প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭, জমা.আউ-জমা.সানি ১৪৩৮ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
বিয়ে-শাদীর মাসায়েল
এখন বিয়ে-শাদী সম্পর্কিত কিছু নিত্য-প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েলের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যাক। সর্বসাধারণ বিশেষতঃ কাজি সাহেবগণের এতদসংক্রান্ত জ্ঞান অবশ্যই থাকা চাই। জ্ঞানের অভাবের কারণেই অনেক সময় বিয়ে-শাদী বিনষ্ট হয়ে যায়।
মাসআলা
এক.অভিভাবকের অনুমতি ভিন্ন নাবালেগা মেয়ের বিয়ে সিদ্ধ হবে না। এ ক্ষেত্রে স্বয়ং কনের মৌখিক সম্মতিও গ্রহণযোগ্য নয়। অপ্রাপ্ত বয়স্কা কনের প্রথম বিয়ে ও দ্বিতীয় বিয়েতে এ হুকুমের কোন তারতম্য নেই।
দুই. কোন জরুরি কারণে পিতা অথবা দাদা যদি অপ্রাপ্তা বয়স্কা কন্যাকে গায়র কুফু অর্থাৎ অসম স্থানে বিয়ে দেন তাহলে সে বিয়ে সিদ্ধ হবে; তবে সেই কারণের প্রকাশ্য বিরোধী কোন কারণ পাওয়া গেলে তা সিদ্ধ হবে না। পিতা বা দাদা ছাড়া অন্য কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্কাকে গায়র কুফুতে বিয়ে দিলে সে বিয়ে সিদ্ধ হবে না।
তিন. স্বয়ং কনের সম্মতি ব্যতিরেকে বালেগা কন্যার বিয়ে জায়েয হবে না। এটা যদি তার দ্বিতীয় বিয়ে হয় তাহলে মৌখিক সম্মতি প্রয়োজন। প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে সম্মতিপ্রার্থী যদি ওয়ালি বা অভিভাবক হন তাহলে কনের নিরবতাকেই সম্মতি বলে ধরে নেয়া যাবে, তবে সম্মতিপ্রার্থী অভিভাবক না হলে কনের মৌখিক সম্মতি ব্যতীত বিয়ে শুদ্ধ হবে না।
চার. প্রাপ্তবয়স্কা কনে যদি বৈধ অভিবাবকদের অনুমতি ব্যততি সমপর্যায়ভুক্ত (কুফু) পুরুষের নিকট বিয়ে বসে যায় তাহলে তা জায়েয হবে, তবে গায়র কুফুতে বিয়ে বসলে বিয়ে জায়েয হবে না। অবশ্য কোন মেয়ের যদি ওয়ালিই না তাকে অথবা গায়র কুফুতে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাবার পর বৈধ অভিভাবকগণ তাতে সম্মত হয়ে যান তাহলে সে বিয়ে নাজায়েয হবে না।
পাঁচ. ওয়ালি যদি বালেগার সম্মতি না নিয়ে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় এবং পরে কনে সে সংবাদ শুনেও চুপ করে থাকে তাহলে বিয়ে সিদ্ধ হয়ে যাবে। ওয়ালি নয় এমন ব্যক্তি কনের সম্মতি চাইলে সে যদি চুপ করে থাকে তাহলে বিয়ে সিদ্ধ হবে না, তবে মিলনের পূর্ব পর্যন্ত যদি অসম্মতি প্রকাশ না হয় তাহলে তখন বিয়ে সিদ্ধ হয়ে যাবে।
ছয়. ইজাব ও কবুল সশব্দে করা উচিত, যেন উপস্থিত সাক্ষীগণের পক্ষে তা শুনতে অসুবিধা না হয়।
