পর চেতনাশক্তি স¤পূর্ণ লোপ পায়। এরূপ ব্যক্তিই কষ্ট কিংবা শাস্তি অনুভব করতে পারে না। সুদখোরদের অবস্থা এরূপ হবে না। তারা ভূতে-ধরা লোকের মতো কষ্ট ও শাস্তি পুরোপুরিই অনুভব করবে।
এখন দেখতে হবে যে, অপরাধ ও শান্তির মধ্যে যে মিল থাকা দরকার, তা এখানে আছে কিনা। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যে শাস্তি কোনো ব্যক্তি অথবা সম্প্রদায়কে কোনো অপরাধের কারণে দেওয়া হয়, তার সাথে অপরাধের অবশ্যই মিল থাকে। হাশরে সুদখোরদেরকে মাতাল অবস্থায় উত্থিত করার মধ্যে সম্ভবত এ বিষয়ের অভিব্যক্তি রয়েছে যে, সুদখোর টাকা-পয়সার লালসায় এমন বিভোর হয়ে পড়ে যে, কোনো দরিদ্রের প্রতি তার মনে সামান্য দয়ারও উদ্রেক হয় না এবং লজ্জা-শরম তাকে বাধা দিতে পারে না। সে প্রকৃতপক্ষে জীবদ্দশায় অজ্ঞান ছিল। তাই হাশরেও তাকে এ অবস্থায় উঠানো হবে। অথবা এ শাস্তি দেওয়ার কারণ এই যে, সে যেহেতু দুনিয়াতে স্বীয় নির্বুদ্ধিতাকে বুদ্ধির আবরণে প্রকাশ করেছে এবং ক্রয়-বিক্রয়কে সুদের অনুরূপ আখ্যা দিয়েছে, তাই তাকে নির্বোধ করে উঠানো হবে।
সুদখোরীর অর্থ
এখানে আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, আয়াতে সুদ খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ এর অর্থ হচ্ছে সুদ গ্রহণ করা ও সুদ ব্যবহার করা খাওয়ার জন্য ব্যবহার করুক কিংবা পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর-বাড়ি অথবা আসবাবপত্র নির্মাণে ব্যবহার করুক। কিন্তু বিষয়টি ‘খাওয়া’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করার কারণ হলো- যে বস্তু খেয়ে ফেলা হয়, তা আর ফেরত দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। অন্য রকম ব্যবহারে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পুরোপুরি আত্মসাৎ করার কথা বোঝাতে গিয়ে ‘খেয়ে ফেলা’ শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়। শুধু আরবী ভাষা নয়, অধিকাংশ ভাষার সাধারণ বাকপদ্ধতিও তা-ই।
শাস্তির কারণ
এরপর দ্বিতীয় বাক্যে সুদখোরদের এ শাস্তির কারণ বর্ণিত হয়েছে। তারা দুটি অপরাধ করেছে।
১. সুদের মাধ্যমে হারাম খেয়েছে।
২. সুদকে হালাল মনে করেছে এবং যারা একে হারাম বলেছে, তাদের উত্তরে বলেছে : ‘ক্রয়-বিক্রয়ও তো সুদেরই অনুরূপ। সুদের মাধ্যমে যেমন মুনাফা অর্জিত হয়, তেমনি ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যেও মুনাফাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। অতএব, সুদ হারাম হলে ক্রয়-বিক্রয়ও তো হারাম হওয়া উচিত।’ অথচ কেউ বলে না যে, ক্রয়-বিক্রয় হারাম। এক্ষেত্রে বাহ্যত তাদের বলা উচিত ছিল যে, সুদও তো ক্রয়-বিক্রয়ের মতোই। ক্রয়-বিক্রয় যখন হালাল তখন সুদও হালাল হওয়া উচিত। কিন্তু তারা বর্ণনাভঙ্গি পাল্টিয়ে যারা সুদকে হারাম বলছে, তাদের প্রতি একপ্রকার উপহাস করেছে যে, তোমরা সুদকে হারাম বললে ক্রয়-বিক্রয়কেও হারাম বলো।
ক্রয়-বিক্রয়কে সুদের অনুরূপ বলার উত্তর
তৃতীয় বাক্যে আল্লাহ তাআলা তাদের এ উক্তির জবাবে বলেঠেন যে, এরা ক্রয়-বিক্রয়কে সুদের অনুরূপ ও সমতুল্য বলেছে, অথচ আল্লাহর নির্দেশের ফলে এতদুভয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ, আল্লাহ তাআলা একটিকে হালাল এবং অপরটিকে হারাম করে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় উভয়টি কেমন করে সমতুল্য হতে পারে?
