প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬, মুহাররম-সফর ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

বড় কিয়ামতের অর্থাৎ বিবাহের প্রস্তুতিপূর্ব হিসাবে পান-চিনি প্রথাকে ছোট কিয়ামত বলাই যথোপযুক্ত মনে হচ্ছে। নিম্নের আলোচনা থেকে পান-চিনি প্রথাকে কিয়ামত বলার কারণ সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে

এক.

চিনি-পানের অনুষ্ঠানে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি বরপক্ষ থেকে প্রস্তাবের চিঠি নিয়ে কনের বাড়িতে আসলে কনেপক্ষীয়গণ ঘরে কোন কিছু না থাকলে ঋণ করে হলেও ঐ ব্যক্তিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশক উপঢৌকন প্রদান করে থাকেন। এ অনাবশ্যক রীতিকে এমন অত্যাবশ্যক মনে করা হয় যে, ফরয ওয়াজিবকে অবহেলা করা যায় কিন্তু একে অবহেলা করা যায় না। ঘরে ডাল-ভাতের জোগাড় না থাকলেও বিয়ের ঘটককে ভালো খাবার দিতে হবে, না হলে পান চিনিই নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে অপ্রয়োজনীয় কাজকে অত্যাবশ্যকীয় ধারণা করা হয় এবং শরীয়তের সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়। কাজেই এ প্রথা শরীয়ত বিরোধী। তদুপরি অভাবের সময় এ অনর্থক কাজের জন্য ঋণ করাও শরীয়তের বিরোধিতা ছাড়া কিছু নয়।

দুই.

ঘটককে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে দস্তরখানে শ’খানেক টাকা রাখা হয়, বরপক্ষ তা থেকে দুএক টাকা রেখে বাকী টাকা ফেরৎ দিয়ে দেয় এবং ঐ রেখে দেওয়া টাকা গরীবদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়। দুএক টাকা লেন-দেনের জন্য একশ টাকা রাখার কি অর্থ? অনেক সময় এ অর্থ নিয়ম পালনের জন্য সুদে ঋণ গ্রহণ করা হয়। এ সমস্ত কাজের হোতাদেরকে হাদীসে অভিশাপ করা হয়েছে। ঋণ না নিলেও তো এখানে আত্মগর্ব ও প্রতিপত্তি প্রকাশের প্রবণতা ছাড়া অন্য কোন বুদ্ধি কাজ করে না। একথা যখন সবারই জানা যে, এক দু’টাকার বেশি গ্রহণ করা যাবে না তখন একশ’ কেন এক হাজার টাকা দান করলেও তো কোন সুখ্যাতি হবার কথা নয়। দাতার মহানুভবতা তখনই প্রকাশ পায় যখন তার দানকে সম্পূর্ণ দান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটা তো একটা তামাশা ও ছেলে-ভুলানো খেলা ছাড়া কিছুই নয়। লোক দেখানোর উদ্দেশ্যেই এ কাজ সাধারণত করা হয়। আফসোসের বিষয়, তথাকথিত বুদ্ধিমানগণ পর্যন্ত এ অযৌক্তিক প্রথার শিকার হয়ে পড়েছেন।

মোটকথা, এতে মূলত রিয়ার গুনাহ হয় এবং সত্য বলতে কি এ কাজের আদৌ কোন মানে হয় না। রিয়ার পাপ হওয়ার বর্ণনা পূর্বেই এসে গেছে আর অমূলক কাজ নিন্দনীয় হওয়া সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির ইসলামের শোভা হচ্ছে অনর্থক কাজ ও কথা পরিত্যাগ করা। বুঝা গেল, অনর্থক কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের পরিপন্থী। সুদে ঋণ গ্রহণ করার দূষণীয়তা সম্পর্কে তো সবাই ওয়াকিফহাল।

তিন.

অতঃপর কনেপক্ষ ঘটককে পরনের কাপড় ও শখানেক টাকা দিয়ে থাকে। এখানেও আগের মতই এক-দুই টাকা ঘটক গ্রহণ করেন। বাস্তবিকই কি বিচিত্র মানসিকতা, এমন একটা অযৌক্তিক প্রথাকে কোন কোন বুদ্ধিমানও অপকটে গ্রহণ করতে লজ্জাবোধ করেন না। এর অপকারিতা ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

চার.

ঘটক ফেরত চলে যাওয়ার পূর্বে স্ত্রীলোকগণ জড়ো হয় আর গায়িকারা গান শুরু করে। এ ধরনের জড়ো হওয়া ও গান করা শরীয়ত বিরোধী কাজ হওয়ার কারণ অন্য সংখ্যায় আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

পাঁচ.