সাত. সর্বপ্রথম ওয়ালি পিতা, অতঃপর পর্যায়ক্রমে দাদা, সহোদর ভাই, বৈমাত্রের ভাই, অতঃপর একই নিয়মে তার সন্তানাদি, অতঃপর আপন চাচা, পিতার বৈমাত্রেয় ভাই, চাচাত ভাই ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে অর্থাৎ, ফরায়েযের আসাবাদের ক্রমানুসারে ওয়ালি হিসাবেও গণ্য হবেন। যখন আসাবাদের মধ্যে কেউ থাকবে না, তখন মা, দাদী, নানা, সহোদরা বোন, বৈপিত্রেয় ভাই-বোন, ফুফু, মামা, খালা, চাচাত বোন ইত্যাদি ওয়ালি হওয়ার ব্যাপারে অগ্রে উল্লিখিত জন পশ্চাতে উল্লিখিত জনের উপর প্রাধান্য পাবেন।
আট. নিকটবর্তী ওয়ালির বর্তমানে দূরবর্তী কেউ ওয়ালি হতে পারবেন না।
নয়. তালাক তিন প্রকার- রেজয়ী, বায়েন আর মুগাল্লায। রেজয়ী তালাক প্রাপ্তা মহিলাকে যদি স্বামী ইদ্দতের ভিতরে ফিরিয়ে নেয় তাহলে পূর্বে বিয়েই ঠিক থাকবে, অন্যত্র বিয়ে জায়েয হবে না। আর ইদ্দতকালীন সময়ের ভিতরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে না নিলে বিয়ে ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর তালাকপ্রাপ্তা মহিলা অন্যত্র বিয়ে বসতে পারবে। মুগাল্লাজ তালাক দেওয়ার পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা জায়েয নয়। ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার আগে সেই মহিলারও অন্যত্র বিয়ে জায়েয হবে না। ইদ্দতের পরে জায়েয।
দশ. ইদ্দতের ব্যাপারে কথা হচ্ছে, স্বামীর কাছে যাওয়ার পূর্বেই যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব নয়। অল্প বয়স্কা বা বৃদ্ধা হওয়ার কারণে যদি হায়েয না হয় তাহলে তালাক প্রদান করার দিন থেকে গণনা করে তিন মাস পর্যন্ত সময়কে ইদ্দতকাল বলে গণ্য করতে হবে। আর যদি হায়েয হয় তাহলে তিন হায়েযকে ইদ্দত কাল ধরতে হবে। তালাকপ্রাপ্ত মহিলা গর্ভবতী হলে বাচ্চা প্রসবের দিন পর্যন্ত তার ইদ্দত কাল ধরা হবে। স্বামীর মৃত্যুর পর চার মাস দশদিন পর্যন্ত বিধবাদের ইদ্দত। তবে বিধবা গর্ভবতী হলে এ ক্ষেত্রেও বাচ্চা প্রসব পর্যন্ত সময়কে তার ইদ্দত ধরা হবে।
যে স্ত্রীলোকের যে ইদ্দত বর্ণিত হলো তার পক্ষে সেই সময় কালের ভিতর অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয হবে না। কাফের মহিলা যদি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার স্বামী কাফেরই থেকে যান, তাহলে তিনিও তালাকপ্রাপ্তা মহিলার হুকুমের অধীন। মুসলমান স্বামীর কাছে বিয়ে বসতে চাইলে তাকেও ইদ্দত পালন করতে হবে। তিন হায়েয গত না হওয়া পর্যন্ত এবং গর্ভবতী অবস্থায় বাচ্চা প্রসব না করা পর্যন্ত সেই নও-মুসলিম মহিলার পক্ষে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ হবে না। অনেকেই এদিকে লক্ষ্য করেন না।
