প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৬, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
এবং চিরকাল অবস্থিতির জান্নাতে অতীব উত্তম ঘর তোমাদিগকে দান করিবেন। ইহা বড় সাফল্য।
১৩. আর অন্যান্য যেসব জিনিস তোমরা চাও, তাহাও তোমাদিগকে দিবেন। আল্লাহর মদদ এবং খুব নিকটবর্তী বিজয়। হে নবী! ঈমানদার লোকদিগকে ইহার সুসংবাদ জানাইয়া দাও।
১৪. হে ঈমানদার লোকেরা, আল্লাহর সাহায্যকারী হও। যেমন করিয়া ঈসা ইবনে মরিয়ম হাওয়ারীগণকে লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছিলেন কে আছ আল্লাহর দিকে (আহ্বান জানাইবার কাজে) আমার সাহায্যকারী? এবং হাওয়ারীগণ জওয়াব দিয়াছিল : \”আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী? এই সময় নবী ইসরাঈলের একটি দল ঈমান আনিল, আর অন্য লোক-সমষ্টি অস্বীকার করিল। পরে আমরা ঈমান গ্রহণকারীদের তাহাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করিলাম। আর তাহারাই বিজয়ী হইয়া থাকিল ১।
১ মসিহর অমান্যকারীরা ইচ্ছে ইহুদী এবং তাঁর মান্যকারীদের অন্তর্গত হচ্ছে খ্রিস্টান ও মুসলমান। আল্লাহ তা\’আলা প্রথমে খ্রিস্টানদেরকে ইহুদীদের উপর বিজয়ী করেন। তারপর মুসলমানরাও তাদের উপর বিজয়ী হয়। এইভাবে মসিহ\’র অমান্যকারীরা উভয়েরই কাছে পরাজিত হয়েছে। এখানে এ ব্যাপারে মুসলমানদের এই বিশ্বাস দানের জন্যে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যেভাবে পূর্বে হযরত ঈসা (আঃ)-এর মান্যকারীরা তাঁর অমান্যকারীদের উপর বিজয়ী হয়েছে সেরূপভাবেই এখন মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মান্যকারীরাও তাঁর অমান্যকারীদের উপর বিজয়ী
(৬২) সূরা জুমুআ (আয়াত ১-৪ )
১. আল্লাহর তসবীহ্ করিতেছে- এমন প্রত্যেকটি জিনিস যাহা আকাশম-লে রহিয়াছে এবং এমন প্রত্যেকটি জিনিস যাহা পৃথিবীতে রহিয়াছে- রাজাধিরাজ, মহান-পবিত্র, মহা পরাক্রমশালী এবং সুবিজ্ঞানী তিনি।
২. এ তিনিই যিনি উম্মীদের ১ মধ্যে একজন রসূল স্বয়ং তাহাদেরই মধ্য হইতে দাঁড় করিয়াছেন যিনি তাহাদিগকে তাঁহার আয়াত শুনান, তাদের জীবন পরিশুদ্ধ-সুগঠিত করেন এবং তাহাদিগকে কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা দেন। অথচ ইহার পূর্বে তাহারা সুস্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল।
৩. আর (এই রসূলের আগমন) অন্যান্য সেইসব লোকদের জন্যও যাহারা এখনও তাহাদের সহিত আসিয়া মিলিত হয় নাই ২। আল্লাহ্ মহা শক্তিধর এবং সবকিছুর মূল তত্ত্ব সম্পর্কে অবহিত ৩।
৪. ইহা তাঁহার অনুগ্রহ। তিনি যাহাকে চাহেন, ইহা দান করেন এবং তিনি বড়ই অনুগ্রহদানকারী।
১ এখানে ইহুদী পরিভাষা হিসাবে উম্মী শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর মধ্যে এক সুস্থ বিরূপ প্রচ্ছন্ন আছে। এর মর্ম হচ্ছে, যে আরবদেরকে ইহুদীরা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে নিরক্ষর বলে ও নিজেদের তুলনায় হীন মনে করে সর্বজ্ঞাতা সর্বজয়ী আল্লাহ তাঁদেরই মধ্যে এক রসূল উত্থিত করেছেন। রসূল নিজে উত্থিত হননি, বরং তাঁর উত্থানকারী হচ্ছেন তিনি যিনি এই বিশ্বজগতের সম্রাট, প্রবল ও বিজ্ঞ; যাঁর শক্তির সঙ্গে সংগ্রাম করে এসব লোক নিজেদেরই ক্ষতি করবে। তাঁর কিছু ক্ষতি তারা করতে পারবে না।
২ অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেসালাত মাত্র আরবজাতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা দুনিয়ার সেইসব অন্যান্য জাতি ও বংশের জন্যেও তিনি নবী যারা এখনও এসে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হননি, কিন্তু ভবিষ্যতে কিয়ামত পর্যন্ত আসতে থাকবে।
৩ অর্থাৎ এ তাঁরই শক্তি ও জ্ঞান-মহিমা যে, তিনি এরূপ অসংকৃত উম্মী কতকওমের মধ্যে এরূপ মহানবী পয়দা করেছেন যাঁর শিক্ষা ও উপদেশ-নির্দেশ এরূপ উন্নত বিপ্লবাত্মক ও এরূপ বিশ্বজনীন চিরন্তন নীতিসমূহের বাহক যে তার উপর সমগ্র মানবজাতি মিলিত হয়ে একটি উম্মতে (আদর্শগত দলে) পরিণত হতে পারে, এবং চিরকাল সেই আদর্শ ও নীতিসমূহ থেকে পথ নির্দেশ লাভ করতে পারে।