ঘটক একবার সেই পোশাক পরে নেন অতঃপর সেই উপহৃত টাকা আর কাপড় মহল্লার সকল আত্মীয়-স্বজনের ঘরে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, তা দেখে অনেকে প্রশংসা করেন আর অনেকে পোশাকের দোষ-ত্রুটির অনুসন্ধানে থাকেন। এ প্রথার প্রতিটি পদক্ষেপে নিয়ত বিশুদ্ধ থাকা যদিও আবশ্যক তথাপি বাস্তবে তা হয় না। ঘটকের জন্য জামা জোড়া প্রস্তুত করতে গিয়ে সবারই উদ্দেশ্য থাকে, কেউ যেন দোষ বের করতে না পারে। এতে করে লোক দেখানো ও অপব্যয় হয় যা কোরআন-হাদীসে পাপ কাজ বলে ঘোষিত হয়েছে। কেউ কেউ অত্যন্ত গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাতে ত্রুটি খোঁজেন এবং প্রস্তুতকারকদের গীবত করতে শুরু করেন। এই গীবতের জন্য গীবতকারী ও জামা প্রস্তুতকারী উভয়ই গোনাহগার হবে। মোটকথা, জামা প্রস্তুতকারীগণ রিয়া, অপব্যয় ও গীবত ইত্যাদি গোনাহের পাপী হয় আর দর্শকগণ গীবতের কারণে পাপী হয়। কেউ যদি গীবত না করে তবুও রিয়ার গোনাহ হবেই। কেননা, লোকজন যদি প্রশংসা না করতো তাহলে প্রস্তুতকারীর মনে রিয়া স্থান পেত না। এটা এমন এক মন্দ প্রথা যা সবাইকে পাপী করে ছাড়ে।

ছয়.

কিছুদিন পর কণেপক্ষ বরের বাড়িতে মিষ্টি, আংটি, রুমাল চাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে জোগাড় করা হয়। এখানেও রিয়া ও অপব্যয় হয়। উপহার সংগ্রহের অপকারিতা আগেও বর্ণিত হয়েছে, বড় কিয়ামতের অনুচ্ছেদে আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সাত.

যে লোক মিষ্টি নিয়ে আসে তাকে জামাজোড়া ও তার সাথীদেরকে পাগড়ী ও টাকা-পয়সা দান করে বিদায় দেওয়া হয়। সেই মিষ্টি মহল্লার বয়স্কা মহিলাগণ বাড়ি বাড়ি বিতরণ করেন। যারা মিষ্টি নিয়ে আসে তাদের জন্য সাধারণত কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত থাকে না। পারিশ্রমিক নির্ধারিত না থাকার কারণে কোন লোকই সে কাজ করতে সহজে সম্মত হয় না বরং নিজের ব্যস্ততা, অসুখ-বিসুখ ইত্যাদি অজুহাত দেখিয়ে কেটে পড়তে চায়। তখন কনেপক্ষের কর্তা ব্যক্তি নিজে কিংবা অন্য কোন ভাইয়ের মাধ্যমে প্রভাব খাঁটিয়ে তাদেরকে যেতে বাধ্য করেন, একাজ সম্পূর্ণ অবিচার ও অন্যায়। অত্যাচারের শাস্তি আখেরাতে হয়ই দুনিয়াতেও হয়। পারিশ্রমিক অনির্ধারিত থাকাও শরীয়ত-বিরোধি কাজ। মিষ্টি বিতরণে রিয়ার সম্ভাবনা অত্যধিক। বিতরণের কাজে যারা আত্মনিয়োগ করেন তাদের নামায ওয়াক্ত মতো তো হওয়া মুশকিল, এমনকি দু’এক ওয়াক্ত ছেড়ে দিতেও তারা কসুর করেন না, এটাও একটা শরীয়ত বিরোধি কাজ। মানহানীর ভয়ে শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়াই দান প্রত্যাখ্যান করা বা ফিরিয়ে দেওয়া শরয়ী আইনের বিরোধিতা। আর এক্ষেত্রে দান গ্রহণ করাও তো রিয়ার প্রথা চালু থাকার সহায়ক। কাজেই এটাও শরীয়ত অনুযায়ী ঠিক হবে না। মোটকথা উপরোক্ত সকল দূষণীয় কর্ম অবশ্য পরিত্যাজ্য।