এগার. বিয়ের সময় বর-কনের মাঝে রক্ত সম্পর্কীয় বা দুধ সম্পর্কীয় বাধা-নিষেধ আছে কিনা তাও ভালো করে দেখে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
পর্দার মাসায়েল
এক. পুরুষের নাভী থেকে হাটুর নীচ পর্যন্ত শরীর ঢাকা ফরয। কোন পুরুষ অথবা নারীর সামনে তা উন্মুক্ত করা নাজায়েয। তবে নিজ স্ত্রীর কাছে শরীরের কোন অংশ ঢাকাই জরুরি নয়। অবশ্য অযথা দেহ প্রদর্শন ভালো নয়।
দুই. স্ত্রীলোকের পক্ষেও অন্য স্ত্রীলোকের সামনে নাভীর নীচ থেকে হাটু পর্যন্ত দেহাংশ উন্মুক্ত করা জায়েয নয়। বুঝা গেল, গোসল করার সময় কোন কোন স্ত্রীলোক যে অন্যান্য স্ত্রীলোকের সামনে নগ্ন হয়ে যায় তা সম্পূর্ণ নাজায়েয।
তিন. শরয়ী মুহাররামের (যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন হারাম) সামনে নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত অংশ এবং পেট-পিঠ খোলা স্ত্রীলোকদের জন্য হারাম। শরীরের অন্যান্য অংশ অর্থাৎ মাথা, চেহারা, বাহু এবং হাটুর নিম্নাংশ প্রকাশ করা জায়েয আছে। অবশ্য কোন কোন অংশ বিনা প্রয়োজনে প্রকাশ করা অনুচিত। আর শরীয়ী মুহাররাম বলতে ঐ সমস্ত পুরুষলোককে বুঝায়, যাদের সাথে জীবনে কোন দিন বিবাহ বন্ধন বৈধ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই, যেমন-
পিতা, পুত্র, সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই, তাদের সন্তানাদি, ঐ তিন প্রকারের বোনের সন্তানাদি এবং অন্যান্য যাদের সাথে কখনো বিবাহবন্ধন বৈধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তারা শরীয়তমত ঘনিষ্ট হোক না কেন, অপরিচিত ও ভিন্ন পুরুষের বেলায় শরীয়তে সে নির্দেশ এদের বেলায়ও সেই একই নির্দেশ। এ ধরনের নিকটাত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন-চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো ভাইগণ, দেবর-ভাশুর, ভগ্নিপতি এবং ননদ পতি ইত্যাদি। ভিন পুরুষের সাথে পর্দা করার যে হুকুম, এদের সাথে পর্দা করারও সেই হুকুম। এদের পক্ষ থেকে অশুভ সাধন সহজতর হওয়ায় এক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ রয়েছে।
চার. বর্তমানে দুষ্কৃতির ব্যাপক প্রসারের প্রতি লক্ষ্য রেখে আলেমগণ কোন কোন মুহাররমকেও গায়র মুহাররম বলে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক শৃংখলার নিশ্চয়তা বিধানের উদ্দেশে এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম যুবক শ্বশুর, যুবতী শাশুড়ির জামাতা, স্বামীর অপর স্ত্রীর পক্ষের ছেলে এবং দুধ সম্পর্কীয় ভাইকে এই পর্যায়ের গায়র মুহাররমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ জাতীয় গায়র মুহাররমদের দ্বারা কত কাণ্ড-কীর্তি যে সমাজে অহরহ ঘটে যাচ্ছে তা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই জানেন।
