প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৬, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ ۗ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ
অর্থ : হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুজি দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় করো, যাতে না আছে বেচাকেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফিররা প্রকৃত জালিম।
(সূরা বাকারা, আয়াত-২৫৪)
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
আল্লাহর পথে ব্যয় করতে দেরি করা অনুচিত : হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করো, কিয়ামতের সে দিনটি আসার আগে যে দিন (কোনো কিছুই নেক আমল সৎকর্মের পরিপূরক হতে পারবে না। কেননা, সেদিন) বেচাকেনাও চলবে না (যে, কোনো বস্তুর বিনিময়ে নেক আমল ক্রয় করবে) এবং (এমন) বন্ধুত্বও হবে না (যে কেউ তোমাদেরকে নেক আমল দিয়ে দিবে) আর না (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও) কোনো সুপারিশ (কার্যক্রম) হবে (ফলে তোমাদের আর সৎকাজের প্রয়োজন হবে না)। কাফিররা (নিজের কর্মশক্তি এবং ধনসম্পদ অস্থানে ব্যয় করে) নিজের উপর জুলুম করে। (তেমনিভাবে তারা শারীরিক ও অর্থনৈতিক আনুগত্য পরিহার করে পাপাচারের পথ অবলম্বন করে। কাজেই তোমরা তাদের মতো হয়ো না)।
বিস্তারিত জ্ঞতব্য বিষয়
এ সূরায় ইবাদাত এবং বৈষয়িক আচার-আচরণের বেশ কিছু বিধান এবং রীতিনীতি বর্ণনা করা হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মনের উপর চাপ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। যাবতীয় সৎকাজের মধ্যে জান-মাল ব্যয় করাটাই মানুষের কাছে সবচাইতে কঠিন মনে হয়। অথচ আল্লাহর বিধানসমূহের অধিকাংশই জান অথবা মাল সম্পর্কিত। তাছাড়া অধিকাংশ মানুষই পাপে লিপ্ত হয়, এই জানের মহব্বত অথবা মালের প্রতি (অতিরিক্ত) আসক্তির কারণেই।
সুতরাং বলতে গেলে এ দুটিই সমস্ত পাপের মূল উৎস। আর তা থেকে মুক্তি লাভই হলো যাবতীয় ইবাদাত-বন্দেগীর লক্ষ্য। কাজেই এসব বিধি-বিধান বর্ণনা করার পর যুদ্ধ ও আল্লাহর রাহে খরচের আলোচনা একান্তই যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
وقاتلوا في سبيل الله শীর্ষক আয়াতে জানের মহব্বত ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী আয়াত من ذاالذي يقرض الله এর মধ্যে সম্পদের মোহ ত্যাগ করে তা-ও আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে বিলিয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এরপরে বর্ণিত তালুতের কাহিনী দ্বারা একথা বোঝানো হয়েছে যে, মর্যাদা ও কর্তৃত্বপ্রাপ্তি ধনসম্পদের উপর নির্ভরশীল নয়। এটা একান্তভাবেই আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। উপরন্তু, যারা জানের পরোয়া না করেই আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করে, তাদের নজীর এবং প্রতিফলও তালুতের ঘটনাতে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর সম্পদ আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়ে জীবনের প্রকৃত সাফল্য লাভ করার উপদেশ দিয়ে বলা হয়েছে। انفقوا مما رزقنكم অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করো।
যেহেতু সম্পদ ব্যয় করার উপর অনেক ইবাদত ও মুআমালাত নির্ভরশীল, তাই এ বিষয়টি সমধিক বিস্তারিতভাবে এবং গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী রুকুতেও বেশির ভাগ আলোচনা সম্পদ ব্যয় প্রসঙ্গেই করা হয়েছে। যার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, এখনই কাজ করার সময়। পরকালে কোনো কাজ বা ক্রয়-বিক্রয় চলবে না, আর বন্ধুত্বের খাতিরেও কেউ কিছু দেবে না। পক্ষান্তরে কেউ এসে সুপারিশ করে মুক্ত করবে, তা-ও সম্ভব হবে না; যতক্ষণ আল্লাহ নিজে না ছাড়বেন।
