প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭, জমা.সানি-রজব ১৪৩৮ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২৩-২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
মৃত্যু, জানাযা, দাফন, কবর ইত্যাদি বিষয়ক
কবরস্থানে জানাযার নামায আদায় করা নিষেধ
আনাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে জানাযার নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (স‘হী’হুল-জা‘মি’, হাদীস ৬৮৩৪)
তবে সদ্য দাফনকৃত কোন ব্যক্তির কবরকে সামনে নিয়ে তাঁর কোন নিকটাত্মীয় অথবা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ তার জানাযার নামায পড়তে পারে। যিনি বা যাঁরা ইতিপূর্বে অত্যাধিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তার জানাযার নামাযে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদ্য দাফনকৃত জনৈক ব্যক্তির কবরের কাছে গিয়ে তার জানাযার নামায আদায় করেন। সাহাবায়ে কিরামও তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে চার তাকবীরে উক্ত ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় করেন। (মুসলিম, হাদীস ৯৫৪)
আবু হুরাাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: জনৈকা কালো মহিলা অথবা জনৈক কালো যুবক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদ ঝাড়– দিতো। একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে না পেয়ে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সাহাবায়ে কিরাম বললেন : সে তো মরে গিয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কেন আমাকে এ ব্যাপারে কিছুই জানালে না? মূলত: সাহাবায়ে কিরাম ব্যাপারটিকে নিতান্ত ছোটই মনে করলেন। তাই তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে কিছুই জানাননি। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা আমাকে তার কবরটি দেখিয়ে দাও। অতঃপর বলেন : নিশ্চয়ই কবরগুলো তার অধিবাসীদের উপর অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের উপর আমার জানাযার নামাযের বরকতে তা তাদের জন্য আলোকিত করে দেন। (মুসলিম, হাদীস ৯৫৬)
নিতান্ত কোন বাধ্য-বাধকতা ছাড়াই কোন মৃত ব্যক্তি রাত্রি বেলায় দাফন করা :
জাবির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন; রাসূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমরা কখনো একান্ত বাধ্য না হলে মৃতদেরকে রাত্রি বেলায় দাফন করো না। (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৪৩) তবে নিতান্ত প্রয়োজনে কোন মৃত ব্যক্তিকে রাতের বেলায় দাফন করা যেতে পারে
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে রাত্রি বেলায় তার কবরে আলো জ্বালিয়ে তাকে কবরস্থ করেন। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ১৫৪২)
জানাযা কবরের পাশে রাখার আগে কারোর সেখানে বসে পড়া নিষেধ
আবু সা‘ঈদ্ খুদ্রী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : যখন তোমরা জানাযার পেছনে পেছনে যাবে তখন তোমরা কবরের পাশে গিয়ে বসে পড়বে না যতক্ষণ না সেখানে জানাযা রাখা হয়। (মুসলিম হাদীস ৯৫৯)
বিলাপকারিনী মহিলাকে জানাযার সাথে নেয়া নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মৃত ব্যক্তিকে কবরের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে কোন বিলাপকারিণী মহিলাকে নিতে নিষেধ করেছেন। (ইব্নু মাজাহ, হাদীস ১৬০৫)
কবরের উপর কোন কিছু লেখা নিষেধ
জাবির (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কোন কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন। (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৮৫)
কোন মৃত ব্যক্তিকে যে কোন ভাবে কষ্ট দেয়া নিষেধ
‘আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কোন মৃত মু’মিনের হাড় ভাঙ্গা জীবদ্দশায় তার হাড় ভাঙ্গার ন্যায়। (আহ্মাদ, হাদীস ২৩১৭২)
মুশরিকের জন্য মাগফিরাতের দু’আ করা নিষেধ
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন : অর্থাৎ কোন নবী কিংবা ঈমানদার ব্যক্তির জন্য এটি জায়িয নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা তাদের নিকটতম আত্মীয়-স্বজন হোক না কেন। যখন তারা সুস্পষ্টভাবে এ কথা জানে যে, নিশ্চয়ই ওরা জাহান্নামী। (তাওবাহ্ : ১১৩)
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মায়ের কবর যিয়ারত করলেন। তখন নিজেও কাঁদলেন এবং আশপাশের সকলকেও কাঁদালেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি আমার প্রভুর নিকট আমার মায়ের মাগ্ফিরাত কামনার অনুমতি চাইলে তিনি তা নামঞ্জুর করেন। তাই আমি তাঁর নিকট আমার মায়ের মাগ্ফিরাত কামনা না করে শুধু তার কবরটি যিয়ারতের অনুমতি চাইলাম। তখন তিনি তা মঞ্জুর করলেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ, তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (মুসলিম, হাদীস ৯৭৬ আবু দাউদ, হাদীস ৩২৩৪ ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৯৪ ইব্নু হিব্বান/ইহ্সা’ন, ৩১৫৯ বাগাওয়ী, হাদীস ১৫৫৪ নাসায়ী: ৪/৯০ আহ্মাদ: ২/৪৪১ হা’কিম : ১/৩৭৫ বায়হাক্বী : ৪/৭০, ৭৬ ও ৭/১৯০)
কবর পাকা করা, কবরের উপর বসা কিংবা কবরের উপর ঘর উঠানো
জাবির (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে, কবরের উপর বসতে এবং কবরের উপর ঘর বানাতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম, হাদীস ৯৭০)
কারোর কবরকে জমিন থেকে এক বিঘতের বেশি উঁচু করা
আবুল্ হাইয়াজ আসাদী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আলী (রা) একদা আমাকে বললেন : আমি কি তোমাকে এমন কাজে পাঠাবো না যে কাজে আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন? তুমি কোন মূর্তি বা ছবি পেলে তা মুছে দিবে এবং কোন উঁচু কবর পেলে তা সমান করে দিবে। (মুসলিম, হাদীস ৯৬৯ আবু দাউদ, হাদীস ৩২১৮ তিরমিযী, হাদীস ১০৪৯ নাসায়ী: ৪/৮৮-৮৯ আহ্মাদ্ : ১/৯৬, ১২৯ হা‘কিম : ১/৩৬৯)