পাঁচ. শরীয়ত অনুযায়ী গায়র মুহাররম পুরুষদের সামনে মাথা, বাহু, হাটুর নীচের অংশ ইত্যাদি প্রকাশ করাও হারাম। খুব বেশি প্রয়োজন দেখা দিলে, যেমন বিশেষ প্রয়োজনে কোন মহিলাকে ঘরের বাইরে যেতে হলে অথবা কোন নিকটাত্মীয়কে ঘন ঘন ঘরে ঢুকতে হয় অথচ ঘরের ভিতরে সব সময় পর্দা করার মত পরিসর নেই, এমতাবস্থায় চেহারা, উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত এবং উভয় পায়ের ঘণ্টা পর্যন্ত খোলা রাখা জায়েয হবে। তবে শরীরের অপরাপর অংশ খোলা রাখা এবং কোন বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিরেকে শরীরের এ অংশটুকু প্রকাশ না করা। বরং সর্বদা ঘরের ভিতরে অবস্থান করবে এবং কোন শরীয়তি বা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় বোরকা পরে বের হবে, আর এটাই হচ্ছে ভদ্রতা-শালীনতা।
কোন কোন অপরিনামদর্শী এ পর্দাপ্রথাকে শরীয়ত সম্মত নয় বলে উড়িয়ে দিতে সচেষ্ট হন। অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে, পর্দা প্রথাকে শরীয়ত এবং বিবেক উভয়ই একটা অবশ্যপালনীয় কর্তব্যরূপে মনে করে। হযরত মাওলানা রশীদ আহমেদ গাঙ্গোহীকৃত ‘লাত্মাইফে রশীদিয়া’ (ইশা’আতে ইসলাম কুতুবখানা কর্তৃক প্রকাশিত ‘পর্দা শিক্ষা’) পুস্তিকায় পর্দার মাসায়েলগুলো অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় বিস্তারিত ভাবে বিবৃত হয়েছে, অনুসন্ধানী পাঠক তা পড়ে দেখতে পারেন।
ছয়. উপরে বর্ণিত শরীরের যে সকল অংশ প্রকাশ করা হারাম সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করাও হারাম, যদিও তা ভাবলেশহীন ভাবেও হয়। আর যে দেহাংশকে প্রকাশ করা ও দেখা জায়েয আছে, ভাবলেশের সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলে তা প্রকাশ করা বা দেখা হারাম হবে। এ থেকে বুঝা গেল, দুর্বল বৃদ্ধা নারী যার প্রতি ভাবাবেগ জনিত আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই, তার চেহারা দেখাতো জায়েয আছে তবে মাথা, বাহু ইত্যাদি দেখা যায়েয হবে না। এ সমস্ত স্ত্রীলোকগণ ঘরের ভিতরে থাকা অবস্থায় পর্দার প্রতি সাবধান থাকে না, গায়র মুহাররম আত্মীয়-স্বজনের সামনে হাতকাটা জামা পরে নির্দ্বিধায় বসে থাকে, এভাবে নিজেও পাপী হয় এবং পুরুষদেরও পাপী বানায়।
সাত. চিকিৎসার প্রয়োজনে দৃষ্টি-নিষিদ্ধ দেহাংশের প্রতি দৃষ্টিপাত করা জায়েয তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দেখা জায়েয হবে না।