এর জবাবে প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই যে, সুদখোরদের আপত্তি ছিল যুক্তিগত। অর্থাৎ মুনাফা উপার্জনই যখন উভয় লেনদেনের লক্ষ্য, তখন হারাম-হালালের ব্যাপারে উভয়টি একই রকম হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা তাদের যুক্তিনির্ভর আপত্তির জবাব যুক্তিগতভাবে পার্থক্য বর্ণনার মাধ্যমে দেননি; বরং বিজ্ঞজনোচিত ভঙ্গিতে জবাব দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা সব কিছুর একমাত্র অধিপতি এবং বস্তুর লাভ-ক্ষতি ও ভালো-মন্দ সম্পর্কে তিনি পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। তিনি যখন একটিকে হালাল ও অপরটিকে হারাম করেছেন, তখন এতেই বুঝে নেওয়া যায় যে, তিনি যে বস্তুকে হারাম করেছেন, তার মধ্যে অবশ্যই কোনো অনিষ্ট, ক্ষতি বা অপবিত্রতা রয়েছে-সাধারণ মানুষ তা অনুভব করুক বা না-ই করুক। কেননা, সমগ্র বিশ্ব-ব্যবস্থার পূর্ণ স্বরূপ ও লাভ-ক্ষতি পুরোপুরিভাবে একমাত্র ঐ মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞই জানতে পারেন যার জ্ঞান থেকে পৃথিবীর কণা পরিমাণ বস্তুও লুক্কায়িত নয়। বিশ্বের ব্যক্তিবর্গ ও সম্প্রদায়সমূহ নিজ নিজ লাভ ক্ষতি জানতে পারলেও সমগ্র বিশ্বের লাভ- লোকসান পুরোপুরিভাবে জানতে পারেন না। কোনো কোনো ব্যক্তি অথবা সম্প্রদায়ের পক্ষে লাভজনক হয় কিন্তু গোটা জাতি কিংবা গোটা দেশের জন্য তাতে ক্ষতি নিহিত থাকে।
সুদ থেকে তাওবা করার পদ্ধতি
এরপর তৃতীয় বাক্যে বলা হয়েছে যে, সুদ হারাম হওয়ার পূর্বে যে ব্যক্তি সুদের অর্থ অর্জন করেছিল, সুদ হারাম হওয়ার পর সে যদি ভবিষ্যতের জন্য তাওবা করে নেয় এবং সুদ থেকে বিরত থাকে, তবে পূর্বেকার সঞ্চিত অর্থ শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী তারই অধিকারভুক্ত হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে, সে সর্বান্তকরণেই বিরত রয়েছে কি কপটতা সহকারে তাওবা করেছে-তার এ অভ্যন্তরীণ ব্যাপারটি আল্লাহর উপর নির্ভরশীল থাকবে। মনেপ্রাণে তাওবা করে থাকলে আল্লাহর কাছে তা উপকারী হবে, অন্যথায় তা তাওবা না করার মতো। তার প্রতি সাধারণ লোকদের খারাপ ধারণা পোষণ করা উচিত নয়। যে উপদেশ শুনেও উপরোক্ত উক্তি ও কার্যে পুনরায় লিপ্ত হয়, তার এ কার্যে (সুদ গ্রহণ করা) গুনাহ হওয়ার কারণে সে দোযখে যাবে এবং তার উক্তিকে (অর্থাৎ সুদ ক্রয়-বিক্রয়েরই মতো হালাল) কুফর হওয়ার কারণে সে চিরকাল দোযখে অবস্থান করবে।
সুদ ও সদকাকে একত্রে উল্লেখ করার কারণ
দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন। এখানে একটি বিশেষ সামঞ্জস্যের কারণে সুদের সাথে দান-খয়রাতের উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সুদ ও খয়রাত উভয়ের স্বরূপ যেমন পরস্পরবিরোধী , উভয়ের পরিণামও তেমনি পরস্পরবিরোধী। আর সাধারণত যারা এসব কাজ করে, তাদের উদ্দেশ্য এবং নিয়তও পরস্পরবিরোধী হয়ে থাকে।
