প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৬, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
রিযিক আসতে দেরি হচ্ছে এমন মনে করা নিষেধ
মূলতঃ প্রত্যেকের রিযিক তার নিজ সময় মতোই আসে। তা আসতে এতটুকুও দেরি হয় না।
জাবির (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের রিযিক আসতে দেরি হচ্ছে এমন মনে করো না।
কারণ, কোন বান্দাহ্ মরবে না যতক্ষণ না তার শেষ রিযিকটুকু তার নিকট পৌঁছে। অতএব তোমরা আল্লাহ্ তাআলাকে ভয় করো এবং রিযিক অনুসন্ধানে শরীয়তের সুন্দর পথ অবলম্বন করো। তথা হালাল গ্রহণ করো এবং হারামকে বর্জন করো। (সহী’হুল-জা‘মি হাদীস ৭৩২৩)
কোন রকম যাচাই-বাচাই ছাড়াই নিতা অধীনস্থদের কামাই গ্রহণ করা
রা‘ফি বিন্ খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন মনিবকে তার বান্দির কামাইয়ের সঠিক উৎস না জেনে তা গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪২৭)
জায়গা-জমি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দুনিয়াদারি নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হওয়া নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্‘উদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা জায়গা-জমিন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পেছনে এমনভাবে পড়ে যেও না যাতে করে তোমরা একদা দুনিয়াদার হয়ে যাও। (আস্-সিল্সিলাতুস্ স্বা‘হী‘হাহ্, হাদীস ১২)
আবু সাঈদ্ খুদ্রী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, চরম দুর্ভোগ অধিক সম্পদ সঞ্চয়কারীদের জন্য। তবে যারা ডানে, বাঁয়ে, সামনে, পেছনে তথা চতুর্দিকে দান করেছে তারা নয়। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৪২০৪)
আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বেশি সম্পদশালীরা কিয়ামতের দিন নিচু হয়ে থাকবে। তবে যারা ডানে, বাঁয়ে সাদাকা করেছে এবং পবিত্র মাল সঞ্চয় করেছে তারা নয়। (ইব্নু মাজাহ্, হাদীস ৪২০৫)
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ধ্বংস হোক দীনার ও দিরহামের গোলাম! ধ্বংস হোক পোশাক-পরিচ্ছদের গোলাম! তাকে কিছু দিলে খুশি। না দিলে বেজার ধ্বংস হোক! কখনো সে সফলকাম না হোক! সমস্যায় পড়লে সমস্যা থেকে উদ্ধার না হোক! (কাঁটা বিঁধলে না খুলুক)। (বুখারী, হাদীস ২৮৮৬, ২৮৮৭ বায়হাক্বী : ৯/১৫৯, ১০/২৪৫)
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি পছন্দ করি না যে, উহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্ণ হয়ে যাবে; অথচ আমার উপর তিনটি রাত অতিবাহিত হবে। আর আমি ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা ছাড়া কোন কিছু আমার নিকট রেখে দিয়েছি। (ইব্নু মাজাহ্, হাদীস ৪২০৭)
মানুষের ধন-সম্পদের প্রতি লোভী হওয়া কিংবা তাদের কাছ থেকে কোন কিছু পাওয়ার আশা করা নিষেধ
আবু আইয়ুব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন। জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অতি সংক্ষেপে কিছু কথা শিক্ষা দিন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তুমি নামাযে দাঁড়াবে তখন দুনিয়া থেকে অচিরেই বিদায় গ্রহণকারী ব্যক্তির নামাযের ন্যায় নামায পড়ো। এমন কথা বলবে না যা বললে একদা তোমাকে উক্ত কথার জন্য অন্যের নিকট কৈফিয়ত দিতে হবে এবং মানুষের ধন-সম্পদের প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিরাশ থাকবে তথা তাদের কাছ থেকে কোন কিছু পাওয়ারই আশা করবে না। (আহমদ ৫/৪১২ ইব্নু মাজাহ্ হাদীস ৪২৪৬ আবু নুআইম/হিল্ইয়াহ্ ১/৩৬২)