একখানা পত্রের মাধ্যমে বা সাক্ষাৎ আলোচনা করে বিয়ের প্রস্তাব দান করা যায়। একপক্ষের প্রস্তাবের পর অপর পক্ষ যথাযথ তথ্যানুসন্ধান করে মনঃপূত হলে সে একখানা পত্রের মাধ্যমে বা সাক্ষাতে প্রস্তাব গ্রহণ করে নিলেই চলে। যেমন ধরে নিলাম,পান-চিনি করলে তেমন কিছু হয় না। এতে করে গৃহীত প্রস্তাবে অটল দেখানোই উদ্দেশ্য। কিন্তু কোন ব্যাপারে অটল দেখানোর জন্য পাপ কর্ম করা তো জায়েয নয়। উপরন্তু, এতসব প্রথা পালনের পরও প্রস্তাব মনঃপূত না হওয়ার দরুন তা প্রত্যাখ্যান করতে দেখা যায় প্রায়শই। এতে কোন পক্ষের কিছুই করার থাকে না।
* * * * * * *
সাধারণ্যের পরিভাষায় যাকে বিয়ে বলা হয় আমি তাকে নাম দিয়েছি বড় কিয়ামত। এটা এত বড় কিয়ামত যে দ্বীন ও দুনিয়া সবকিছু ধবংস করে ফেলে। বিয়ের নামে প্রচলিত প্রথাসমূহের অপকারিতার প্রতি লক্ষ্য করলে একে বড় কিয়ামত হিসাবে অভিহিত করা অত্যন্ত স্বাভাবিক মনে হবে।

এক.

সর্বপ্রথম কনেপক্ষের পুরুষ আত্মীয়গণ একত্র হয়ে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করে চিঠি লিখে তা ঘটকের মারফত বরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এই প্রথা এত কঠোরভাবে পালন করা হয় যে, যত বাধা- থাকুক না কেন ঘটককেই সে পত্র নিয়ে যেতে হবে, ডাকে অথবা ঘটকের চেয়ে অধিক বিশ্বস্ত কাউকে দিয়েও সে পত্র পাঠানো যাবে না। শরীয়ত যা আবশ্যক করেনি তাকে শরীয়তের নির্দেশের চাইতেও বেশি প্রয়োজনীয় ও পালনীয় মনে করা কি আদৌ উচিত হবে? একি শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধিতা নয় ? আর শরীয়ত বিরোধী রীতি অবশ্য পরিত্যাজ্য নয় কি? পুরুষগণের একত্রিত হওয়াকে জরুরি মনে করাও তেমনি দূষণীয়। কেউ যদি দাবী করেন, পরামর্শের উদ্দেশ্যে পুরুষদেরকে একত্রিত করা হয়, তাহলে তা মানা যাবে না। কেননা, আমন্ত্রিতরা এসে কেবল ভিতরবাড়িতে যে তারিখ ঠিক হয় সেই তারিখই চিঠিতে লিখে দিয়ে যায়। আর একান্ত পরামর্শ গ্রহণই যদি ইচ্ছা হতো, তাহলে তো দু’একজন বুদ্ধিমান দূরদর্শী মুরুব্বীর পরামর্শ নিলেই চলতো, এতো লোককে আমন্ত্রণ করার কোন মানে হয় না। আমন্ত্রিতদের মধ্যে আবার অনেকে নিজে না এসে ছোট ছোট ছেলেদের পাঠিয়ে দেন, তারা পরামর্শের কোন ঘাট করবে? বোঝা গেল, এ রসূমের প্রত্যেকটা অংশই শরীয়তবিরোধী। শাস্ত্র ও যুক্তি সবটাই এর বিপক্ষে; অতএব এটা বর্জনীয়। এই রসূমের একটা আবশ্যকীয় অংগ হলো চিঠি বোটাদার এবং লাল রঙের হতে হবে। অনর্থককে আবশ্যক করার তালিকায় এটাও রয়েছে।

দুই.

