প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৬, জমা.সানী-রজব ১৪৩৭ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

সুবহা -নাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার

উপরের চারটি বাক্য একত্রে উল্লেখ করে এগুলোর বেশি বেশি জপ করার উৎসাহ প্রদান করে ও তার অপরিমেয় সাওয়াব বর্ণনা করে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ক সহীহ হাদীস সংকলিত করলেই একটি বড় বই হয়ে যাবে। এ সকল অগণিত হাদীস থেকে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি যে, রাসুল্লল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কত গুরুত্বের সাথে এ সকল যিকর সাহাবীগণকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং ফযীলত বর্ণনা করেছেন। নিম্নে এ বিষয়ক কিছু সহীহ হাদীস উল্লেখ করছি।

সামুরা ইবনু জুনদুব (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বাক্য চারটি: সুবহা-নাল্লাহ, আল- হামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এবং আল্লাহু আকবার। তুমি ইচ্ছামতো এই বাক্য চারটির যে কোনো বাক্য আগে পিছে বলতে পারো। (বাক্যগুলোর সাজানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম বা ফযীলত নেই।) (মুসলিম (৩৮- কিতাবুল আদাব, ২- বাব কারাহাতিত তাসমিয়াতি..) ৩/১৬৮৫ (ভারতীয় ২/২০৭))
আমি সুবহা-নাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকাবর বলতে এত বেশি পছন্দ করি যে, এগুলো বলা আমার কাছে পৃথিবীর বুকে সূর্যের নিচে যা কিছু আছে সবকিছু থেকে বেশি প্রিয়। (মুসলিম (৪৮-কিতাবুয যিকর, ১০-বাব ফদলিত তাহলীল) ৪/২০৭২ (ভারতীয় ২/৩৪৫০)

আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমরা যখন জান্নাতের বাগানসমূহে যাবে বা তা অতিক্রম করবে তখন তৃপ্তির সাথে বিচরণ ও ভক্ষণ করবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতের বাগানসমূহ কী? তিনি বললেন : মসজিদসমূহ। আমি বললাম : বিচরণ ও ভক্ষণ কি? তিনি বললেন : সুবা-হা-নাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। হাদীসটি হাসান। (তিরমিযী (৪৯ -কিতাবদ দাওয়াত, ৮৩-বাব…) ৫/৪৯৭-৪৯৮(ভারতীয় ২/১৯১); আত-তারগীব ২/৪২২, মাজমাউয যাওয়াদই ১০/৯১। তিরিমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান গরবী।)

অন্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকরকে (রা) বলেন : তুমি কি জান্নাতের বাগানের ফল ভক্ষণ করবে না? তিনি প্রশ্ন করেন: হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতের বাগানের ফল ভক্ষণ কি? তিনি বললেন: সুবা-হা-নাল্লাহ, আল-হামদুল্লিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। (হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯১। তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান গরীব)

এভাবে বিভিন্ন সহীহ ও হাসান হাদীসে এ বাক্যগুলোর অপরিমেয় সাওয়াব উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনু মাসঊদ, সালমান ফারিসী, আবু হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রা) বর্ণিত বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এ বাক্য চারটির প্রতিটি বাক্য একবার বললে জান্নাতের একটি করে বৃক্ষ রোপণ করা হয়। (মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৪০৭-৪০৮, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৮৮-৯০)

আবু যার (রা) ও আয়েশা (রা) বর্ণিত বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এ বাক্যগুলোর প্রত্যেক বাক্য একবার যিকর করা একবার আল্লাহর ওয়াস্তে দান করার সমতুল্য। ১১১ মুসলিম (১২-কিতাবুয যাকাত, ১৭- বাব যায়ানি আন্না ইসমাস সাদাকাতি…) ২/৬৯৭ (ভার ১/৩২৪)। আবু সালমা (রা) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এবাক্যগুলো কিয়ামতের দিনে বান্দার আমলনামায় সবচেয়ে বেশি ভারী হবে। (নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা ৬/৫০, মুসনাদে আহমদ ৩/৪৪৩, ৪/২৩৭, ৫/৩৬৫, তাবারানী , আল- মুজামুল কাবীর ২২/৩৪৮, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৯,১০/১৮৮) আবু হুরাইরা (রা) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : এ বাক্যগুলোই জাহান্নামের আগুন থেকে মমিনের ঢাল। (মুসতাদরাক হাকিম ১/৭২৫, নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা ৬/২১২, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৮৯, মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৪১৬)

আনাস (রা.) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: গাছের ডালে ঝাকি দিলে যেমন পাতাগুলো ঝরে যায় অনুরূপভাবে এ যিকরগুলো বললে বান্দার গোনাহ ঝরে যায়। (মুসনাদ আহমদ ৩/১৫২, আত-তারগীব ২/৪১৮)