স্বরূপের বিরোধ
স্বরূপের বিরোধ এই যে, সদকা ও খয়রাত কোনোরূপে বিনিময় ছাড়াই নিজ অর্থ – সম্পদ অপরকে দেওয়া হয় এবং সুদ কোনোরূপ বিনিময় ছাড়াই অপরের অর্থ-সম্পদ নিয়ে নেওয়া হয়।
নিয়তের বিরোধ
এ দুটি কাজ যারা করে, তাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্য পরস্পরবিরোধী হওয়ার কারণ এই যে, খয়রাতকারী ব্যক্তি শুধু আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও পরকালীন সওয়াবের জন্য স্বীয় অর্থ-সম্পদ হ্রাস কিংবা নিঃশেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পক্ষান্তরে সুদ গ্রহণকারী ব্যক্তি তার বর্তমান অর্থ- সম্পদকে অবৈধভাবে বৃদ্ধি করার উগ্র বাসনা পোষণ করে থাকে।
ফলাফলের বিরোধ
পরিণতির পরস্পরবিরোধিতা কুরআন পাকের আলোচ্য আয়াত থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বলা হয়েছে : আল্লাহ তাআলা সুদ দ্বারা অর্জিত ধনসম্পদ কিংবা তার বরকত মিটিয়ে দেন এবং খয়রাতকারীর ধনসম্পদ কিংবা তার বাড়িয়ে দেন। সারকথা এই যে, যারা ধনসম্পদের লোভ করে না, সম্পদ হ্রাসে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও তাদের ধনসম্পদের ফলাফল, বরকত ও উপকারিতা বেড়ে যায়।
সুদকে মেটানো সদকাকে বাড়ানোর ব্যাখ্যা
এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই যে, আয়াতে সুদকে মেটানো আর দান খয়রাতকে বর্ধিত করার উদ্দেশ্য কী? কোনো কোনো তাফসীরকার বলেন : এ মেটানো ও বাড়ানো পরকালের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুদখোরের ধনসম্পদ পরকালে তার কোনোই কাজে আসবে না; বরং তা তার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পক্ষান্তরে দান-খয়রাতকারীদের ধনসম্পদ পরকালে তাদের জন্য চিরস্থায়ী নেয়ামত ও শান্তিলাভের উপায়-উপকরণ হব্ েএ ব্্যাখ্যা সুস্পষ্ট। এতে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। সাধারণ মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন, সুদকে মেটানো এবং দান-খয়রাতকে বাড়নো পরকালে তো হবেই, কিন্তু এর কিছু কিছু লক্ষণ দুনিয়াতেও প্রত্যক্ষ করা যায়।
যে সম্পদের সাথে সুদ মিশ্রিত হয়ে যায়, অধিকাংশ সময় সেগুলো তো ধ্বংস হয়ই, অধিকন্তু আগে যা ছিল, তা-ও সাথে নিয়ে যায়। সুদ ও জুয়ার ক্ষেত্রে প্রায় সময়ই এরূপ ঘটনা সংঘটিত হতে দেখা যায়। অজ¯্র পুঁজির মালিক কোটিপতি দেখতে দেখতে দেউলিয়া ও ফকীরে পরিণত হয়। সুদবিহীন ব্যবসায়ে ক্ষতিগ্রস্তও হয়; কিন্তু গতকাল যে কোটিপতি ছিল, আজকে সে পথের ভিখারী, এমন ক্ষতি শুধু সুদ ও জুয়ার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। লোক সমাজে অসংখ্য বর্ণনা বিবৃতি এ ব্যাপারে সুবিদিত যে, সুদের মাল তাৎক্ষণিকভাবে যতই প্রবৃদ্ধি লাভ করুক, তা সাধারণত স্থায়ী হয় না। সন্তান-সন্ততি ও বংশধররা তা ভোগ করতে পারে না। প্রায়ই কোনো না- কোনো বিপর্যয়ের মুখে তা ধ্বংস হয়ে যায়। হযরত মা’মার (রহ.) বলেন, আমি বুযুর্গদের মুখে শুনেছি, চল্লিশ বছর যেতে না যেতেই সুদখোরের ধনসম্পদে ভাটা আরম্ভ হয়ে যায়।