কনের আত্মীয়রা ও পড়শী মহিলাগণ মিলে কনেকে একটা পৃথক ঘরে বন্দী করে রাখেন। একে বলা হয় জলাসন। এর নিয়মাবলী হলো, কনেকে একটা খাটে বসিয়ে তার ডান হাতে হলুদের বাটি এবং কোলে কিছু খেলনার বাতাশা রেখে আরো কিছু বাতাশা উপস্থিতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এরপর প্রতিদিন কনের গায়ে হলুদ মাখিয়ে দেওয়া আর বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ চলতে থাকে। এই রসূমেরও অনেক খারাপ দিক রয়েছে। প্রথমত, তাকে আলাদা ঘরে বসিয়ে রাখাকে অবশ্য করণীয় মনে করা। যতই অসহ্য গরম হোক, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসুক অসুস্থ হয়ে পড়–ক এসবে কিছু আসে যায় না, আলাদা ঘরে রাখতেই হবে। অনাবশ্যককে আবশ্যক করে নেওয়ার প্রবণতা এখানেও ক্রিয়া করে। ক্ষতি করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট সবাই পাপী হবে। দ্বিতীয়ত, বিনা প্রয়োজনে খালি কাটে বসিয়ে রাখার কি মানে? বিছানার উপর বসিয়ে গায়ে হলুদ দিলে বুঝি গায়ে ময়লা লেগে যাবে? এখানেও অনাবশ্যককে আবশ্যক করা হয়েছে, যার নিষিদ্ধতা বার বার উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, ডান হাতে বাটি রাখা আর কোলে খেলনার বাতাশা রাখা ইত্যাদিকে যদি টুটকা মনে করা হয়, তাহলে শিরক হবে। শিরক যে ইসলামের পরিপন্থী তা কে না জানে? টুটকা মনে না করলেও তো এতে এক অনর্থক কাজকে আবশ্যক করে নেয়া হয়। তেমনি ভাবে বাতাশা বিতরণ করাও। এতে করে আত্মম্ভরিতার বহিঃপ্রকাশও ঘটে থাকে। চতুর্থত, যুবতী ও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের সমবেত হওয়া যে সকল বিশৃঙ্খলার মূল তা শীঘ্রই ব্যাখ্যা করবো ইনশাআল্লাহ। শরীর পরিষ্কার ও কমনীয় করার উদ্দেশ্যে যদি একান্তই হলুদ মাখতে হয়, তাহলে এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু এসব প্রথা অনুসরণ করা চলবে না।

তিন.

এই চিঠি নিয়ে ঘটক যখন বরের বাড়িতে যান তখন সেখানকার মহিলাগণ সমবেত হয়ে দুটো বড় বড় পাত্রে সুস্বাদু আহার্যাদি সাজিয়ে রাখেন। এর একটা বহির্বাড়িতে ঘটকের উদ্দেশ্যে পরিবেশন করা হয় আর অপরটি ভিতরবাড়িতে ডুমনীদেরকে পরিবেশন করা হয়। বরের পুরুষ আত্মীয়গণ ঘটককে বড়ই সম্মানের সাথে তা পরিবেশন করে থাকেন। ডুমনীরা ঘরের দরজার কাছে বসে গালিমিশ্রিত গান গেয়ে থাকে। এ প্রথাও অনাবশ্যককে আবশ্যক করার কারণে শরীয়তবিরোধি। এর দ্বিতীয় মন্দদিকটি হলো, ডুমনীদের গানের পারিশ্রমিক প্রদান করা হারাম। তৃতীয়ত, তাদের গান গালিমিশ্রিত হওয়ায় সকল শ্রোতাই এতে পাপী হবে। কেননা, যে গোনাহের সমাবেশে যায় সেও গোনাহগার হয়। উপরন্তু, হাদীসে এ ধরনের গালিমিশ্রিত কথাকে মুনাফেকীর আলামত বলা হয়েছে। চতুর্থত, পুরুষ লোকদেরকে জড়ো করাও একটা অযথা কাজ। এক ঘটককে মেহমান নোয়াজী করতে পাড়ার সকল মুরুব্বীর সহায়তার কি প্রয়োজন তা বুঝে আসে না। আসলে এসব কিছুই নয়, আগে থেকে চলে আসছে তাই পালন করতে হয়।

চার.

ঘটক শোকরানা খেয়ে নিয়ে কনের অভিভাকর নির্দেশ মতো এক-দুই টাকা পাত্রে রেখে দেন। এই দু-এক টাকা পরে বরের মধ্যস্থতাকারী ও ডুমনীদের মধ্যে আধাআধি করে ভাগ করে দেওয়া হয়। অপর পাত্রটি ডুমনীরা তাদের ঘরে নিয়ে যায়। অতঃপর মহিলাদের মধ্যে বিতরণের জন্য আরেকটা শোকরানা বরতন প্রস্তুত করা হয়। এই প্রথাতেও রিয়া, অহংকার প্রকাশ এবং অনাবশ্যককে আবশ্যক করার গোনাহ হয়ে থাকে। কাজেই এ প্রথাও সম্পূর্ণ শরীয়তবিরোধী।

পাঁচ.

