প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১১ম সংখ্যা, মে ২০১৬, রজব-শাবান ১৪৩৭ হিজরী, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
ইমাম সাহেবের পূর্বেই নামাযের যে কোন রুকন আদায় করা নিষেধ
মূলত নামাযের যে কোন রুকন ইমাম সাহেবের একটু পরেই আদায় করতে হয়। তথা ইমাম সাহেব যখন তাকবীর দিয়ে পুরোপুরি রুকুতে চলে যাবেন তখন মুক্তাদিগণ রুকু করতে অগ্রসর হবেন। তেমনিভাবে ইমাম সাহেব যখন তাকবীর দিয়ে সিজদার জন্য জমিনে কপাল ঠেকাবেন তখনই মুক্তাদিগণ তাকবীর দিয়ে সিজদায় যাবেন। ইমাম সাহেবের আগে, বহু পরে কিংবা সমানতালে কোন রুকন আদায় করা চলবে না।
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ওই ব্যক্তি কি ভয় পাচ্ছে না যে ইমাম সাহেবের পূর্বেই রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে নেয় যে, আল্লাহ্ তাআলা তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপান্তরিত করবেন অথবা তার গঠনকে গাধার গঠনে পরিণত করবেন। (বুখারী, হাদীস ৬৯১ মুসলিম, হাদীস ৪২৭ আবু দাউদ, হাদীস ৬২৩)
আবু মূসা আশ্আরী (রা) থেকে বর্নিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদেরকে নামায শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেন: ইমাম সাহেব যখন তাকবীর দিয়ে রুকুতে যাবেন তারপর তোমরাও তাকবীর দিয়ে রুকুতে যাবে। কারণ, একমাত্র ইমাম সাহেবই তো তোমাদের আগেই রুকু করবেন এবং তোমাদের আগেই রুকু থেকে মাথা উঠাবেন। (মুসলিম, হাদীস ৪০৪ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১৫৯৩)
আনাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন : হে মানব সকল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরই ইমাম। সুতরাং তোমরা আমার আগে রুকু, সিজদাহ, উঠা, বসা ও সালাম আদায় করবে না। (মুসলিম, হাদীস ৪২৬)
আনাস্ (রা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা সাহাবাগণকে নামাযের প্রতি খুবই উৎসাহিত করেছেন এবং এরই পাশাপাশি তিনি তাঁদেরকে তাঁর আগে সালাম ফেরাতেও নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৬২৪)
আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ্ ও আব্দুল্লাহ্ বিন উমর (রা) একদা রুকন আদায়ে ইমামের অগ্রবর্তী জনৈক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন: (তোমার নামাযই হয়নি) না তুমি একা নামায পড়লে ; না ইমাম সাহেবের সাথে পড়লে। (রিসালাতুল ইমাম আহমাদ)
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: ইমাম সাহেব হচ্ছেন অনুসরণীয়। তাই তিনি তাকবীর সমাপ্ত করলেই তোমরা তাকবীর বলবে। তোমরা কখনো তাকবীর বলবে না যতক্ষণ না তিনি তাকবীর বলেন। তিনি রুকুতে চলে গেলেই তোমরা রুকু শুরু করবে। তোমরা রুকু করবে না যতক্ষণ না তিনি রুকু করেন। (বুখারী, হাদীস ৩৭৮, ৮০৫, ১১৪ মুসলিম, হাদীস ৪১৪, ৪১৭ আবু দাউদ, হাদীস ৬০৩)
আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : যখন ইমাম সাহেব তাকবীর সমাপ্ত করবেন তখন তোমরা তাকবীর বলবে। আর যখন তিনি রুকুতে চলে যাবেন তখন তোমরা রুকু শুরু করবে। আর যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সামিআল্লাহু লিমান্ হামিদাহ্ বলবেন তখন তোমরা রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে রাব্বানা ওয়া লাকাল্ হাম্দ বলবে। আর যখন তিনি সিজদায় যাবেন তখন তোমরা সিজদাহ শুরু করবে। (বুখারী, হাদীস ৭২২, ৭৩৪, ৮০৫ মুসলিম, হাদীস ৪১৪)
বারা বিন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদাহ্র জন্যে ঝুঁকে পড়তেন তখনো আমাদের কেউ নিজ পৃদেশ বাঁকা করতো না যতক্ষণ না তিনি নিজ কপাল জমিনে রাখতেন। (বুখারী, হাদীস ৬৯০, ৮১১ মুসলিম, হাদীস ৪৭৪ আবু দাউদ, হাদীস ৬২১)
জুমুআর খুতবাহ চলাকালীন যেভাবে বসা নিষেধ
মুআয্ বিন্ আনাস্ (রা) তাঁর পিতা আনাস্ (রা) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন খুৎবা চলা কালীন সময় হাঁটু দুটোকে উভয় হাত কিংবা কাপড় ইত্যাদি দিয়ে নিচ পেটের সাথে জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদীস ১১১০)
কারণ, এভাবে বসলে অতি তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসবে।