যদি বাহ্যিক দৃষ্টিতে ধনসম্পদের ধ্বংস দেখা নাও যায়, তবুও তার উপকারিতা, বরকত ও ফলাফল থেকে বঞ্চনা নিশ্চিত ও অবশ্যম্ভাবী। কেননা, এটা সুস্পষ্ট যে, স্বর্ণ-রৌপ্য স্বয়ং উদ্দেশ্যও নয় এবং উপকারীও নয়। স্বর্ণ- রৌপ্য দ্বারা কারও ক্ষুধা-তৃষ্ণা মেটে না, কিংবা শীত-গ্রীষ্ম থেকে আত্মরক্ষার জন্য তা গায়ে জড়ানো কিংবা বিছানোও যায় না (এবং কাপড়- চোপড় ও থালা-বাসনের কাজও দেয় না।) তদুপরি এর উপার্জন ও সংরক্ষণে হাজারো কষ্ট স্বীকার করতে হয়। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির মতে এতসব কষ্ট স্বীকার করার কারণ এছাড়া অন্য কিছু নয় যে, স্বর্ণ- রৌপ্য এমন কতগুলো বস্তু অর্জন করার উপায় যার সাহায্যে মানুষের জীবন সুখী ও স্বাচ্ছন্দপূর্ণ হয় এবং সে আরাম ও সম্মানজনক জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়। মানুষ নিজে যে আরাম ও সম্মান অর্জন করেছে, তার সন্তান-সন্ততিও তা ভোগ করুক, এ বাসনা মানুষের স্বভাবজাত।
এগুলোই হচ্ছে ধনসম্পদের উপকারিতা ও ফলাফল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একথা বলা ভুল হবে না যে, যে ব্যক্তি এসব উপকারিতা ও ফলাফল লাভ করতে সক্ষম হয়, তার ধনসম্পদ একদিক দিয়ে বেড়ে যায়; যদিও চর্মচক্ষে তা কম বলে মনে হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এসব উপকারিতা ও ফলাফল কম অর্জন করে, তার ধনসম্পদ একদিক দিয়ে হ্রাস পায়; যদিও চর্মচক্ষে তা অধিক মনে হয়ে থাকে।
একথা উপলব্ধি করে নেওয়ার পর এবার সুদের কারবার ও দান-খয়রাতের ব্যাপারটি পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। আপনি প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে পারবেন যে সুদখোরের ধনসম্পদ যদিও ক্রমবর্ধিষ্ণু দেখা যায়, কিন্তু এ বর্ধিষ্ণুতা পান্ডুরোগীর দেহ ফুলে মোটা হয়ে যাওয়ারই মতো। ফুলে যাওয়ার ফলে যে বর্ধিষ্ণুতা আসে তা-ও দেহেরই বৃদ্ধি, কিন্তু কোনো সমঝদার মানুষই এ বর্ধিষ্ণুতাকে পছন্দ করতে পারে না। কেননা, সে জানে যে, এ বর্ধিষ্ণুতা মৃত্যুরই বার্তাবাহী। এমনিভাবে সুদখোরের ধনসম্পদ; যতই ক্রমবর্ধমান দেখা যাক না কেন, সে এর উপকারিতা ও ফলাফল অর্থাৎ আরাম ও সম্মান থেকেই সর্বদাই বঞ্চিত থাকে।
এখানে হয়তো কারও মনে সন্দেহ দেখা দিতে পারে যে, আজকাল তো সুদখোরদেরই আধিপত্য বেশি।