সকালে পাড়ার মুরুব্বীগণ মিলে কনেপক্ষের প্রেরিত পত্রের উত্তর লিখেন, ঘটককে দামী জামা জোড়া ও শ-দু শ টাকা দেন। এ রসূমের আগের মতোই শ’ দু শ টাকা দেখিয়ে দুই-এক টাকা গ্রহণ করা হয়। রিয়া ও অনর্থক কাজ ছাড়াও কখনও কখনও এই প্রথা পালন করার জন্যে সুদে ঋণ গ্রহণ করে আরো বাড়তি পাপ করা হয়।

ছয়.

এরপর ঘটক কনেপক্ষের বাড়িতে পৌঁছে। প্রথম থেকেই সেখানে পাড়ার মহিলাগণ জমায়েত হয়ে থাকে। ঘটক তাঁর জামা জোড়া দেখানোর জন্য অন্দর মহলে প্রেরণ করে, তা নিয়ে পাড়ার সকল ঘরে ঘরে দেখানো হয়। এ প্রথাতে নারীদেরকে একত্রিত করা এবং জামা জোড়া প্রদর্শনে রিয়া ও অহম প্রকাশ পায়।

সাত.

ঐ দিন থেকে বরকে হলুদ মাখানো শুরু হয়। বিয়ের নির্ধারিত দিন পর্যন্ত পাড়ার মহিলাগণ মিলে বরের বাড়িতে বরী এবং কনের বাড়িতে জেহেযের আয়োজন করতে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষের বাড়িতে যে সকল মেহমান আসেন তাদের যাতায়াত খরচ সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বহন করতে হয়। এ ক্ষেত্রেও নারীদের সম্মিলন এবং অনাবশ্যককে আবশ্যক করার গোনাহ হবে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মেহমানদের যাতায়াত খরচ দিতেই হবে। এতে সুনাম অর্জন ও প্রতিপত্তি প্রকাশের বাসনা বিদ্যমান। বিয়ে-বাড়ি থেকে খরচ পাওয়া যাবে-মেহমানদের মনে এ ধারণা বদ্ধমূল থাকলে তা জুলুম হবে। রিয়া আর জুলুম দুটোই শরীয়তবিরোধী।
বরী ও জেহেয বিয়ের দুটো প্রধান আনুষ্ঠানিকতা। বরী মূলতঃ বর বা বরপক্ষ কর্তৃক কনে বা কনেপক্ষকে প্রদত্ত দান আর জেহেয হচ্ছে অভিভাবক কর্তৃক কন্যার প্রতি স্নেহের নিদর্শন। উভয় কাজই বৈধ এবং উত্তম। কিন্তু প্রচলিত প্রথায় এতে অনেক অপকারিতা নিহিত। সত্যি বলতে কি, সেই বরী ও জেহেযকে বর্তমানে দান ও স্নেহের নিদর্শন মনে করে দেওয়া হয় না, বরং সুনাম ও খ্যাতি অর্জনের লক্ষ্যে একটা প্রথা হিসাবে তা পালন করা হয়। এই কারণে বরী ও জেহেযের প্রচার করা হয়। বরীতে কি কি জিনিস থাকবে তাও নির্দিষ্ট রয়েছে। এতে এক বিশেষ ধরনের পাত্র ব্যবহার করা জরুরি মনে করা হয়। বড়ই আড়ম্বরের সাথে তা কনের বাড়ি প্রেরণ করা হয়। একটা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে উপস্থিত সকলের সামনে বরী উন্মুক্ত করা হয়। বরী প্রদানে যদি দান করার উদ্দেশ্যে হতো, তাহলে ঘটা করে প্রথা পালন না করে বরং যখন যা পাওয়া যেত তা-ই চুপে চুপে করেন বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। জেহেযের উপকরণাদিও তেমনি নির্দিষ্ট রয়েছে। কোন দিন দিতে হবে? কি দিতে? কখন দিতে হবে? কে দেখতে পারবে? কে পারবে না- ইত্যাদি সব কিছুই নির্ধারিত। স্নেহ-মমতা দেখানোর সত্যিই কোন ইচ্ছা থাকলে এসব নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে যখন যা হাতের কাছে পাওয়া যায় তা-ই প্রদান করা যায়। দান-উপহার করার জন্য কেউ কোন দিন ঋণ করতে রাজী হবে না, কিন্তু এ প্রথা পালনের জন্য সুদে হলেও ঋণ করবে। নিজের জায়গা-জমি বিক্রি করে বা বন্ধক রেখে হলেও এ অর্থ সংগ্রহ করতেই হবে। অতএব এ ক্ষেত্রেও অনাবশ্যককে আবশ্যক করা, প্রশংসিত হবার বাসনা এবং অপচয় ইত্যাদির পাপ রয়েছে। কাজেই নিষিদ্ধ কাজের তালিকায় এর নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আট.