কারো মনে তুষ্টি ছাড়া তার সম্পদ ভোগ করা নিষেধ
হানিফাহ্ রাক্বাশী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন মুসলমানের মনো সন্তুষ্টি ছাড়া তার সম্পদ অন্যের জন্য কোনভাবেই হালাল হবে না। (সহীহুল-জামি, হাদীস ৭৬৬২)
জারজ সন্তানকে ওয়ারিসি সম্পত্তি দেয়া নিষেধ
আমর বিন্ শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর (আমরের) দাদা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন স্বাধীনা অথবা বান্দির সাথে ব্যভিচার করলো। অতঃপর যে সন্তান হলো সেটি হবে ব্যভিচারের সন্তান। সে নিজেও কারোর থেকে মিরাস পাবে না এবং তার থেকেও কেউ মিরাস পাবে না। (তিরমিযী, হাদীস ২১১৩)
অবুঝদের হাতে ধনসম্পদ তুলে দেয়া নিষেধ
তোমরা নিজেদের ধন-সম্পদ যা আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদেরকে নিজেদের জীবন পরিচালনার জন্য দিয়েছেন তা অবুঝদের হাতে তুলে দিও না। বরং তা থেকে তাদেরকে খাদ্য-বস্ত্র দাও এবং তাদের সাথে ভালো কথা বলো। (সূরা নিসা : আয়াত-৫)
মায়ের পেটে মরা বাচ্চাকে ওয়ারিশ বানানো নিষেধ
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ ও মিস্ওর্য়া বিন্ মাখ্রামাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন বাচ্চা কারোর সম্পদের ওয়ারিশ হবে না যতক্ষণ না সে মায়ের পেট থেকে বের হওয়ার পর কোন ধরনের আওয়াজ করে। কোন ধরনের আওয়াজ দেয়া মানে, চাই সে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কান্না করুক, চিৎকার কিংবা হাঁচি দিক। (ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৮০০)
জমিনের কোন নির্দিষ্ট অংশের ফসলের বিনিময়ে উক্ত জমিন কারোর নিকট ভাড়া দেয়া নিষেধ
সা’দা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা নালার পাড়ের ফসলের বিনিময়ে যাতে নালার পানি সহজে পৌঁছে জমিন ভাড়া দিতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করেন এবং তিনি সোনা-রূপার বিনিময়ে জমিন ভাড়া দিতে আদেশ করেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৩৩৯১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন জমিনের নির্দিষ্ট কোন অংশের বিনিময়ে তা ভাড়া দিতে নিষেধ করেছেন
তা নিম্নোক্ত রাফি বিন্ খাদীজ্ (রা) এর হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়।
হান্যালাহ্ বিন্ ক্বাইস্ আন্সারী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাফি বিন্ খাদীজ্ (রা) কে সোনা-রুপার বিনিময়ে জমিন ভাড়া দেয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তাতে কোন অসুবিধে নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে লোকেরা নদী-নালার পাড়ের এবং নির্দিষ্ট কোন অংশের ফসলের বিনিময়ে জমিন ভাড়া দিতো। তখন দেখা যেতো উক্ত নির্দিষ্ট অংশটুকুতেই শুধুমাত্র ফসল হয়েছে। অন্যটুকুতে নয়। অথবা অন্যটুকুতেই শুধুমাত্র ফসল হয়েছে। উক্ত নির্দিষ্ট অংশটুকুতে নয়। আর তখন এভাবেই ভাড়া চলতো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করেন। তবে নির্ধারিত যা কিছুর নিশ্চয়তা রয়েছে তার বিনিময়ে অবশ্যই ভাড়া দেয়া যাবে। (আবু দাউদ, হাদীস ৩৩৯২)