আরাম ও সম্মান তো দেখা যায় তাদেরই করায়ত্ত। দেখা যায়, তারাই প্রাসাদোপম বাড়ি-ঘরের মালিক। আরাম-আয়েশ ও ভোগ বিলাসের যাবতীয় সামগ্রীও তাদেরই হাতের মুঠোয়। পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বসবাসের প্রয়োজনীয় বরং প্রয়োজনাতিরিক্ত আসবাবপত্রেরও তাদের অভাব নেই। নফর, চাকর এবং শান-শওকতের যাবতীয় সাজ-সরঞ্জাম তাদেরই কাছে বিদ্যমান। কিন্তু চিন্তা করলে প্রত্যেকেই বুঝতে পারবে যে, আরামের সাজ-সরঞ্জাম ও আরামের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আরামের সাজ-সরঞ্জাম তো কারখানায় নির্মিত এবং তা বাজারেও বিক্রয় হয়। স্বর্ণ-রৌপ্যের বিনিময়ে তা অর্জনও করা যায়। কিন্তু যার নাম ‘আরাম’ ও ‘শান্তি’, তা কোনো কারখানায় নির্মিত হয় না এবং বাজারেও বিক্রি হয় না। তা এমন এটি রহমত যা সরাসরি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে। অনেক সময় বিস্তুর সরঞ্জাম সত্ত্বেও তা অর্জিত হয় না।
এক নিদ্রা-সুখের কথাই ধরুন। এর জন্য মনোরম বাসগৃহ নির্মাণ করা যায়, সুষম আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করা যায়, আসবাবপত্র সুদৃশ্য ও মনোহরী করা যায় এবং ইচ্ছামতো নরম বিছানা ও কাট যোগাড় করা যায়। কিন্তু এতসব সাজ-সরঞ্জাম যোগাড় হলেই কি নিদ্রা অবশ্যম্ভাবী? আপনার হয়তো এ অভিজ্ঞতা নেই কিন্তু হাজারো মানুষ এ প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ বলবে, যাদের কোনো বিপত্তির কারণে নিদ্রা আসে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সম্পদশালী সভ্য দেশ সম্পর্কিত কোনো কোনো প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, সেখানে শতকরা পঁচাত্তর জন মানুষ ঘুমের বটিকা ব্যবহার না করে ঘুমোতেই পারে না এবং মাঝে মাঝে বটিকাও তাদের ঘুম আনয়নে ব্যর্থ হয়ে যায়। ঘুমের সাজ-সরঞ্জাম আপনি বাজার থেকে কিনে আনতে পারেন। কিন্তু ঘুম কোনো বাজার থেকে কোনো মূল্যেই কিনে আনতে পারেন না। অন্যান্য আরাম এবং সুখের অবস্থাও তা-ই।
বিষয়টি বুঝে নেওয়ার পর সুদখোরদের অবস্থা পর্যালোচনা করুন। আপনি তাদের কাছে সবকিছু পাবেন কিন্তু আরাম ও সুখ পাবেন না। তারা এক কোটিকে দেড় কোটি এবং দেড় কোটিকে দু- কোটি করার চিন্তায় এমন বিভোর থাকে যে, খাওয়া-পরা এবং বিবি-বাচ্চাদের প্রতি লক্ষ করারও সময় নেই। কয়েকটি মিল-কারখানা চলছে, ভিনদেশ থেকে জাহাজ আসছে, এসব নানাবিধ চিন্তার জাল বোনার মধ্যেই তাদের সকাল থেকে বিকাল এবং বিকাল থেকে সকাল হয়ে যায়। আফসোস, এ পাগলরা সুখের সাজ-সরঞ্জামকেই সুখ মনে করে নিয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে তারা সুখ থেকে অনেক দূরে পড়ে রয়েছে। এ হচ্ছে তাদের আরাম ও সুখের অবস্থা। এখন এদের সম্মানের অবস্থাটিও দেখে নিন।