বরযাত্রার আগের দিন বরপক্ষের প্রতিনিধি কনের জন্য মেহদী নিয়ে এবং কনেপক্ষের প্রতিনিধি বরের জন্য জামা-জোড়া নিয়ে একে অপরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। ঐ দিন বরের বাড়িতে মহিলাগণ জমায়েত হয়ে কনের চুলা তৈরি করেন। গরীব-মিসকীনদের মধ্যে বাতাশা বিতরণ করেন। এটা একটা অযথা কর্ম যাকে আবশ্যক করে নেয়া হয়েছে। মহিলাদের জমায়েতে অগণিত দূষণীয় দিক বিদ্যমান। যেমন

(১) কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলে প্রত্যেক স্ত্রীলোকই নতুন পোশাক বানানোর ধান্ধায় লেগে যায়। কখনও বা স্বামীর উপর নতুন পোশাক দানের নির্দেশ জারী হয়, কখনও বা নিজেই দর্জি ডেকে এনে বাকীতে বা সুদে কাপড় ক্রয় করে নেয়। স্বামী অসামর্থ্যতার অজুহাত পেশ করলেও কোন ফলোদয় হয় না। আসলে রিয়া ও অহংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এ নতুন পোশাকের আবদার।

(২) এই উদ্দেশ্যে সম্পদের অপচয় হয়।

(৩) আর্থিক সঙ্গতির বাইরে অপ্রয়োজনীয় বস্তু ক্রয়ের জন্য স্বামীকে চাপ দিয়ে তাকে কষ্ট দেওয়া হয়।

(৪) গায়র মুহাররম কাপড় বিক্রেতাকে ডেকে এনে তার সাথে কথা বলা, তার সামনে বিনা প্রয়োজনে চুড়ি, মেহদি ইত্যাদি প্রকাশ করা ইসলামী পর্দার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

(৫) সুদে কাপড় কেনা সুদ প্রদানেরই অন্যরূপ।

(৬) স্ত্রীর অত্যধিক পীড়াপিড়িতে স্বামী যদি হারাম আয় অর্থাৎ, অন্যের হক আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ ইত্যাদি করে স্ত্রীর মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে তাহলে হারাম কাজে উদ্বুদ্ধ করার অপরাধে স্ত্রী গুণাহগার হবে।

(৭) এসব পোশাকে ব্যবহারের জন্য অনেক সময় সোনা-রুপার বোতামাদি খরিদ করা হয়। এতে অজ্ঞানতা বশতঃ সুদে ঋণ গ্রহণ করে হারাম কাজ করা হয়।

(৮) যে কোন পোশাক নিয়ে এক অনুষ্ঠানের পরে দ্বিতীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া অপমানজনক ভেবে বার বার নতুন নতুন পোশাক তৈরি করে ঐ গোনাহসমূহ পুনঃ পুনঃ করা হয়।

(৯) অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য অন্যের অলংকার চেয়ে নিয়ে পরা এবং ধার করে আনার কথা গোপন রেখে তা নিজের বলে প্রকাশ করা এক ধরনের মিথ্যাবাদিতা। হাদীসে আছে, যে অপরের জিনিস ব্যবহার করে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করে সে যেন মিথ্যা ও ধোঁকার দুই কাপড়ে আপদমস্তক ঢেকে নিল।

(১০) অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে মহিলাগণ এমন অলংকার পরে থাকেন যেগুলোর ঝংকার অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে। শব্দকারী অলংকার পরা এমনিতেই নিষিদ্ধ। হাদীসে এসেছে প্রতিটি বাজনার সাথে শয়তান রয়েছে।

(১১) রওয়ানা হবার সময় গোসল আর সাজ-পোশাক করতে করতে কোন দিকে নামাযের সময় গত হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল থাকে না। এভাবে নামায কাযা হয়ে গেলে আরেকটা বিরাট গোনাহ হয়।