আট. শরীয়তের দৃষ্টিতে গায়র মুহাররম নারী-পুরুষের কোন নির্জন গৃহে অবস্থান করা হারাম। তেমনি ঐ গৃহে আরেক গায়র মুহাররম নারীর উপস্থিতিতেও পুরুষের পক্ষে সেখানে যাওয়া বা অবস্থান করা জায়েয নয়। তবে সেখানে যদি ঐ নারীর কোন মুহাররম বা তার স্বামী কিংবা ঐ পুরুষের কোন মুহাররমা নারী বা তার স্ত্রী উপস্থিত থাকে তাহলে কোন দোষ নাই।
নয়. যে দেহাংশ দেখা জায়েয তবে স্পর্শ করলে ভাবের উদ্রেক হয় তা দেখা তো জায়েযই হবে কিন্তু স্পর্শ করা হারাম। তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা। এ ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব অন্যদিকে মন রাখবে, মনে মন্দভাব আসতে দেবে না।
দশ. কাফের ধাত্রীর সামনে শরীরের যে অংশ খোলা প্রয়োজন সে অংশও খোলা জায়েয নয়। এ দেশীয় মহিলারা-মাতারী ও মালিনীদের গমনাগমনের বেলায় এদিকে খুব কম সতর্কতাই অবলম্বন করেন।
এগার. ধাত্রী যদি কাফের না হয়, তাহলে অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরের কেবল প্রয়োজনীয় অংশ ছাড়া মাথা-বাহু ইত্যাদি খোলা জায়েয নয়।
বার. গায়র মুহাররম নর-নারীর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনাও নিষিদ্ধ। প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত কথা বলবে না, হাসি-ঠাট্টা করবে না, কোমল স্বরে কথা বলবে না।
তের. পুরুষ স্ত্রীলোকের কিংবা স্ত্রীলোক পুরুষের গানের আওয়াজ শুনা নিষিদ্ধ। এতে বুঝা গেল, বর্তমানে বিভিন্ন সভা-সমিতিতে উচ্চৈস্বরে বা মাইকের সাহায্যে স্বর করে মুনাজাত ও কাসীদা ইত্যাদি স্ত্রীলোকদেরকে শুনানোর যে নিয়ম প্রচলিত রয়েছে তা অত্যন্ত মন্দ কাজ।
চৌদ্দ. ফেকাহবিদগণ যুবতী মুহাররমা স্ত্রীলোকের সালাম গ্রহণ করতে বা তাদের সালাম করতে নিষেধ করেছেন।
পনের. গায়র মুহাররমা স্ত্রীলোকের পক্ষে পুরুষের ঝোটা পানাহার আর গায়র মুহাররম পুরুষের পক্ষে স্ত্রীলোকের ঝোটা পানাহার করা আকর্ষণ জনিত স্বাদ গ্রহণের উদ্দেশ্যে হলে মাকরূহ হবে।
ষোল. গায়র মুহাররমের পোশাক ইত্যাদি দেখলে যদি হৃদয়ের ভাবের উদ্রক হয় তাহলে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করাও হারাম।
সতর. যে অপ্রাপ্ত বয়স্কা বালিকার প্রতি পুরুষেরা আকৃষ্ট হয় তার হুকুম প্রাপ্ত বয়স্কা মহিলার মতো, অর্থাৎ পর্দা করবে।
আঠার. মন্দ খেয়ালে গায়র মুহাররামের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, তার শব্দ শোনা, তার সাথে আলাপ করা, তাকে স্পর্শ করা ইত্যাদি যেমন হারাম, তাকে অন্তর-মধ্যে স্থান দেওয়া ও তার কোনকিছুর স্বাদ গ্রহণ করাও তেমনি হারাম-এ মানসিক ব্যভিচার।
ঊনিশ. তেমনিভাবে, গায়র মুহাররমকে স্মরণ করা, তার আলাপ শোনা, তার ছবি দেখা, তার সাথে চিঠি-পত্র বিনিময় করা, এককথায় কুবাসনা উদ্রেককারী যাবতীয় কাজই হারামের পর্যায়ভুক্ত!