বলাবাহুল্য, সুদখোররা কঠোরপ্রাণ ও নির্দয়। দরিদ্রের দারিদ্র এবং স্বল্প পুঁজিওয়ালাদের পুঁজির স্বল্পতার সুযোগ গ্রহণ করাই তাদের পেশা। দরিদ্রদের রক্ত চুষে তারা তাদের নিজেদের উদর স্ফীত করে তোলে। তাই জনগণের অন্তরে তাদের প্রতি ইযযত ও সম্ভ্রম থাকা অসম্ভব। নিজ দেশের মহাজন-ব্যবসায়ী এবং দুনিয়াজোড়া ছড়িয়ে থাকা ইহুদিদের ইতিহাস পাঠ করুন। তাদের সিন্দুক স্বর্ণ-রৌপ্য দ্বারা যতই পরিপূর্ণ হোক না কেন, জগতের কোনো কোণে এবং মানবগোষ্ঠীর কোনো স্তরেই তাদের সম্মান নেই। বরং তাদের এ কর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি এই যে, দরিদ্র ও নিঃস্বলোকদের অন্তরে তাদের সম্পর্কে প্রতিহিংসা ও যুগপৎ ঘৃণারই সৃষ্টি হয়। বর্তমান বিশ্বের সকল দাঙ্গা হাঙ্গামা ও যুদ্ধবিগ্রহ এ হিংসা ও ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ। শ্রম ও পুঁজির মধ্যকার সংগ্রামই বিশ্বে সমাজতান্ত্রিক মতবাদের জন্ম দিয়েছে। কম্যুনিজমের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা এ হিংসা ও ঘৃণারই ফল। ফলে সমগ্র বিশ্ব মারামারি, কাটাকাটি ও যুদ্ধ বিগ্রহের জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। এ হচ্ছে তাদের সুখ ও সম্মানের অবস্থা। অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, সুদের ধনসম্পদ সুদখোরের ভবিষ্যত বংশধরদের জীবনকেও কখনো সুখময় করে না। হয় তারা ধ্বংস হয়ে যায়, নাহলে এর অমঙ্গলে তারাও ধনসম্পদের সত্যিকার ফলাফল ভোগে বঞ্চিত হয়।
ইউরোপীয় সুদখোরদের দৃষ্টান্ত থেকে সম্ভবত কেউ ধোঁকা খেতে পারে যে, তারা তো সবাই সুখী ও সমৃদ্ধশালী। তাদের বংশধররাও সমৃদ্ধশালী হচ্ছে। কিন্তু প্রথমত, তাদের সমৃদ্ধির সংক্ষিপ্ত চিত্র এইমাত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তাদের অবস্থা হচ্ছে এইরূপ মনে করুন, কোনো আদমখোর অন্যান্য মানুষের রক্ত চুষে নিজ দেহের লালন -পালন করে এবং এ জাতীয় কতিপয় আদমখোর কোনো এক মহল্লায় বসতি স্থাপন করেছে। আপনি কাউকে এ মহল্লায় নিয়ে গিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করান। দেখা যাবে, তারা সবাই সুস্থ-সবল ও প্রফুল্ল। কিন্তু একজন মানবতার মঙ্গলকামী জ্ঞানী ব্যক্তি শুধু এ মহল্লাই দেখবে না।
সে এদের বিপরীতে ঐসব বস্তিও দেখবে, যাদের রক্ত চুষে তাদের অর্ধমৃত করে দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি আদমখোরদের মহল্লা এবং এসব বস্তির প্রতি লক্ষ্য করবে, সে কখনো মহল্লাবাসীদেরকে মোটাতাজা দেখে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারবে না এবং সামগ্রিক দিক দিয়ে এদের কর্মকে মানব জাতির উন্নতির উপায়ও বলতে পারবে না; বরং একে মানবতার বিপর্যয় ও ধ্বংস বলে আখ্যায়িত করতে বাধ্য হবে। এর বিপরীতে দান-খয়রাতকারীদেরকে দেখুন। তাদের কখনো ধনসম্পদের পিছনে দিশেহারা হয়ে ঘুরতে দেখবেন না। সুখের সাজ-সরঞ্জাম যদিও তাদের কম, কিন্তু সাজ-সরঞ্জামওয়ালাদের চাইতে শান্তি, স্বস্তি এবং মানবিক – স্থৈর্য তারা অনেকগুণ বেশি ভোগ করে থাকেন। বলাবাহুল্য , এটাই প্রকৃত সুখ। দুনিয়াতে প্রত্যেকেই তাদের সম্মান ও ভক্তির চোখে দেখে থাকে।