(১২) গাড়োয়ান তাড়াহুড়া করলে বেগম সাহেবা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন, তা রাস্তার লোকও শুনতে পায়। বিনা কারণে কোন গরীব লোককে এভাবে গালিগালাজ করা প্রকাশ্য যুলুম।

(১৩) বেগম সাহেবা যখন পাল্কীতে বা গাড়িতে চড়ে বিয়ে বাড়ি রওয়না হন তখন পথচারীদেরকে সুগন্ধিতে আপ্লুত করে চলেন। পর্দা রক্ষার কোন প্রয়োজন বোধ করেন না। গায়র মুহাররম পুরুষের সামনে দিয়ে বেহায়া নারীর এ ধরনের চলাফেরাকে হাদীস শরীফে কঠোরভাবে তিরষ্কৃত করা হয়েছে।

(১৪) যানবাহন থেকে নেমেই বে-পরওয়াভাবে ঘরে ঢুকে পড়লে অনেক সময় ভিতরে অবস্থানকারী গায়র মুহাররম পুরুষের সম্মুখীন হতে হয়। এ ধরনের সন্দেহ থাকলে প্রথমেই অনুসন্ধান করে দেখে-শুনে ঘরে প্রবেশ করা উচিত। অন্যথায় গোনাহ হবে।

(১৫) ঘরে প্রবেশ করে সালাম না করা বা মুখে উচ্চারণ না করে কেবল মাথায় হাত লাগিয়ে সালাম করা বা শুধু সালাম শব্দ উচ্চারণ করা সুন্নতের খেলাফ।

(১৬) কয়েকজন স্ত্রীলোক একত্র হলে গীবত করাটা তাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়; অথচ গীবত করা সম্পূর্ণ হারাম।

(১৭) আলাপ-আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে নিজের পোশাক-আশাক ও অলংকারাদির প্রতি অপরের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে হাত-পা তথা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়ানো রিয়া-হারাম।

(১৮) অন্যের সাজ-পোশাকের প্রতি কটাক্ষ করে তাকে ছোট লোক ও নিজেকে বড়লোক ভাবা সুস্পষ্ট অহংকার।

(১৯) অন্যকে নিজের চেয়ে উত্তম পোশাকে সজ্জিত দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া, নিন্দাবাদ করা ও লোভ করা সবকিছুই গোনাহর কাজ।

(২০) অযথা গল্প-গুজব করে নামাযের সময় অতিবাহিত করা বা শেষ ওয়াক্তে নামায পড়াও গোনাহর কাজ।

(২১) অনুষ্ঠানাদিতে জড়ো হয়ে একে অপরের কাছ থেকে দেখে দেখে, শুনে শুনে এ সমস্ত অবাঞ্ছিত প্রথাসমূহ শিক্ষা করা যেমন পাপ, শিক্ষা দেওয়াও তেমনি পাপ।

(২২) পানি আনয়নকারী পুরুষদেরকে নেকাব লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয় অথচ স্ত্রীলোকগণ আলাদা ঘরে থাকতে রাজী নন। ইচ্ছা করে বেগানা পুরুষের চোখের সামনে বসা হারাম জেনেও একাজে তাদের লজ্জা হয় না।

(২৩) এক একজন ভদ্র মহিলা তিনটা-চারটা ছেলে-মেয়ে সাথে নিয়ে খেতে বসেন। বাচ্চারা খাদ্যদ্রব্যের অপচয় করে। মেজবানের মাল ও মানের যতই ক্ষতি হোক না কেন সেদিকে লক্ষ্য করা হয় না।

(২৪) খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ বাড়িতে ফেরত যাবার সময় যানবাহনের দরজায় সবাই একসাথে ইয়াজুজ-মাজুজের মতো ভিড় করে, গাড়ির ছোট্ট দরজা দিয়ে কে কার আগে উঠবে এই প্রতিযোগিতা চলে। গাড়োয়ান দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য অবলোকন করে।

(২৫) কারো কোন কিছু হারিয়ে গেলে প্রমাণ ছাড়াই কাউকে অপবাদ দেওয়া, এমনকি অনেক সময় তার উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ জাতীয় গোনাহর কাজ প্রায় প্রত্যেক বিয়ে-শাদীতেই হয়ে থাকে।