বিশ. কোন পুরুষের পক্ষে গায়র মুহাররম স্ত্রীলোকদেরকে বিনা প্রয়োজনে দেখাশুনা করার যেমন অনুমতি নেই, তেমনি স্ত্রীলোকের পক্ষে গায়র মুহাররম পুরুষকে আড়াল থেকে দেখার যে অভ্যাস আমাদের নারী সমাজে বিদ্যমান তা বড়ই মন্দ স্বভাব।
একুশ. শরীর দেখা যায় এমন পাতলা কাপড় পরা বিবস্ত্র থাকারই শামিল। হাদীসে এ ধরনের পোশাকের নিন্দা করা হয়েছে।
বাইশ. গায়র মুহাররম স্ত্রীলোক দ্বারা পুরুষের গা টেপানো জায়েয নয়।
তেইশ. গায়র মুহাররম পুরুষগণ শব্দ শুনতে পাবে এমন অলংকার অথবা গায়র মুহাররম পুরুষের নাকে পৌঁছে এমন সুগন্ধী ব্যবহার করা স্ত্রীলোকদের জন্য জায়েয নয়, এটাও এক প্রকার বেপর্দা সুলভ কাজ। আর যে অলংকারে শব্দ হয় না, তবে অন্যকিছুর সাথে লেগে শব্দ হয় এ জাতীয় অলংকার পরে সতর্কভাবে হাঁটা-চলা করা ওয়াজিব, যেন তা বাজতে না পারে।
চব্বিশ. ছোট মেয়েদেরও ঘুংঘুর জাতীয় শব্দকারী অলংকার পরতে দেওয়া উচিত নয়।
পঁচিশ. গায়র মুহাররম মুর্শিদও অন্যান্য গায়র মুহাররম পুরুষদের ন্যায়। বেপর্দা অবস্থায় পীরের সামনে বের হওয়াও গুনাহের কাজ। পীর সাহেব এবং শিষ্য উভয়েই যদি খুব বেশি বৃদ্ধ হন তাহলে শুধু চেহারা, কব্জি পর্যন্ত হাত এবং টাখনুর নীচ পর্যন্ত পা খোলা রাখা জায়েয হবে। তবে শরীরের অন্যান্য অংগ প্রকাশ করা কিংবা একাকিনী পীরের নিকট বসা জায়েয না।
ছাব্বিশ. জীবন্ত অবস্থায় যে দেহাংশ দেখা জায়েয নয় মৃত্যুর পরও তা দেখা জায়েয হবে না। তেমনি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পরও তা দেখা জায়েয নয়। স্ত্রীলোকের নাভীর নি¤œদেশের লোম, মাথার এবং চুল কর্তিত হলে তা দেখাও পুরুষের পক্ষে জায়েয নয়। এ থেকে বুঝা গেল, মাথায় চিরুনী করলে যে চুল উপড়ে আসে তা যত্রতত্র পুরুষ লোকের দেখার স্থানে ফেলে দেয়া স্ত্রীলোকদের পক্ষে জায়েয নয়।
সাতাশ. দাড়ি গোঁফ না উঠে বালক কোন কোন ব্যাপারে অপরিচিতা মহিলার হুকুমে পড়ে। কামভাব নিয়ে এমন বালকের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, তার সাথে মোসাফাহা করা, তার কাছে একাকী বসা, তার গান শুনা, তার উপস্থিতিতে গান শুনা, তাকে দিয়ে শরীরের কোন অংশ টেপানো অথবা তার সাথে অত্যধিক ¯েœহবাৎসল্য ও সরলতাবশতঃ আলাপ-আলোচনা করা ইত্যাদি সবকিছু হারাম।
আঠাশ. স্ত্রীলোকের পক্ষে ভ্রমণ কালে পর্দার অভাবে নামায কাযা করা জায়েয় নয় এবং গরুর গাড়িতে বসে বসে নামায পড়াও দুরস্ত নয়। বরং চাদর বা বোরকা পরে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে নামায পড়া ওয়াজিব। এমতাবস্থায় বোরকা পরাই পর্দার জন্য যথেষ্ট।
ঊনত্রিশ. কোন মুহাররম পুরুষ সফর সঙ্গী না থাকলে একাকিনী স্ত্রীলোকের সফর করা হারাম। এমনকি, সে সফর যদি হজের উদ্দেশেও হয় তবুও। অর্থাৎ, মুহাররম পুরুষ সাথে না নিয়ে একাকিনী হজের সফরও জায়েয নয়।
ত্রিশ. স্ত্রীলোকের মসজিদে বা কবরস্থানে যাওয়া মাকরূহ। তবে অত্যধিক বৃদ্ধা মহিলা মসজিদে যেতে পারেন।
একত্রিশ. কেউ কেউ যুবতী মেয়েদের অন্ধ বা কানা শিক্ষকের কাছে বিদ্যা-শিক্ষা করতে দেন। একাজ সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী।