(২৬) বিয়ে-বাড়ির পুরুষ সদস্যগণ প্রায়ই কারণে-অকারণে ভিতর বাড়িতে প্রবেশ করেন, তাদের সামনে পড়লে কোন কোন মহিলা মুখ ফিরিয়ে নেন, কেউ কেউ অন্য লোকের আড়ালে চলে যান, কেউ কেউ মাথা নীচু করেন, মনে করেন এতে পর্দা হয়ে গেছে আর বিশেষ পরিচিতাগণ তো পর্দা করার প্রয়োজনই বোধ করে না।

(২৭) বর ও বরযাত্রীদের আনাগোনা এবং ঢং-তামাশা দেখা স্ত্রীলোকদের নিকট জরুরি মনে হয়। বেগানা পুরুষকে নিজের শরীর দেখানো যেমন জায়েজ নয়, বেগানা পুরুষকে দেখাও তেমনি নাজায়েয।

(২৮) বিয়ের পর কয়েক দিন পর্যন্ত অনুষ্ঠানে যোগদানকারী মহিলাদের ত্রুটি-বিচ্যুতির বর্ণনা অনবরত চলতে থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠানে মহিলাগণ জড়ো হয়ে এমনি ধরনের আরো অনেক গুনাহে শরীক হন যা সচেতন দ্বীনদার মাত্রই উপলদ্ধি করতে সক্ষম। অতএব, আমার মতে, সর্বাগ্রে এইসব অনাসৃষ্টির মূল কারণ অর্থাৎ, বিয়েতে অযথা স্ত্রীলোকের সমাবেশকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

নয়.

বিয়ের দিন সকালে বরকে গোসল করিয়ে বাদশাহী সাজে সজ্জিত করা হয়। কোন কোন বিয়েতে বরকে শরীয়তবিরোধী পোশাক পরাতে দেখা যায়। পোশাক পরানোর পর বরকে ঘরে ডেকে নিয়ে একটা খাটের উপর দাঁড় করিয়ে বোন-ভাগ্নির হক আদায় করা হয়। এ সময় পাড়ার মহিলাগণ জড়ো হয়ে ভিখারীদের মধ্যে টাকা-পয়সা বিতরণ করেন। অনেক পর্দানশীন মহিলা এ সময় বরের সম্মুখে যেতে কুণ্ঠাবোধ করেন না, তারা মনে করেন, এটা বরের জন্য লজ্জার সময়, তাই কারো দিকে তাকাবে না। অনেক ধরনের লোক আছে, তম্মধ্যে কেউই যে স্ত্রীলোকদের দিকে তাকাবে না, এ নিশ্চয়তা কোথায় পেলেন ? বর্তমানে তো খারাপ লোকের সংখ্যাই বেশি, বর না দেখলেও বরকে দেখা উচিত হবে না। হাদীসে বলা হয়েছে, যে দেখে এবং যে নিজেকে প্রদর্শন করে এ উভয় ব্যক্তিই আল্লাহর অভিশপ্ত। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে বর ও স্ত্রীলোকগণ সমান পাপী হবে।

দশ.

বর্তমানে বরযাত্রাকে বিয়ের একটা অপরিহার্য অঙ্গ বলে ধারণা করা হয়। এ নিয়ে বর ও কনেপক্ষের মাঝে অনেক কথা কাটাকাটি হতে দেখা যায়। আসলে সুনাম ও অহংকার প্রকাশার্থেই এ আড়ম্বর। প্রথম প্রথম বোধ হয় ডাকাতের হাত থেকে জানমালের নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে প্রতি ঘর থেকে একজন করে বরযাত্রী নেওয়ার প্রচলন শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে পথে বিপদাশংকা থাক বা নাই থাক বরযাত্রীর সংখ্যা অধিক হওয়া অত্যাবশ্যক। এমনকি অনেক সময় কনেপক্ষ পঞ্চাশ জনের কথা বললে তারা যান একশ জন। এভাবে আমন্ত্রণ ব্যতীত কারো বাড়িতে যাওয়া ঠিক নয়। হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে গেল সে যেন চোর ও লুটেরার মতো পাপী হবে। নির্ধারিত সংখ্যকের বেশি বরযাত্রী কনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলে কনেপক্ষকে লজ্জায় পড়তে হয়। এভাবে কাউকে অপমান করা গোনাহর কাজ। মাঝে মাঝে এই বরযাত্রীর সংখ্যা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এমন অনভিপ্রেত রেষারেষির সৃষ্টি হয় যে, আজীবন তার প্রভাব মন থেকে দূর হয় না। জেদবশতঃ কারো সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা হারাম বিধায় এর কারণ অর্থাৎ, অত্যধিক সংখ্যক বরযাত্রী গমন করাও নাজায়েয।